Home ধারাবাহিক উপন্যাস গ্রহ থেকে গ্রহান্তরে -মুহাম্মাদ দারিন

গ্রহ থেকে গ্রহান্তরে -মুহাম্মাদ দারিন

দেয়ালে মশাল জ্বালানো। ওদের ছায়া পড়ছে বিপরীত দেয়ালে। ছায়াগুলো বড় বিচিত্র। কেঁপে কেঁপে উঠছে। নেতা লোকটা কি যেন বলল। অমনি দু’জন এগিয়ে এলো। একজনের হাতে বিশাল দুইটা মগ। আর অপরজনের হাতে একটা মশক।
হব ও আসিফের হাতে মগ ধরিয়ে তাতে মশক থেকে তরল পদার্থ ঢেলে দিল লোকটি।
আসিফ দ্বিধা করছে খাবে কি-না। হব সেটা লক্ষ করে পকেট থেকে থার্মোমিটারের মতো কে যেন বের করে তরল পদার্থের মধ্যে চুবান দিয়ে উঠিয়ে সেটা মুছে পকেটে চালান করে।
ঠিক তখনি হালকা একটা বাতাস এসে গুহার আলোকে বেশ খানিক কাঁপিয়ে দেয়। আলো স্থির হতেই হব মগে চুমুক দিল। মগের সবটুকু তরল শেষ করে তৃপ্তির সাথে, ‘আহ’ উচ্চারণ করলো।
আসিফের সমস্ত দ্বিধাদ্বন্দ্ব দূর হয়ে গেল। ও তিন চুমুকে সব শেষ করে মগটা ফিরিয়ে দিয়ে চেয়ারে শরীর এলিয়ে দিল। রাজ্যের ঘুম আসিফকে জেঁকে ধরার জন্য দৌড়ে এলো। দু’চোখের পাতা আসিফ আর খোল রাখতে পারছে না। কোনো মতে সামনে বসা লোকটার দিকে তাকালো। দেখলো লোকটার মুখে বিজয়ের হাসি। ও চাইলো উঠে যেয়ে লোকটাকে কষে এক ঘা মারতে। কিন্তু তা আর হলো না। তার আগেই তলিয়ে গেল অতল ঘুমে। হবও ঐ একই রাজ্যের বাসিন্দা হলো।
নেতা গোছের লোকটা তার নিজস্ব ভাষায় কাদের যেন ডাকলো। গুহায় প্রবেশ করলো দু’জন জংলী পাগল। তবে পোশাকে নয়। চুলে জংলী। পোশাক অন্যদের মতই ঢিলাঢালা আলখাল্লা। এরা এই গ্রহের প্রধান দুই বিজ্ঞানী।
তারা দু’জন কোনো আদেশের অপেক্ষা না করে এগিয়ে গেল আসিফের নিকট। ওকে তল্লাশি করে লেসার গান ছাড়া আর কিছু পেল না। গেল হবের নিকট। ওর সমস্ত পকেট হাতড়ে পেল একগাদা যন্ত্রপাতি।
যন্ত্রপাতিগুলো হতে নিয়ে জংলী বিজ্ঞানীদ্বয় নৃত্য করতে লাগলো। নেতা এক ধমক দিলো। থেমে গেল ওদের নৃত্য।
যন্ত্রপাতি নিয়ে বিজ্ঞানীদ্বয় গুহার বিপরীত পাশের দরজা খুলে এক করিডোরে প্রবেশ করলো। করিডোর ধরে এগিয়ে সামনে একটা দরজা পড়লো। সেটা খুলে তাতে প্রবেশ করলো।
এটা একটা বিশাল ল্যাবরেটরি। এখানে কাজ করছে আরও পাঁচজন তরুণ বিজ্ঞানী। এরা যন্ত্রপাতিগুলো ওদের হাতে দিলো। ওরা ওগুলো নিয়ে পরীক্ষা নিরীক্ষা করতে শুরু করে দিলো।
মাত্র ঘন্টাখানেকের মধ্যেই ওরা হবের যন্ত্রপাতির নকল তৈরি করে ফেলল। এই খবর সমস্ত গ্রহে ছড়িয়ে পড়লো। সমস্ত গ্রহবাসী ভিড় জমাতে শুরু করলো নেতার গুহার সামনে। তাদের ইচ্ছে ভিন গ্রহের মানুষের যন্ত্রের মত তৈরি জিনিসগুলো তারা এক নজর দেখবে।
দশ জন একজায়গায় মিলিত হওয়া মানেইতো হৈ-হুল্লোড় ব্যাপার। সেখানে মিলিত হয়েছে সমস্ত গ্রহবাসী। সুতরাং রীতিমতো শুরু হয়ে গেছে চিৎকার চেঁচামেচি।
