Home বিশেষ রচনা মে দিবস ও শিশুশ্রম -ড. রফিক রইচ

মে দিবস ও শিশুশ্রম -ড. রফিক রইচ

জাতিগঠনের মূলভিত্তি আমার ফুটফুটে সজীব সোনামনিরা এ সংখ্যায় তোমাদের জন্য যে লেখাটি লিখবো সে লেখাটি পড়তে গিয়ে তোমাদের সবারই বেশি ভালো লাগার চাইতে বেশি খারাপ লাগতে পারে। তবে এই খারাপ লাগার ভেতরেও অনেকটা ভালো লাগবে, তোমাদের মন ও মগজের রাজ্যে চমকানো জ্ঞানের আলো উঁকিঝুঁকি দেয়ার কারণে।
জাতির সেরা স¤পদেরা তোমরা তো অনেকেই জান মে মাসের ১ তারিখে মে দিবস পালন করা হয়। শ্রমজীবী মানুষ ও নানা শ্রমিক সংগঠনসমূহ ঢাকাসহ বিভিন্ন শহরের রাজপথে সংগঠিতভাবে মিছিল মিটিং ও শোভাযাত্রার মাধ্যমে দিবসটি পালন করে থাকে। তা ছাড়া বিশ্বে প্রায় আশিটিরও বেশি দেশে পয়লা মে জাতীয় ছুটির দিন। সোভিয়েত, চীন, কিউবা ও আর্জেন্টিনাসহ অনেক দেশে এটি খুবই তাৎপর্যপূর্ণ দিন। এসব দেশে সামরিক কুচকাওয়াজও প্রদর্শন করা হয়। বাংলাদেশ ও ভারতেও এ দিবসটিকে গুরুত্বের সাথে পালন করা হয়। তা ছাড়া বেসরকারিভাবেও অনেক দেশে এ দিবসটিকে আন্তরিকতার সাথে পালন করে থাকে।
এ দিবসটিকে বিভিন্ন নামে অভিহিত করা হয়। যেমন (১) মে দিবস (২) ১লা মে (৩) আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস (৪) লেবার ডে ইত্যাদি।
১৮৮৬ সালের আমেরিকার শিকাগো শহরের হে মার্কেটে আট ঘণ্টা কাজের সময় নির্ধারণের যৌক্তিক দাবিতে শহরের তিন লাখেরও বেশি শ্রমিক কাজ বন্ধ রেখে বিক্ষোভে যোগ দেন। এসব বিক্ষুব্ধ শ্রমিকেরা রক্তিম পতাকা হাতে নিয়ে বিক্ষোভস্থলে সমবেত হন। এ সময় এসব শ্রমিককে ঘিরে থাকা পুলিশের প্রতি লক্ষ্য করে এক অজ্ঞাতনামা ব্যক্তির বোমা বিস্ফোরণের পর বিষয়টি না বুঝেই নির্বিচারে পুলিশ গুলি শুরু করে। ফলে দশজন নিরীহ শ্রমিক নিহত হন  তাতে ক্ষোভ ও দ্রোহের আগুন আরো দাউ দাউ করে জ্বলে ওঠে। এতে ধর্মঘট চলতে থাকে। ৩ মে শ্রমিক সভায় আবারো পুলিশ গুলি চালায়, এতে আরো ছয়জন শ্রমিক নিহত হন। এসব নিরীহ শ্রমিক হত্যার প্রতিবাদে ৪ মে শিকাগোর হে মার্কেটে শ্রমিক সমাবেশে আবারো গুলি চালায় পুলিশ। প্রাণ হারান ৪ জন শ্রমিক। ৬ অক্টোবর দেয়া হয় নিরীহ চারজন শ্রমিকের ফাঁসি। এসব কারণে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে সারা বিশ্বে। ফলে বিশ্বের শ্রমিকদের এই ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনে দৈনিক আট ঘণ্টা কাজের দাবি মেনে দিতে বাধ্য হন আমেরিকার কর্ণধাররা।  মালিকেরা মেনে নিয়েছিলেন শ্রমিকেরাও মানুষ। এরপর ১৮৮৯ সালে ১৪ জুলাই প্যারিসে আন্তর্জাতিক শ্রমিক সম্মেলনে হে মার্কেটের শ্রমিকদের এ ত্যাগকে স্বীকৃতি দেয়া হয়। পরিশেষে ১৮৯০ সাল থেকে দিনটিকে মে দিবস হিসেবে পালন করা হয়।
