Home মুখোমুখি অবিরত প্রচেষ্টার মাধ্যমে একজন ভালো মানুষ হওয়া যায় -মোশাররফ...

অবিরত প্রচেষ্টার মাধ্যমে একজন ভালো মানুষ হওয়া যায় -মোশাররফ হোসেন খান

কবি মোশাররফ হোসেন খান। জন্ম ২৪ আগস্ট ১৯৫৭। আশির দশকের প্রধান কবি। তাঁর পদচারণা কেবলমাত্র সাহিত্যকেন্দ্রিক। আমগ্ন সাহিত্যপ্রেমিক। অসম্ভব মেধাবী ও মৌলিক কবি হিসেবে তিনি বাংলাসাহিত্যকে উজ্জীবিত করে তুলেছেন। লেখালেখির পাশাপাশি সম্পাদনাসহ সাহিত্যের নানাবিধ কাজে ব্যস্ত সময় অতিবাহিত করেন। কাব্যগ্রন্থ, গল্প, প্রবন্ধ, শিশুসাহিত্য, জীবনীগ্রন্থ’, কিশোর উপন্যাস এবং সম্পাদনাসহ বইয়ের সংখ্যা প্রায় শতকের কাছাকাছি।
হ্যাঁ বন্ধুরা, ‘মুখোমুখি’ আগস্ট ২০১৬ সংখ্যায় তোমাদের প্রশ্নের উত্তর দিচ্ছেন সর্বাধিক প্রচারিত শিশু-কিশোর মাসিক নতুন কিশোরকণ্ঠের সম্পাদক তোমাদের প্রিয় কবি মোশাররফ হোসেন খান।
-নির্বাহী সম্পাদক
প্রশ্ন: কিভাবে একজন ভালো মানুষ হওয়া যায়?
মুঃ আফতাব হোসেন মনির
হাড়িভাসা, পঞ্চগড়
মোশাররফ হোসেন খান : অবিরত প্রচেষ্টার মাধ্যমে একজন ভালো মানুষ হওয়া যায়। ভালো মানুষ হতে হলে যারা ভালো মানুষ তাদের পথ অনুসরণ করা প্রয়োজন। তাঁদের সান্নিধ্যে থাকা প্রয়োজন এবং অতীতে যারা ভালো মানুষ ছিলেন তাদের জীবনী বেশি বেশি পাঠ করা প্রয়োজন। ভালো মানুষ বলতে কিন্তু আমি সৎ এবং সাহসীকেই বুঝি।
প্রশ্ন: শিশু-কিশোরদের জন্য আপনার উপদেশ কী?
রাবেয়া আক্তার
বংশাল, ঢাকা
মোশাররফ হোসেন খান : উপদেশ নয়, পরামর্শ। তাদের জন্য আমার পরামর্শ হলো প্রকৃত ‘মানুষ’ হিসেবে গড়ে উঠতে হবে। জীবনটাকে সেইভাবে পরিচালিত করতে হবে। নিজেকেও তৈরি করতে হবে ক্রমাগত সেইভাবে।
প্রশ্ন: আপনার সন্তান কয়জন? এবং তারা কে কী করেন?
রাবেয়া আক্তার
রনি মার্কেট, কামরাঙ্গীরচর, ঢাকা
মোশাররফ হোসেন খান : তিনজন। এক পুত্র ও দুই কন্যা। সবাই লেখাপড়া করছে।
প্রশ্ন : আমরা তো জানি নতুন কিশোরকণ্ঠ পত্রিকার চলতি সংখ্যা তার আগের মাসের ১৮ তারিখে প্রকাশিত হয়, তারপরও পত্রিকাটি চলতি মাসে কোনো কোনো সময় অনেক দেরিতে পাওয়া যায়, এ ব্যাপারে কিশোরকণ্ঠ কর্তৃপক্ষ কতটুকু মনোযোগী?
মো: নওশেদ আলী
ভেলকুপাড়া, সাতমেড়া, পঞ্চগড়
মোশাররফ হোসেন খান : আগের মাসের ১৮ তারিখ নয়; তারও আগে পত্রিকা প্রকাশ হয়। মাঝে মাঝে নানাবিধ কারণে হয়তোবা একটু সমস্যা হয়। কিশোরকণ্ঠ কর্তৃপক্ষ সব সময়ই অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন পাঠকের হাতে সময়মত পত্রিকাটি পৌঁছে দেয়ার জন্য। আগামীতে যেন তেমন কোনো সমস্যা না হয় সে জন্য সবার দোয়া কামনা করছি।
প্রশ্ন: সমাজ পরিবর্তনে কবিতার ভূমিকা কতটুকু?
