Home ভ্রমণ বিশ্বের কয়েকটি রহস্যময় স্থান -মুহাম্মদ আশরাফুল ইসলাম

বিশ্বের কয়েকটি রহস্যময় স্থান -মুহাম্মদ আশরাফুল ইসলাম

Sailing stone
Underwater City
Door to hell Sailing stone
Wadi e Jin Wadi e Jin
আমাদের এই পৃথিবী নানা রহস্যে ঘেরা। এর প্রত্যেক কোণে প্রতিদিন এমন কিছু অদ্ভুত প্রাকৃতিক ঘটনা ঘটে চলেছে যার ব্যাখ্যা পাওয়া যায় না। কোথাও দেখা যাচ্ছে নিষ্ক্রিয় গাড়ি উপত্যকার উপরের দিকে একটা গতিতে উঠে যাচ্ছে, কোথাও বা জলপ্রপাতের মধ্যে অবিরাম অগ্নিশিখা জ্বলছে, কোথাও বা উপত্যকার তলদেশে শুষ্ক মাটিতে নির্জীব পাথর নিজে থেকেই চলছে। এমনি হাজারো সব ঘটনার মধ্য থেকে কয়েকটি আমরা এখানে তুলে ধরার চেষ্টা করছি। আশা করা যায়, এগুলো কিশোরকণ্ঠের পাঠকদের মধ্যে কৌতূহল জাগাবে।
ওয়াদি-ই-জিন
এক রহস্যময় উপত্যকা
সৌদি আরবে মদিনার ৩৫ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে একটি উপত্যকা আছে। নাম ওয়াদি-ই-জিন। উপত্যকাটির তলদেশ দিয়ে গেছে একটি রাস্তা। এই জায়গাটার রহস্য হলো, এখানে ইঞ্জিন বন্ধ করে দিলেও গাড়ি নিজে থেকেই চলতে থাকে। এখানে গাড়িগুলো ইঞ্জিন নিষ্ক্রিয় থাকা অবস্থায়ই ঘণ্টায় ১২০ কিলোমিটার গতিতে চলে।
এখানে গাড়ির ইঞ্জিন বন্ধ করে দিলে বা গিয়ার নিউট্রাল অবস্থায় রাখলে গাড়ি চলতে শুরু করে এবং দেখে মনে হয় যেন গাড়ি পাহাড়ের উপরের দিকে যাচ্ছে। যারা ঘরে বসে এই দৃশ্য দেখতে চাও তারা ইউটিউব ব্রাউজ করে এই দৃশ্য দেখতে পারো।
স্থানীয়রা তাদের বিশ্বাস অনুযায়ী এই স্থানটির নাম দিয়েছে ওয়াদি-ই-জিন। তারা বিশ্বাস করে এই এলাকার পর্বতগুলোতে জিন বাস করে এবং এখানে গাড়িগুলো যে গতি পায় সেটা আসলে জিন সেগুলোকে ঠেলে নিয়ে যায়। সেখানে জিন বাস করে কি না তা একমাত্র আল্লাহ তায়ালাই সবচেয়ে ভালো জানেন। তবে এখানে সোজা রাস্তায় গাড়ির গতি পাওয়ার ঘটনায় জিনদের কিছু করার নেই।
এখানকার রহস্য উদঘাটনে চেষ্টারত ব্যক্তিরা বলছেন, এরকম কথা কারো কারো কাছে হয়তো বিরক্তকর শুনাতে পারে। কিন্তু এখানে জিনের অস্তিত্বের প্রতি অবিশ্বাস করানো উদ্দেশ্য নয়, তবে দৃশ্যাবলির প্রকৃত প্রেক্ষাপটে যদি উপনীত হওয়া যায় তাহলে সেটা নিশ্চয় মিথ্যাচার হবে না। আসলে এটা প্রাকৃতিক ঘটনা এবং এতে জিনের কিছু করার নেই।
