Home খেলার চমক শুরু হচ্ছে বিশ্বের বৃহত্তম ক্রীড়া উৎসব -মোহাম্মদ হাসান শরীফ

শুরু হচ্ছে বিশ্বের বৃহত্তম ক্রীড়া উৎসব -মোহাম্মদ হাসান শরীফ

বিশ্বের বৃহত্তম ক্রীড়া উৎসব শুরু হচ্ছে পেলে-নেইমারদের দেশ ব্রাজিলে। ৫ আগস্ট রিও ডি জেনেরিও নগরীতে বসছে ৩১তম গ্রীষ্মকালীন অলিম্পিক গেমস। চলবে ২১ আগস্ট পর্যন্ত। এটাই এ যাবৎকালের বৃহত্তম অলিম্পিকস আসর। ২০৭টি দেশ অংশ নিচ্ছে। প্রায় সাড়ে ১০ হাজার ক্রীড়াবিদ ২৮ খেলায় ৩০৬টি ইভেন্টে লড়বেন। বাংলাদেশও আছে এ আসরে। বাংলাদেশের সেরা গলফার সিদ্দিকুর রহমান এতে অংশ নিচ্ছেন। বাংলাদেশীদের মধ্যে তিনিই প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে সরাসরি এতে খেলছেন।
এবারের অলিম্পিক গেমসে অনেক কিছুতেই প্রথম। এই প্রথম দক্ষিণ আমেরিকান কোনো নগরী অলিম্পিক আয়োজন করতে যাচ্ছে। পর্তুগিজভাষী কোনো দেশেও এই প্রথম গ্রীষ্মকালীন অলিম্পিক হচ্ছে। প্রথমবারের মতো কসোভো ও দক্ষিণ সুদান অংশ নিচ্ছে।
অলিম্পিক গেমসের জন্ম প্রাচীন গ্রিসে। আর আধুনিক অলিম্পিকের সূচনা ১৮৯৬ সালে। সেবার ১৪টি দেশের ২৪১ জন ক্রীড়াবিদ অংশ নিয়েছিলেন।
আধুনিক অলিম্পিক আন্দোলনের জনক ব্যারন পিয়ের দ্য কুবার্তিন। ফরাসি এই বিদ্বজ্জন ও ইতিহাসবিদের দেখানো পথ ধরেই প্রায় ১৫০০ বছর অন্ধকারে থাকার পরও নতুন করে আত্মপ্রকাশ করেছে অলিম্পিক গেমস। অলিম্পিককে বিস্মৃতির অতল থেকে বের করে তাকে নতুন জীবনদানের কৃতিত্ব এককভাবে তাকেই দেয়া যায়। এখন বিশ্বের সর্ববৃহৎ ক্রীড়া উৎসব হিসেবে নিয়মিত অনুষ্ঠিত হচ্ছে অলিম্পিক গেমস। জয় নয়, অলিম্পিক গেমসে অংশগ্রহণ করাও অনেকের কাছে গৌরবের ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। পৃথিবী থেকে হিংসা, বিদ্বেষ, হানাহানি দূর করে একটি সুন্দর বিশ্ব গড়ার অঙ্গীকার নিয়েই তিনি শুরু করেছিলেন সেই আন্দোলন। আর তাতে সফলও হয়েছিলেন। তিনি শুধুমাত্র অলিম্পিক গেমস আয়োজন করেই ক্ষান্ত থাকতে চাননি। বরং একটি আন্দোলনই গড়ে তুলেছিলেন। সেই আন্দোলনের একটি অংশ হলো অলিম্পিক গেমস। আর এ কারণে আধুনিক ক্রীড়া ইতিহাসে সবচেয়ে শ্রদ্ধেয়, আদর্শবান, অনুপ্রেরক এবং অনুসরণীয় ব্যক্তিত্ব্ হিসেবে বিবেচনা করা হয় পিয়েরে দ্য কুবার্তিনকে।

অলিম্পিক গেমসের ক্রমবিকাশ
#    অলিম্পিক গেমস দুই ধরনের-গ্রীষ্মকালীন অলিম্পিক গেমস এবং শীতকালীন অলিম্পিক গেমস। তবে সাধারণভাবে অলিম্পিক গেমস বলতে গ্রীষ্মকালীন অলিম্পিক গেমসকেই বোঝানো হয়ে থাকে। উভয় ধরনের গেমসই প্রতি চার বছর পরপর হয়। তবে গ্রীষ্মকালীন ও শীতকালীন গেমসের ব্যবধান হয় দুই বছর।
#    অলিম্পিক গেমস আয়োজনের দায়িত্ব দেয়া হয় কোন শহরকে, দেশকে নয়। যেমন এবারের গেমস আয়োজন করছে অ্যাথেন্স; গ্রিস নয়। অথচ বিশ্বকাপ ফুটবল কিংবা ক্রিকেট ইত্যাদি আয়োজনের দায়িত্ব পায় দেশ।
#    কোনো বছর অলিম্পিক গেমস হতে না পারলে সেই সালটি কিন্তু হিসাব থেকে বাদ পড়ে না। যেমন প্রথম বিশ্বযুদ্ধের কারণে ১৯১৬ সালের ষষ্ঠ এবং দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের কারণে ১৯৪০ ও ১৯৪৪ সালের যথাক্রমে দ্বাদশ ও ত্রয়োদশ গেমস হতে পারেনি। কিন্তু তা সত্ত্বেও পরের বারের গেমস পরবর্তী সংখ্যা দিয়েই শুরু হয়েছে।
#    ১৯২০ সালের অ্যান্টিয়র্প গেমসে প্রথমবারের মতো ৫টি মহাদেশের প্রতীক হিসেবে ৫টি রিং এর সমন্বয়ে গড়া অলিম্পিক পতাকা উত্তোলন করা হয়। প্রতিযোগিতার মর্যাদা রক্ষা এবং অসৎ কিছু করা থেকে বিরত রাখার জন্য আনুষ্ঠানিক শপথেরও সূচনা হয় এখানে।
#    ১৯২৪ সালে প্যারিস গেমসের সময় অলিম্পিক মূলমন্ত্র হিসেবে গ্রহণ করা হয় ‘পরঃরঁং, ধষঃরঁং, ভড়ৎঃরঁং- তুরিয়ান, তুঙ্গিয়ান, বলীয়ান’। অলিম্পিকের সমাপনী অনুষ্ঠানও যুক্ত হয় এই আসরে।
#    ১৯২৮ সালে আমস্টারডামে অলিম্পিক মশাল প্রজ্বলন করা হয়।
#    ১৯০৪ সালে সেন্ট লুইয়ে অনুষ্ঠিত তৃতীয় আসর থেকে বিজয়ীদের মধ্যে স্বর্ণ, রৌপ্য ও ব্রোঞ্জ পদক দেয়ার রীতি প্রচলিত হয়। তার আগ পর্যন্ত বিজয়ীরা কাপ ও ট্রফি পেতেন।
#    ১৯২৪ সালে প্যারিস অলিম্পিকে প্রথমবারের মতো লাউড স্পিকার ব্যবহার করা হয়।
#    ১৯৩২ সালের লস অ্যাঞ্জেলেস গেমসে ফটো-ফিনিশড ক্যামেরা এবং বিজয়ীদের মঞ্চ বসানো হয়।
#    ১৯৬৪ সালে রোম গেমসের সরাসরি সম্প্রচার হয় টেলিভিশনে এবং সিবিএস স্বত্ব লাভ করে ৩৯৪,০০০ মার্কিন ডলারে।

SHARE

Leave a Reply