Home প্রবন্ধ এলো মাহে রমজান -মুহাম্মদ জাফর উল্লাহ্

এলো মাহে রমজান -মুহাম্মদ জাফর উল্লাহ্

মহান আল্লাহ্র অশেষ রহমত, বরকত ও মাগফিরাতের সওদা নিয়ে মুসলিমবিশ্বে এলো পবিত্র রমজান মাস। আমাদের জন্য এটি আল্লাহ্র পক্ষ হতে সাওয়াব ও পবিত্রতা অর্জনের এক মহা সুযোগ। ইবাদত-বন্দেগি, দান-সদকা, জাকাত-ফিতরা প্রদানের এ এক মহোৎসব-এর সবকিছুতে শুধু রহমত ও বরকত।
রমজানের প্রথম দশ দিন রহমত, মধ্যবর্তী দশ দিন বরকত ও শেষ দশ দিন মাগফিরাত।

‘রোজা’ ফার্সি শব্দ। এর আরবি প্রতিশব্দ ‘সাওম’। সাওমের আভিধানিক অর্থ হলো ‘বিরত থাকা’ বা ‘বর্জন করা’। শরিয়তের পরিভাষায় সুবহে সাদিক থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত আল্লাহ্র সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে পানাহার ও ইন্দ্রিয় তৃপ্তি থেকে বিরত থাকার নাম ‘সাওম’ বা ‘রোজা’। রোজা ইসলামের তৃতীয় স্তম্ভ। নামাজের পরই এর স্থান। প্রত্যেক প্রাপ্তবয়স্ক ও দৈহিকভাবে সামর্থ্যবান মুসলিম নর-নারীর ওপর রোজা ফরজ। এ প্রসঙ্গে মহান সৃষ্টিকর্তা আল্লাহ রাব্বুল আলামিন পবিত্র কুরআনে ঘোষণা করেছেন, ‘হে ঈমানদারগণ! তোমাদের ওপর রোজা ফরজ করা হয়েছে, যেরূপ ফরজ করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তী লোকদের ওপর, যেন তোমরা পরহেজগারি অর্জন করতে পারো। (সূরা আল-বাকারা : আয়াত ১৮৩)