নেতা এবার ধীরে ধীরে বের হলো গুহা থেকে। দাঁড়ালো জনতার সামনে। দু’হাত উঁচু করে সকলকে থামার নির্দেশ দিলো। সকলে নীরব হলো। পিনপতন নীরবতা। এবার গুরুগম্ভীর কণ্ঠে নেতা নিজেদের ভাষায় কি যেন ঘোষণা করলো। সমস্ত লোক তন্ময় হয়ে শুনতে লাগলো তার কথা।
ইতোমধ্যে আসিফদের ঘুম ভেঙে গেছে। বাইরে জনতার চিৎকার চেঁচামেচির শব্দ শুনতে পেল ওরা। সামনে ওদের কেউ নেই। হব ওর পকেটে হাত দিলো। খুঁজলো সমস্ত পকেট। কোথাও কিছু নেই। হতাশা এসে ঘিরে ধরলো ওকে।
বিজ্ঞানীদের করিডোরের দরজা খুলে গেল। চমকে উঠলো ওরা। ঠিক তখনি জংলী বিজ্ঞানীদ্বয় প্রবেশ করলো।
উঠে দাঁড়ালো ওরা দু’জন। বিজ্ঞানীদ্বয় ওদের যে সকল যন্ত্রপাতি নিয়েছিলো সেগুলো ফিরিয়ে দিলো। সাথে সাথে অনুবাদের যন্ত্র চালু করলো হব। বাইরে তখন নেতা জনতাকে তার শেষ কথা বলছে যা যন্ত্র অনুবাদ করে শুনালো, ‘তোমাদের শুধু যন্ত্র নয়। তার সাথে আরও চমক দেখাবো।’
বিজ্ঞানীদের একজন বলল, ‘চমক তো দেখাবোই। তোমাদের সব যন্ত্র আমরা আবিষ্কার করে ফেলেছি। ভাবছো কি ভাবে তাই না? খুব সোজা। তোমাদের ওইগুলো নিয়ে দেখে দেখে বানিয়েছি। আর খুব তাড়াতাড়ি আমরা তোমাদের মাথা কেটে নেব। দেখবো তোমাদের মস্তিষ্কে কত বুদ্ধি আছে।’
অপর বিজ্ঞানী বলল, ‘তারপর আমরা হব শ্রেষ্ঠ বৈজ্ঞানিক।’ বলেই ওরা দু’জন হাসতে লাগলো।
হব ও আসিফ অসহায় হয়ে দাঁড়িয়ে ওদের হাসি শুনতে লাগলো। গুহার বাইরেও যেন আনন্দের ঢেউ বইছে। সমস্ত গ্রহবাসী আনন্দে চিৎকার চেঁচামেচি করছে। চারিদিকে যেন আনন্দের সুবাতাস বইতে শুরু করেছে। গ্রহবাসী যেন কোনো পরশ পাথর হাতে পেয়েছে।
আবালবৃদ্ধবনিতা ভিড় জমিয়েছে গ্রহের সবচেয়ে বড় খোলা ময়দানে। দেখবে তারা ভিন গ্রহের দুই বালকের মস্তক ছেদন করা। ঐ মস্তকেই যেন আছে মহা বিজ্ঞান।
আসিফ ও হবকে এনে খোলা ময়দানে তৈরি উঁচু মঞ্চে বেঁধে রাখা হলো।
দুই জল্লাদ প্রস্তুত।
আসিফ সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছে। এভাবে ওকে মরতে হবে কখনও কল্পনাতেও ভাবেনি।
হব কিন্তু চিৎকার করে বলেই চলেছে, ‘শোন এন্ড্রোডিংবাসী, আমাদের মস্তিষ্ক ছেদন করার পর সমস্ত কোষও মারা যাবে। সুতরাং আমাদের মেরে তোমাদের কোনো লাভ হবে না। তার চেয়ে কি জানতে চাও বল আমরা তার উত্তর দিচ্ছি।’
কিন্তু কে শোনে কার কথা? ওর কথার এক বর্ণও ওরা বুঝতে পারলো না। অনুবাদ যন্ত্রসহ সব যন্ত্র ওদের কাছ থেকে আবার কেড়ে নিয়েছে গ্রহবাসী। আর সব যন্ত্রপাতি তারা রেখে এসেছে তাদের সুরক্ষিত ল্যাবরেটরিতে। সুতরাং সকল আবেদন নিবেদন এখন বৃথা।
মঞ্চে উঠে এলো নেতা। জনতার উদ্দেশে হাত নেড়ে কি যেন বলল। সমস্ত জনতা থেমে গেল। নেতা এবার জল্লাদদের কি এক নির্দেশ দিলো।
অমনি জল্লাদদ্বয় আসিফ ও হবকে মান্ধাতার আমলের ছেদন যন্ত্রের মধ্যে মাথা পুরে দিলো।
দুই বালক অসহায় হয়ে মৃত্যুর প্রহর গুনতে লাগলো।
জল্লাদ তার হাতের অস্ত্র উঠিয়ে কোপ মারতে যাবে, অমনি ভিড়ের মধ্য থেকে কচি গলায় ভাইয়া!….’ বলে ডেকে উঠলো নোভা।