স¦প্নবাজ বন্ধুরা, এ পৃথিবীটা এমনই। এ পৃথিবীটা যোগ্যতমদের জন্য। কোন কিছুই এমনিতেই পাওয়া যায় না। পরিশ্রম করে, বুদ্ধি খাটিয়ে, প্রয়োজনবোধে রক্ত দিয়েও অধিকার আদায় করতে হয়। তবেই এ পৃথিবীতে টিকে থাকা যাবে, নইলে নয়।
তবে মালিকেরা শ্রমিকদের মানুষ বললেন কোন উপায় না পেয়ে। আর আমাদের প্রিয় নবী হজরত মুহাম্মদ (সা) কত আগে এরশাদ করেছেন, যারা তোমাদের কাজ করে জীবিকা উপার্জন করে সে শ্রমিক তোমাদের ভাই। আল্লাহ তাদেরকে তোমাদের অধীন করে দিয়েছেন। কাজেই যাদের কাছে এমন লোক আছে তাদেরকে যেন সে তা-ই খেতে দেয় যা সে নিজে খায়। তাদের ক্ষমতার বাইরে  কোন কাজ করতে যেন তাকে বাধ্য না করা হয়।
যাহোক আগামীর কর্ণধাররা, তোমরা একটি কথা জেনে অবাক হবে আমাদের বাংলাদেশ সরকারের পরিসংখ্যান বিভাগের হিসাব মতে দেশে মোট শ্রমিকের ১২% শিশুশ্রমিক। তবে এটি নিবন্ধনকৃত শিল্পপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত শিশুশ্রমিকদের গণনায় ধরা হয়েছে। সুতরাং বুঝতেই পারছো এ সংখ্যা আরো অনেক অনেক বেশি হবে। তা ছাড়া প্রতি চার বছরে শিশুশ্রমিকের সংখ্যা প্রায় ১০ লাখ করে বৃদ্ধি পাওয়ার নজির রয়েছে। তবে এদেশে শিশুশ্রমিক ক্রমান¦য়ে বৃদ্ধি পাওয়ার  পেছনের কারণটি তোমরা অনেকেই কমবেশি বুঝতে পারো। তোমাদের বাবা-মা হয়ত চাকরি করেন বা হয়ত ব্যবসা বাণিজ্যের সাথে যুক্ত আছেন। টাকা পয়সার কোনো অভাব নেই। তাই তোমাদের বেড়ে ওঠায় হয়ত কোন বাধা আসছে না। তোমরা লেখাপড়া করছো। খেলাধুলা করছ, বাবা, মা বা স্বজনদের সাথে অবসরে পার্কে ঘুরে বেড়াচ্ছ। তথ্যপ্রযুক্তির প্রশিক্ষণ নিচ্ছ। কিন্তু বন্ধুরা যাদের নুন আনতে পান্তা ফুরিয়ে যায়, যাদের বাবা-মা গরিব, আয় রুজি তেমন নেই, সারাক্ষণ অর্থকষ্টে ভোগেন অথবা কারো বাবা-মা থেকেও নেই অথবা একেবারেই নেই তাদের অবস্থাটি কী হতে পারে সেটা তো তোমরা বুঝতে পারো।
পড়ালেখা তো দূরের কথা শুধু খেয়ে পরে বেঁচে থাকার তাগিদে এ পৃথিবী নামক কঠিন গ্রহে টিকে থাকায় জন্য বয়স হতে না হতেই শ্রমিকের খাতায় নাম লেখাতে হচ্ছে। করতে হচ্ছে নানা রকম ঝুঁকিপূর্ণ কাজ। সারা দিনমান কাজ শেষে যা আয় রোজগার হয় তাই দিয়ে কোন রকমে বাজার করে খায়। কারো বাবা-মা বৃদ্ধ হওয়ায় তাদেরকে পর্যন্ত টানতে হয় অল্প বয়সী কোমল চাঁদের মত শিশুদের। আবার কোন কোন শিশু কাজ জোটাতে না পেয়ে পথে পথে ঘুরে বেড়ায় আর ক্ষুধার জ্বালা সইতে না পেরে রাস্তার নোংরা নানা উচ্ছিষ্টকে খাদ্য হিসাবে গ্রহণ করে। কেউ বা আবার ২০, ৫০ টাকা পুঁজি নিয়ে বিক্রি করে ফুল বা ফুলের মালা।