তাসনিয়া খানম
ইমাম গাজ্জালী গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজ, পাবনা
মোশাররফ হোসেন খান : অনেক। কবিতা হয়তো সরাসরি মাঠে ময়দানে কাজ করতে পারে না, কিন্তু সমাজ পরিবর্তনের জন্য মানুষের মন ও মননে একটি বিশাল ক্ষেত্র তৈরি করে থাকে, যা সমাজ পরিবর্তনের জন্য অনেক বেশি ভূমিকা রাখে।
প্রশ্ন: একজন শিক্ষার্থীর মূল উদ্দেশ্য কী হওয়া উচিত?
মাসুম বিল্লাহ
শান্তিবাগ, ভায়না, মাগুরা
মোশাররফ হোসেন খান : শিক্ষাগ্রহণ। শিক্ষাগ্রহণ শব্দটি ছোট করে বললাম বটে কিন্তু এর অর্থ ব্যাপক। সেই ব্যাপক অর্থকেই গ্রহণ করতে হবে। শেখার কোনো বয়স কিংবা সীমা নেই। আমৃত্যু শিখতে হয়। সেটাই উচিত।
প্রশ্ন: আপনার শিক্ষাজীবন সম্পর্কে জানতে চাই-
মো: শাহজালাল ইবনে জিহাদী
শিলিগুড়ি, পশ্চিমবঙ্গ, ভারত
মোশাররফ হোসেন খান : আমার শিক্ষাজীবন মাদরাসা ও কলেজে কেটেছে। হোমিও মেডিক্যাল কলেজেও কেটেছে তিন বছর। পড়েছি বাঁকড়া-মুকুন্দপুর আলিয়া মাদরাসা, যার প্রতিষ্ঠাতা আমার আব্বাজান, সেখানে। তারপর চাকলা, হামিদপুর, আগরদাড়ি, বাহাদুরপুর (ফরিদপুর), যশোর সিটি কলেজ, যশোর হোমিও মেডিক্যাল কলেজ প্রভৃতি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে। ছাত্র হিসেবে খারাপ ছিলাম না। তাই যখন যেখানেই পড়েছি ছাত্র, শিক্ষক ও আশপাশের সুধীদের অকৃপণ ভালোবাসা ও দোয়া পেয়েছি।
প্রশ্ন: লেখালেখির জগতে কিভাবে এলেন?
শান্তা আক্তার
ইবনে তাইমিয়া স্কুল অ্যান্ড কলেজ, কুমিল্লা
মোশাররফ হোসেন খান : শৈশবে আব্বাজানের কাছ থেকে শুনতে শুনতে এবং তারপর লেখাপড়া করতে করতেই। তার সাথে প্রকৃতির চারপাশ দেখতে দেখতে অনেক শিখেছি। আমাদের বাড়িটি এমন এক জায়গায়, যার পাশেই অবারিত বিশাল মাঠ, বিল, গাছগাছালির বাগান প্রভৃতি রয়েছে। ফসলের মাঠ, পাখির ডাক, বিলে মাছ ও ডাহুকের হাতছানি এসব তো ছিলো আমার কবিতা রচনার উপভোগ্য উপাদান। আর কৃষকের হাল চাষ, কামার-কুমার ও জেলেদের জাল দিয়ে মাছ ধরার দৃশ্যসহ কত যে উপাদান আমাকে কবি হতে সাহায্য করেছে, তা বলে শেষ করা যাবে না। মেঠোপথ, বনফুল গন্ধ আমাকে মাতোয়রা করে রাখতো। নীল আকাশের চাঁদনি রাত কিংবা মেঘঢাকা আকাশ ও বৃষ্টির ছন্দ আমাকে উদ্বেলিত করে তুলতো। শরৎ কিংবা হেমন্ত, শীত কিংবা গ্রীষ্ম, বর্ষা কিংবা বসন্তÑ প্রতিটি ঋতুই আমার ছিলো একেকটি ঝলমলে কবিতার নোটবুক। এখনও তো সেগুলোই আমাকে সবসময় লেখার প্রেরণা দিয়ে যায়।
প্রশ্ন: আপনার জীবনের কোন একটি স্মরণীয় ও শিক্ষণীয় ঘটনা জানতে চাই?