ম্যাগনেটিক হিল (চৌম্বক পাহাড়) ও গ্র্যাভিটি হিল (অভিকর্ষ পাহাড়) শব্দাবলি দিয়ে এই রহস্যের ব্যাখ্যা করা যেতে পারে। গ্র্যাভিটি হিলকেই ম্যাগনেটিক হিল বলা হয় এবং কখনও কখনও রহস্যময় পাহাড় বা অভিকর্ষ রাস্তা বলা হয়। গ্র্যাভিটি হিল হচ্ছে এমন এক স্থান যেখানে আশপাশ ভূমির বিন্যাস দৃষ্টিসংক্রান্ত বিভ্রান্তি তৈরি করে। সেক্ষেত্রে একটি খুবই সামান্য নিচু পাহাড়ের ঢালকে একটি উঁচু পাহাড়ের ঢালের মতো মনে হয়। সুতরাং একটি গাড়িকে গিয়ার ছাড়াই ছেড়ে দিলে মনে হয় যেন পাহাড়ের উপরের দিকে চলে যাচ্ছে। সারা বিশ্বে এরকম শত শত গ্র্যাভিটি হিলের স্থান আছে। যা তোমরা ইন্টারনেট ঘাঁটলেই জানতে পারবে।

নরওয়ের দিন-রাতের
বিশাল তারতম্য
নরওয়ের লঙ্গিয়ারবিয়েন নামক স্থানে প্রতি বছর ২০ এপ্রিল থেকে ২৩ আগস্ট পর্যন্ত এক ব্যতিক্রমী পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। কারণ এই সময়কালে এখানে সূর্য অস্ত যায় না। ফলে তখন এখানকার সময় বলা কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। রাত না নামায় এই অঞ্চলের বাসিন্দারা তখন রাতের তারা দেখার সুয়োগ পায় না। লঙ্গারবিয়েন নরওয়ের সভালবারড দ্বীপে অবস্থিত। নরওয়ের উচ্চ অক্ষাংশের কারণে এখানকার দিনের আলোয় বিশাল মৌসুমি পরিবর্তন পরিলক্ষিত হয়। এখানে মে মাসের শেষদিক থেকে জুলাই মাসের শেষ দিক পর্যন্ত সূর্য কখনই সম্পূর্ণভাবে আর্কটিক সার্কেলের (উত্তর বা সুমেরুবৃত্ত) উত্তর এলাকায় দিগন্তের নিচে নামে না (এ কারণে নরওয়েকে মধ্যরাতের সূর্যের দেশ বলা হয়) এবং দেশের অবশিষ্ট অংশে দৈনিক ২০ ঘন্টা দিনের আলো থাকে। বিপরীতভাবে, নভেম্বরের শেষ ভাগ থেকে জানুয়ারির শেষ ভাগ পর্যন্ত সূর্য কখনই উত্তরে দিগন্তরেখার উপরে ওঠে না এবং সে কারণে দেশের অবশিষ্ট অংশে দিবালোকের সময় খুবই খাটো হয়।

চিরন্তন শিখার জলপ্রপাত
একবার নিউ ইয়র্ক বাফেলোর চেস্টনাট রিজ পার্কের শেল ক্রিক সংরক্ষিত অংশ দেখে আসো। সেখানে একটি ছোট্ট জলপ্রপাত দেখবে এবং তার মধ্যে একটি অগ্নিশিখা টিম টিম করে জ্বলছে। তোমরা হয়তো এটাকে তোমাদের কল্পনার অংশ হিসেবে বাতিল করে দিতে চাইবে। এটাকে অনেকটা মরীচিকার মতোও মনে হবে। কিন্তু না, আরো খেয়াল করে দেখো এটা প্রকৃতপক্ষেই একটি অগ্নিশিখা। এই অঞ্চলে মাটির নিচ থেকে প্রতিদিন প্রচুর মিথেন গ্যাস বের হয়। সে কারণে এখানকার ভূপৃষ্ঠ দাহ্য। কিছু দর্শক এখানে আগুন ধরানোর মনস্থ করলেন এবং এই ধারণাটা ম্যাজিকের মত কাজ করলো এবং সেই তখন থেকে এই জলপ্রপাতে এই অগ্নিশিখা জ্বলছে। যদি কখনো পানিতে এই শিখা নিভে যায় তাহলে এটা আবার জ্বালিয়ে দেয়ার ব্যবস্থা আছে।