এসব শিশু-কিশোর তো তোমাদের মতোই। তারাও তো তোমাদের মতো হতে পারতো, তোমাদের মতো তাদেরও ইচ্ছা করে স্কুুলে যেতে, পড়ালেখা করতে। আনন্দ বিনোদন করতে। ইচ্ছা করে ভালো ভালো পোশাক পরতে। বাবা-মায়ের আদর পেতে ভালোবাসা পেতে তাদেরও ইচ্ছা করে। এসব না পেয়ে তাদের মনটা কেঁদে ওঠে কাঁদুনে ঘুঘুর মত হু হু করে। কিন্তু কিছুই করার নেই। বাস্তবতাকে তারা বুঝতে পারে আর সেভাবেই ওরা পথ চলে। চলতে শেখে। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য এসব শিশুশ্রমিক বয়স্ক শ্রমিকের মত কাজ করলেও তাদের মজুরি দেয়ার বেলায় অদক্ষ শ্রমিকের কথা বলে প্রাপ্য মজুরিটুকুও দেয় না। উপরন্তু তাদের হতে হয় অবহেলিত অপমানিত। সহ্য করতে হয় নানা নির্যাতন অনিয়ম। এ নির্যাতন চার প্রকার। যেমন (১) শারীরিক নির্যাতন, (২) মানসিক নির্যাতন (৩) যৌন নির্যাতন (৪) অবহেলা অনাদর ও বকাঝকা বিষয়ক নির্যাতন। এসব বিষয়ে একটি ছড়া শোন-
আমাদের শিশুরা যে ভেঙে যায় খোয়া ইট
শিশুশ্রম ভালো নয় মুখে বলে পোকা কীট,
কম টাকা মজুরিতে শিশুদের খাটিয়ে
ফায়দাটা লোফে কীটে জীব দিয়ে চাটিয়ে।

ছড়াটি পড়ে বুঝতেই পারছো বিষয়টা কতটা কষ্টের এবং বেদনার।
এই শিশুশ্রমিকের মধ্যে যদি কেউ তোমাদের ভাই হতো, স্বজন হতো তাহলে তোমাদের কেমন লাগতো। তবে তোমাদের স্বজনদের মধ্যে আমাদের স্বজনদের মধ্যে যে একেবারেই কেউ নেই এমন নয়। আছে। তোমাদের এতে খারাপ লাগে। কোন কোন ক্ষেত্রে সহযোগিতাও কর। কিন্তু এগুলোতে কোন সমাধান আসবে না। যতদিন না দেশ থেকে দারিদ্র্য দূর করা যাবে, শিশু অধিকার প্রতিষ্ঠিত এবং কার্যকরী না করা যাবে। আমাদের সবায় আন্তরিকতা শুধু মুখে নয় বাস্তবে প্রদর্শিত যতদিন না হবে ততদিন এ সংখ্যা বাড়বেই কমবে না।
দেশ গড়ার সৈনিকেরা, জাতিসংঘ প্রণীত শিশু অধিকার সনদে ১৮ বছরের কম বয়সী প্রত্যককেই শিশু বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এদেশের বিভিন্ন আইনে ১৫ বছরের কম বয়সী প্রত্যেককেই শিশু বলা হয়েছে। সুতরাং ১৪ বছরের মধ্যে যারা আছে তাদের সকলেই শিশু।
জাতিসংঘ শিশুসনদ একটি আন্তর্জাতিক আইন। এ আইনে যেসব অধিকার শিশুদের রয়েছে যেগুলোর প্রতি যতœবান নয়। শিশু অধিকার রক্ষায় বাংলাদেশেও রয়েছে নানা আইন। আসলে সেগুলোর যথাযথ ব্যবহারের ওপর ভালো ফলাফল নির্ভর করে।