রাজবসু, কুষ্টিয়া
মোশাররফ হোসেন খান : স্মরণীয় ঘটনা তো একটি নয়, অনেক রয়েছে। কবিদের গোটা জীবনই তো স্মরণের পদ্মপুকুর। কয়টি বলবো। একটির কথা বলি- তখন ভরা বর্ষার মৌসুম। আমাদের কপোতাক্ষ তখন ছিলো অনেক বড়। নদীতে জোয়ার-ভাটার স্রোত ছিলো। বর্ষাকালে পানি বেড়ে কপোতাক্ষ হয়ে যেত দ্বিগুণ বড়। নদীতে তখন পুল কিংবা সাঁকো ছিলো না। পারাপারের একমাত্র ব্যবস্থা ছিলো খেয়াঘাটের নৌকা। তাও আবার যখন-তখন মাঝি পাওয়া যেত না। কিংবা নৌকাও হয়তো সময় মতো পাড়ে থাকতো না। অপেক্ষা করতে হতো কখন লোক আসবে এবং নৌকাটি এপাড় আনবে। এমনি এক সময়ে আমি এবং আমার বড় ভাই বাড়ি থেকে বেরুলাম কায়েমকোলার উদ্দেশে। বাজার ছাড়াতেই নদী। যাওয়ার সময় অনেক দেরি করে হলেও নৌকা পেলাম বটে। কিন্তু যখন কায়েমকোলার এবাদ চাচার বাড়ি থেকে দুপুরে খাওয়ার পর বিদায় নিলাম, তখন অঝোর ধারায় বৃষ্টি নামছিলো। বৃষ্টির ফোঁটা ছিলো একেকটি ইয়া বড় মারবেলের মত! দুই ভাই রাস্তায় উঠে লুঙ্গি কাছা মেরে দিলাম দৌড়। দৌড়াতেই থাকলাম। দুই মাইল দৌড়ানোর পর ঘাটে এসে দেখি নৌকা এপাড় নেই, ঐ পাড়ে। ইমান মাঝি চাচাও নৌকায় নেই। দুই ভাই দৌড় বন্ধ করে একটু থমকে দাঁড়ালাম। দেখলাম বাঁকড়া বাজারের দিক থেকে কেউ আসছেও না। অঝোর ধারায় বৃষ্টি! এমন বৃষ্টির মধ্যে কেনবা আর বেরুবে। চিন্তা করতে থাকলাম কিছুক্ষণ। ভাবতে থাকলাম কী করা যায়। নদী তো পার হতেই হবে। তা না হলে বাড়ি যাবো কিভাবে। সন্ধ্যাও ঘনিয়ে আসছে। আব্বাজান ও মা হয়তো এখনই চিন্তা করতে শুরু করেছেন। কারণ আমরা কোথাও রাত কাটাবার বান্দা নই। বড় ভাই বললেন, তুই এখানে থাক, আমি সাঁতরে গিয়ে নৌকাটি নিয়ে আসি। যে কথা সেই কাজ। বড় ভাই সেই বিশাল উন্মাতাল ঢেউয়ের ওপর ঝাঁপ দিলেন। আমি কি আর দাঁড়িয়ে থাকতে পারি! আমিও ভাইয়ের পিছে পিছে ঝাঁপ দিলাম পানিতে। ভাই পেছন ফিরেই তো অবাক! বললেন, কিরে তোরে না দাঁড়িয়ে থাকতে বলেছিলাম! আমি বললাম তার আর কি দরকার মিয়াভাই। আমিও সাঁতরাতে পারবো। আল্লাহর রহমতে এক সময় সেই দরিয়ার মতো ঢেউভাঙা উত্তাল নদী পার হয়ে ঘাটে এসে পৌঁছুলাম। তারপর একটু বিশ্রাম নিয়েই আবার দৌড় শুরু করলাম বাড়ির দিকে। বাড়িতে পৌঁছুতে সন্ধ্যা হয়ে গেল। সেদিন কষ্ট হয়েছিল খুব। সেটা ছিল শরীরের কষ্ট। কিন্তু মনে ছিল এক অন্য রকম আনন্দ। সেটা হলো এই যে, আমরা পেরেছি। আমরা পেরেছি সাঁতরিয়ে এত বড় স্রোতমুখর নদী পার হতে। এ ধরনের আরো কিছু অস্বাভাবিক কাজের স্মৃতি এখনও মনের মাঝে দোলা দিয়ে যায়।
প্রশ্ন: বর্তমানে সর্বাধিক প্রচারিত শিশু-কিশোর মাসিক পত্রিকা কিশোরকণ্ঠের গ্রাহকসংখ্যা কত?
নেসার উদ্দিন
গাবতলী, নরসিংদী
মোশাররফ হোসেন খান : তোমার চুলের সংখ্যা কি তুমি বলতে পারবে? তাহলে কিশোরকণ্ঠের গ্রাহকসংখ্যা জানার আর কি বা দরকার! তারপরও জানিয়ে রাখি, প্রায় দেড় লক্ষ পত্রিকা প্রতি মাসে ছাপা হয়। কোনো মাসে দুই লক্ষের কাছাকাছিও ছাপা হয়। তবে প্রিয় পত্রিকার গ্রাহক বাড়লে তোমারও নিশ্চয়ই ভালো লাগবে। তাই তুমিও প্রতি মাসে তোমার একজন বন্ধুর কাছে পত্রিকা পৌঁছে দিয়ে গ্রাহকসংখ্যা বৃদ্ধি করতে পারো।
প্রশ্ন: সর্বাধিক প্রচারিত শিশু-কিশোর মাসিক পত্রিকা কিশোরকণ্ঠের নাম কিশোরকণ্ঠ রাখেন কে?
