Home খেলার চমক ক্রিকেটের মাঠে কাউকেই ভয় পাই না – মুস্তাফিজ

ক্রিকেটের মাঠে কাউকেই ভয় পাই না – মুস্তাফিজ

‘কাটার-বয়’, ‘বিস্ময়-বালক’, ‘ফিজ’- এক বছরের ক্যারিয়ারে কত নামেই না তাকে ডাকা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তিনি এখন মহা তারকা। বিশেষজ্ঞদের সবাই একবাক্যে স্বীকার করে নিচ্ছেন, ক্রিকেটবিশ্ব শাসন করতেই হয়েছে তার আবির্ভাব।
তাকে নিতে বড় বড় ক্লাব লাইন দিচ্ছে। তাকে পাওয়া যাবে কী যাবে না তা নিয়ে ভাবতে ভাবতে ঘুম হারাম হয়ে যায় তাদের। আর ব্যাটসম্যানরা তো আরো অনেক আগেই তার নাম শোনামাত্র আতঙ্কে ভুগতে থাকেন।
অথচ সে বড়ই লাজুক ছেলে। বেশি কথা বলতে পছন্দ করে না। আর যদিও বলে, তবে সেটা তার মাতৃভাষা বাংলায়। কিন্তু এই ২০ বছর বয়সী ছেলেটাই তার সব কথা বলে দেয় যখন সে বল পায় হাতে। বাঘা বাঘা ব্যাটসম্যান তার জাদুতে কুপোকাত হয়ে পড়ে। কখনো অফ-কাটার, কখনো পেসে পরিবর্তন, কখনো ইয়র্কার। ব্যস, খেল খতম।
নাম তার মুস্তাফিজুর রহমান। অতি সম্প্রতি ভারতীয় ঘরোয়া লিগ আইপিএল খেলার সময় স্থানীয় একটি পত্রিকাকে তিনি একটি সাক্ষাৎকার দিয়েছেন। কিভাবে আসে তার সাফল্য? কী তার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা? ব্যাটসম্যানদের জীবন কেড়ে নেয়া তার অফ-কাটারের রহস্য কী?- অনেক কথাই তিনি বলেছেন এতে। এখানে তা তুলে ধরা হলো। অনুবাদ করেছেন আসিফ হাসান