বাংলাদেশে ১৪ বছরের কম বয়সীদের গৃহশ্রমে নিযুক্ত না করায় হাইকোটের রায় ঘোষণা করা হয়েছে। এ দেশে গৃহকর্মে যারা রয়েছে তাদের প্রায় অধিকাংশই শিশু ও কিশোর ও কিশোরী। পরিসংখ্যান ব্যুরোর জাতীয় শিশুশ্রম জরিপ ২০১০ সালের হিসাব অনুযায়ী গৃহকর্মে নিয়োজিত মোট শিশুশ্রমিক এক লক্ষ পঁচিশ হাজার। যাদের সবাই ৫-১৭ বছর বয়সী। ১৪ বছরের কম বয়সীদের সার্বক্ষণিক শিশুশ্রমে নিয়োগ করা যাবে না এই প্রচলিত আইনে। শিল্প কারখানায় শিশুশ্রম নিষিদ্ধ হলেও বেঁচে থাকার তাগিদে শ্রমে নিয়োজিত হচ্ছে হাজার হাজার শিশু এবং লাখ লাখ শিশু ঝুঁকিপূর্ণ কাজ করছে। এসব ঝুঁকিপূর্ণ কাজের মধ্যে রয়েছে মোটর ওয়ার্কশপ, ওয়েল্ডিং, গ্যাস কারখানা, বেলুন কারখানা, লেদ মেশিন, বিড়ি ফ্যাক্টরি, বাস ট্রাকের হেলপার, লেগুনার হেলপার, নির্মাণশ্রমিক, জাহাজ শিল্প, এমব্রয়ডারি, লবণ কারখানা, ট্যানারি, ইট ভাঙা, রঙমিস্ত্রি, রিকশাচালক, মাদক বাহক, ব্যাটারি নির্মাণ কারখানা, প্লাস্টিক সামগ্রী কারখানা, সাইকেল নির্মাণ কারখানা, হোটেল রেস্তরাঁ, হ্যাচারি ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য।
সরকারি হিসাবে সারা দেশের ৯৯ শতাংশের বেশি শিশুর বিদ্যালয়ে ভর্তি নিশ্চিত করা হয়েছে। কিন্তু প্রাথমিক শিক্ষা শেষ করার আগেই ৪০ শতাংশ শিশু বিদ্যালয় থেকে ঝরে পড়ছে। এই ঝরে পড়া শিশুগুলোই অভাব অনটনে শ্রমে যোগ দিচ্ছে। এক হিসাবে দেখা গেছে সারা দেশে শিশুশ্রমিকের সংখ্যা ৭৯ লাখ। এর মধ্যে ১৫ লাখ শিশুশ্রমিক শহরে এবং ৬৪ লাখ শিশুশ্রমিক গ্রামে কাজ করে। এর মধ্যে ৪৫ লাখ শিশু নানা ঝুঁকিপূর্ণ কাজ করে যাচ্ছে । ২ লাখ ৬০ হাজার শিশু অপেক্ষাকৃত বেশি ঝুঁকিপূর্ণ কাজে নিয়োজিত রয়েছে। এ সংখ্যা অবশ্যই বেশি ছাড়া কম হবে না আর এদের মধ্যে ৭৩.৫০ ভাগ পুরুষ ও ২৬.৫০ ভাগ নারী। কর্মক্ষেত্রে দূষিত পরিবেশে কাজ করছে ১৭ শতাংশ শিশু। ১৭ শতাংশ শিশু তাদের কর্মক্ষেত্রে মালিক দ্বারা শাসিত হয় এবং বকাঝকা শুনতে হয়। তবে ছোট বন্ধুরা, একটি বিষয় সবচাইতে বেশি উদে¦গের, সেটি হলো ২.৫০ শতাংশ শিশু কর্মক্ষেত্রে যৌন নিগ্রহের শিকার হয়। সব মিলিয়ে কন্যাশিশুদের ৫ দশমিক ৬ শতাংশ যৌন নিগ্রহের শিকার হয়।
সারাদিনে আট ঘণ্টা কাজ বা তার বেশি সময় কাজ করে ৩৪ লাখ ৫০ হাজার শিশু। অথচ মানবাধিকার সংস্থা ‘আইন ও সালিশ কেন্দ্রে’র নির্বাহী পরিচালক বলেন, আইনে শিশুশ্রম স¤পূর্ণ নিষিদ্ধ। শিশুশ্রম বন্ধ করতে আইনের সুষ্ঠু প্রয়োগ দরকার। কিন্তু তার আগে কথা হলো তারা কী কারণে শিশুশ্রমে যুক্ত হচ্ছে সেটা উদঘাটন করে তার সমাধানের ব্যবস্থা করা। তার পর আইনের বিষয়টাকে গুরুত্ব দেয়া। তা না হলে কোন কিছুতেই কিছু কাজ হবে না।
