Home তোমাদের গল্প নাহিয়ার বাগান -রুমান হাফিজ

নাহিয়ার বাগান -রুমান হাফিজ

সকালবেলা বাড়ির বারান্দায় বসে আছে নাহিয়া। নিজের লাগানো ফুল বাগানের দিকে তাকিয়ে আছে। হঠাৎ তার মনে পড়লো কাল সে ফুফুর বাড়ি থেকে কয়েকটি ফুলের গাছ এনেছে। কিন্তু রাত হয়ে যাওয়াতে সে তা লাগাতে পারেনি। পুকুর ঘাটে ভিজিয়ে রাখা ফুলগাছগুলো এনে সে তার বাগানে লাগাতে লাগলো। এদিকে মা নাস্তা করার জন্য ডাকছেন, কিন্তু তাতে নাহিয়ার কোনো খবর নেই।
কিছুসময় পর মা ঘর থেকে বের হয়ে নাহিয়ার কাছে গিয়ে দেখেন যে নাহিয়া ফুলগাছ লাগাতে ব্যস্ত। এই নাহিয়া কতক্ষণ ধরে ডাকছি তোকে নাস্তা খেয়ে স্কুলে যাওয়ার জন্য। এসো তাড়াতাড়ি হাত-মুখ ধুয়ে নাস্তা খেয়ে স্কুলে চলো। নাহিয়া সবেমাত্র পঞ্চম শ্রেণীতে পড়ে। পড়ালেখায় তার সাথে ক্লাসের অন্য কারো তুলনা নেই। যেমনি ট্যালেন্ট তেমনি তার ব্যবহারও। স্কুলে স্যারদের কাছে নাহিয়া খুবই প্রিয়। প্রতিদিন বিকেলবেলা নাহিয়া তার বাগানে পানি দেয় এবং অন্যান্য পরিচর্যা করে। এ দিকে বাগানের কিছু কিছু গাছে ফুল ফোটতে শুরু করেছে। প্রাণীদের হাত থেকে বাগান বাঁচাতে নাহিয়া তার বড় ভাইকে বেড়া দিতে বলে। বেড়া দেয়া হলে নাহিয়া খুব খুশি হয়। স্কুলের বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় নাহিয়া চিত্রাঙ্কনে প্রথম হয়। আর সেখানে নাহিয়া তার বাগানের চিত্রটা তুলে ধরে। প্রধান শিক্ষক নাহিয়াকে জিজ্ঞেস করলেন, তোমার আঁকা চিত্রটা কোথা থেকে অঙ্কন করেছো? নাহিয়া উত্তরে বলে, স্যার এটা আমার নিজের করা ফুল বাগানের চিত্র। স্যার তখন অবাক হয়ে বললেন, তুমি নিজে ফুল বাগান করেছো? হ্যাঁ স্যার আমি নিজে করেছি। স্যার নাহিয়াকে ধন্যবাদ দিলেন এবং বললেন স্কুলের সবাইকে নিয়ে তোমার বাগান দেখতে যাবো। নাহিয়া বাড়িতে মা-বাবাকে কথাটি জানালে তারাও খুশি হন।
পরদিন স্কুলে টিফিনের সময় প্রধান শিক্ষক সকল ছাত্র-ছাত্রীকে ডাকলেন, এবং বললেন আজ আমরা সবাই নাহিয়ার বাড়িতে যাবো তার নিজের করা ফুলের বাগান দেখতে। এ কথা শুনে সবাই খুশিতে মেতে উঠলো। স্যার সবাইকে নিয়ে নাহিয়ার বাড়িতে গেলেন, এবং তার বাগান দেখতে লাগলেন। স্যার তখন সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করে বললেন, আমাদের ছোট্ট নাহিয়া যে সুন্দর ফুলের বাগান করেছে সত্যিই তা প্রশংসনীয়। আমাদের দেশে জনসংখ্যার তুলনায় বনভূমির পরিমাণ খুবই কম। দিন দিন তা আরোও হ্রাস পাচ্ছে, যা আমাদের জন্য হুমকিস্বরূপ। তাই তোমরাও নাহিয়ার মতো নিজেদের বাড়ির যে কোনো খালি জায়গাতে বাগান করতে পারো। অনেক সময় ধরে তারা নাহিয়ার বাগান দেখে। স্যার তাদেরকে বিভিন্ন ফুলের নাম জিজ্ঞেস করতে লাগলেন। পাশাপাশি তাদেরকে বাগান করতে উৎসাহিত করলেন।
প্রতিদিনের ন্যায় আজও নাহিয়া তার বাগান দেখতে আসে। অনেক ধরনের ফুলগাছ আছে তার বাগানে। এখন ভরা ফুলের মৌসুম থাকায় নাহিয়ার বাগানেও অনেক ফুল ফোটেছে। আর ফুল যেখানে ফোটে সেখানে প্রজাপতি, মৌমাছি আসবে না তা কি হয়! স্কুল ছুটি থাকায় নাহিয়া আজ সারাদিন বাগানেই কাটিয়ে দেয়। আজ তার খুবই ভালো লাগছে নানা প্রজাতির রঙবেরঙের প্রজাপতি ও মৌমাছি তার বাগানে ওড়াউড়ি করছে।

SHARE

Leave a Reply