Home বিজ্ঞান জগৎ আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স – সোলায়মান খান

আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স – সোলায়মান খান

আসসালামু আলাইকুম। ছোট্ট বন্ধুরা কেমন আছো? আচ্ছা, এমন কোনো যন্ত্র যদি থাকত যেটা মানুষের মতোই কাজ করবে, তাকে হুকুম দেয়া যাবে, আর সে হবে অনুগত, কোনরূপ নির্দেশের অন্যথা করবে না। হ্যাঁ, বন্ধু এমন যন্ত্র নিশ্চয়ই আছে। আর তা হলো রোবট। তোমরা নিশ্চয়ই রোবটের কথা জানো। কারো কারো হয়ত খেলনা রোবটও আছে। আর বর্তমানে এই রোবটের মাঝে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স তৈরি করে হুবহু মানুষের মত করে তোলার চেষ্টা করা হচ্ছে।
আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স জিনিসটা কী? আজ তোমাদের বলব এই আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার কথা। আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স এতদিন সায়েন্স ফিকশন জগতের চরিত্র হিসেবেই আমাদের মনোযোগ কেড়েছে। এখন এর বাস্তব রূপ দিতে বিজ্ঞানীরাও নিরলস চেষ্টা করে চলেছেন।
১৯৮৪ সালে মার্কিন চিত্রপরিচালক জেমস ক্যামেরনের বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনীনির্ভর ছবি ‘টার্মিনেটর’ মুক্তি পেয়েছিল। আর্নল্ড শোয়ার্জনেগার অভিনীত অসম্ভব জনপ্রিয় সেই ছবিতে ক্যামেরন এমন একটি বিশেষ দৃশ্যকল্পের গল্প তুলে এনেছিলেন যেখানে দেখানো হয়েছিল, ২০১১ সাল হবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার জয়ের শুরু। সেখানে ২০১১ সালে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বদৌলতে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে তুলে নেয়ার সিদ্ধান্ত নিতে দেখা গেছে চরিত্রকে। বুদ্ধিমান কৃত্রিম প্রাণীরা পৃথিবীর নিয়ন্ত্রণ নিজেদের কব্জায় নেয়ার জন্য পরিকল্পনা করে মানবজাতিকে ধ্বংস করে দেয়ার। এমনই এক প্রযুক্তিবিশ্বকে ক্যামেরন তার মুভিতে দেখিয়েছিলেন। কিন্তু ক্যামেরনের সে আশঙ্কা ফলেনি। মানবজাতির ধ্বংস হয়ে যাওয়ার সেই আশঙ্কাকে দূরে ঠেলে ভালোয় ভালোয় আমরা পার করে এসেছি ২০১১ সাল।
২০০১ সালে যুক্তরাষ্ট্রে মুক্তি পেয়েছিল ‘আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স’ বা ‘এআই’ মুভিটি। বিজ্ঞান কল্পকাহিনীমূলক এ চলচ্চিত্রের পরিচালক ছিলেন স্টিভেন স্পিলবার্গ। এ ছাড়াও ‘আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স’ নিয়ে আরো অনেক মুভি হয়েছে। যেগুলোতে দেখানো হয়েছে, কিভাবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন রোবট মানবজাতির জন্য ভয়ঙ্কর হয়ে উঠবে।
এই আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স কে যদি কাজে লাগানো যায় সত্যি এক বিশাল বিপ্লব ঘটে যাবে প্রযুক্তিবিশ্বে। বর্তমানে সকল রোবটিক্স এর উপর আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স এর প্রয়োগ উত্তর উত্তর বেড়েই চলেছে। বিশেষ করে ফ্লাইট সিমুলেটর জাতীয় প্রোগ্রামগুলোর ওপর এ নিয়ে ব্যাপক গবেষণা চলছে। এতে করে পিসি পাইলট থেকে শুরু করে প্রফেশনাল পাইলট পর্যন্ত সবার জন্য প্লেন চালানোর ব্যাপারটা অনেক সহজ হয়ে যাবে। এ প্রোগ্রামগুলোকে আরও বেশি বাস্তব পরিস্থিতি শেখানো হচ্ছে। এসব প্রোগ্রাম