ভিড় ঠেলে এগিয়ে আসতে লাগলো মঞ্চের দিকে ও। থেমে গেল জল্লাদ। নেতাও যেন জল্লাদকে তাগাদা দিতে ভুলে গেল।
সমস্ত জনতার দৃষ্টি নোভার দিকে নিবদ্ধ হলো। ওর এক হাত ফ্রকের কোঁচড়কে শক্ত করে ধরা। অন্য হাত দিয়ে জনতাকে ঠেলে আসছে মঞ্চের দিকে।
একহাতে ধরা কোঁচড়। সুতরাং কোঁচড় থেকে একটি-দু’টি প্রজাপতি বের হয়ে আসছে। সমস্ত জনতা তন্ময় হয়ে তা দেখছে।
অবশেষে নোভা মঞ্চে উঠে এলো। ‘ভাইয়া’ বলে কোঁচড় ধরা হাতটাও ছেড়ে দিয়ে দুই হাত দিয়ে আসিফকে বের করতে লাগলো ছেদন যন্ত্র থেকে।
ও কোঁচড় ছাড়ার সাথে সাথে ঝাঁকে ঝাঁকে রঙবেরঙের প্রজাপতি বের হয়ে উড়তে লাগলো।
নেতা, জল্লাদদ্বয়সহ সমস্ত জনতার যেন তাক লেগে গেল।
যখন বোধোদয় হলো, তখন যে যার পিছে পারলো ছুটতে লাগলো। নেতাতো বাদ গেলই না। এমনকি নিষ্ঠুর জল্লাদদ্বয়ও ছুটলো প্রজাপতির পিছে।
ইতোমধ্যে আসিফ মুক্ত হয়ে হবকেও মুক্ত করেছে।
হব মুক্ত হতেই বলল, ‘আসিফ, নোভা আর নয় এই বোকাদের গ্রহে। চল আমরা পালাই। যারা নিজেদের প্রজাপতিকে পর্যন্ত চেনে না। তা দেখে হাঁ হয়ে তার পিছে ধাওয়া করে তারা কি-না বিজ্ঞানের চরম শিখরে পৌঁছতে চায়। বোকা কাকে বলে! হ্যাঁ চল চল।’
হব, আসিফ আর নোভা মঞ্চ থেকে নামলো। পাশ কাটালো নেতার। নেতা তখন এক সবুজ-হলুদ কালারের প্রজাপতি ধরার জন্য সাধনাবদ্ধ।
সুতরাং হবদের প্রতি তার কোনো নজরই নেই। এমনকি কেউ তাদের দিকে ফিরেও তাকালো না।
আসিফদের আনার সময় চোখ বাঁধেনি। সুতরাং চিনে যেতে কোনো অসুবিধা হচ্ছে না।
একসময় ওরা অতিক্রম করে এলো পৃথিবীর আদি যুগের মত গুহা মানবদের লোকালয়গুলো।
অবশেষে ওরা আরোহণ করলো ওদের সসারে।
উড়াল দিলে ওরা এন্ড্রোডিং নামক বোকা গ্রহবাসীদের থেকে। ওদের উদ্দেশ্য একটাই, যাওয়া গ্রহ থেকে গ্রহান্তরে।

নোভার প্রজাপতি

সসারটা ধীরে ধীরে এগিয়ে চলেছে অজানার উদ্দেশে। সসারের মনিটর থেকে এন্ড্রোডিং গ্রহের ছবি হাওয়া হয়ে গেছে অনেক আগে। এখন সেখানে ফুটে উঠেছে শূন্যতা। অর্থৎ চারপাশে এখন কোনো গ্রহ বা অন্য কিছু নেই।
হব সসার চালনার অটো সুইচ অন করে সিট থেকে উঠে দাঁড়ালো। আসিফ ও নোভার উদ্দেশ্যে বলল, ‘চল আমরা একটু নাস্তা করে আসি। শরীরের ওপর দিয়ে অনেক ধকল গেছে। খুব ক্লান্ত লাগছে।’
আসিফ এতক্ষণ পূর্বের স্মৃতিচারণ করছিল। এন্ড্রোডিং গ্রহের প্রতিটা নিঃশ্বাস ছিল রোমাঞ্চে ভরা।
সেই কথা মনে করে সে এখনও রোমাঞ্চিত হচ্ছে। হবের কথায় যেন ও সম্বিত ফিরে পেল। সাথে সাথে পেটের ক্ষুধায় যেন দাউ দাউ করে জ্বলল নমরূদের অগ্নিকান্ড। বলল, ‘চল, চল হব। অনেক ধকল গেছে। কিছু না খেরে আর বাঁচবো না।’
নোভা কিন্তু এখনও ভাবছে। মনে হচ্ছে অশান্ত পৃথিবীটাকে নতুন করে গড়ার সমস্ত পরিকল্পনা সেই তৈরি করছে। আসিফ তাকে হাত ধরে নিয়ে চলল খাবার রুমে। সকলেই খাচ্ছে নাম না জানা ফল।
এক সময় আনমনা নোভা বলে উঠলো, ‘আচ্ছা আবার ঐ প্রজাপতির গ্রহে ফিরে গেলে কেমন হয়?”