প্রশ্ন : আপনি এত সফল হবেন, তা খুব বেশি লোক আশা করেনি। আইপিএলের মতো টুর্নামেন্টে যেখানে বোলাররা ভয়ে কুঁকড়ে থাকে, সেখানে আপনি কিভাবে প্রায় প্রতিদিন এভাবে অসম্ভবকে সম্ভব করে তুললেন?
মুস্তাফিজ : আমার মনে হয় এটা হয়েছে শীর্ষ পর্যায়ে খেলার আমার বিশ্বাস ও আকাক্সক্ষার কারণে। আমি জানতাম, যেখানেই খেলি না কেন, খেলার সময় আমার হাতে যে সুযোগগুলো আসবে, সেগুলো কাজে লাগাতে হবে। আইপিএলে আসার সময় আমি নিজেকে স্মরণীয় করতে চেয়েছিলাম। এ জন্য কঠোর পরিশ্রম করেছি। লোকজন আমার পারফরম্যান্সের প্রশংসা করায় আমার ভালো লাগছে।
প্রশ্ন : আপনার অফ-কাটারের সিক্রেটটা কী? কিভাবে এতে এত নিখুঁত হলেন?
মুস্তাফিজ : এতে কী সিক্রেট আছে জানি না। সম্ভবত আমার হাতে এটা সহজাতভাবে ধরা দিয়েছে। আমার বেড়ে ওঠার সময় আমার এক কোচ আমাকে এ নিয়ে চেষ্টা চালাতে বলেছিলেন। আমি কেবল সেই চেষ্টাটাই করেছি। আর ফল পেয়েছি হাতে-নাতে। তার পর থেকে আমি চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি, ফলাফল তো দেখতে পাচ্ছে সবাই।
প্রশ্ন : আপনার অধিনায়ক ডেভিড ওয়ার্নার বলেছিলেন, আপনি ইংরেজিতে ভালো না হওয়ায় আপনার সাথে মতবিনিময় কঠিন। অধিনায়কের সাথে তেমন কথা না বলেও কাজ চালিয়ে নিচ্ছেন কিভাবে?
মুস্তাফিজ : আমি ইংরেজি বা হিন্দি ভালো বুঝি না, কথাটা ঠিক না। তবে শেষ কথা হলো, ক্রিকেটের নিজস্ব ভাষা আছে এবং আমি জানি, আমার কাছে তারা কী চান। আমার কাছে যেটা ভালো মনে হয়, সেটাই আমি করার চেষ্টা করি, অধিনায়ক কী চান, সেটা বোঝার চেষ্টা করি। এখন পর্যন্ত সবকিছু ঠিকঠাক চলছে।
প্রশ্ন : আপনি বেশ কয়েকটা গুরুত্বপূর্ণ উইকেট পেয়েছেন। কাকে আউট করে সবচেয়ে বেশি মজা পেয়েছেন? কোনো ব্যাটসম্যান কি আপনার ঘুম হারাম করে দিতে পেরেছেন?
মুস্তাফিজ : কারো প্রতিই আমার বিশেষ মনোযোগ নেই। প্রতিটি উইকেটেই আনন্দিত হই। বিশ্বের কোনো ব্যাটসম্যানই আমার ওপর চড়াও হতে পারেননি, আমাকে ভয় দেখাতে পারেননি। আমি জানি, আমি যদি আমার সামর্থ্যরে সেরাটা দিতে পারি, তবে আমি প্রত্যেককে থামিয়ে দেয়ার কোনো না কোনো রাস্তা পেয়ে যাবো, তাদের সবাইকেই আউট করতে পারব।
প্রশ্ন : আপনি বলতে চাচ্ছেন বিরাট কোহলিও আপনার মনে ভয় ধরাতে পারেন না? কিংবা ধোনি?
মুস্তাফিজ : তারা সবাই গ্রেট খেলোয়াড়। আমি আমার শক্তিতে ভরসা রাখতে চাই। ভবিষ্যতে যখন আবার দেখা হবে, তখন আমি আমার সেরা অস্ত্রই তাদের বিপক্ষে প্রয়োগ করার চেষ্টা করব।
প্রশ্ন : আপনার দলে (আইপিএলে, সানরাইজার্স হায়দরাবাদে) আশিষ নেহরা সিনিয়র বাঁ-হাতি পেসার। আপনি কি তার কাছ থেকে শেখার চেষ্টা করেছেন?
মুস্তাফিজ : এ ধরনের খেলোয়াড়ের কাছ থেকে অনেক কিছু শেখা যায়। আমি শিখে যাবো।
প্রশ্ন : টি-২০ ও ওডিআইতে আপনার দুর্দান্ত সাফল্য রয়েছে। টেস্ট ক্রিকেটে আপনার পরবর্তী লক্ষ্য কী? বিশেষ করে ভারতের বিপক্ষে আসন্ন টেস্ট ম্যাচে?
মুস্তাফিজ : এক সাথে দুই কদম না চলাই ভালো। তবে হ্যাঁ, টেস্ট ক্রিকেটেও আমি ভালো করতে চাই। যেকোনো ক্রিকেটারের চূড়ান্ত স্বপ্ন সেটাই। তবে এখনই ভারত সিরিজ নিয়ে ভাবছি না। আমি ওই ম্যাচের জন্য নির্বাচিত হতে পারব কি না তা-ও জানি না। তবে সুযোগ পেলে সেরাটা দেয়ার চেষ্টা করব।
প্রশ্ন : আপনি কি মনে করেন, টেস্ট ক্রিকেটে সাফল্য পেতে আপনার বোলিংয়ে আরো বেশি পেস দিতে হবে?
মুস্তাফিজ : আমার পেস বাড়াতে হলে আমাকে আমার দেহের দিকে মনোযোগ দিতে হবে। আমার মনে হয়, এখন যা পেস আছে, তা-ই যথেষ্ট। ইঞ্জুরিতেও পড়েছি। আর জানি, এটা ক্রিকেট-জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। আমি চেষ্টা করি ফিট থাকার জন্য।

SHARE

Leave a Reply