রোজা যুগে যুগে
ঐতিহাসিকভাবে রোজার প্রচলন বহুযুগ আগে থেকে। এটি একটি প্রাচীন অনুশাসন। ইহুদি খ্রিষ্টানসহ প্রায় সকল ঐশী ধর্মের অনুসারীদের ওপর রোজা পালনের আদেশ কার্যকর ছিল। আল্লামা আলোসির মতে, হযরত আদম (আ)-এর যুগেও রোজার প্রচলন ছিল। বিখ্যাত তাফসিরকারক মাহমুদুল হাসান (রহ) বলেছেন, রোজার হুকুম হযরত আদম (আ)-এর যুগ হতে আজ পর্যন্ত অব্যাহত আছে। আল্লামা ইবনে কাসির তাঁর বিখ্যাত তাফসির গ্রন্থে লিখেছেন, হযরত নূহ (আ)-এর যুগ থেকে প্রত্যেক মাসেই তিনটি রোজা পালন করার হুকুম চালু ছিল এবং তা শেষ নবী হযরত মুহাম্মদ (সা) পর্যন্ত বহাল ছিল। হযরত দাউদ (আ) তাঁর শিশুপুত্রের অসুস্থতার সময় সাতদিন রোজা রেখেছিলেন বলে প্রমাণ পাওয়া যায়। হযরত মূসা (আ) চল্লিশ দিন রোজা রাখতেন এবং মুহাররমের দশ তারিখও তিনি রোজা রাখতেন। হযরত ঈসা (আ)ও চল্লিশ দিন রোজা রাখতেন। তিনি তাঁর অনুসারীদের রোজা রাখার নির্দেশ দিতেন। ইতিহাস থেকে জানা যায়, মানুষের আত্মশুদ্ধির জন্য আদিকাল থেকেই বিভিন্ন ধর্মে রোজা পালনের প্রচলন ছিল। তবে তার ধরন ও পরিপালন পদ্ধতি ছিল আলাদা। প্রাচীন চীনা সম্প্রদায়ের মধ্যে কয়েক সপ্তাহ একটানা রোজা রাখার নিয়ম প্রচলিত ছিল। পারসিক অগ্নিপূজক, খ্রিষ্টান-পাদরি এবং হিন্দু যোগীরাও রোজা পালন করতো। এখনো করে। ভিন্ন সময়, ভিন্ন মাত্রায়।
ইসলামে রোজার প্রবর্তন
শেষ নবী হযরত মুহাম্মদ (সা)-এর মাধ্যমে ইসলাম পরিপূর্ণ জীবনবিধান হিসেবে আল্লাহর পক্ষ হতে মনোনয়ন লাভ করেছে। রোজার বর্তমান বিধান রাসূল (সা) এর আমল থেকে শুরু হয়। ইসলামে রোজা ফরজ হওয়ার পূর্বে মহানবী (সা) মুহাররমের দশ তারিখ আশুরার দিন রোজা রাখতেন। মহানবী (সা) ইহুদিদের রোজার পদ্ধতি হতে আলাদা হতে ইচ্ছা পোষণ করলেন এবং এ জন্য মহান আল্লাহর নিকট প্রাণভরে দোয়া করলেন। তাঁর দোয়া আল্লাহ্র দরবারে কবুল হলো। তাঁর প্রার্থনানুযায়ী হিজরি ২য় বর্ষে অর্থাৎ ৬২৩ খ্রিষ্টাব্দে রোজা ফরজ হওয়ার নির্দেশ জারি হলো। পবিত্র কুরআনের নির্দেশ, ‘হে ঈমানদারগণ! তোমাদের জন্য রোজা ফরজ করা হয়েছে, যেমন ফরজ করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তী লোকদের ওপর, যাতে তোমরা তাকওয়া পরেহজগারি অর্জন করতে পার’ আল্লামা হাফেজ ইবনুল কাইয়িম (রহ) বলেছেন, ‘রোজার মত গুরুত্বপূর্ণ ইবাদাত ইসলামের প্রাথমিক অবস্থায় ফরজ করা হয়নি। সাহাবারা তাওহিদ ও নামাজের শিক্ষা পূর্ণাঙ্গভাবে গ্রহণ করার পরই রোজার বিধান তাঁদের ওপর প্রবর্তিত হয়।’ রোজা ফরজ হবার পর হতে মুসলমানগণ তা হৃদয়প্রাণ উজাড় করে অত্যন্ত ভক্তি শ্রদ্ধার সাথে পালন করে আসছে।