আসিফ বিষম খেল। কাশি থামিয়ে বলল, ‘ঐ অলক্ষুণে গ্রহে আর না। আল্লাহর রহমতে ভালোভাবে বেঁচে এসেছি। এবার গেলে আর বাঁচবো না। হয়তো ওরা আমাদের কাঁচা খেয়ে ফেলবে।’
‘শোন আসিফ বাঁচা-মরার হিসাব করার দায়িত্ব তোমার নয়। যার করার সেই করবে। তবে আমরা আর ঐ গ্রহে ফিরছি না।’ বুঝিয়ে বলল হব।
‘তাহলে আমি আর প্রজাপতি পাচ্ছিনে!’ খাওয়া বাদ দিয়ে অভিমানের সুরে বলল নোভা। পরক্ষণে চেয়ার থেকে উঠে দাঁড়ালো। বলল, ‘প্রজাপতি না পেলে আমি আর খাবো না।’
আসিফ জানে ওর জিদের কথা। ওর জিদ পর্বতের চেয়েও কঠিন। পর্বত কেটে সরানো যায় অথবা ভূমিকম্প কিংবা অন্য কোনো প্রাকৃতিক কারণে ধ্বংস হয়। কিন্তু নোভার জিদ থেকে এক চুল পরিমাণও সরানো যাবে না। আসিফের খাওয়া বন্ধ হয়ে গেল। এখন সে কী করবে?
হাঁ করে তাকিয়ে থাকলো নোভার মুখের দিকে আসিফ।
হব কিন্তু নো টেনশনে খেয়ে চলেছে। যেন নোভার কোনো কথায় সে শুনতে পায়নি। খাওয়া শেষ করে চেয়ারে গা এলিয়ে দিয়ে হব বলল, ‘জান আসিফ, এন্ড্রোডিংরা কিভাবে ঘুম পাড়িয়েছিল আমাদের?’
‘কেন জানবো না! ঐ যে মগে করে কি যেন খাইয়ে।’
‘না। তুমি ভুল ভেবেছো। মগের পদার্থ খুব সুস্বাদু ছিল এবং সেটা সুখাদ্যও বটে। ওটা খাইয়ে নয়।’
‘তা হলে?’ জানতে চায় আসিফ।
‘ঘুমের ওষুধ খাইয়ে।’ বলল হব।
‘সেটা কি রকম করে?’ বুঝতে পারছে না আসিফ।
‘আমি ঐ তরল পদার্থ খাওয়ার আগে চেক করেছিলাম। ফল পেয়েছিলাম ওটা খাওয়ার উপযোগী। ওতে কোনো অসুবিধা নেই।’
‘তাহলে কি ঘুমিয়ে যাবার পর ঘুমের ওষুধ খাওয়ালো?’ বিরক্ত হয়ে বলল আসিফ।
হব হো হো করে হেসে উঠলো।
এই প্রথম হবকে হাসতে দেখলো ওরা। হব হাসি থামিয়ে বলল, ‘শোন বলছি। আমরা যখন ঐ গুহায় যাই তখন ওটায় আলো-আঁধারির খেলা চলছিল। তোমার মনে থাকার কথা যখন আমি মগের তরল টেস্ট করি যন্ত্রটা পকেটে রাখি তখন একটা বাতাসে আলোর নাচনটা বেড়েছিলো। এই সময়টাই ওরা কাজে লাগায়। আর একটা বিষয় সবারই জানা যারা বনে-জঙ্গলে বাস করে তাদের হাত দারুণ অর্থাৎ ঐ আলো আঁধারিতে আমাদের মগ উদ্দেশ্য করে কেউ ঘুমের ওষুধ ছুড়েছে। তার সেটা খেয়েই আমরা ঘুমিয়েছি।’
আসিফ বলল, ‘তুমি ঠিক ধরেছো। এটাই সম্ভব। আর….।’ আসিফ আর কোনো কথা বলতে পারলো না। শুনলো কান্নার শব্দ। পাশে তাকিয়ে দেখে নোভা কাঁদছে। মনে পড়লো নোভার জিদের কথা। মুখটা মলিন হয়ে গেল ওর।
হব এবার হাসি মুখে উঠে দাঁড়ালো। ধীর পদক্ষেপে এগুলো নোভার দিকে। দাঁড়ালো ওর সামনে। জিজ্ঞেস করলো, ‘প্রজাপতি তোমার চাই-ই?’
(আগামি সংখ্যায় সমাপ্য)

‘হ্যাঁ চাই। না হলে আমি কান্নাও থামাবো না, কিছু খাবও না।’ কান্না জড়িতকণ্ঠ নোভার।
আসিফের মুখটা যেন এবার চুন হয়ে গেল। এতক্ষণ ছিল পর্বত সরানোর প্রতিজ্ঞা। এখন হলো সাগরের তিমির পেট থেকে তার হৃদপিন্ডটা ছিঁড়ে এনে দেয়ার সমান প্রতিজ্ঞা। করবে কি এখন সে?
