Home ধারাবাহিক উপন্যাস গ্রহ থেকে গ্রহান্তরে -মুহাম্মাদ দারিন

গ্রহ থেকে গ্রহান্তরে -মুহাম্মাদ দারিন

[গত সংখ্যার পর]
‘হ্যাঁ চাই। না হলে আমি কান্নাও থামাবো না, কিছু খাবও না।’ কান্না জড়িতকণ্ঠ নোভার।
আসিফের মুখটা যেন এবার চুন হয়ে গেল। এতক্ষণ ছিল পর্বত সরানোর প্রতিজ্ঞা। এখন হলো সাগরের তিমির পেট থেকে তার হৃদপিন্ডটা ছিঁড়ে এনে দেয়ার সমান প্রতিজ্ঞা। করবে কি এখন সে?
হব বলল, ‘নোভা, আপাতত একটা প্রজাপতি হলে কি তোমার চলবে?’
নোভা যেন হারানো মোগল সাম্রারাজ্য ফিরে পেল। বলল, ‘চলবে মানে? খুব চলবে। একটা পেলে আমি আর চাই না।’
‘তাহলে তোমার ফ্রক থেকে ওইটা ধরে নাও।’ বলল হব।
আসিফ এবার হাঁ হয়ে গেল। যেন এই গাল দিয়ে সে হিমালয়কেও পেটে চালান দিতে পারবে।
প্রজাপতিটা এন্ড্রোডিং গ্রহের। নোভা কিংবা আসিফ কেউই ঐ প্রজাপতি দেখেনি। দেখেনি বললে ভুল হবে। ওটা এমনভাবে আছে দেখলে মনে হবে ফ্রকে যেন ওটা আঁকানো।
নোভা ওটা ধরলো না। বরং ধিন ধিন করে নাচতে লাগলো। এই নাচের নেই কোনো তাল, নেই কোনো লয়, নেই কোনো ছন্দ। কিন্তু এতে যেন আছে সমস্ত সুখ। সমস্ত আনন্দ।

প্রজাপতিটা এবার উড়ার দিলো। বসলো হবের হাস্যোজ্জ্বল চোয়ালের ওপর। তবে মুহূর্ত মাত্র। তার পর বসলো আসিফের নাকের ডগায়। সেখানেও তিন সেকেন্ড।
তারপর আবার নোভার ফ্রকে ফিরে এলো। যেন কেউই ফুল নয়। নোভাই ফুল।
হব বের হয়ে কন্ট্রোল রুমের দিকে গেল। পিছে আসিফও। নোভা ফল খেতে লাগলো। আর প্রজাপতি উড়ে উড়ে খেলা করতে লাগলো। যেন মস্ত এক ফুল নোভা।
হব মনিটরের দিকে তাকিয়ে বলল, ‘নোভা জলদি এই রুমে আসো।’
নোভা কোনো প্রতিবাদ করলো না। কেননা সে জানে হয়তোবা কোনো অসুবিধা হয়েছে। ও যেয়ে নিজের চেয়ারে বসে সিটবেল্ট বেঁধে ফেলল ভাইয়া এবং হব এর বাঁধা দেখে। তাকালো ওয়াল মনিটরের দিকে। সেখানে আর একটা সসার দেখা যাচ্ছে। ঠিক ওদের টার মতো। তবে ওর সামনে কেমন যেন সুচালো।
আসিফ হবকে বলল, ‘ওটাওতো সসার। ওরাও কি আমাদের মতো বেড়াতে এসেছে?’
‘ওটা সসার। তবে একটু ভিন্ন। ওটাতে কোনো মানুষ নেই। ওটা আমাদের ধ্বংস করতে এসেছে। এই দেখ।’ বলে হব টেবিলের টাচ কি বোর্ডে কয়েকটা কমান্ড করলো। ঐ সসারের সামনে একটা পথ-নির্দেশ ফুটে ওঠে যেটা সরাসরি এই সসারকে আঘাত করবে।
হব বলল, ‘আরেকটু শিওর হয়ে নিই।’ বলে ও সসারের পথ পরিবর্তন করলো। সাথে সাথে ধেয়ে আসা সসারের পথও পরিবর্তন হল।
আসিফ বলল, ‘এখন কী হবে?’
