Home সাক্ষাৎকার সবার কল্যাণে নিবেদিত হোক এই ঈদ – ছটকু আহমেদ জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত...

সবার কল্যাণে নিবেদিত হোক এই ঈদ – ছটকু আহমেদ জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত লেখক ও পরিচালক

প্রশ্ন : আপনারা ছোটবেলার ঈদস্মৃতি সম্পর্কে বলুন। এখনকার ঈদ কিভাবে উদযাপন করেন?
ছটকু আহমেদ : ছোটবেলায় ঈদ মানেই ছিলো মহা আনন্দ। নতুন জামা কাপড় সাথে ছিলো বাবার হাতে ধরে জামাতে নামাজ পড়া। যাবার আগে ভোররাতে ওঠে মার রান্না করা সেমাই মুখে দিয়ে যাওয়া। সারাদিন বন্ধু, আত্মীয়দের বাড়িতে দল বেঁধে বেড়ানো। সবচেয়ে বেশি খুশির ব্যাপারটা ছিলো সেলামি। তখন সেলামি পেতাম আর এখন দিতে হয়। আর একটা বিশেষ কাজে ছোটবেলার ঈদটা ছিলো আমাদের কাছে বিশাল আনন্দের। আমরা বন্ধুরা দল মিলে ঈদের দিন ছোট ছোট কাগজে ঈদ মোবারক লিখে ছাপিয়ে পিন দিয়ে পথচারীর বুকে এঁটে দিতাম তারপর একটা ছিদ্র করা বাকসো এগিয়ে দিতাম। যে যা পারতো এক আনা দু’ আনা দিতো। আর আমরা সেটা জমিয়ে পরবর্তীকালে ক্লাবের বিভিন্ন অনুষ্ঠান করতাম। ম্যাগাজিন ছাপানো, নাটক করা, আবৃত্তি প্রতিযোগিতা।
এখনতো ঈদ-জামাতে নামাজ পড়ে এসে ঘরে বসে টিভি দেখে বা ঘুমিয়ে কাটাই। মাঝে মাঝে মেয়ে, মেয়ের জামাইরা আসে, ভাই বোনের মেয়েরা আসে, শালা-শালীরা, ছেলেমেয়ে জামাইরা আসে তাদের সাথে কোলাকুলি করে সময় কাটাই। আগে নিজে আনন্দ করতাম এখন সবাইকে আনন্দ বিলিয়ে দেই।
প্রশ্ন : রোজা মানুষের জীবনে কী পরিবর্তন আনে বলে আপনি মনে করেন?
ছটকু আহমেদ : রমজান মাস হচ্ছে সেই মাস যে মাসে পবিত্র কুরআন নাজিল হয়েছিলো। রোজা বা সিয়াম মানে সংযম। রোজা মানুষের জীবনকে সংযমের বাঁধনে নিয়ন্ত্রিত করে। হিংসা, হানাহানি, দলাদলি, কুৎসা রটানো, অশ্লীলতা ও মিথ্যা বলা থেকে বিরত করে।
প্রশ্ন : এই ঈদে আপনার ‘বিশেষ কোনো ভাবনা’ আছে কি?
ছটকু আহমেদ : না, এমন বিশেষ কোনো ভাবনা নেই তবে একটা কামনা আছে, আশা। যেন এই ঈদ থেকেই আমরা সবাই আরো ভালো মানুষ হয়ে যাই। ধর্মের নামে হানাহানি এই ঈদ থেকেই বন্ধ হয়ে যাক। মানুষ সচেতন হোক, বিবেকবান হোক এবং সবার কল্যাণে নিবেদিত হোক এই ঈদ থেকেই।
প্রশ্ন : বিনোদন-খেলাধুলা, সৃজনশীল কাজে শিশু-কিশোররা কতটুকু সম্পৃক্ত হবে?
ছটকু আহমেদ : শিশুদের মনন গড়ে তুলতে হলে লেখাপড়ার পাশাপাশি বিনোদন-খেলাধুলা অপরিহার্য। তবে শিশুদের এমন কোন সৃজনশীল কাজে জড়িত করা উচিত নয় যাতে তাদের মানসিক চাপ বৃদ্ধি পায়। পড়ালেখা ও খেলাধুলার মাধ্যমে যতটুকু করা দরকার ততটুকুই কাজে তাদের লাগানো উচিত। এক দিনে নিজের শিশুকে মহান শিশু বানানোর চেষ্টা করলে হিতে বিপরীত হবে। মনে রাখতে হবে শিশুকালটা হচ্ছে জীবনে প্রস্ফুটিত হবার সময়।
প্রশ্ন : একজন খ্যাতিমান চলচ্চিত্র পরিচালক হিসেবে কিশোরদের নিয়ে আপনার ভাবনা কী?
ছটকু আহমেদ : লেখাপড়া আনন্দ বিনোদনের মাধ্যমে সৃজীনশীল কাজ করার উপযুক্ত করে গড়ে তোলা। সর্বপ্রথম তাদের মানসিকতা বিকাশে সহায়তা করে এমন ছবি নির্মাণ করা যা ভবিষ্যতে জাতিগঠনের সহায়ক হবে। ভূত-প্রেতের গল্প না শুনিয়ে সমাজজীবনে সম্পৃক্ত বিষয়ের গল্প সহজ ভাষায় বলা। আর এই চিন্তা থেকে একটি কিশোর চলচ্চিত্র তৈরি করা।
প্রশ্ন : কিশোরকণ্ঠের পাঠকদের ঈদুল ফিতর উপলক্ষে আপনার বিশেষ কোনো উপদেশ-
ছটকু আহমেদ : বড় বড় নীতিবাক্যের কোন উপদেশ আমার নেই, শুধু একটা অনুরোধ রাস্তার পাশে নতুন বসানো, ছোট ডাস্টবিনে চিপসের ঠোঙা বা চকলেটের মোড়কটা ফেলবে। আর এর মাধ্যমেই জীবনকে সুন্দর করার একটা শৃঙ্খলাবোধ তোমাদের মধ্যে তৈরি হবে যা তোমাদেরকে সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তুলবে।

SHARE

Leave a Reply