হব বলল, ‘নোভা, আপাতত একটা প্রজাপতি হলে কি তোমার চলবে?’
নোভা যেন হারানো মোগল সা¤্রাজ্য ফিরে পেল। বলল, ‘চলবে মানে? খুব চলবে। একটা পেলে আমি আর চাই না।’
‘তাহলে তোমার ফ্রক থেকে ওইটা ধরে নাও।’ বলল হব।
আসিফ এবার হাঁ হয়ে গেল। যেন এই গাল দিয়ে সে হিমালয়কেও পেটে চালান দিতে পারবে।
প্রজাপতিটা এন্ড্রোডিং গ্রহের। নোভা কিংবা আসিফ কেউই ঐ প্রজাপতি দেখেনি। দেখেনি বললে ভুল হবে। ওটা এমনভাবে আছে দেখলে মনে হবে ফ্রকে যেন ওটা আঁকানো।
নোভা ওটা ধরলো না। বরং ধিন ধিন করে নাচতে লাগলো। এই নাচের নেই কোনো তাল, নেই কোনো লয়, নেই কোনো ছন্দ। কিন্তু এতে যেন আছে সমস্ত সুখ। সমস্ত আনন্দ।
প্রজাপতিটা এবার উড়ার দিলো। বসলো হবের হাস্যোজ্জ্বল চোয়ালের ওপর। তবে মুহূর্ত মাত্র। তার পর বসলো আসিফের নাকের ডগায়। সেখানেও তিন সেকেন্ড।
তারপর আবার নোভার ফ্রকে ফিরে এলো। যেন কেউই ফুল নয়। নোভাই ফুল।
হব বের হয়ে কন্ট্রোল রুমের দিকে গেল। পিছে আসিফও। নোভা ফল খেতে লাগলো। আর প্রজাপতি উড়ে উড়ে খেলা করতে লাগলো। যেন মস্ত এক ফুল নোভা।
হব মনিটরের দিকে তাকিয়ে বলল, ‘নোভা জলদি এই রুমে আসো।’
নোভা কোনো প্রতিবাদ করলো না। কেননা সে জানে হয়তোবা কোনো অসুবিধা হয়েছে। ও যেয়ে নিজের চেয়ারে বসে সিটবেল্ট বেঁধে ফেলল ভাইয়া এবং হব এর বাঁধা দেখে। তাকালো ওয়াল মনিটরের দিকে। সেখানে আর একটা সসার দেখা যাচ্ছে। ঠিক ওদের টার মতো। তবে ওর সামনে কেমন যেন সুচালো।
আসিফ হবকে বলল, ‘ওটাওতো সসার। ওরাও কি আমাদের মতো বেড়াতে এসেছে?’
‘ওটা সসার। তবে একটু ভিন্ন। ওটাতে কোনো মানুষ নেই। ওটা আমাদের ধ্বংস করতে এসেছে। এই দেখ।’ বলে হব টেবিলের টাচ কি বোর্ডে কয়েকটা কমান্ড করলো। ঐ সসারের সামনে একটা পথ-নির্দেশ ফুটে ওঠে যেটা সরাসরি এই সসারকে আঘাত করবে।
হব বলল, ‘আরেকটু শিওর হয়ে নিই।’ বলে ও সসারের পথ পরিবর্তন করলো। সাথে সাথে ধেয়ে আসা সসারের পথও পরিবর্তন হল।
আসিফ বলল, ‘এখন কী হবে?’
