Home ফিচার ফিলিস্তিনের শিশুর আর্তনাদ -মুহাম্মদ তারেক হোছাঈন

ফিলিস্তিনের শিশুর আর্তনাদ -মুহাম্মদ তারেক হোছাঈন

মুসলিম দেশসমূহের সোনালি ঐতিহ্যের আবহে গড়ে ওঠা ফিলিস্তিন মুসলমানদের অন্যতম প্রাণকেন্দ্র। ফিলিস্তিনের ভূখন্ড অত্যন্ত অন্যায়ভাবে ইহুদিরা ১৯৪৮ সালে দখল করে ইসরাইল নামক দেশ সৃষ্টি করে। অন্য দিকে ফিলিস্তিনিরা অবশিষ্ট অংশের স্বীয় বাসভূমিতেই আজ অনেকটা উদ্বাস্তু হয়ে বসবাস করতে বাধ্য হচ্ছে। আগ্রাসী গোষ্ঠী ইসরাইল স্বদেশ ভূমি থেকে লাখ লাখ ফিলিস্তিনি জনগণকে বিতাড়িত করেছে। প্রতিদিন নিরীহ জনগণের ওপর বর্বরোচিত হামলা অব্যাহত রেখেছে। অধিকারহারা নির্যাতিত ফিলিস্তিনবাসী ইসরাইলের নির্মমতার কবল থেকে মুক্তির জন্য আমরণ সংগ্রাম করে যাচ্ছেন। প্রতিদিনই অকারণে নিষ্পাপ ফিলিস্তিনি জনগণের রক্ত ঝরছে। বুলেটের আঘাতে অসংখ্য মুসলিমের বুক ঝাঁঝরা হচ্ছে। ঘরবাড়ি, দোকান-প্রতিষ্ঠান বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেয়া হচ্ছে। ফিলিস্তিনি যুবকদের রক্তে তাদের মাতৃভূমি রঞ্জিত হচ্ছে। বায়তুল মোকাদ্দাস ও জেরুসালেম নগরীতে মুসলমানদের অবাধ বিচরণ নিষিদ্ধ। হাজার বছরের ঐতিহ্যমন্ডিত পবিত্র স্থানে নিগৃহীত ও নিষ্পেষিত। সমগ্র মুসলিম উম্মাহর জন্য অত্যন্ত বেদনাদায়ক ও দুর্ভাগ্যজনক।
আজ মুসলিম জাতির মর্মবাণী কবে মুক্ত হবে আল্ কুদ্স। মাতৃভূমি ও পবিত্র স্থানের পবিত্রতা রক্ষায় শাহাদাতে উদগ্রীব সাহসী যুবক ও বোনেরা। তাদের মন-প্রাণ শাহাদাতের নেশায় বিভোর। মর্মান্তিক দুঃসহ আতঙ্কিত জীবন কাটে ফিলিস্তিনের নিরপরাধ শিশুদের। সবসময় থাকে আহতদের আহাজারি। হাসপাতালগুলোতে নেই ব্যান্ডেজসহ পর্যাপ্ত ঔষধ। বিদ্যুৎ ও পানি সরবরাহ বন্ধ করে  দেয়া হয়। বিশ্বের সবচেয়ে অসম ও নৃশংস এই যুদ্ধ। এ হলো দানব মিসাইলের বিপরীতে দাঁড়িয়ে পাথর হাতে শিশুর যুদ্ধ।
ইসরাইলের বর্বরোচিত হামলায় পিতা-মাতা হারিয়ে এতিম আজ হাজারো শিশু। এই রকম একজন ১২ বছরের শিশু খুবাইব। পিতা-মাতা, বোনকে হারিয়ে নির্বাক খুবাইব। খুবাইব মুসলিম যুবকদের সহযোগিতার আহবান জানিয়েছে। আল্লাহর প্রতি অবিচল বিশ্বাসী খুবাইব মুসলমান যুবকদের উদ্দেশে গভীর রাতে আল্লাহর কাছে অভিব্যক্তি তুলে ধরে- ‘বিশশ্র মুসলিম যুবকেরা, তোমরা দেখছ না কিভাবে নির্মমভাবে ফিলিস্তিনি যুবকদের, শিশুদের হত্যা করা হচ্ছে।’
তোমরা তো দেখেছ- নরপশুরা স্কুল থেকে অপহরণ করে আমার শিক্ষক বাবাকে হত্যা করেছে, আমার মাকে নির্দয়ভাবে অপমানিত করে হত্যা করেছে। আমার একমাত্র বোনকে ধর্ষণ করে নির্মমভাবে হত্যা করেছে। বোমা মেরে আমাদের সুন্দর বাড়িটিই বিলীন করে দিয়েছে।
পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে যুবকরা তোমরা কি আমাদের সাহায্যে এগিয়ে আসবে না? আমি জানি তোমরা আসতে পারবে না। তবে তোমরা কি পারবে না- ‘পৃথিবীর সমস্ত প্রাণী ঘুমিয়ে যায়, সেই গভীর রাতে আমাদের জন্য অশ্রু নিবেদন করে আল্লাহর রহমতের দরবারে দোয়া করতে?’
এইভাবে লাখো লাখো নির্যাতিত শিশুর আবেদন আমাদের প্রতি। আহত শিশুর আর্তনাদ, সন্তানহারা মায়ের বুকফাটা কান্না কিংবা বিশ্বজুড়ে নিন্দার ঝড় কোনটিতেই ভ্রুক্ষেপ করছে না ইসরাইল।
সুতরাং ইতিহাস বলে ফিলিস্তিনিরা এমন মৃত্যুর প্রত্যাঘাত দেবেই। এ মৃত্যুর প্রতিধ্বনি শোনা যাবে গোটা মধ্যপ্রাচ্য এমনকি পৃথিবীব্যাপী। গাজার শিশুরা, যুবকেরা রাতারাতি ভুলে যাবে না নিজেদের হারানো ভিটেমাটির কথা। এই যুদ্ধ তাদের ক্রোধের আগুনকে বরং বাড়িয়ে দিচ্ছে।
আজ ফিলিস্তিনি শিশুরা রক্তে রঞ্জিত। মাতৃভূমি থেকে বিতাড়িত। কৃত্রিমভাবে সৃষ্ট তীব্র খাদ্যসঙ্কটে জর্জরিত। অন্ন-বাসস্থানের যেখানে নিশ্চয়তা নেই। অপুষ্টি, অনাহারে যারা নিত্য মৃত্যুর সময় গুনছে, কবর যাদের নিত্য হাতছানি দেয়, প্রতি মুহূর্তে যারা মৃত্যুর ভয়াবহতা অনুভব করছে। সেখানে ঈদের আনন্দ উচ্ছ্বাস কি অর্থহীন  নয়? সেখানে ঈদের উৎসব কি সম্ভব?
তারা তো প্রত্যাশা করছে এমন একটি সময়ের, এমন একটি দেশের যেখানে নিজস্ব পতাকা উড়বে স্বাধীন, বাধাহীন নীলিম আকাশে। আজকের ফিলিস্তিনের শিশুরা সেদিনের প্রতীক্ষায়, সেই ঈদের ক্ষণটির জন্য মুনাজাত করছে সর্বশক্তিমান আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের দরবারে।

SHARE

Leave a Reply