ইন্ডিয়ানা ইউনিভার্সিটি ব্লুমিংটন এবং ইতালির ন্যাশনাল জিওফিজিকস অ্যান্ড ভলকানোলজি ইনস্টিটিউটের ভূতাত্ত্বিকরা ২০১৩ সালে চিরন্তন শিখার এই জলপ্রপাত নিয়ে গবেষণা করেন। তারা গবেষণা করে দেখার চেষ্টা করেন কিভাবে প্রাকৃতিকভাবে সৃষ্ট হাইড্রোকার্বন নিঃসরণস্থল থেকে বেরিয়ে আসা প্রাকৃতিক গ্যাস আবহাওয়ার গ্রিন হাউজ গ্যাসে অবদান রাখে। তারা দেখতে পান যে, চিরন্তন শিখার জলপ্রপাতের বড় গ্যাস নিঃসরণস্থানের ইথেন ও প্রপেনের ঘনত্ব প্রাকৃতিক গ্যাস উৎসের ঘনত্ব থেকে বেশি (৩৫ শতাংশ)। প্রাকৃতিক গ্যাসে মিথেনের অনুপাত বেশি থাকে। তারা হিসাব করে দেখেছেন, এই জলপ্রপাত থেকে দৈনিক এক কেজি পরিমাণ মিথেন গ্যাস নিঃসরিত হয়।

যুদ্ধজাহাজ দ্বীপ
জাপানের এই দ্বীপটির বহু উপনাম আছে। যেমন গুনকানজিমা, ব্যাটেলশিপ বা যুদ্ধজাহাজ দ্বীপ (এর আকৃতির কারণে), ঘোস্ট আইল্যান্ড বা ভুতুড়ে দ্বীপ, হাশিমা দ্বীপ। ১৮০০ শতাব্দী থেকে ১৯০০ শতাব্দী পর্যন্ত এই দ্বীপটি জনপূর্ণ ছিলো। কেননা এই দ্বীপটি তখন সমুদ্র তলদেশের কয়লা খনিতে যাওয়ার প্রবেশপথ দিয়েছিল। তবে জাপান ক্রমান্বয়ে কয়লা থেকে পেট্রোলিয়ামে উন্নীত হওয়ায় খনিগুলো এবং শ্রমিকদের জন্য এর চারদিকে গড়ে ওঠা ভবনগুলো বন্ধ হয়ে যায়। ফলে এটি একটি বিচ্ছিন্ন ভুতুড়ে শহরে পরিণত হয়, যা আজও কয়েকটি ভুতুড়ে পাকা যুদ্ধজাহাজের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়।
হাশিমা দ্বীপটি জাপানের দক্ষিণে নাগাসাকি নগরী থেকে ১৫ কিলোমিটার (৯ মাইল) দূরে অবস্থিত। এটি নাগাসাকি প্রিফেকচারের ৫০৫টি জনবসতিহীন দ্বীপের মধ্যে অন্যতম। এই দ্বীপটির লক্ষণীয় বৈশিষ্ট্যগুলো হলো এতে রয়েছে অসংখ্য পরিত্যক্ত ভবন, প্রকৃতির কারণে যেগুলোর এখনো কোন ক্ষতি হয়নি, এবং চারদিকের সমুদ্র দেয়াল। দ্বীপটি জাপানের দ্রুত শিল্পায়নের প্রতীক হয়ে আছে। এটি জাপানের অন্ধকার ইতিহাসের প্রতীকও বটে। কেননা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের আগে ও পরে এখানে লোকদের থেকে বাধ্যতামূলক শ্রম নেয়া হতো।