‘আমরা উল্টা ওটাকে ধ্বংস করবো। আমাদের নির্ধারিত সীমার মধ্যে এলেই ওটাকে আমি ভ্যানিশ করবো। এখানে সব ব্যবস্থা আছে।’ দৃঢ়প্রত্যয় হবের।
চিন্তাগ্রস্ত হয়ে সিটে গা এলিয়ে দেয় আসিফ। হব তার কাজ চালিয়ে যায়।
নোভা প্রজাপতি নিয়ে মনের সুখে খেলা করছে। যেন সদ্য ফোটা গোলাপ। এখনও লাগেনি তাতে চৈত্রের রোদ বা বৈশাখের উন্মাতাল ঝড়।

সসারের লড়াই
সসারটা ধীরে ধীরে এগিয়ে আসছে। যে কোনো মুহূর্তে আঘাত করবে ওদেরকে। ভয়ে আসিফের কলিজা শুকিয়ে গেছে। চোখে মুখে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। যে কোনো মুহূর্তে ওরা শেষ হয়ে যাবে। এই চিন্তায় ও অস্থির।
নোভা প্রজাপতি নিয়ে খেললেও এখন বুঝতে পেরেছে গতিক ভাল না। তাই ও-ই কিছুটা ভড়কে গেছে।
হবের অবস্থা সম্পূর্ণ উল্টা। ও নো টেনশনে আছে। যেন কিছুই হয়নি। সব স্বাভাবিক আছে। ওয়াল মনিটরে টাচ কিবোর্ড দিয়ে কতগুলো দাগ টানলো। যার উৎস এই সসার। দাগের অন্য মাথা সামনের সসার লক্ষ্যে। তবে ঐ দাগের মধ্যে এখনও আসেনি শত্রু সসার।
আসিফের মনে হলো যেন কয়েক যুগ ধরে ওরা বসে আছে। শত্রুরা ওদের নিশানা করে আছে। যে কোনো মুহূর্তে ধ্বংস করে দেবে ওদের। এমনকি আসিফ জোরে নিঃশ্বাস নিতেও ভয় পাচ্ছে।
দাগের মাথায় শত্রু সসার আসতেই হব তার হাত নিয়ে খেলা করতে লাগলো কিবোর্ডের ওপর। ওদের সসার থেকে শত্রু সসারে শুরু হলো গুলি বৃষ্টি।
অনেকক্ষণ ধরে চেপে রাখা দীর্ঘ শ্বাসটা ছাড়লো আসিফ। নাক দিয়ে ফোস শব্দ বের হলো। আসিফ চোখের একটা পলক ফেলল। আবার তাকালো মনিটরের দিকে। তখন ওর চোখ বের হয়ে আসার জোগাড় হলো। শত্রু সসার থেকেও গুলির বৃষ্টি শুরু হয়েছে। ঐ গুলিগুলো হবদের গুলি গুলোকে ধ্বংস করে দিলো।
হব মোটেও বিচলিত হল না। সে নতুন উদ্যোগে ওর থেকে বড় গুলি করলো। কিন্তু ফল একই।
হব এবার একটু চিন্তিত হলো। তার পর কতগুলো সিলিন্ডার নিক্ষেপ করলো শত্রু সসারের দিকে। সেগুলো বার্স্ট হয়ে শত্রু সসারকে ঘিরে একটা বলয় তৈরি করলো। সাথে সাথে শত্রু সসার জায়গায় দাঁড়িয়ে ডিগবাজি খেতে লাগলো।
পঁয়তাল্লিশ সেকেন্ড চলল এভাবে। আস্তে আস্তে দূর হয়ে গেল বলয়।
ঠিক তখন আসিফদের সসারের ওয়াল মনিটর ঝাপসা হয়ে গেল। শত্রু সসারের মতো অবস্থা হলো ওদের।
হব ছোট্ট একটা মাউথ পিস হাতে নিয়ে বলল, ‘আমরা সন্ধির প্রস্তাব করছি। তোমাদের কথা আমরা মেনে নেব।’
সাথে সাথে থেমে গেল ডিগবাজি। কিন্তু বলয় কমলো না। শত্রুর সসারকে অনুসরণ করে চলল ওদের সসার। মস্ত বড় চুম্বকের আকর্ষণে যেন এগিয়ে চলেছে হবদের সসার শত্রু সসারের পিছে।
অনেক দূর এসেছে ওরা শত্রুর সসার অনুসরণ করে। হব সসারের দূরবর্তী ক্যামেরাগুলো ওপেন করলো। চোখ ছানাবড়া হয়ে গেল মনিটরের ছবি দেখে। শত্রু সসার ওদেরকে একটা ব্ল্যাক হোলের দিকে নিয়ে যাচ্ছে। যা করার এখনই করতে হবে।
‘আসিফ, নোভা শক্ত হয়ে বস।’ বলে ও সিটে নড়ে চড়ে বসে।
টাচ কিবোর্ডে হবের হাত কাজ করতে থাকে অনর্গল। ‘এবার অ্যাকশন শুরু।’ বলে হব।
আসিফ আর নোভা মনিটরে দেখে শত্রু সসারকে আবারও গ্যাসে ঘিরে ধরেছে। যা তাকে টেনে নিয়ে যাচ্ছে ব্ল্যাক হোলের দিকে দ্রুত বেগে।
হব নিজেদের সসারকে স্থির করে রাখে। কয়েক সেকেন্ড পরে দেখা যায় শত্রু সসারকে গ্রাস করেছে ব্ল্যাক হোল।
দ্রুত উল্টা দিকে সসার চালনা করে হব। ধ্বংস হলো শত্রু সসার। ওরা রক্ষা পেল ব্ল্যাক হোলে হারিয়ে যাওয়া থেকে।
স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে ওরা যার যার সিটে শরীর এলিয়ে দিলো। মনে মনে শুকরিয়া আদায় করলো মহান ¯্রষ্টার।

ইয়োলো গ্রহে ওরা

সসারটা ল্যান্ড করলো হলুদ রঙের মাটিতে। খুলে গেল দরজা। একে একে সসার থেকে নামলো হব, আসিফ আর নোভা।
ওরা নামতেই চারিদিক থেকে ছুটে এলো হৈ চৈ করতে করতে একদল ছোট ছোট ছেলে-মেয়ে। তবে পৃথিবীর ছেলে-মেয়ের তুলনায় তারা একটু ভিন্ন। সেটা হলো ওদের মাথায় এমনকি ভ্রুতেও চুল নেই। অর্থাৎ চুলবিহীন মনুষ্য শিশু। সাইজেও ওরা খুব ছোট। এদেরকে দেখে মনে হচ্ছে পৃথিবীর এক দেড় বছরের শিশু এরা। সকলেরই চেহারা খুর আকর্ষণীয়। দেখলেই কোলে নিতে ইচ্ছে করে। হলুদ রঙের শার্ট ও প্যান্ট ওদের পরনে।
আসিফ হবের কাছে জিজ্ঞাস করলো, ‘এটা কোন গ্রহ?’