‘আমরা উল্টা ওটাকে ধ্বংস করবো। আমাদের নির্ধারিত সীমার মধ্যে এলেই ওটাকে আমি ভ্যানিশ করবো। এখানে সব ব্যবস্থা আছে।’ দৃঢ়প্রত্যয় হবের।
চিন্তাগ্রস্ত হয়ে সিটে গা এলিয়ে দেয় আসিফ। হব তার কাজ চালিয়ে যায়।
নোভা প্রজাপতি নিয়ে মনের সুখে খেলা করছে। যেন সদ্য ফোটা গোলাপ। এখনও লাগেনি তাতে চৈত্রের রোদ বা বৈশাখের উন্মাতাল ঝড়।

সসারের লড়াই
সসারটা ধীরে ধীরে এগিয়ে আসছে। যে কোনো মুহূর্তে আঘাত করবে ওদেরকে। ভয়ে আসিফের কলিজা শুকিয়ে গেছে। চোখে মুখে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। যে কোনো মুহূর্তে ওরা শেষ হয়ে যাবে। এই চিন্তায় ও অস্থির।
নোভা প্রজাপতি নিয়ে খেললেও এখন বুঝতে পেরেছে গতিক ভাল না। তাই ও-ই কিছুটা ভড়কে গেছে।
হবের অবস্থা সম্পূর্ণ উল্টা। ও নো টেনশনে আছে। যেন কিছুই হয়নি। সব স্বাভাবিক আছে। ওয়াল মনিটরে টাচ কিবোর্ড দিয়ে কতগুলো দাগ টানলো। যার উৎস এই সসার। দাগের অন্য মাথা সামনের সসার লক্ষ্যে। তবে ঐ দাগের মধ্যে এখনও আসেনি শত্রু সসার।
আসিফের মনে হলো যেন কয়েক যুগ ধরে ওরা বসে আছে। শত্রুরা ওদের নিশানা করে আছে। যে কোনো মুহূর্তে ধ্বংস করে দেবে ওদের। এমনকি আসিফ জোরে নিঃশ্বাস নিতেও ভয় পাচ্ছে।
দাগের মাথায় শত্রু সসার আসতেই হব তার হাত নিয়ে খেলা করতে লাগলো কিবোর্ডের ওপর। ওদের সসার থেকে শত্রু সসারে শুরু হলো গুলি বৃষ্টি।
অনেকক্ষণ ধরে চেপে রাখা দীর্ঘ শ্বাসটা ছাড়লো আসিফ। নাক দিয়ে ফোস শব্দ বের হলো। আসিফ চোখের একটা পলক ফেলল। আবার তাকালো মনিটরের দিকে। তখন ওর চোখ বের হয়ে আসার জোগাড় হলো। শত্রু সসার থেকেও গুলির বৃষ্টি শুরু হয়েছে। ঐ গুলিগুলো হবদের গুলি গুলোকে ধ্বংস করে দিলো।
হব মোটেও বিচলিত হল না। সে নতুন উদ্যোগে ওর থেকে বড় গুলি করলো। কিন্তু ফল একই।
হব এবার একটু চিন্তিত হলো। তার পর কতগুলো সিলিন্ডার নিক্ষেপ করলো শত্রু সসারের দিকে। সেগুলো বার্স্ট হয়ে শত্রু সসারকে ঘিরে একটা বলয় তৈরি করলো। সাথে সাথে শত্রু সসার জায়গায় দাঁড়িয়ে ডিগবাজি খেতে লাগলো।
পঁয়তাল্লিশ সেকেন্ড চলল এভাবে। আস্তে আস্তে দূর হয়ে গেল বলয়।
ঠিক তখন আসিফদের সসারের ওয়াল মনিটর ঝাপসা হয়ে গেল। শত্রু সসারের মতো অবস্থা হলো ওদের।