ব্যবহার করে একদিন পাইলট ছাড়াই প্লেন চলবে- এ লক্ষ্যকে সামনে রেখে কাজ করে যাচ্ছেন প্রোগ্রামাররা। ফাজি লজিক ও নিউরাল নেটওয়ার্ক এর সমন্বয়ে গড়ে উঠেছে অও এর আরেকটি বড় শাখা। আজকাল অনেক গাড়িতেই দেখা যায় নিউরাল নেটওয়ার্ক ও ফাজি লজিক সফটওয়্যার। এসব সফটওয়্যার একজন ড্রাইভারের ড্রাইভিং স্টাইল রপ্ত করতে পারে। এ প্রক্রিয়া একসময় গাড়ি চালানোকে একটা পর্যায়ে নিয়ে যাবে যখন ড্রাইভারের কাজ হবে শুধু ‘অটোড্রাইভার’ নামাঙ্কিত একটি সুইচ অন করা।
‘আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স’ সম্পন্ন এই রোবটরা মানুষের সব কাজই করতে পারবে, এমনকি মানুষের থেকেও দ্রুতগতিতে ও নির্ভুলভাবে। একটা সময় এমনও হতে পারে ঐসব রোবটদের বুদ্ধিমত্তা মানুষের বুদ্ধিমত্তাকেও ছাড়িয়ে যাবে। এমনকি তারা মানবসভ্যতাকেও ধ্বংস করে দেয়ার উদ্যোগ নিবে। কাল্পনিক নয়, এমনটিই দাবি করেছেন বর্তমান সময়ে সেরা বিজ্ঞানী বর্তমান সময়ের সব থেকে প্রতিভাবান বিজ্ঞানী স্টিফেন হকিং। স্টিফেন হকিংয়ের মতে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স এর কারণেই বিলুপ্তি ঘটবে মানবসভ্যতার! তার ভাষায় রোবটের কৃত্রিম বুদ্ধি থাকলে তারা নিজেরা নিজেরাই অনেক কিছু শিখে যাবে। তারপর তারা তাদের নিজেদের উন্নতিও সাধন করবে আরও অনেক বেশি শিখার জন্য। তাদের বিবর্তন হবে অনেক দ্রুত।
যদিও তার এই মতবাদের সাথে দ্বিমত পোষণ করেছেন অনেকেই। তাদের মাঝে অন্যতম রোলো ক্রিপেন্টার। যিনি ক্লেভারবোট এর প্রস্তুতকারী। এই ক্লেভারবোট আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স এর এক বিস্ময়। এই ক্লেভারবোট নিজে নিজে অন্যের কথা শুনে কথা বলা শিখে নিতে পারে। এই রোবট নিজে নিজে শিখে নিয়ে কথা বলে হুবহু মানুষের মতো। এই রোবটটি আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সের একটি বড় উদাহরণ। এ ছাড়াও মাইক্রোসফটের প্রধান গবেষক এরিখ হরভিজ মনে করেন আর্টিফিশিয়াল ইন্টিলিজেন্স বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মানবজাতির ধ্বংস নয় বরং উপকার সাধন করবে।
তোমরা হয়ত বিরক্ত হয়ে যাচ্ছ, কি সব ছাইপাঁশ বলছি? আচ্ছা এবার তাহলে আর ভণিতা না করে বলেই ফেলি আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সটা কী? তোমরা নিশ্চয়ই জানো, মানুষ প্রাণীকুলের মধ্যে সবচেয়ে সেরা প্রাণী। মানুষ সেরা তার বুদ্ধিমত্তার কারণে। ইন্টেলিজেন্স বা বুদ্ধিমত্তা শব্দটি হলো কয়েকটি বিশেষ গুণের সমষ্টিবদ্ধ রূপ। যেমন- কোন নির্দিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ধারণা করতে পারা, সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষমতা, সমস্যা সমাধানের সক্ষমতা, অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নেয়া, যে কোন বিষয় সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করতে পারা, অর্জিত জ্ঞানকে কাজে লাগাতে পারা, নতুন অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে দ্রুত এবং সফলভাবে সাড়া দেয়া, ভাষা বুঝতে পারার ক্ষমতা এ সবই বুদ্ধিমত্তার অংশ। এ বুদ্ধিমত্তা বা ইন্টেলিজেন্স এর আগে আর্টিফিশিয়াল শব্দটি তখনই বসানো যায়Ñ যখন এ গুণগুলোকে সিমুলেট করা সম্ভব হয় কোন সিস্টেমের মাঝে।