ফয়সল
মতিঝিল, ঢাকা
মোশাররফ হোসেন খান : ‘কিশোরকণ্ঠ’ নাম রাখার পেছনে কবি মতিউর রহমান মল্লিক ভাই, সাইফুল আলম খান মিলন ভাই, ডা: আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের ভাই, আ জ ম উবায়েদুল্লাহ ভাইসহ অনেকেরই অভিমত কাজ করেছে। তবে সবচেয়ে অগ্রণী ভূমিকা ছিলো মল্লিক ভাইয়ের।
প্রশ্ন: আপনি কবি হওয়ার জন্য কার সবচেয়ে বেশি ভূমিকা ছিল?
বদরুননেসা, কাজলা, রাজশাহী
মোশাররফ হোসেন খান : আমার কবি হওয়ার পেছনে প্রথমত মহান রবের মঞ্জুর, তারপর আব্বাজানের অনুপ্রেরণা আর ছিলো আমার ‘কবি’ হওয়ার স্বপ্ন। এই স্বপ্ন পূরণের জন্য আমাকে গোটা জীবনই ত্যাগ ও পরিশ্রম করতে হয়েছে, এখনও হচ্ছে।
প্রশ্ন: আপনি মাসিক কিশোরকণ্ঠ পত্রিকার সাথে কবে থেকে সম্পর্কিত?
সাদিয়া ইসলাম
মহিচাইল, চান্দিনা, কুমিল্লা
মোশাররফ হোসেন খান : ১৯৮৯ সাল থেকে। এরপর ১৯৯২ সাল থেকে আরও বেশি পত্রিকার সাথে সম্পৃক্ত হয়ে পড়ি। সেখান থেকে এই পর্যন্তÑ হ্যাঁ এখন পর্যন্ত আছি তোমাদের সাথেই ‘কিশোর হয়ে’!
প্রশ্ন: আমি একজন কিশোরকণ্ঠের পুরাতন পাঠক। বিভিন্ন কর্মব্যস্ততার কারণে দীর্ঘদিন দেখা হয়নি। একজন প্রিয়পাঠকের কাছে কিশোরকণ্ঠ দেখে মনে পড়ল। নিমিষেই দেখে নিলাম পুরো পত্রিকাটি। আগের চাইতে অনেক ভালো মানের। আধুনিকতার সাথে তাল মিলিয়ে চলছে। আমার পরামর্শ হলো ঈড়সঢ়ঁঃবৎ খবধৎহরহম চধমব সংযোজন করলে আরও ভালো হবে বলে আমি মনে করি।
মো: খাদেমুল ইসলাম
কাহারোল, দিনাজপুর
মোশাররফ হোসেন খান : পরামর্শটি আমাদের বিবেচনায় রইলো।
প্রশ্ন: প্রিয় কিশোরকণ্ঠ সম্পাদক। আপনার নতুন কিশোরকণ্ঠ পত্রিকায় যদি লেখা ছাপানো হয়, তবে লেখকের ঠিকানায় পত্রিকার সৌজন্য কপি পাঠানো হয় কি? জানিয়ে বাধিত করবেন।
আবদুল্লাহ আল মুজাহিদ
মোশাররফ হোসেন খান : সবাইকে সৌজন্য কপি পাঠানো সম্ভব হয় না। সেটা সম্ভবও নয় বাস্তব কারণে।
প্রশ্ন: একজন লেখককে শক্তিমান লেখক হতে করণীয় কী?
জুবায়ের বিন ইয়াছিন
চতলা, লালমোহন, ভোলা
মোশাররফ হোসেন খান : ক্রমাগত প্রচেষ্টা এবং অনুশীলনের মাধ্যমে একজন শক্তিমান লেখক হওয়া যায়। তবে লেখার চেয়ে কিন্তু পড়তে হবে বেশি।
প্রশ্ন: কিশোরকণ্ঠকে নিয়ে কাজ করতে আপনার কেমন লাগছে? এ নিয়ে আপনার স্বপ্ন কী? কতটুকু সফল হয়েছেন বলে মনে করেন?
মো: আকবর হোসেন
কমলনগর, লক্ষ্মীপুর
মোশাররফ হোসেন খান : ভালো লাগে বলেই তো লেগে আছি। আমার স্বপ্ন বাংলাদেশের ছাপ্পান্ন হাজার বর্গমাইলে ৬৮ হাজার গ্রামের প্রতিটি ঘরে কিশোরকণ্ঠ পৌঁছে দেয়ার। এখানে পাঠক হিসেবে তোমাদের সহযোগিতা বেশি প্রয়োজন। একজন পাঠক যদি প্রতি মাসে তার নতুন একজন বন্ধুকে পত্রিকা পড়তে দেয় তাহলেই আমার স্বপ্ন বাস্তবায়ন হবে।
সফলতা নিয়ে ভাবনার চেয়েও আমার কাছে বড় বিষয় হলো স্বপ্ন বাস্তবায়নের দিকটা। চূড়ান্ত সফলতা তো আল্লাহর হাতে!
