Home প্রবন্ধ রমজানের ঐ রোজার শেষে এল খুশির ঈদ -জয়নুল আবেদীন...

রমজানের ঐ রোজার শেষে এল খুশির ঈদ -জয়নুল আবেদীন আজাদ

আমাদের পরিবারকে আমরা ভালোবাসি। ভালোবাসার পরিবেশে আমরা পরিবারে বেড়ে উঠি। পরিবারের বড়রা আমাদের শুধু যে আদর করেন তা নয়, প্রয়োজনে শাসনও করেন। এর কারণ আছে। মানুষ সব সময় সঠিক কাজ করে না, কখনও কখনও ভুল কাজও করে থাকে। ভুল কাজ কারও জন্যই ভালো নয়। ভুল ধরিয়ে দিলে সংশোধন হওয়া প্রয়োজন। সংশোধন না হলে তখন শাসন করতে হয়। যে পরিবারে শাসন ও শৃঙ্খলা নেই, সেই পরিবারের সদস্য বখে যায়। এ জন্য আমরা সভ্য পরিবারে, সভ্য সমাজে শাসনকে গুরুত্ব দিতে দেখি। তবে এখানে উল্লেখ করা প্রয়োজন যে, শাসন মানে কিন্তু অবজ্ঞা নয়, নিষ্ঠুরতা নয়; ¯েœহ-মমতা ও কল্যাণ কামনা থেকেই শাসনের উদ্ভব। তাইতো বলা হয়Ñ ‘শাসন করা তারেই সাজে সোহাগ করে যে গো।’
আমরা তো এতক্ষণ শাসন ও সোহাগের কথা বললাম। পরিবারে তো শাসন ও সোহাগের বাইরে আরও অনেক কিছু লক্ষ্য করা যায়। পরিবারে সুখ থাকে, দুঃখ থাকে, থাকে আনন্দ-উৎসবও। আজ আনন্দ-উৎসব নিয়ে কিছু কথা বলি।
ছোটবেলায় আমাদের আনন্দ উৎসব জড়িয়ে থাকতো প্রধানত দু’টি দিনে। আমরা অপেক্ষায় থাকতাম কখন ওই দিন ফিরে আসবে। আমাদের যত আবদার- অনুরোধ তা পূরণ করা হতো ওই দুই দিনে। সময়ের ¯্রােতে অনেক কাল কেটে গেছে। আজ এই প্রবীণ বয়সেও ওই দিন দু’টি আমাদের কাছে বেশ তাৎপর্যপূর্ণ। ছোটবেলায় পরিবার থেকেই ওই দিন দু’টি সম্পর্কে আমরা ধারণা পেয়েছি। সেই ধারণা এখনো রয়েছে প্রবহমান। সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডেও ওই দিন দু’টির বর্ণাঢ্য উপস্থিতি আমরা লক্ষ্য করেছি। এতক্ষণে তোমরা হয়তো বুঝতে পেরেছো আমি কোন দুই দিনের কথা বলছি। হ্যাঁ, সেই দিন দু’টি হলো ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহা। ছোটরা যাকে বলো রোজার ঈদ ও কোরবানির ঈদ। তবে আজ শুধু রোজার ঈদ নিয়েই কিছু কথা বলার চেষ্টা করবো।
‘রোজার ঈদ’ দু’টি শব্দ দিয়ে গঠিত। প্রথম শব্দ ‘রোজা’ অপরটি ‘ঈদ’। রোজা রাখার পরই আমরা আনন্দচিত্তে পালন করে থাকি ঈদ। অর্থাৎ রোজার সাথেই রয়েছে ঈদের প্রকৃত সম্পর্ক। যারা রোজা বা সিয়াম পালন করবে ঈদের প্রকৃত আনন্দতো তাদের জন্যই। তাই ঈদের আনন্দ উৎসবের আগে আমাদের উপলব্ধি করতে হবে রোজার তাৎপর্য ও বার্তা। রোজার তাৎপর্য আলোচনা করতে গেলে এমন কিছু শব্দ ও বিষয় আসবে, যা আমাদের কাছে একটু কঠিন মনে হতে পারে। কিন্তু একটু ভাবলে, চর্চা করলে বেশ সহজ হয়ে উঠবে ইনশাআল্লাহ। আসলে প্রথম পাঠে যে কোনো বিষয়ই একটু কঠিন কঠিন লাগে। পাঠের কথা না হয় একটু দূরে রাখলাম, খেলাতো তোমাদের বেশ প্রিয় বিষয়। আর সেটা যদি হয় ক্রিকেট খেলা? কিন্তু প্রথম দিনেই কি কেউ ব্যাটিংটা শিখে ফেলতে পেরেছো? চার-ছক্কা হাঁকাতে পেরেছো? স্পিন কিংবা বোলিংয়ের রহস্যও কি দু-একদিনেই কেউ শিখতে পেরেছো? আসলে অবিরত চেষ্টা- সাধনার মাধ্যমেই ভালো ব্যাটসম্যান বা বোলার হওয়া যায়। খেলার এই সত্য, পাঠ তথা জ্ঞান অর্জনের ক্ষেত্রেও সত্য।
আমরা তো এ কথা জানি যে, ঈদুল ফিতরের আগে রমজানের রোজা প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য ফরজ বা অবশ্য পালনীয়। কিন্তু এই রোজাকে কেন ফরজ করা হলো? এ ব্যাপারে মহান আল্লাহ পবিত্র কোরআনে বলেছেন, “হে ঈমানদারগণ! তোমাদের ওপর রোজা ফরজ করা হয়েছে, যেমন করে তোমাদের পূর্ববর্তীদের ওপর ফরজ করা হয়েছিলো। সম্ভবত এর ফলে তোমরা তাকওয়া অর্জন করতে পারবে।” (সূরা বাকারা : ১৮৩) এই আয়াতে রোজা ফরজ করার উদ্দেশ্য স্পষ্ট করে বলা হয়েছে। আর তা হলো ‘তাকওয়া’ অর্জন। তাকওয়া অর্জনের ওপরই নির্ভর করছে রোজা ও ঈদের সাফল্য। ‘তাকওয়া’ আরবি শব্দ। তাই এর অর্থ ও মর্মকথা আমাদের মনোযোগ দিয়ে উপলব্ধি করতে হবে। তাকওয়ার আভিধানিক অর্থ হলো ভয় করা। আর পারিভাষিক অর্থ হলো, আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের সব আদেশ মানা ও নিষিদ্ধ কাজ থেকে দূরে থাকা।
আমাদের ঈদে থাকবে পবিত্র আনন্দ বিনোদন। আর শুধু নিজেরা নয়, সমাজের সবাইকে নিয়ে আমাদের পালন করতে হবে ঈদ। দরিদ্ররাও যাতে ঈদের আনন্দে শরিক হতে পারেন, সেই জন্য ঈদের নামাজের আগেই আমাদের আদায় করতে হবে ফিতরা। সবার কথা ভাবা তথা ভ্রাতৃচেতনা ঈদের এক গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা। তবে দুঃখের বিষয় হলো রোজা, তাকওয়া ও ঈদের ভ্রাতৃচেতনার সৌরভ আমাদের সমাজে কাক্সিক্ষত মানে লক্ষ্য করা যাচ্ছে না। এই দুর্বলতা দূর করার ক্ষেত্রে ছোট বড় সবারই করণীয় আছে। বড়দের হতে হবে উদাহরণ, আর ছোটদের দায়িত্ব হবে অনুসরণ।

SHARE

Leave a Reply