১৬ একর আয়তনের এই দ্বীপটি তার সমুদ্র তলদেশের কয়লাখনির জন্য সুপরিচিত ছিলো। এখানে ১৮৮৭ সালে কয়লা খনি প্রতিষ্ঠা করা হয়। যা জাপানের শিল্পায়নকালে চালু থাকে। ১৯৫৯ সালে এখানকার সর্বোচ্চ জনসংখ্যা ছিল ৫,২৫৯ জন। ১৯৭৪ সালে এখানকার কয়লার মজুদ ফুরিয়ে এলে খনিগুলো বন্ধ করে দেয়া হয় এবং শিগগিরই এর সকল অধিবাসী এখান থেকে প্রস্থান করে। এরপর তিন দশক ধরে দ্বীপটি কার্যত পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে থাকে। ২০০০ সালে দ্বীপটির প্রতি আবার মানুষের আগ্রহ বাড়ে এবং এটাকে একটি পর্যটন আকর্ষণ হিসেবে উন্নীত করা হয়। ২০০৯ সালের ২২ এপ্রিল এটা পর্যটকদের জন্য খুলে দেয়া হয়। ২০১৫ সালের জুলাইয়ে দ্বীপটি ইউনেস্কো ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ স্থান হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি পায়।

পানির নিচে শহর
চীনের শিচেংয়ে কালের আবর্তনে আটকে পড়া এই অবিশ্বাস্য পানির নিচের শহরটি ১ হাজার ৩৪১ বছর পুরনো। শিচেং বা লায়ন সিটি পূর্ব চীনের ঝিজিয়াং প্রদেশে অবস্থিত। সিনআন নদী জলবিদ্যুৎ স্টেশন নির্মাণের সময় ১৯৫৯ সালে এটি ডুবে যায়। পানি এই নগরীকে বাতাস ও বৃষ্টির ক্ষয় থেকে রক্ষা করে চলেছে। সুতরাং এটি তুলনামূলকভাবে ভাল অবস্থায় পানির নিচে সংরক্ষিত আছে।
জানা যায়, বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের জন্য উদ্দেশ্যমূলকভাবে লায়ন সিটি ডুবিয়ে দেয়া হয়েছিল। পঞ্চাশ বছরেরও বেশি সময় ধরে ১৩০ ফুট পানির নিচে শহরটি এখনো সম্পূর্ণরূপে অক্ষত অবস্থায় রয়েছে।
পূর্বাঞ্চলীয় ঝিজিয়াং প্রদেশের শি চেং শহরটি এককালে রাজনীতি ও অর্থনীতির কেন্দ্র ছিল। পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ার পর চীনারা শহরটির কথা প্রায় ভুলেই গিয়েছিল। তবে বর্তমানে ডুবুরিরা এই মেট্রোপলিসকে পর্যটন স্থান হিসেবে ব্যবহার করতে চাচ্ছে এবং সেখানে যাওয়ার পথ তৈরি করার চেষ্টা চালাচ্ছে।
লায়ন সিটিকে চীনের প্রকৃত-জীবনযাত্রার আটলান্টিস বা লুপ্ত নিদর্শনও বলা হয়। এখানে আছে শ্বেত মন্দিরসমূহ, তোরণ সুশোভিত স্মৃতিসৌধ, পাকা রাস্তা এবং অসংখ্য ঘরবাড়ি। তথাকথিত এই লায়ন সিটি ফাইভ লায়ন পর্বতমালার মধ্যবর্তী একটি হ্রদে অবস্থিত।