প্রশ্ন: লেখাপড়ায় মন বসে না, কী করা দরকার?
মো: জীবন মিয়া
পাকুড়িয়া শরীফ, গংগাচড়া, রংপুর
মোশাররফ হোসেন খান : মন না বসলে পড়ার দরকার নেই। যখন বসবে তখনই পড়বে। ‘একবারে না পারিলে দেখ শতবার’। হতাশ হওয়ার কিছু নেই। চেষ্টা এবং মনে বিশ্বাস এবং সাহস রাখো, স্বপ্নের ডানাটি মেলে দাও দেখবে ঠিকই পড়াশোনাই মন বসেছে। পাঠ্য মনোযোগী হওয়ার ভালো উপায় হলো ভালো গল্পের বই বা উপন্যাস, বড় মানুষের জীবনী ইত্যাদি পড়তে হবে।
প্রশ্ন: আপনার প্রিয় ব্যক্তি কে?
মু. গোলাম আজম
শাজাহানপুর, বগুড়া
মোশাররফ হোসেন খান : আমার প্রথম প্রিয় ব্যক্তি রাসূল মুহাম্মদ (সা)।
প্রশ্ন: আমি একজন ছাত্র, আমি জীবনে কী করবো ভাবতে পারছি না, পরামর্শ চাই।
যোবায়েদ হোসাইন
চর আফজল, রামগতি, লক্ষ্মীপুর
মোশাররফ হোসেন খান : ছাত্রজীবনে যা যা করা দরকার সেটাই করবে। ছাত্রজীবনের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য যদি ঠিক মতো বাস্তবায়ন করতে পার তাহলেই তো তুমি তোমার লক্ষ্যে পৌঁছে যাবে ইনশাআল্লাহ। এ জন্য তোমাকে একটা রুটিন ফলো করা প্রয়োজন। কখন কী করতে হবে একটি কাগজে রুটিন করে নাও। ২৪ ঘণ্টার কাজ ভাগ করে নাও। সময় মত সেই কাজগুলো করবে। তবে যখনকার যে কাজ তখন কিন্তু সেটাই করতে হবে। লেখাপড়া, খাওয়া-বিশ্রাম, নামাজ অন্যান্য কাজ সব কিছুই সময় মতো করে ফেলবে। যদি এভাবে রুটিন মতো চলতে পার তাহলে দেখবে ইনশাআল্লাহ জীবনে সফলতা আসবে।
প্রশ্ন: আপনার কর্মজীবন সম্পর্কে জানতে চাই-
দিনার আহমেদ
মোশাররফ হোসেন খান : লেখালেখি ও সম্পাদনার মাধ্যমেই আমার কর্মজীবন অতিবাহিত হচ্ছে। ১৯৭৮ থেকে ১৯৮৫ সাল পর্যন্ত যশোরে থাকতে সম্পাদনার পাশাপাশি কিছুকাল শিক্ষকতাও করেছি। সেই সময় ‘দাবানল’, ‘প্রস্তুতি’সহ কয়েকটি সাহিত্য পত্রিকা সম্পাদনা করেছি। ছিলাম সাপ্তাহিক মুজাহিদের সাহিত্য সম্পাদক ও ‘নবীনের মাহফিলের’ পরিচালক। এ সময় ‘ফররুখ সাহিত্য সংসদ’ নামে একটি সাহিত্য সংগঠন করেছিলাম, যার প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ছিলাম আমি। প্রতি সপ্তাহে খুলনা বেতারে যেতাম স্বরচিত কবিতা পড়তে। বেতারের আমন্ত্রণে। আর লিখতাম স্থানীয়, খুলনা, রাজশাহী, ঢাকা, কলকাতাসহ পশ্চিম বাংলার অনেক কাগজে। দৈনিক স্ফুলিঙ্গে সহকারী সম্পাদক হিসেবে একই সময়ে কাজ করেছি। ঢাকার সাপ্তাহিক সোনার বাংলার যশোর প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করতাম। ছিলাম যশোর পাবলিক লাইব্রেরি ও প্রেস