‘ওদের কাছেই জিজ্ঞাস কর।’ বলল হব হাসি মুখে।
আসিফ তাকালো সদ্যপ্রস্ফুটিত গোলাপ কুঁড়িদের দিকে। তারা ওদের ঘিরে ধিন ধিন করে নাচ জুড়ে দিয়েছে।
আসিফ তাদের লক্ষ করে বলল, ‘তোমাদের গ্রহের নাম কি?’
পাখির ডাকের মতো তারা কিচির মিচির করে কি বলল আসিফ কিছুই বুঝতে পারলো না। নিরাশ হয়ে তাকালো হবের দিকে।
হব ওর দিকে ওয়ারলেসের মতো একটা যন্ত্র এগিয়ে দিলো। বলল, ‘লাল বোতামটা অন কর। তারপর জিজ্ঞাস কর।’
আসিফ তাই করলো। ওরা আবারও পাখির মতো কিচির মিচির করে কি যেন বলল। সাথে সাথে আসিফের হাতের যন্ত্রটা অনুবাদ করে বলল, ‘আমাদের গ্রহের নাম ইয়োলো।’
আসিফ অবাক হয়ে চারিদিক তাকিয়ে দেখে। শুধু হলুদ আর হলুদ। গাছপালা, আকাশ সবই হলুদ।
নোভা একটা হলুদ শিশুকে টেনে ধরে কোলে নেয়ার জন্য। শিশুটা কিছুতেই ওর কাছে আসতে চাই না।
হব ওর কান্ড দেখে হাসতে থাকে। বলে, ‘নোভা, এরা শিশু না। এদের সাইজটাই এমন।’
‘তা কি করে হয়?’ জানতে চাইল নোভা।
‘হুম। এদের ¯্রষ্টা এভাবেই তৈরি করেছেন।’ উত্তর হবের।
‘আমি ওদের সাথে কথা বলবো।’ বলে ভাইয়ার হাত থেকে অনুবাদ যন্ত্রটা কেড়ে নেয় নোভা। হতে নিয়ে বলে, ‘এই শিশুর দল তোমরা থামো।’
সাথে সাথে থেমে যায় ওদের কিচির মিচির। সকলে তাকায় ওর দিকে। সমস্বরে সকলে বলে ওঠে, ‘আমরা শিশু না। বরং তুমিই শিশু। তোমার বয়স আমাদের থেকে কম।’
‘বুঝলাম তোমরা শিশু না। তাহলে কি তোমরা লিলিপুটের দল?’
‘সেটা আবার কি জিনিস।’ বলল এক ইয়োলো।
‘ওমা এটাও বোঝ না। আরে ছোট ছোট মানুষকে লিলিপুট বলা হয়।’ বলল নোভা। ‘আচ্ছা তোমরা এতো সুন্দর কেন?’
ওর প্রশ্নের কোনো উত্তর দিলো না ইয়োলোরা। সবাই নিঃশ্চুপ হয়ে নিজ নিজ জায়গায় দাঁড়িয়ে আছে। যেন ওদের কে কমান্ড করা হয়েছে তোমরা থেমে যাও। তবে এই অবস্থা থাকলো মুহূর্ত মাত্র। পরক্ষণে ওরা ওর দু’হাত ধরে টেনে নিতে চাইলো।
এক ইয়োলো বলল, ‘চল আমাদের সাথে খেলা করবে।’
নোভা ওদের থেকে হাত ছাড়িয়ে নিয়ে অনুবাদ যন্ত্রটা আসিফের হাতে দিয়ে চলল ওদের সাথে খেলা করতে। আসিফ কিছু বলতে যাচ্ছিল। হব ওকে থামিয়ে বলল, ‘যাক। ও ওদের সাথে খেলা করে আসুক।’
এক মিনিটও পার হলো না। হবের পকেটের ইমার্জেন্সি মোবাইলে বিপ বিপ করে উঠলো। ওটা পকেট থেকে সামনে আনতেই ওর কপালে চিন্তার ছাপ দেখা দিলো।
আসিফ বলল, ‘কোনো বিপদ?’