হব ছোট্ট একটা মাউথ পিস হাতে নিয়ে বলল, ‘আমরা সন্ধির প্রস্তাব করছি। তোমাদের কথা আমরা মেনে নেব।’
সাথে সাথে থেমে গেল ডিগবাজি। কিন্তু বলয় কমলো না। শত্রুর সসারকে অনুসরণ করে চলল ওদের সসার। মস্ত বড় চুম্বকের আকর্ষণে যেন এগিয়ে চলেছে হবদের সসার শত্রু সসারের পিছে।
অনেক দূর এসেছে ওরা শত্রুর সসার অনুসরণ করে। হব সসারের দূরবর্তী ক্যামেরাগুলো ওপেন করলো। চোখ ছানাবড়া হয়ে গেল মনিটরের ছবি দেখে। শত্রু সসার ওদেরকে একটা ব্ল্যাক হোলের দিকে নিয়ে যাচ্ছে। যা করার এখনই করতে হবে।
‘আসিফ, নোভা শক্ত হয়ে বস।’ বলে ও সিটে নড়ে চড়ে বসে।
টাচ কিবোর্ডে হবের হাত কাজ করতে থাকে অনর্গল। ‘এবার অ্যাকশন শুরু।’ বলে হব।
আসিফ আর নোভা মনিটরে দেখে শত্রু সসারকে আবারও গ্যাসে ঘিরে ধরেছে। যা তাকে টেনে নিয়ে যাচ্ছে ব্ল্যাক হোলের দিকে দ্রুত বেগে।
হব নিজেদের সসারকে স্থির করে রাখে। কয়েক সেকেন্ড পরে দেখা যায় শত্রু সসারকে গ্রাস করেছে ব্ল্যাক হোল।
দ্রুত উল্টা দিকে সসার চালনা করে হব। ধ্বংস হলো শত্রু সসার। ওরা রক্ষা পেল ব্ল্যাক হোলে হারিয়ে যাওয়া থেকে।
স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে ওরা যার যার সিটে শরীর এলিয়ে দিলো। মনে মনে শুকরিয়া আদায় করলো মহান ¯্রষ্টার।

ইয়েলো গ্রহে ওরা
সসারটা ল্যান্ড করলো হলুদ রঙের মাটিতে। খুলে গেল দরজা। একে একে সসার থেকে নামলো হব, আসিফ আর নোভা।
ওরা নামতেই চারিদিক থেকে ছুটে এলো হৈ চৈ করতে করতে একদল ছোট ছোট ছেলে-মেয়ে। তবে পৃথিবীর ছেলে-মেয়ের তুলনায় তারা একটু ভিন্ন। সেটা হলো ওদের মাথায় এমনকি ভ্রুতেও চুল নেই। অর্থাৎ চুলবিহীন মনুষ্য শিশু। সাইজেও ওরা খুব ছোট। এদেরকে দেখে মনে হচ্ছে পৃথিবীর এক দেড় বছরের শিশু এরা। সকলেরই চেহারা খুর আকর্ষণীয়। দেখলেই কোলে নিতে ইচ্ছে করে। হলুদ রঙের শার্ট ও প্যান্ট ওদের পরনে।
আসিফ হবের কাছে জিজ্ঞাস করলো, ‘এটা কোন গ্রহ?’
‘ওদের কাছেই জিজ্ঞাস কর।’ বলল হব হাসি মুখে।
আসিফ তাকালো সদ্যপ্রস্ফুটিত গোলাপ কুঁড়িদের দিকে। তারা ওদের ঘিরে ধিন ধিন করে নাচ জুড়ে দিয়েছে।
আসিফ তাদের লক্ষ করে বলল, ‘তোমাদের গ্রহের নাম কি?’