কুরআন ও হাদিসের আলোকে রোজা
পবিত্র কুরআনে হাকিমে রোজার গুরুত্ব ও মাহাত্ম্য সম্পর্কে বলা হয়েছে :
হে ঈমানদারগণ! তোমাদের ওপর রোজা ফরজ করা হয়েছে, যেমন ফরজ করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তীদের ওপর যেন তোমরা তাকওয়া অর্জন করতে পার। (সূরা আল বাকারা : আয়াত ১৮৩)
রমজান মাস হলো সেই মাস যাতে নাজিল করা হয়েছে কুরআন, যা মানুষের হেদায়াত ও সত্য পথযাত্রীদের জন্য সুস্পষ্ট পথনির্দেশ; আর ন্যায় ও অন্যায়ের মাঝে পার্থক্য নির্ধারণকারী। কাজেই তোমাদের মধ্যে যে লোক এ মাসটি পাবে সে এ মাসে রোজা রাখবে। (সূরা আল-বাকারা : আয়াত ১৮৫)
তোমরা খাও এবং পান কর তখন পর্যন্ত যখন তোমাদের সামনে সুবহি সাদিকের আলোকচ্ছটা স্পষ্ট হয়ে ওঠে কাল রেখা থেকে। অতঃপর সুবহি সাদিক থেকে রাত আসা পর্যন্ত রোজা পূর্ণ কর। (সূরা আল-বাকারা : আয়াত ১৮৭)
রাসূল (সা) বলেছেন, যে ব্যক্তি ঈমান সহকারে ও সওয়াবের আশায় রমজানের রোজা রাখে এবং এমনিভাবে রাতে ইবাদত করে তার আগের সকল গুনাহ মাফ করে দেয়া হবে। (সহিহ আল-বুখারি)
রাসূল (সা) বলেছেন, যে ব্যক্তি আল্লাহ্র জন্য একদিন রোজা রাখে আল্লাহ তাকে দোজখ থেকে সত্তর বছরের দূরে রাখবেন। (সহিহ আল-বুখারি)
হযরত মুহাম্মদ (সা) বলেছেন, রোজাদারের মুখের গন্ধ আল্লাহ্র কাছে মৃগনাভির সুগন্ধ অপেক্ষা উৎকৃষ্টতর। রোজাদার দু’বার আনন্দ লাভ করে। এক. ইফতারের সময় এবং দুই. পরওয়ারিদগারকে দেখার সময়। (বুখারি ও তিরমিজি)
মহানবী (সা) বলেছেন, যে ব্যক্তি কোন শারীরিক ওজর ব্যতীত একটি রোজা ছেড়ে দেবে সে যদি সারাজীবন রোজা রাখে, তাতেও তার ক্ষতিপূরণ হবে না। (আল-হাদিস)
নবী করীম (সা) বলেছেন, সকল কাজের পুণ্য দশ গুণ হতে শত শত গুণ পর্যন্ত হতে পারে কিন্তু রোজা একমাত্র আল্লাহ্র জন্য বিধায় তার পুণ্য আল্লাহ নিজেই দেবেন।
নিশ্চয়ই সকল জিনিসের জাকাত আছে, দেহের জাকাত হলো রোজা। (আল-হাদিস)
যখন তোমাদের কেউ রোজা পালন করে সে যেন ঝগড়া-বিবাদ পরিত্যাগ করে। তারপরও যদি কেউ তাকে গালাগালি দেয় অথবা তার সাথে বিবাদ করে, সে বলুক আমি একজন রোজাদার (অর্থাৎ তোমার কথা ও কাজের প্রতিবাদ করে আমি আমার রোজা ভঙ্গ করতে পারি না)। (আল-হাদিস)

