Home কুরআন ও হাদিসের আলো কুরআনের আলো সুন্দরের সাথে

সুন্দরের সাথে

উসকোখুসকো চুল, ময়লা-ছেঁড়া কাপড় পরিহিত কিছু লোকের সাথে প্রতিদিনই দেখা হয় আমানের। তার মাদরাসায় আসা-যাওয়ার পথেই একটি মাজার রয়েছে। যেখানে এ জাতীয় লোকদের আনাগোনা লক্ষ করা যায়। দরবেশ নামধারী এ লোকগুলো নাকি আধ্যাত্মিক শক্তি দিয়ে মানুষের বিভিন্ন সমস্যার সমাধান করে থাকে! এদের অনেককে আবার বিবস্ত্র অবস্থায়ও দেখা যায়। শুধু মাজারকেন্দ্রিক নয়, এর বাইরেও কিছু মানুষের দেখা মেলে, যারা ইবাদাত-বন্দেগিতে এগিয়ে থাকলেও খুবই এলোমেলো ও অগোছালো জীবন-যাপন করে। কেউ কেউ বলে থাকেন, সামর্থ্য থাকার পরও ছেঁড়া কিংবা তালিযুক্ত কাপড় পরা তাকওয়ার লক্ষণ। বিষয়টা আমানের কাছে স্পষ্ট নয়। কারণ, তার বাবাও একজন আলেম মানুষ। কিন্তু সবসময়ই তিনি পরিচ্ছন্ন ও পরিপাটি থাকেন। সাধ্যমতো মূল্যবান পোশাক পরেন। তাহলে কি তার বাবা তাকওয়া থেকে দূরে সরে গেছেন?
সাহস করে আমান একদিন তার বাবার কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইল। তিনি হেসে বললেন, দেখো আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কুরআনে কী বলেছেন, “বলুন! কে আল্লাহর ওই সাজ-সজ্জাকে হারাম করে দিল, যা তিনি তার বান্দাহদের জন্য সৃষ্টি করেছেন।” (সূরা আরাফ : ৩২)
আর রাসূল (সা) ছিলেন পৃথিবীর সবচেয়ে স্মার্ট মানুষ। একবার সাহাবীদের একটি দল রাসূল (সা)-এর সাথে সাক্ষাতের জন্য তার ঘরের দরজায় অপেক্ষা করছিলেন। তিনি তাদের সাথে দেখা করতে বের হওয়ার আগে পানি রাখা একটি পাত্রের ভেতর তাকিয়ে নিজের চুল-দাড়ি ঠিক করে নিচ্ছিলেন। হজরত আয়েশা (রা) বললেন, হে আল্লাহর রাসূল (সা)! আপনিও এমন করছেন? তিনি বললেন, হ্যাঁ, কোনো ব্যক্তি তার ভাইদের সাথে সাক্ষাতের উদ্দেশে বের হওয়ার আগে যেন প্রস্তুতি নিয়ে, পরিপাটি হয়ে বের হয়। জেনে রেখো, আল্লাহ নিজে সুন্দর এবং তিনি সৌন্দর্যকে ভালোবাসেন।
আমানের বাবা আরও বললেন, ইসলাম চায় তার অনুসারীরা সবসময় সুন্দরের সাথে থাকুক। রাসূল (সা)-এর কাছে কোনো প্রতিনিধিদল এলে সে যুগের অভিজাত ইয়েমেনি পোশাক পরতেন, যার গলার কাছে হাতের কাজ থাকত। রাসূল (সা) যে রাস্তা দিয়ে হেঁটে যেতেন, তা সুগন্ধে ভরে যেত। পরবর্তীতে যে কেউ বুঝতে পারত, এই পথ ধরে রাসূল (সা) গেছেন। আর উসকোখুসকো চুল-দাড়িবিশিষ্ট লোকদেরকে তিনি শয়তানের সাথে তুলনা করেছেন। সুতরাং যারা অগোছালো, নোংরা জীবনযাপন করে, তারা কখনোই আল্লাহর প্রিয়ভাজন হতে পারে না। তারা রাসূল (সা)-এর অনুসারী নয়।
এসব কথা শুনে আমানের বুকের ভেতরটা যেন সমুদ্রের মতো দুলে উঠল। চিৎকার করে সে যেন বলতে চায়, ‘আমি মুসলিম! পৃথিবীটা আমার জন্যই এত সুন্দর…।
বিলাল হোসাইন নূরী

SHARE

Leave a Reply