ক্লাবের সদস্য। সেই সাথে নবীন-তরুণ লেখকদের নিয়ে প্রতি বিকেলেই চলতো সাহিত্য আড্ডা। রাত-দিন পরিশ্রম করতাম সেই সময়। বিশ্রাম কিংবা অবসর বলতে কিছুই ছিলো না আমার। সে ছিলো কেবল কাজের সময়! একটানা কাজই করে গেছি দিন-রাত। পাবলিক লাব্রেরিতে লেখাপড়ায় সময় কাটতো বেলা আড়াইটা থেকে পাঁচটা পর্যন্ত। এই সময় শুধু পড়াশোনা ছাড়া আর কোনো দিকে খেয়াল করতাম না। একসাথে অনেক কাজ করেছি বটে, তবে যখন যে কাজটি করার প্রয়োজন তখন সেই কাজের মধ্যেই কেবল মগ্ন থাকতাম। লেখার সময়টি ছিলো রাত একটা থেকে ভোর পাঁচটা পর্যন্ত। একটানা। ফজরের নামাজ পড়ে একটু ঘুমিয়ে নিতাম। ঠিক সকাল সাড়ে সাতটায় পৌঁছে যেতাম আমার কর্মস্থল বাদশাহ ফয়সাল ইসলামী ইনস্টিটিউটে। আমি সেখানকার বাংলার ইন্সট্রাক্টর ছিলাম। বারোটায় ছুটি হলে চলে যেতাম পাশের প্রেস ক্লাবে। সন্ধ্যার সাথে সাথে মাগরিবের নামাজ পড়ে ছুটতাম পত্রিকা অফিসে। রাত এগারটায় আবার ফিরে আসতাম প্রেস ক্লাবে। বাসায় ফিরতাম রাত এগারোটায়। কোনো কোনো সময় রাত একটা-দেড়টাও বেজে যেত। কেবল কাজের আনন্দ ছিলো, ছিলো না কোন ক্লান্তি। বিরামহীন কাজ করে যেতাম। আমার কাছে তখন সাহিত্যের কাজই ছিলো মুখ্য। আর সবই ছিলো গৌণ। এভাবেই কেটেছে আমার যশোর জীবন।
১৯৮৫ সালের নভেম্বরে পাড়ি জমালাম ঢাকায়। আবার সেই সম্পাদনার পেশায় নিয়োজিত হলাম। মাসিক আল ইত্তেহাদ, মাসিক উম্মাহ ডাইজেস্ট, সম্পাদনা করলাম দুই বছর। ১৯৮৭ সালে যোগ দিলাম মাহবুবুল হক ভাইয়ের আমন্ত্রণে মতিঝিল পিসিপি লিমিটেডে। সেখানে সৃজন প্রকাশনীর সম্পাদনার দায়িত্ব পালন শেষে ১৯৯২ সালের নভেম্বর মাসে যোগ দিলাম বিআইসিতে। মাসিক ‘পৃথিবীর’ দায়িত্বভার পড়লো আমার ওপর। মল্লিক ভাই তখন দেখতেন মাসিক ‘কলম’। কয়েক বছর পর মল্লিক ভাই বিআইসি ছেড়ে চলে গেলেন প্রত্যাশা প্রাঙ্গণে। বাংলাদেশ সংস্কৃতি কেন্দ্রে। তখন সাহিত্য পত্রিকা ‘কলমের’ সম্পাদনার দায়িত্বভারও পড়লো আমার কাঁধে। ২০০৪ সালে সরকারিভাবে ডিক্লারেশন পেল। তখন থেকেই মাসিক নতুন কলমের সম্পাদক ও প্রকাশক হলাম আমি। ২০১৩ সালে বিআইসি থেকে অবসর গ্রহণ করলাম। এর পূর্বেই মাসিক নতুন কিশোরকণ্ঠের সম্পাদক হিসেবে নিযুক্ত হলাম। এর আগে ছিলাম উপদেষ্টা সম্পাদক। ১৯৯২ থেকে কিশোরকণ্ঠ মূলত আমিই সম্পাদনা করছি। সম্পাদনার পাশাপাশি আমার সাহিত্যের মূল যে কাজÑ লেখালেখি, সেটা অব্যাহত রেখেছি বরাবর। এখনও লেখালেখি ও সম্পাদনা নিয়েই আছি।
প্রশ্ন: আপনার ছোট বেলার শখ কী ছিলো?