পাখির ডাকের মতো তারা কিচির মিচির করে কি বলল আসিফ কিছুই বুঝতে পারলো না। নিরাশ হয়ে তাকালো হবের দিকে।
হব ওর দিকে ওয়ারলেসের মতো একটা যন্ত্র এগিয়ে দিলো। বলল, ‘লাল বোতামটা অন কর। তারপর জিজ্ঞাস কর।’
আসিফ তাই করলো। ওরা আবারও পাখির মতো কিচির মিচির করে কি যেন বলল। সাথে সাথে আসিফের হাতের যন্ত্রটা অনুবাদ করে বলল, ‘আমাদের গ্রহের নাম ইয়েলো।’
আসিফ অবাক হয়ে চারিদিক তাকিয়ে দেখে। শুধু হলুদ আর হলুদ। গাছপালা, আকাশ সবই হলুদ।
নোভা একটা হলুদ শিশুকে টেনে ধরে কোলে নেয়ার জন্য। শিশুটা কিছুতেই ওর কাছে আসতে চাই না।
হব ওর কান্ড দেখে হাসতে থাকে। বলে, ‘নোভা, এরা শিশু না। এদের সাইজটাই এমন।’
‘তা কি করে হয়?’ জানতে চাইল নোভা।
‘হুম। এদের ¯্রষ্টা এভাবেই তৈরি করেছেন।’ উত্তর হবের।
‘আমি ওদের সাথে কথা বলবো।’ বলে ভাইয়ার হাত থেকে অনুবাদ যন্ত্রটা কেড়ে নেয় নোভা। হতে নিয়ে বলে, ‘এই শিশুর দল তোমরা থামো।’
সাথে সাথে থেমে যায় ওদের কিচির মিচির। সকলে তাকায় ওর দিকে। সমস্বরে সকলে বলে ওঠে, ‘আমরা শিশু না। বরং তুমিই শিশু। তোমার বয়স আমাদের থেকে কম।’
‘বুঝলাম তোমরা শিশু না। তাহলে কি তোমরা লিলিপুটের দল?’
‘সেটা আবার কি জিনিস।’ বলল এক ইয়েলো।
‘ওমা এটাও বোঝ না। আরে ছোট ছোট মানুষকে লিলিপুট বলা হয়।’ বলল নোভা। ‘আচ্ছা তোমরা এতো সুন্দর কেন?’
ওর প্রশ্নের কোনো উত্তর দিলো না ইয়েলোরা। সবাই নিঃশ্চুপ হয়ে নিজ নিজ জায়গায় দাঁড়িয়ে আছে। যেন ওদের কে কমান্ড করা হয়েছে তোমরা থেমে যাও। তবে এই অবস্থা থাকলো মুহূর্ত মাত্র। পরক্ষণে ওরা ওর দু’হাত ধরে টেনে নিতে চাইলো।
এক ইয়েলো বলল, ‘চল আমাদের সাথে খেলা করবে।’
নোভা ওদের থেকে হাত ছাড়িয়ে নিয়ে অনুবাদ যন্ত্রটা আসিফের হাতে দিয়ে চলল ওদের সাথে খেলা করতে। আসিফ কিছু বলতে যাচ্ছিল। হব ওকে থামিয়ে বলল, ‘যাক। ও ওদের সাথে খেলা করে আসুক।’
এক মিনিটও পার হলো না। হবের পকেটের ইমার্জেন্সি মোবাইলে বিপ বিপ করে উঠলো। ওটা পকেট থেকে সামনে আনতেই ওর কপালে চিন্তার ছাপ দেখা দিলো।
আসিফ বলল, ‘কোনো বিপদ?’
‘হুম।’ বলে ও দৌড় দিলো নোভা যেদিকে খেলা করছে ও দিকে। আসিফের পিলে চমকে উঠলো। ও ছ্টুলো হবের  পিছে।
একদল ইয়েলো কাকে যেন ঠেসে ধরেছে বালির ওপর। হব, আসিফ নোভাকে খুঁজে পাচ্ছে না। আসিফ চিৎকার করে উঠলো, ‘নোভা..।’
জটলার ভেতর থেকে গোংড়ানির শব্দ বের হলো। আসিফ, হব ছুটে যেয়ে এক একটা ইয়েলোকে ধরে ঠেলে ঠেলে ফেলে দিয়ে নোভাকে উদ্ধার করলো। নোভা উঠে দাঁড়িয়ে ফুসছে আর গায়ের বালি ঝাড়ছে।
হব রাগত স্বরে বলল, ‘কি চাও তোমরা?’