আমি যদি বলি তোমাদের সবারই বুদ্ধি কম্পিউটার থেকে প্রখর? কি, বিশ্বাস হচ্ছে না? আসলে কম্পিউটারের তো নিজস্ব কোন বুদ্ধিই নাই। প্রোগ্রামার যেভাবে প্রোগ্রাম লিখে কম্পিউটার সেভাবেই কাজ করে। প্রোগ্রাম হল কম্পিউটার কিভাবে কাজ করে তার পরিকল্পনা। এই পরিকল্পনা একজন প্রোগ্রামার তথা মানুষকে তৈরি করতে হয়, কম্পিউটার নিজে তৈরি করতে পারে না। প্রোগ্রামিং শুধু কম্পিউটারেই লাগে না, বরং কম্পিউটার নিয়ন্ত্রিত বা কম্পিউটারের মত সব যন্ত্রেই প্রোগ্রামিং লাগে। তেমনিভাবে রোবটের কাজের জন্যও প্রোগ্রামিং লাগে। ঠাট্টাচ্ছলে বললে, আসলে রোবটের মাথাটাই একটা কম্পিউটার।
প্রথাগতভাবে যখন আমরা কম্পিউটার প্রোগ্রাম লিখি, তখন সেই প্রোগ্রামে আমরা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে বলে দিই, কোন অবস্থায় কি করতে হবে। কম্পিউটার চালিত রোবট বা যন্ত্রমানবকে আমি যদি হঠাৎ করে বলি, “আমাকে এক গ্লাস পরিষ্কার খাবার জল দাও”, সে পড়বে অথই জলে। আমাকে নির্দেশগুলো পরপর সাজিয়ে দিতে হবে। অনেকটা এরকম :
১.    ঘরের পশ্চিম-দক্ষিণ কোনায় যে ফিল্টারটা আছে, সেটার সামনে যাও।
২.    ফিল্টারটা অন করো
৩.    একটি পরিষ্কার গ্লাস ফিল্টারের মুখে সাড়ে নয় সেকেন্ড যাবৎ ধরে থাকো
৪.    গ্লাসটি আমার কাছে নিয়ে আসো।
এরপরও, ফিল্টারে যদি পানি না থাকে, যন্ত্রমানব কোনভাবেই বুঝে উঠতে পারবে না কি করা উচিত।
কোন যন্ত্র যদি বুদ্ধিসম্পন্ন হয়, তাহলে তার নিজে থেকেই শেখার ক্ষমতা থাকা উচিতÑ এই ভাবনা থেকে মার্কিন বিজ্ঞানী মার্ভিন মিনস্কির (১৯২৭-২০১৬) যাত্রা শুরু। আমার যন্ত্রমানব যদি বুদ্ধিসম্পন্ন হয়, তাহলে সে নিজের অভিজ্ঞতা থেকে বুঝে নেবে ‘গ্লাসে জল নিয়ে আসা’ মানে কি, আর দরকার মত ছোটখাটো সমস্যার (ফিল্টারে জল নেই ইত্যাদি) সমাধান কি বুঝে নিতে পারবে।
আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স বিষয়ে বৈজ্ঞানিক ও প্রযুক্তিগত গবেষণার শুরু মার্ভিনের গবেষণা দিয়েই, যদিও ১৯৫৫ সালে ‘আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স’ পরিভাষাটি উদ্ভাবন করেন জন ম্যাকার্থি। একটা বৈদ্যুতিক যন্ত্র বোধবুদ্ধির পরিচয় কিভাবে দিতে পারে, এই নিয়ে মার্ভিন চিন্তাভাবনা শুরু করেন পঞ্চাশের দশকের গোড়ার দিকে।
যেকোনো যন্ত্রকে অভিজ্ঞতা থেকে শেখানোর মধ্যে প্রধান একটা প্রযুক্তি হল স্নায়ুজাল বা নিউরাল নেটওয়ার্ক (হবঁৎধষ হবঃড়িৎশ)। আমাদের স্নায়ুর মধ্যে কোটি-কোটি নিউরন একে অপরের সঙ্গে কাটাকুটি খেলে (সাইনাপ্স বানিয়ে) একটা ভয়ানক ঘ্যাঁটপাকানো জাল বানিয়ে ফেলেছে। সেইরকম, স্নায়ুজালেও আমরা চেষ্টা করি সফ্টওয়্যারের মাধ্যমে কৃত্রিম নিউরন আর সাইন্যাপ্স-এর কাটাকুটি জাল বানানোর। এই জালের গঠন বদলাতে থাকে অভিজ্ঞতা (ট্রেনিং) থেকে, আর সেটাই যান্ত্রিক ‘শেখা’ (মেশিন লার্নিং)। আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স এর সূচনালগ্ন থেকে এই মেশিন লার্নিই হল আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স গবেষণার কেন্দ্রীয় বিষয়।