ইমতিয়াজ
মিরপর, ঢাকা
মোশাররফ হোসেন খান : ছোটবেলায় আমার কবি হওয়ার শখ ও স্বপ্ন ছিলো। এ জন্য নিজেকে প্রস্তুত করেছি সেইভাবে। ছোটবেলা থেকেই আমার সাহিত্যবিষয়ক পড়াশোনা ও চারপাশ থেকে শিক্ষা গ্রহণের অদম্য স্পৃহা ছিলো। সমবয়সীদের চেয়ে বড়দের সাথে, জ্ঞানীগুণীদের সাথে শিক্ষকগণের সাথে উঠাবসা করতে ভালো লাগতো। তাঁদের সান্নিধ্য লাভের চেষ্টা করতাম। তাঁদের কথাবার্তা, শিক্ষামূলক গল্প, উপদেশ, নির্দেশ, আদেশ-নিষেধ এসবই মুগ্ধ হয়ে শুনতাম আর নিজের ভেতর নিজেকে তৈরি করতাম। দাদাজান ও আব্বাজানের সাহিত্য-সংস্কৃতিমূলক বইয়ের ভান্ডারটি ছিলো বিশাল। হরপ্রসাদশাস্ত্রী থেকে বঙ্কিম, মাইকেল, রবীন্দ্র, নজরুল, ফররুখসহ সেই বিশাল সংগ্রহশালার পাঠককীট ছিলাম আমি, যা বুঝতে পারতাম না সেটা আন্ডার লাইন করে রাখতাম। আব্বাজান বুঝিয়ে দিতেন। চতুর্থ শ্রেণীর গন্ডি পার হবার আগেই মাইকেল, বঙ্কিম, রবীন্দ্র, নজরুল, ফররুখ, জসীমউদ্দীনসহ অসংখ্য কবির লেখা ও জীবনী পাঠ করার সুযোগ ও সৌভাগ্য আমার হয়েছিল। শুনতে হয়তো একটু অবাক লাগবে যে, অতটুকু বয়সে আমি কিভাবে বঙ্কিম ও মাইকেল আত্মস্থ করতে পেরেছিলাম! এ একমাত্র আল্লাহর একান্ত মেহেরবানি ছাড়া সম্ভবই নয়। সাহিত্যের ছিলাম পাগল পাঠক। লেখালেখিটাও রপ্ত করেছিলাম ওই সময়ের আগেই। আব্বাজান ছিলেন আমার সেই সকল কাঁচাহাতের লেখার একনিষ্ঠ পাঠক ও দরদভরা সমালোচক। তিনি ভুলগুলো সংশোধন করে দিতেন। তবে বানান ভুল করলে ভর্ৎসনা করতেন। বাড়িতে ছিলো বহু বাংলা ও ইংরেজি অভিধান। ফলে বানান ভুল করা মানেই অভিধান থেকে বেখেয়াল থাকা। আব্বাজান এটা আদৌ সইতে পারতেন না। কারণ তাঁর বালিশের পাশে সবসময় ইংরেজি-বাংলা অভিধানসহ বাংলা, ইংরেজি ও সংস্কৃতির বিশাল বিশাল গ্রন্থ থাকতো। তিনি বৃদ্ধ বয়সে, যখন চোখে ভালো দেখতে পেতেন না তখনও ছোট ছোট নাতিদের বই পড়তেন। কবিতা ও গান লেখা ছিলো তাঁর স্বভাবগত শখ। বইপড়া ও লেখালেখিই মূলত আমার শখ ছিলো এখনও আছে সমানভাবে।
প্রশ্ন: কবিতা এবং গল্প লিখতে একজন কবির কী কী গুণ থাকতে হবে?
আশা আক্তার, বরগুনা
মোশাররফ হোসেন খান : যিনি যা লিখতে চান সেই বিষয়ে তাঁর পূর্ণ ধারণা এবং জ্ঞান থাকা প্রয়োজন। তারপর তিনি কোনটা লিখবেন সেই বিষয়ে পড়াশোনা ও চিন্তাভাবনা করবেন। হুট করে লিখতে বসার প্রয়োজন নেই। যখন মনে হবে হ্যাঁ, আমি এখন লিখতে পারি, তখনই লিখতে বসবেন। লিখতে হবে অভিজ্ঞতা দিয়ে। শুধু ভাবাবেগ দিয়ে সাহিত্য হয় না। সাহিত্যের জন্য শ্রম দিতে হয়। একটি লেখার পেছনে অনেক সময় ও শ্রম ব্যয় করতে হয়। লেখাটা ভালো হলো কি না, কোন ভুলত্রুটি রয়ে গেল কি না সেটা বারবার পড়ে দেখতে হয়। অর্থাৎ প্রথমত নিজের লেখার নিজেই নিষ্ঠুর সম্পাদক হতে হয়। যে শব্দ কিংবা লাইন বাহুল্য মনে হয় কিংবা অপ্রাসঙ্গিক মনে হয় তা ফেলে দিতে হয়। লক্ষ্য রাখতে হয় বিষয়ের দিকে, বানানের দিকে, শব্দের দিকে, বাক্যের দিকে এমনকি শিরোনামের দিকেও। লেখার আগেই লেখার কৌশলগুলো শিখে নেয়া ভালো। তাহলে সাহিত্যের ময়দানে আর খুব বেশি হোঁচট খেতে হয় না। একটি ভালো লেখা তৈরি করতে পারাই কিন্তু একজন লেখকের প্রকৃত সার্থকতা।
প্রশ্ন: আপনার লেখা কবিতা প্রথম কোন পত্রিকাতে প্রকাশ হয়েছিল, আর তখন আপনার কেমন অনুভূতি হয়েছিল?
ফাতেমা খাতুন রিমি
মোশাররফ হোসেন খান : আমার প্রথম লেখা ‘মধুমিতা’ নামক একটি ম্যাগাজিনে ছাপা হয়েছিল। প্রথম প্রকাশিত লেখা দেখে সবার যেমন লাগে আমারও ঠিক তেমনি লেগেছিল। হয়তো একটু বেশি আবেগ আপ্লুত হয়ে পড়েছিলাম। বয়সও খুব কম ছিলো তো!
