Home তোমাদের গল্প রোদের আলোয় খুশির ঈদ – হোসেন মোতালেব

রোদের আলোয় খুশির ঈদ – হোসেন মোতালেব

আজ অনিকের মনটা মোটেও ভাল নেই। শুধু অনিকের নয়। মন ভাল নেই, আদিল, রিয়া, রুমা, রসুরও। কারণ ওরা দীর্ঘ এক বছর পর গ্রামের বাড়িতে এসেছে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে। ওরা সবাই ঢাকায় থাকে। ওদের বাবা ঢাকায় সরকারি গুরুত্বপূর্ণ চাকরি করেন। সেই সুবাদে ওরাও ঢাকাতেই পড়াশোনা করে শহরের নামীদামি স্কুল কলেজে। ফলে ছুটিছাটা মিলে না বললেই চলে। এ জন্য গ্রামে আসা হয় খুবই কম। গত ঈদে এসেছিল ওরা। আর মওকা মিলেনি। এবারের ঈদে একটু মওকা মিলেছে, তাই ছুটে এসেছে সবাই। ঈদের আর মাত্র চার দিন বাকি। গ্রামের বন্ধুদের সাথে কুশল বিনিময় করবে, আড্ডা মারবে, আর তালদিঘিতে নাও ভাসাবে ইত্যাদি কত স্বপ্ন ওদের। কিন্তু এটা যে বর্ষাকাল। বর্ষাকাল মানেই তো বর্ষণ। এই যে বৃষ্টি, ঝরছে তো ঝরছেই। একটুও বিরাম নেই। গেল বছর ঈদেও প্রচন্ড বৃষ্টি ছিল। তাই ঈদে মোটেও আনন্দ করতে পারেনি ওরা। এমনকি ঈদের নামাজও পড়তে পারেনি মাঠে গিয়ে। অধিকন্তু ঈদের নতুন পোশাকও পরতে পারেনি। নীরবেই কেটে গেছে ঈদ। তাই মন মোটেও ভাল না ওদের। না জানি গতবারের মত হয় কি না। বর্ষণ, প্রচন্ড বর্ষণ। একটুও ঘর থেকে বের হওয়া যাচ্ছে না। গ্রামের বর্ষণ মানেই ঝম ঝম শব্দ। কদম কেয়া কেতকি ফুলের সমারোহ, যা ভীষণ অপরূপ। অগত্যা ওরা বারান্দায় বসে এমন দৃশ্য অবলোকন করছিল। ঠিক তখনি খুশি দুটি কৈ মাছ ধরে নিয়ে এলো ওদের সামনে। আনন্দে আটখানা হয়ে ওরা বায়না ধরল  কৈ মাছ ধরার। খুশি ওদের রক্তের কেউ না, তবে খুশিকে ওরা বড্ড ভালবাসে। কারণ অনিকের বাবা খুশিকে কুড়িয়ে এনেছিল শহর থেকে। ওর পিতৃপরিচয় বলতে কেউ নেই। কে বা কারা ওকে ফেলে গিয়েছিল ডাস্টবিনের পাশে। সেখান থেকে ওকে কুড়িয়ে এনে তুলে দেয় অনিকের মায়ের কাছে। আর অনিকের মা খুশিকে কোলে পিঠে করে মানুষ করে। একটুও বুঝতে দেয়নি মায়ের অভাব। আর অনিক, রিয়া, রুমাও খুশিকে আপন বলেই জানে। ওরাও যেন খুশির একান্ত আপন। তাই গ্রামে এলে যত মজার মজার কাজ আছে তা করে আনন্দ দেয় ওদের। খুশি জানে শহরে যত বর্ষণই হোক না কেন কখনো বর্ষণের সাথে কৈ মাছ পাওয়া যায় না। গ্রামে প্রচন্ড বর্ষণে কাতরিয়ে কাতরিয়ে কৈ মাছ ওঠে ডাঙায়। এমন দৃশ্য সত্যি মনোমুগ্ধকর। তাই খুশির কৈ মাছ দেখে ওরাও নেমে পড়ল বাড়ির পাশের পাটক্ষেতে। মায়ের হাজারো বারণ দমাতে পারেনি ওদেরকে। অবিরাম বর্ষণে পুকুর থেকে ওঠা  কৈ মাছ ধরার কত যে আনন্দ তা বলে বোঝানো যাবে না। আর এমন আনন্দ দেওয়াটাই খুশির একান্ত ইচ্ছা। ওদেরকে আনন্দ দেওয়া মানেই নিজে খুশি হওয়া।
এমনি আনন্দ আর হৈ-হুল্লোড়ের মধ্য দিয়ে কাটতে লাগলো ওদের সময়। এরই মাঝে হঠাৎ লাল সূর্য পশ্চিম আকাশ রাঙিয়ে উঠল। জানিয়ে দিল আর বৃষ্টি নেই। সত্যি সত্যিই থেমে গেল বৃষ্টি। কাল ঈদ। তাই শুরু হলো ঈদের আনন্দ। দলবেঁধে পুকুরে গোসল করা, নতুন পোশাক পরা, ঈদের নামাজ পড়া, রকমারি খাবার খাওয়া, পুরনো বন্ধুদের সাথে আড্ডা মারা, অধিকন্তু সালামি নেয়ার মাধ্যমে চলল ঈদের আনন্দ। এমন আনন্দ স্মৃতির পাতায় চির জাগরূক হয়ে থাকবে। অনিকদের আনন্দ দিতে পেরে খুশি আনন্দে আটখানা। তাই হস্যোজ্জ্বল মুখে খুশির কণ্ঠে ধ্বনিত হলো ভেস্তে যায়নি ঈদের আনন্দ!

SHARE

Leave a Reply