বিশ্বের প্রথম কৃত্রিম স্নায়ুজাল মার্ভিনের সৃষ্টি। ১৯৫১ সালে, ছাত্রাবস্থায় তিনি তৈরি করেন SNARC (Stochastic neural analog reinforcement calculator)| । তখনও কম্পিউটারের প্রচলন হয়নি, হবে-হবে অবস্থায়, তাই মার্ভিন তার স্নায়ুজাল তৈরি করেছিলেন বৈদ্যুতিক ভ্যাকুম টিউব আর যান্ত্রিক ক্লাচ ব্যবহার করে। এই স্নায়ুজালের মধ্যে ছিল চল্লিশটা কৃত্রিম স্নায়ু (নিউরন)। প্রত্যেক স্নায়ুর ক্ষণস্থায়ী স্মৃতিকোষ (শর্ট টার্ম মেমরি) হিসাবে মার্ভিন ব্যবহার করেছিলেন একটা ক্যাপাসিটর, আর দীর্ঘমেয়াদি স্মৃতিকোষ (লং টার্ম মেমরি) হিসাবে প্রত্যেকটি স্নায়ুর সঙ্গে জোড়া ছিল একটা পটেনশিওমিটার, যার নড়াচড়া নিয়ন্ত্রণ করত যান্ত্রিক ক্লাচ-টি।
এরপর থেকেই আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সের পথচলা। মূলত আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সে বিজ্ঞানের অনেক স্বতন্ত্র শাখার জ্ঞানকে কাজে লাগানো হয়। এর মধ্যে আছে কম্পিউটার সায়েন্স, গণিত, মনোবিজ্ঞান, দর্শন, ভাষাতত্ত্ব, স্নায়ুবিজ্ঞান। এ ছাড়াও আছে বিশেষায়িত শাখা যেমন কৃত্রিম মনোবিজ্ঞান।
আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সে এখন অনেক দূর এগিয়ে গেছে। অচেনা শহরে বন্ধুর সাথে দেখা করতে হবে? নো প্রবলেম! পকেটের স্মার্টফোন-এ গুগল-ম্যাপ দেখিয়ে দেবে কোন বাস আর কোন ট্রেন ধরলে সবথেকে তাড়াতাড়ি গন্তব্যস্থলে পৌঁছানো যাবে। শোনা যাচ্ছে যে আর কয়েক বছরের মধ্যে গাড়ির চালকের আর দরকার হবে না- গাড়ি নিজেই নিজেকে চালাবে!
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা স্টার্টআপ প্রতিষ্ঠান ‘ইমোটিয়েন্ট ইনকর্পোরেটেড’ অধিগ্রহণ করেছে আইফোন জায়ান্ট খ্যাত অ্যাপল। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (এআই) প্রতিষ্ঠানটি মানুষের চেহারা বিশ্লেষণ করে তাদের অনুভূতি বোঝার চেষ্টা করে প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করছে।

ছবি : মানবাকৃতির অ্যান্ড্রয়েড রোবট সোফিয়া
সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের নির্মাতা প্রতিষ্ঠান হ্যানসন রোবোটিক্স জীবন্ত মানুষের মতো দেখতে সোফিয়া নামের অ্যান্ড্রয়েড রোবট তৈরি করেছে স্বাস্থ্যসেবা, থেরাপি, শিক্ষা ও গ্রাহকসেবা ক্ষেত্রে মানুষকে উন্নত সুবিধা দেয়ার জন্য।’ সোফিয়ার মাথার পেছনের দিকটা যন্ত্রাংশের, তবে সামনে দিক থেকে পুরোপুরি মানুষের মতোই দেখতে। রোবটটিকে জীবন্ত দেখাতে এর শরীরে সিলিকন ত্বক ব্যবহার করা হয়েছে। সবচেয়ে বিস্ময়কর ব্যাপার হচ্ছে, রোবট সোফিয়া মানুষের মতোই ঘাড় ঘুরিয়ে কথা বলতে পারে এবং কথানুসারে তার মুখে বিভিন্ন অভিব্যক্তি ফুটিয়ে তুলতে পারে। ভ্রু কুঁচকানো, হাসি, বিস্ময় প্রকাশ- এরকম ৬২ ধরনের অভিব্যক্তি মুখে ফুটিয়ে তুলতে পারে সোফিয়া। এর চোখে ফেসিয়াল রিকগনেশন প্রযুক্তির ক্যামেরা ব্যবহার করা হয়েছে, ফলে মানুষের মুখের অভিব্যক্তি রোবটটি সহজেই বুঝতে পারে। তার ওপর ক্ষতির আশঙ্কা আঁচ করতে পারে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে রোবটটিকে ব্যক্তিত্বসম্পন্ন হিসেবে তৈরি করা হয়েছে। নির্মাতা প্রতিষ্ঠান হ্যানসন রোবোটিক্স প্রতিষ্ঠানটির বিশ্বাস, ভবিষ্যতে রোবট মানুষের সঙ্গে দৃঢ় মানবিক সংযোগ স্থাপনও সম্ভব হবে।’
যে প্রশ্নটি বারবার ঘুরে ফিরে এসেছে, তা হচ্ছে, মানুষের মতো বুদ্ধিমান কম্পিউটার কি আদৌ তৈরি করা সম্ভব? এ প্রশ্নটির উত্তর খোঁজার চেষ্টা করছেন গবেষকরা।

SHARE

Leave a Reply