Home খেলার চমক ফেল্পস, বোল্ট আর হিজাব অলিম্পিকের তিন চমক -মোহাম্মদ হাসান শরীফ

ফেল্পস, বোল্ট আর হিজাব অলিম্পিকের তিন চমক -মোহাম্মদ হাসান শরীফ

এবারের অলিম্পিক গেমস কী কারণে ইতিহাসে অনন্য হয়ে থাকবে? সম্ভবত তিনটি কারণে : মাইকেল ফেল্পস, উসাইন বোল্ট আর হিজাব।
জ্যামাইকার উসাইন বোল্ট সত্যি সত্যিই সর্বকালের সেরা ক্রীড়াবিদের আসনে নিজের স্থান নিশ্চিত করে নিয়েছেন।  এ যাবৎকালের দ্রুততম মানব এবারের আসরে ১০০ মিটার স্প্রিন্টে হ্যাটট্রিক করেছেন। অলিম্পিক ইতিহাসে কোনো মানুষ এর আগে এমন নজির সৃষ্টি করতে পারেননি। ১১ বারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন এই দৌড়বিদ অলিম্পিককেই বেছে নিয়েছিলেন নিজেকে অমর করে রাখার, সেটাতে তিনি সফল হয়েছেন।
আর আছে মাইকেল ফেল্পসের চমক। তিনি দুই হাজার বছরের ইতিহাসকে পেছনে ফেলে দিয়েছেন। অলিম্পিকের ইতিহাসে তিনিই এখন সবচেয়ে বেশি পদকের অধিকারী। রিও আসরে তিনি তার ২৩তম স্বর্ণ জিতেছেন। সব মিলিয়ে তার পদকের সংখ্যা ২৮। ব্যক্তিগত ইভেন্টে স্বর্ণের সংখ্যা ১৩টি।
উসাইন বোল্ট আর মাইকেল ফেল্পস এবারের গেমসকে সত্যিই অনন্য করে তুলেছেন। তবে তাদেরকে ছাপিয়ে গেছে আরেকটি ঘটনা। সেটা হলো ‘হিজাব’। এবারই প্রথম অলিম্পিক আসরে হিজাব পরে নারী ক্রীড়াবিদেরা অংশ নিতে পেরেছেন। আর তাতেই চমক সৃষ্টি করেছেন।
অনেকে তো এটাকে ‘হিজাবি অলিম্পিক’ হিসেবেও অভিহিত করেছেন। পাশ্চাত্যের অনেকে বিষয়টাকে নেতিবাচকভাবে উপস্থাপনের চেষ্টা করেছেন। কিন্তু মুসলিম নারীদের দৃঢ়প্রত্যয় তাদের সেই চেষ্টা ভন্ডুল হয়ে গেছে।
হিজাবের দু’টি ঘটনা বিশেষ আলোড়ন সৃষ্টি করে। একটি হলো যুক্তরাষ্ট্রের ফেনসার বা তরবারিবাজ ইবতিহাজ মোহাম্মদের অংশ নেয়া এবং মিসরীয় ভলিবল দল।
ইবতিহাজ প্রথম মার্কিন ক্রীড়াবিদ হিসেবে হিজাব পরে অলিম্পিকে অংশ নেন। তিনি ছিলেন দলের প্রথম মুসলিম নারী।  সেইসাথে কৃষ্ণাঙ্গ। ফলে মারাত্মক প্রতিবন্ধকতার মধ্য দিয়ে তাকে চলতে হয়েছে। কিন্তু তিনি দমে যাননি। বরং সাহসে ভর দিয়ে এগিয়ে চলেছেন। অলিম্পিক গেমসের মতো সর্বোচ্চ আসরে পদক জিতেছেন।
আর মিসরীয় নারীরাও চমক সৃষ্টি করেছেন হিজাব পরে ভলিবলে অংশ নিয়ে। জার্মানির বিরুদ্ধে তাদের খেলাটি আলোড়ন সৃষ্টি করে। আন্তর্জাতিক মিডিয়ায় বিষয়টি ফলাও করে প্রচারিত হয়।
অনেকেই মনে করছেন, এখন থেকে অলিম্পিক গেমসে নতুন একটি ধারার সৃষ্টি হলো। এই ধারা আরো বেগবান হবে। মুসলিম নারীদের শালীনতায় মুগ্ধ হয়ে অন্যরাও বিকিনি ছেড়ে দেবে।
প্রতি চার বছর পরপর অলিম্পিকের আসর বসে। এবারো বসেছে। এ ধরনের আসর মানেই রেকর্ডের ছড়াছড়ি। এখানে চমক দেখানোর জন্য সেরা ক্রীড়াবিদরা মুখিয়ে থাকেন। সবাই চান, এখানেই তার শ্রেষ্ঠত্ব প্রদর্শন করতে।
এই আসরে বাংলাদেশও অংশ নিয়েছিল। তবে কাক্সিক্ষত ফলাফল হয়নি। তবে আগামীতে আরো ভালো হবে, এমনটা আশা সবারই।
এখন অপেক্ষা কেবল পরবর্তী আসরের। সেটা হবে আমাদের কাছাকাছি টোকিওতে, ২০২০ সালে। রিওকে বিদায় জানিয়ে এখন টোকিওর আশায় থাকবে সবাই।

SHARE

Leave a Reply