১৯৫৯ সালে চীন সরকার একটি নতুন জলবিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেয় এবং এই মনুষ্য-নির্মিত হ্রদ তৈরি করে। বাঁধ দিয়ে এই হ্রদটি তৈরি করা হলে এই ঐতিহাসিক শহরটি আস্তে আস্তে সম্পূর্ণরূপে পানিতে ডুবে যায় এবং হ্রদটির নামকরণ করা হয় কিয়ানডাও হ্রদ। হ্রদের তলদেশ থেকে মাপলে নগরীটি ৮৫ থেকে ১৩১ ফুট পানির নিচে আছে।
চীনারা প্রায় ৫৩ বছর ধরে এই নগরীটির কথা প্রায় ভুলেই ছিলো। ডুবুরিরা সম্প্রতি পরিদর্শনে গিয়ে দেখে এসেছে, এমনকি সেখানকার কাঠের কাঠামোগুলো বিস্ময়করভাবে মজবুত আছে। এখানকার কাঠের সিঁড়িসহ ইটের তৈরি সারি সারি বাড়িগুলো এখনো অবিকল আগের মতোই আছে। তাই চীনের মনুষ্য-তৈরি এই সংস্করণটি যেন শিগগিরই পর্যটন আকর্ষণ হতে চলেছে।
দোজখের দরজা
এক সময় তুর্কমেনিস্তানে এটা ছিল একটি গ্যাস ক্ষেত্র, তবে সোভিয়েতরা এতে আগুন ধরিয়ে দেয়। সেই থেকে ৪০ বছরেরও বেশি সময় ধরে এটা জ্বলছে। দেখে মনে হয় এই বিপজ্জনক আগুনের গর্ত কখনই নিভবে না। তুর্কমেনিস্তানের দারওয়েজে অবস্থিত এই প্রাকৃতিক গ্যাস ক্ষেত্রটি ১৯৭১ সালে মাটির নিচে গভীর খাদে ভেঙে পড়ে এবং প্রাকৃতিক গ্যাসের গর্তে পরিণত হয়। ভূতত্ত্ববিদরা মিথেন গ্যাসের বিস্তার থামাতে এতে আগুন ধরিয়ে দেন।
এই অগ্নিগর্তটির মুখের ব্যাস ৬৯ মিটার (২২৬ ফুট) এবং গভীরতা ৩০ ফুট (৯৮ ফুট)। এটি বর্তমানে জনপ্রিয় পর্যটনস্থল। গত পাঁচ বছরে ৫০ হাজার পর্যটক এই স্থানটি পরিদর্শন করেছেন। এই গ্যাস গর্তটির মোট আয়তন ৫,৩৫০ বর্গমিটার, যা একটি ফুটবল মাঠের আয়তনের সমান। এর আশপাশ এলাকা মরু ক্যাম্পিংয়ের জন্য খুবই জনপ্রিয়। এটি কারাকুম মরুভূমির মাঝখানে অবস্থিত। এখানকার গ্যাসের মজুদ বিশ্বের মধ্যে অন্যতম বৃহত্তম। স্থানীরা এর ফুটন্ত কাদা এবং কমলা রঙের অগ্নিশিখার জন্য এই অগ্নিগর্তটির নামকরণ করেছে দোজোখের দরজা।
১৯৭১ সালে সোভিয়েত প্রকৌশলীরা এই স্থানটি চিহ্নিত করেছিলেন। তারা এটাকে প্রথমে তেলক্ষেত্র ভেবেছিলেন। তারা এখানে তেলের পরিবর্তে গ্যাস পান এবং তাদের ড্রিলিং রিগ ও ক্যাম্প ভূগর্ভের গভীর গর্তে ভেঙে পড়ে এবং উধাও হয়ে যায়।
ঐ গর্ত থেকে বিপজ্জনক বিষাক্ত গ্যাস আশপাশ শহরগুলোতে ছড়িয়ে পড়তে পারে আশঙ্কায় তারা গ্যাস ক্ষেত্রটি জ্বালিয়ে দেয়ার সিদ্ধান্ত নেন। তারা ভেবেছিলেন কয়েক সপ্তাহের মধ্যে এখানকার গ্যাস পুড়ে শেষ হয়ে যাবে, কিন্তু চার দশকেরও বেশি সময় ধরে এই স্থানটি জ্বলছে।

SHARE

Leave a Reply