‘হুম।’ বলে ও দৌড় দিলো নোভা যেদিকে খেলা করছে ও দিকে। আসিফের পিলে চমকে উঠলো। ও ছ্টুলো হবের  পিছে।
একদল ইয়োলো কাকে যেন ঠেসে ধরেছে বালির ওপর। হব, আসিফ নোভাকে খুঁজে পাচ্ছে না। আসিফ চিৎকার করে উঠলো, ‘নোভা..।’
জটলার ভেতর থেকে গোংড়ানির শব্দ বের হলো। আসিফ, হব ছুটে যেয়ে এক একটা ইয়োলোকে ধরে ঠেলে ঠেলে ফেলে দিয়ে নোভাকে উদ্ধার করলো। নোভা উঠে দাঁড়িয়ে ফুসছে আর গায়ের বালি ঝাড়ছে।
হব রাগত স্বরে বলল, ‘কি চাও তোমরা?’
এক ইয়োলো বলল, ‘ওর মাথার চুল।’ নোভাকে দেখালো ও।
‘ওরে মদন টাক, কড়ই টাক, বিচ্চু লিলিপুটের দল আমার মাথার চুল নিবি, দাঁড়া দেখাচ্ছি মজা।’ তেড়ে যেতে চাইলো ওদের দিকে নোভা।
হব ওকে ধরলো। বলল, ‘থামো।’
রাগে, ক্ষোভে, দুঃখে নোভা ফুঁসছে। ‘এই লিলিপুটের গ্রহে আর না। চল, আমরা ফিরে যাই।’ সসারের দিকে হাঁটা ধরলো ও। পিছে ওরা দু’জন।
হঠাৎ ইয়োলোবরা ওদের চারিদিক থেকে ঘিরে ধরলো। একজন বলল, ‘তোমাদের চুল না দিয়ে এই গ্রহ ছাড়তে পারবে না।’
থমকে দাঁড়ালো ওরা তিনজন। হব পকেট থেকে লেসার গান বের করে পাশের এক গাছে ফায়ার করলো। মুহূর্তে গাছের মাজা কেটে পুড়ে ছাই হয়ে গেল। ইয়োলোরা ধীরে ধীরে সরে যেয়ে ওদের পথ করে দিলো। ওরা দৃঢ় পদক্ষেপে সসারে যেয়ে উঠলো। ত্যাগ করলো ইয়োলো গ্রহ।

যাত্রা শেষ
সসারটা চলেছে মহাশূন্যের বুক চিরে। ওরা তিনজন সসারে নিশ্চুপ হয়ে বসে আছে। হঠাৎ হব দুইটা কাশি দিলো। বাম হাতে চেপে ধরলো ডান বুক। সামনের দিকে কাত হয়ে পড়লো। আসিফ উঠে যেয়ে ওকে ধরলো। সসারটা কেমন জানি কেঁপে কেঁপে উঠলো।  বিকট শব্দে বার্স্ট হলো সসার।
হবকে ছেড়ে আসিফ নোভাকে পাজাকরে ধরে বসে পড়লো চেয়ারে। দু’চোখ বন্ধ করল ও। প্রলয় কান্ড যেন ঘটে যাচ্ছে ওদের চারপাশ দিয়ে।
একসময় সবকিছু শান্ত হলো। নোভা আসিফকে ডাকলো, ‘ভাইয়া, ভাইয়া।’ বলে।
আসিফ পিট পিট করে চোখ খুলল। মহাশূন্যে ভেসে যাচ্ছে নাতো ওরা? নাহ কিছুই নাহ! ওদের মাথার ওপরে খোলা মধ্য রাতের আকাশ। তারার ছড়াছড়ি আকাশে। হেলে পড়া চাঁদটা এখনও আছে।
হুতোম পেঁচাটা আবারও ডেকে উঠলো। নোভা আবারও বলে উঠলো, ‘ভাইয়া আমার ভয় করছে। ঘরে চলো।’
‘আ..হা। কিন্তু আমরা এখানে কেন? আমরা তো মহাশূন্যে ছিলাম।’
‘পাগল-টাগল হলে নাকি? মাঝ রাতে ছাদে এসে তোমার ভূতে ধরলো?’
‘নারে না। মহাকাশে ছিলাম আমরা।’ বিস্ময় ভরা আসিফের কণ্ঠে। ‘ঐযে ও আমাদের সাথে ছিলো। কি জানি নামটা। তুইও তো আমাদের সাথে ছিলি। বল না ওর নামটা?’
‘আমাকে ছাড়া তুমি পাগল হয়ে গেছ।’ ভাইয়ার কাছ থেকে ছাড়িয়ে ওর সামনে মাজায় হাত দিয়ে দাঁড়ায় নোভা। পরক্ষণে ঘুরে হাঁটা ধরে। মুখে বলে, ‘তুমি পাগলামি করো। আমি চললাম আব্বু-আম্মুকে ডাকতে।’
কি জানি কি হলো আসিফের কিছুই মনে করতে পারছে না। মাথা চুলকাতে চুলকাতে ছোট বোনের পিছে পিছে ঘরের দিকে চলল ও।

SHARE

Leave a Reply