আমরা যারা শহর থেকে বহু দূরে গ্রামাঞ্চলে টেমি কিংবা হারিকেন জ্বালিয়ে লেখাপড়া করতাম তাদের বিষয়টি সম্পূর্ণ ভিন্ন। তখন গ্রামে কোন পত্র-পত্রিকা যেত না। ছিল না চারপাশে কোন লাইব্রেরি। যোগাযোগের মাধ্যম ছিল একমাত্র ডাকবিভাগ। রাস্তাঘাট ছিলো সম্পূর্ণ কাঁচা। ছোট-বড় কোন খাল-নদীতে সাঁকো বা পুল ছিলো না। শীত-বর্ষায় গ্রামের মানুষের সে যে কী দুর্ভোগ ছিলো সে কথা ভাবতেও আজ শিউরে উঠতে হয়। এ বৈরী পরিবেশের মধ্যেই আমার লেখালেখি শুরু এবং সার্বিকভাবে বেড়ে ওঠা। ফলে তখন দেয়ালিকা কিংবা কোনো সাহিত্য ম্যাগাজিনে লেখা ছাপা হওয়া মানেই ছিলো এক ভীষণ আনন্দের ব্যাপার।
প্রশ্ন: ভবিষ্যতে কেমন বাংলাদেশ দেখতে চান?
কাজী মনিরুল, ঝালকাঠি সদর
মোশাররফ হোসেন খান : আমাদের সবুজ শ্যামল দেশটি প্রকৃত অর্থেই সবুজ-শ্যামলে ভরে উঠবে, মানুষগুলোও হবে তেমনি সবুজ প্রাণের মানুষ। এমনটিতো দেখতে চাই। সবার মুখেই হাসি দেখতে চাই।
প্রশ্ন: কিশোরকণ্ঠের প্রথম সংখ্যাটি কত সালে কোন মাসে প্রকাশিত হয়েছিল?
মো: দিদারুল ইসলাম
নিকলী, কিশোরগঞ্জ
মোশাররফ হোসেন খান : ১৯৮৪ সালের ১২ ফেব্রুয়ারিতে প্রথম প্রকাশিত হয় শিশু-কিশোরদের জন্য কিশোরকণ্ঠ পত্রিকা। প্রথম সংখ্যাটির সম্পাদক ছিলেন ডা: সৈয়দ আবদুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের।
প্রশ্ন: ছাত্র থাকা অবস্থায় পড়ালেখায় কতটুকু মনোযোগী ছিলেন?
মো: তামিম হাসান
দৌলতখান, ভোলা
মোশাররফ হোসেন খান : একজন ছাত্রের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য যেমনটি থাকা উচিত আমারও তাই ছিলো। যত যাই করি না কেন আমি লেখাপড়ার প্রতি কখনোই অবহেলা করিনি। বরং ক্লাসের লেখাপড়াকে অগ্রাধিকার দিতাম। ক্লাসের লেখাপড়া শেষ করে তারপর মনোযোগী হতাম সাহিত্যের দিকে। খেলাধুলা, বন্ধুদের সাথে আড্ডা দেয়া, কিংবা অন্য কোনোভাবে সময় নষ্ট করার অভ্যাস আমার ছিলো না। আমি সময়কে কাজে লাগানোর চেষ্টা করতাম যথাযথভাবে। কারণ আমার আব্বাজান বলতেন যে, শিক্ষার ভিতটা মজবুত হলে তার ওপর বড় বড় বিল্ডিং ওঠানো সম্ভব। তিনি মনীষীদের জীবন থেকে উদাহরণ টেনে গল্পের ভঙ্গিতে এসব উপদেশ দিতেন, যা আমার ছাত্রজীবনে খুবই কাজে লেগেছে। এখনও আব্বাজানের প্রতিটি কথাই আমার হৃদয়ে ঝঙ্কার তোলে বইকি!
তবে বাড়তি দায় হিসেবে আমার মাথায় ছিলো কবি হওয়ার একঝুড়ি স্বপ্ন।
প্রশ্ন: আপনার জন্ম তারিখ ২৪ আগস্ট। আপনাকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা। এবারের জন্মদিনে আপনার বক্তব্য কী?
নাদিয়া আক্তার
রায়পুরা, নরসিংদী
মোশাররফ হোসেন খান : তোমাকেও শুভেচ্ছা। সেই সাথে কিশোরকণ্ঠের সকল বন্ধু ও দেশবাসীকেও আমার হৃদয়ভরা সালাম ও শুভেচ্ছা। জন্মদিন নিয়ে আমি আলাদা কোনো কিছু ভাবি না, সে জন্য বিশেষ কোনো পরিকল্পনাও থাকে না। এই দিনে আমি সবার জন্য দোয়া করি এবং আমার জন্যও দোয়া চাই।

SHARE

Leave a Reply