রোজার ফজিলত
রোজার ফজিলত অফুরন্ত। রোজা মানুষকে পূতপবিত্র করে। তার গুনাহ্খাতাকে নির্মূল করে দেয়। আল্লাহ রাব্বুল আলামিন বলেন, ‘রোজা আমার জন্য এবং আমি নিজেই এর প্রতিদান দেবো।’ দুনিয়ার পুণ্য কাজের জন্য বিভিন্ন পুরস্কার এবং প্রতিদানের কথা বলা হয়েছে। কিন্তু রোজার যে নিয়ামত ও প্রতিদান তার কোন সীমা-পরিসীমা নেই। মহানবী (সা) বলেছেন, সকল কাজের পুণ্য দশ গুণ হতে শত শত গুণ পর্যন্ত বৃদ্ধি হতে পারে কিন্তু রোজা একমাত্র আল্লাহ্র জন্য বিধায় তার পুণ্য আল্লাহ নিজেই দেবেন। রমজান মাসের রোজার মাধ্যমে মুসলমানরা ধৈর্য এবং সংযমের গুণাবলি অর্জন করে। আর যারা ধৈর্যের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলো, তারা আল্লাহপাকের সন্তুষ্টি অর্জনের মাধ্যমে জান্নাত লাভ করতে সমর্থ হন। মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা) অপর এক হাদিসে বলেছেন, ‘মাতৃগর্ভ হতে শিশু যেরূপ নিষ্পাপ হয়ে ভূমিষ্ট হয় রমজানের একটি রোজা পালন করলে বান্দা ঠিক সেরূপ নিষ্পাপ হয়ে যায়।’ মহানবী (সা) অন্য এক হাদিসে বলেন, ‘রোজা ঢালস্বরূপ।’ ঢাল যেমন শত্রুর আক্রমণ হতে নিজেকে রক্ষা করে, তেমনি রোজা ঢালের মতো মানুষকে গুনাহ তথা জাহান্নামের আগুন থেকে বাঁচিয়ে রাখে।
রোজার সামাজিক গুরুত্ব
ধর্মীয় কর্তব্যের বাইরে রোজা পালনে রয়েছে সামাজিক, নৈতিক এবং দৈহিক গুরুত্ব। রোজার সামাজিক আবেদন বা শিক্ষা সামাজিক শিক্ষায় অনেক বেশি কার্যকর। মহানবী (সা) বলেছেন, ‘কুপ্রবৃত্তির বিরুদ্ধে যুদ্ধের একমাত্র হাতিয়ার হচ্ছে রোজা।’ একজন রোজাদার ব্যক্তি রোজা রাখার মাধ্যমে তার সকল কুপ্রবৃত্তিকে শাসন করে। ঝগড়া, ফ্যাসাদ, খুন-খারাবি, অশ্লীল কথাবার্তা সবকিছু থেকে বিরত থাকে। এতে রোজাদার উন্নত নৈতিক চরিত্রে বলীয়ান হয়ে ওঠে। রমজানের রোজা মানুষের কুপ্রবৃত্তিগুলোকে জ্বালিয়ে পুড়িয়ে শেষ করে দেয়। রোজার মাধ্যমে রোজাদার ক্ষুধা, উপবাস ও পানাহারের কষ্ট অনুভব করে। এতে সে গরিব দুঃখী ও অভাবগ্রস্ত মানুষের দুঃখ কষ্ট অনুধাবন করতে পারে। ফলে তাদের মধ্যে সৃষ্টি হয় সাম্য-মৈত্রী ও সহানুভূতির অনুপম গুণাবলি। এতে গরিব দুঃখী নির্বিশেষে সামাজিক বন্ধন হয় সুদৃঢ়। সমাজ হয়ে ওঠে সুন্দর। রোজাদারের মধ্যে সহানুভূতির মনোভাব তৈরি হওয়ায় তারা অভাবী ও গরিব মানুষকে বেশি বেশি করে দান খয়রাত করে থাকে ফলে সমাজের অভাবী মানুষরা দুঃখ লাঘব করার সুযোগ পায়।
রমজানের রোজার মাসে অধিক সাওয়াবের আশায় ধনী ও সামর্থ্যবান মানুষেরা জাকাত-ফিতরা ইত্যাদি প্রদান করে। অবশ্য জাকাত প্রদান ধনী ব্যক্তির জন্য ফরজ। এতে সমাজে দারিদ্র্য দূরীকরণের এক বিরাট সুযোগ সৃষ্টি হয়। আধুনিক বিজ্ঞান গবেষণায় দেখা গেছে, রোজা মানুষকে দৈহিক দিক থেকেও উপকৃত করে। চিকিৎসাবিজ্ঞানীদের মতে, রোজা মানুষকে কোষ্ঠকাঠিন্য, উচ্চ ও নিম্ন রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, গ্যাস্ট্রিক ইত্যাদি রোগ থেকে বাঁচায়।

রমজান কুরআন নাজিলের মাস
রমজান মাস পবিত্র কুরআন নাজিলের মাস। এ মাসের ২৭ রমজান রাতে সত্য ও মিথ্যার পার্থক্যকারী রূপে পবিত্র কুরআন নাজিল হয়েছে। এ কুরআন মানবজাতির জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ জীবনবিধান। যে ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্র কুরআন দ্বারা পরিচালিত হবে সে জাতি ইহকাল ও পরকালে উন্নতি, শান্তি ও মুক্তি লাভ করবে। এ মাসে যে ব্যক্তি কুরআন খতম করবে সে বড় পুণ্যের কাজ করবে। খতম তারাবিতে গভীর মনোনিবেশের সাথে অংশ নেয়ার মাধ্যমেও কুরআন খতমের সম্মিলিত সওয়াব পাওয়া যায়। তারাবি নামাজের অপরিসীম সৌন্দর্য ও সাওয়াব রমজান মাসকে মহিমান্বিত করেছে।

