Home ফিচার প্রবাসে শিশুর ঈদ -আব্দুল হাদী আল-হেলালী

প্রবাসে শিশুর ঈদ -আব্দুল হাদী আল-হেলালী

ঈদের সকাল মানেই রক্তের বুননে গড়া মায়াময় সম্পর্কের মানুষগুলোর সাথে একাত্ম হওয়া। পরিবারের বাবা-মা, ভাই-বোনের বাইরেও আত্মার আপনজনদের সান্নিধ্য। শিশুদের জন্য এই মুহূর্তটা যেনো আরো বেশি আনন্দের। বড়দের কাছ থেকে সালামি নেয়া, বাড়িতে বাড়িতে বেড়াতে যাওয়া, ঈদমেলায় ঘুরে বেড়ানো, নাগরদোলায় উড়ে চলা। কিন্তু প্রবাসের শিশুদের কাছে এসব যেনো কেবলই মায়ের মুখের গল্প।
দেশ ছেড়ে যারা বিদেশে আবাস গড়েছে তাদের কাছে ঈদ বছরের আর দশটা সামাজিক অনুষ্ঠানের মতোই। যেখানে ঈদ আনন্দে ভিন্নতা বলে কিছু নেই। কেবল বাবা-মা আর ভাইবোন মিলেই কাটে ঈদের ছুটি। নেই দাদু-নানুর পরম মমতাভরা আহ্লাদি আদর। থাকে না মামা কিংবা চাচ্চুর আবদারের বায়না। চাঁদ রাতে মেহেদি দিয়ে হাত রাঙাতে ফুপি-খালামণিরাও কাছে টানেন না। শৈশব থেকেই ওরা পায় ঈদের ভিন্ন এক অনুভূতি। ছোট্ট মনে এমন আনন্দের দিনে ভিন্ন কোন রঙ ছুঁতে পারে না ওদের। অনেক ক্ষেত্রে বাবা-মা কর্মজীবী হলে আর ঈদ উপলক্ষে সেসব দেশে আলাদা কোনো ছুটির ব্যবস্থা না থাকলে সবচাইতে কাক্সিক্ষত আপন মানুষগুলোকেও আর কাছে পায় না প্রবাসী শিশু-কিশোররা। তখন ঈদের অর্থটা ওদের কাছে আরো ফিকে হয়ে ওঠে। খেলার সাথী কিংবা সহপাঠী বন্ধুরা যদি মুসলিম না হয় তাহলে শুভেচ্ছা বিনিময় করার মোহনীয় অনুভূতি থেকেও তারা বঞ্চিত থাকে।
বিশ্বের কোন কোন মুসলিমপ্রধান দেশের চিত্র হয় ভিন্ন। সেখানে বড় ঈদের জামায়াতে নামাজ পড়া, বিদেশী বন্ধুদের সাথে আনন্দ ভাগাভাগি করার মতো সুযোগগুলো মেলে। বিশেষ করে একে অপরের দেশীয় সংস্কৃতি বিনিময়ের মাধ্যমে পরস্পরকে আরো গভীরভাবে জানার সুযোগ তৈরি হয়। ভিনদেশী মুখরোচক খাবারের স্বাদ পাওয়ার সাথে সাথে নিজের দেশের খাবারের সাথে বিদেশীদের পরিচয় করিয়ে দেয়া সহজ হয়। ঈদকে কেন্দ্র করে তাদের নিজস্ব ঐতিহ্যগত প্রথা উদযাপনের আমেজ উপলব্ধি করার আনন্দ ঈদের আনন্দকে আরো বাড়িয়ে তোলে।
বিশ্বের অধিকাংশ দেশেই প্রবাসী বাংলাদেশীদের আলাদা কমিউনিটি গড়ে ওঠে। যারা ছোট পরিসরে হলেও দেশীয় ঈদের আমেজ তৈরি করতে নানা উদ্যোগ নিয়ে থাকে। সবাই একত্রিত হয়ে নানা আয়োজনের মাধ্যমে ঈদ উদযাপন করে থাকে। তবে এসকল আয়োজনের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকে শিশু-কিশোররা। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, ঈদ উৎসব, মেলা, পুনর্মিলনীর মতো অনুষ্ঠান দিয়ে মাতিয়ে রাখে বাঙালি মন।
নতুন পোশাক কিংবা কেনাকাটার চিত্রটা থাকে একেবারেই ভিন্ন। দেশের শপিং মার্কেটগুলোর মতো ঈদ কেনাকাটার উপচে পড়া ভিড় থাকে না সেখানে। অথবা দেশীয় কারুকাজখচিত নকশা করা জামাকাপড়ও থাকে না। বিদেশী ব্র্যান্ডের পোশাকই ভরসা। তবু যেনো এগুলোই শিশুদের  ঈদের অনুষঙ্গ। আপনজন দূরে রেখে প্রবাসে যতই প্রাচুর্যের মাঝে ঈদ হোক না কেন তবু যেনো সব কিছু থেকেও একটা মমতাহীন শূন্যতা। পরদেশী তৃষিত মন তখন ব্যাকুল থাকে স্বদেশের ঘ্রাণ  নেয়ার। ঈদ আনন্দকে খুঁজে নিতে পরবাসেই গড়ে নেয় এক টুকরো বাংলাদেশ।

SHARE

Leave a Reply