আমার সবচেয়ে কাছের কচিকাচারা, তাহলে তোমরা বুঝতেই পারছো বর্তমান সময়ে এক ভয়ঙ্কর সমস্যা ও ভয়ঙ্কর এক নিষিদ্ধ পেশার নাম- শিশুশ্রম। যারা এই শিশুশ্রমের সাথে জড়িত তারা নানা অসৎ সঙ্গে মিশার সুযোগ পাওয়ার ফলে শিশু অবস্থায়ই হয়ে পড়ছে নেশাগ্রস্ত। জড়িত হয়ে পড়ছে নেশাদ্রব্য প্রাচারে। বিভিন্ন অন্যায় কাজকর্মের সাথে যুক্ত হয়ে পড়ছে। এতে করে সামাজিক অশান্তি দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে, কমছে না। পরিবার থেকেও এসব শিশুর ওপর নিয়ন্ত্রণ নেই। নেয়াও যাচ্ছে না। কারণ এসব পরিবার এসব শিশুশ্রমিকের ওপর নির্ভর করে চলছে। তা ছাড়া পশ্চিমা বিশ্বের মতো আমাদের দেশেও শুরু হয়েছে পারিবারিক ভাঙন। যে পারিবারিক ভাঙনে মুসলিম দেশগুলো মুক্ত ছিল। এসব দেশে ছিল পারিবারিক বন্ধন খুবই মজবুত এবং টেকসই। কিন্তু সাংস্কৃতিক আগ্রাসনসহ কেবল কালচারের মাধ্যমে মুসলিম দেশগুলোর পারিবারিক বন্ধনও এখন ভাঙতে শুরু করেছে। ফলে পারিবারিক অশান্তি থেকে শুরু করে সামাজিক, অর্থনৈতিক ও মানসিক অশান্তিতে ছেয়ে যাচ্ছে আমাদের সমাজব্যবস্থা। পারিবারিক বন্ধন ছিন্ন হওয়ার ফলে ছিন্নমূল পথশিশুদের সংখ্যাও বাড়ছে। বর্তমানে বাংলাদেশে  পথশিশুদের বয়স ৩-১৮ বছর। এদের সংখ্যা ২০ লাখেরও বেশি। এরা রাস্তায় যেখানে সেখানে অবস্থান করার ফলে এসব পথশিশু জড়িয়ে পড়ছে নানা নিষিদ্ধ শ্রমের নিষিদ্ধ সব কাজকর্মে। বিভিন্ন অসামাজিক কাজকর্মে এরা লিপ্ত হচ্ছে বা লিপ্ত হতে বাধ্য করা হচ্ছে। যার ফলে সমাজে শান্তি বিনষ্ট হচ্ছে। আমাদের পথ চলাকে জটিল করে তুলছে। তাই আমাদের শিল্পিত বেঁচে থাকার স্বার্থেই যে যার মত নিজ নিজ অবস্থান থেকে শিশুশ্রম বন্ধের ব্যাপারে পদক্ষেপ নিতে হবে। সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে। দারিদ্র্য দূর করে আর্থ-সামাজিক অবস্থার উন্নতি ঘটাতে হবে। কেননা তোমাদের মতই শিশু-কিশোররা আগামী দিনে দেশ গড়বে। দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাবে। বিশ্বের মানচিত্রে দেশকে করবে সূর্যের মত স্পষ্ট। শিশুরাই জাতির উন্নয়নে রাখবে অপার অবদান। মোট কথা জাতির দামি স¤পদ হলো শিশু। তাই শিশুদের জীবন সুরক্ষিত না হলে, শিক্ষা-দীক্ষায়, বিদ্যা বুদ্ধিতে বিকশিত না হলে তারা ক্ষতিগ্রস্ত হবে। আর তারা অর্থাৎ শিশু-কিশোররা ক্ষতিগ্রস্ত হলে জাতি ক্ষতিগ্রস্ত হবে, দেশ ক্ষতিগ্রস্ত হবে, যা আমাদের জন্য মোটেই কল্যাণকর নয়। তাই আমাদের স্বার্থেই শিশু-কিশোরদের স্বার্থ সংরক্ষণ করতে হবে, শতভাগ অধিকার নিশ্চিত করতে হবে।
প্রিয় সোনামনিরা পরিশেষে তোমাদের জন্য একটি ছড়া লিখে আজকের মতো শেষ করছি।
শিশুশ্রমে শিশুর ক্ষতি অল্প কিন্তু নয়
এর কারণে দেশের ক্ষতি বড় বেশি হয়।
দেশের গঠন করবে যারা তারা নষ্ট হলে
দেশের ভালো করার আশা দূরে যাবে চলে।

SHARE

Leave a Reply