রমজান ও আমাদের সমাজজীবন
পবিত্র রমজানের আগমনে ব্যক্তি, সমাজ ও দেশের চেহারা একেবারে বদলে যায়। মানুষ ভুলে যায় অন্য মাস, অন্য সময়ের গণনা। রমজানের রোজা নিয়ন্ত্রণ করে মানবজীবন। মাস গণনা করা হয় ১লা, ২রা, ৩রা, ৪ঠা রমজান রূপে। সময় গণনা করা হয় ফজর, জোহর, মাগরিব, এশা নামে। সাহরি, ইফতার, তারাবিহ ও জামাতের সাথে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ার এক সুন্দর চিত্র ফুটে ওঠে বিশ্বময়।
প্রতিটি ঘরে, পাড়া-মহল্লায় বা শপিংমলে মানুষ একে অপরকে ইফতার খাওয়ানোর জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে। একে অন্যকে ভোর রাতে সাহরি খাওয়ার জন্য স্বেচ্ছায় জাগিয়ে তোলে। বন্ধুরা দল বেঁধে যায় তারাবিতে। সর্বত্র ইসলামী তাহ্জিব-তমদ্দুনের চিত্র প্রস্ফুটিত হয়। ইসলামের শিক্ষা অনুযায়ী মানুষ গরিব-আত্মীয়ের খোঁজ-খবর নেয়। দানের দুয়ার খুলে দেয় এতিম অসহায়ের জন্য।

এতেকাফ
রমজানের শেষ দশ দিন মাগফিরাতের। বান্দা তার অতীত ভুল-ত্রুটি মাফের জন্য একান্ত নিভৃতে ইবাদত বন্দেগির লক্ষ্যে মসজিদে এতেকাফ করেন। দুনিয়ার ঝামেলা হতে মুক্ত হয়ে আল্লাহ্র দিদার লাভের এ এক মহাসুযোগ। মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা) প্রতি রমজানের শেষ ১০ দিন মসজিদ নববীতে এতেকাফ করেছেন। সাহাবীগণও তাঁকে অনুসরণ করতেন। এমনকি তাঁর ইন্তেকালের পর তাঁর পুণ্যবতী স্ত্রীগণও এতেকাফ নিয়েছিলেন। আমাদের গ্রাম, নগর, পাড়া-মহল্লার মসজিদে মসজিদে অনেক পুণ্যবান ব্যক্তিকে এতেকাফ নিতে দেখা যায়।
এতএব, নিঃসন্দেহে বলা যায় রমজানের রোজা মুসলমানদের জন্য একটা গুরুত্বপূর্ণ প্রশিক্ষণের মাস। আত্মার উন্নতি, ইহলৌকিক কল্যাণ এবং পারলৌকিক মুক্তির জন্য রোজা মুসলিম জীবনে রহমত, বরকত ও মাগফিরাতের বার্তা নিয়ে আসে। রোজা মানুষকে আত্মসংযম ও আত্মশুদ্ধির মাধ্যমে পরিপূর্ণ নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলে। সমাজ হয়ে ওঠে সুন্দর ও নির্মল। এর ফলে সমাজ থেকে অবিচার, অন্যায়, পাপাচার ও দুর্নীতি দূর হওয়ার সুযোগ হয়। রমজানের পর বাকি ১১ মাস সুন্দরভাবে ইসলামসিদ্ধ জীবন যাপনে উদ্বুদ্ধ হয়। আল্লাহ রাব্বুল আলামিন আমাদেরকে মাহে রমজানের রোজা পালনের মাধ্যমে পরিশুদ্ধ হওয়ার সুযোগ দান করুন। হ

SHARE

Leave a Reply