এক ইয়েলো বলল, ‘ওর মাথার চুল।’ নোভাকে দেখালো ও।
‘ওরে মদন টাক, কড়ই টাক, বিচ্চু লিলিপুটের দল আমার মাথার চুল নিবি, দাঁড়া দেখাচ্ছি মজা।’ তেড়ে যেতে চাইলো ওদের দিকে নোভা।
হব ওকে ধরলো। বলল, ‘থামো।’
রাগে, ক্ষোভে, দুঃখে নোভা ফুঁসছে। ‘এই লিলিপুটের গ্রহে আর না। চল, আমরা ফিরে যাই।’ সসারের দিকে হাঁটা ধরলো ও। পিছে ওরা দু’জন।
হঠাৎ ইয়েলোবরা ওদের চারিদিক থেকে ঘিরে ধরলো। একজন বলল, ‘তোমাদের চুল না দিয়ে এই গ্রহ ছাড়তে পারবে না।’
থমকে দাঁড়ালো ওরা তিনজন। হব পকেট থেকে লেসার গান বের করে পাশের এক গাছে ফায়ার করলো। মুহূর্তে গাছের মাজা কেটে পুড়ে ছাই হয়ে গেল। ইয়েলোরা ধীরে ধীরে সরে যেয়ে ওদের পথ করে দিলো। ওরা দৃঢ় পদক্ষেপে সসারে যেয়ে উঠলো। ত্যাগ করলো ইয়েলো গ্রহ।

যাত্রা শেষ
সসারটা চলেছে মহাশূন্যের বুক চিরে। ওরা তিনজন সসারে নিশ্চুপ হয়ে বসে আছে। হঠাৎ হব দুইটা কাশি দিলো। বাম হাতে চেপে ধরলো ডান বুক। সামনের দিকে কাত হয়ে পড়লো। আসিফ উঠে যেয়ে ওকে ধরলো। সসারটা কেমন জানি কেঁপে কেঁপে উঠলো।  বিকট শব্দে বার্স্ট হলো সসার।
হবকে ছেড়ে আসিফ নোভাকে পাজাকরে ধরে বসে পড়লো চেয়ারে। দু’চোখ বন্ধ করল ও। প্রলয় কান্ড যেন ঘটে যাচ্ছে ওদের চারপাশ দিয়ে।
একসময় সবকিছু শান্ত হলো। নোভা আসিফকে ডাকলো, ‘ভাইয়া, ভাইয়া।’ বলে।
আসিফ পিট পিট করে চোখ খুলল। মহাশূন্যে ভেসে যাচ্ছে নাতো ওরা? নাহ কিছুই নাহ! ওদের মাথার ওপরে খোলা মধ্য রাতের আকাশ। তারার ছড়াছড়ি আকাশে। হেলে পড়া চাঁদটা এখনও আছে।
হুতোম পেঁচাটা আবারও ডেকে উঠলো। নোভা আবারও বলে উঠলো, ‘ভাইয়া আমার ভয় করছে। ঘরে চলো।’
‘আ..হা। কিন্তু আমরা এখানে কেন? আমরা তো মহাশূন্যে ছিলাম।’
‘পাগল-টাগল হলে নাকি? মাঝ রাতে ছাদে এসে তোমার ভূতে ধরলো?’
‘নারে না। মহাকাশে ছিলাম আমরা।’ বিস্ময় ভরা আসিফের কণ্ঠে। ‘ঐযে ও আমাদের সাথে ছিলো। কি জানি নামটা। তুইও তো আমাদের সাথে ছিলি। বল না ওর নামটা?’
‘আমাকে ছাড়া তুমি পাগল হয়ে গেছ।’ ভাইয়ার কাছ থেকে ছাড়িয়ে ওর সামনে মাজায় হাত দিয়ে দাঁড়ায় নোভা। পরক্ষণে ঘুরে হাঁটা ধরে। মুখে বলে, ‘তুমি পাগলামি করো। আমি চললাম আব্বু-আম্মুকে ডাকতে।’
কি জানি কি হলো আসিফের কিছুই মনে করতে পারছে না। মাথা চুলকাতে চুলকাতে ছোট বোনের পিছে পিছে ঘরের দিকে চলল ও।
[সমাপ্ত]

SHARE

Leave a Reply