Home কুরআন ও হাদিসের আলো কুরআনের আলো প্রতারণা

প্রতারণা

ঘড়ির কাঁটা বিকেল তিনটা পেরিয়ে পাঁচটা ছুঁই ছুঁই। অপেক্ষার এ সময়টা যেন সাফওয়ানের কাছে আজাবের মতো মনে হচ্ছে। কিন্তু সে বাসায়ও ফিরতে পারছে না, কারণ বিষয়টা খুবই জরুরি এবং স্পর্শকাতর। রিদওয়ান নামে তার এক বন্ধু হাসপাতালে। রক্তের প্রয়োজন। আর রক্ত দেয়ার প্রস্তুতি নিয়েই আরেক বন্ধু সাজিদের জন্য বাসস্ট্যান্ডে অপেক্ষার প্রহর গুনছে সাফওয়ান। কারণ সে হাসপাতাল চিনে না। আর সাজিদই তাকে এ সংবাদটি দিয়ে বলেছে, বিকেল তিনটায় তারা একসাথে যাবে। কিন্তু এখন সাজিদের ফোনও বন্ধ।

সবাই জানে, কারো রক্তের প্রয়োজন হলেই ডাক পড়ে সাফওয়ানের। গ্রুপ মিলে গেলে সে কাউকে ফিরিয়ে দেয় না কখনোই। এ জন্য অনেক দূর যাওয়ার প্রয়োজন হলেও অনাগ্রহ কিংবা বিরক্তি তাকে স্পর্শ করতে পারে না। তার কথা হলো, ‘আমার রক্ত প্রবাহিত হবে অন্যের শিরায়, সচল হবে একটি প্রাণ’Ñ এর চেয়ে মহৎ কাজ আর কী হতে পারে! বন্ধুমহলে এ জন্য সে ‘জীবন্ত ব্লাডব্যাংক’ নামে খ্যাতি পেয়েছে অনেক আগেই।

সাজিদের অপেক্ষায় সাফওয়ান যখন অস্থির, তখনই পেছন থেকে কে যেন তার চোখ দু’টি চেপে ধরল খুব শক্তভাবে। প্রথমে ভয় পেয়ে গেল সে। পরে অনেক কষ্টে হাত সরিয়ে দেখল, এ যে স্বয়ং রিদওয়ান! যাকে রক্ত দেয়ার জন্যই সাফওয়ানের এত অপেক্ষা! একটু পরে হাসতে হাসতে সাজিদও এসে উপস্থিত হলো সেখানে। তারা উভয়েই তখন বলল, দোস্ত! তোকে বোকা বানিয়ে একটু মজা করছিলাম আর কি!

এবার সাফওয়ান একটু নরম সুরেই বলল, তোরা আমাকে বোকা বানিয়েছিস তাতে আমার কোনো দুঃখ নেই। কিন্তু তোরা যে এতটাই আত্মভোলা, সেটাই আমাকে মর্মাহত করেছে। একজন মুমিন কখনোই অন্য মুমিনকে ধোঁকা দিতে পারে না। তার সাথে প্রতারণা করতে পারে না। এসব যারা করে, তারা মুনাফিক ছাড়া আর কিছুই হতে পারে না। দেখো, মুনাফিকদের চরিত্র সম্পর্কে আল্লাহ কী বলেছেন, “তারা প্রতারণা করে আল্লাহ ও ঈমানদারদের সাথে। মূলত তারা নিজেরাই নিজেদেরকে প্রতারিত করছে। অথচ, তারা উপলব্ধি করতে পারছে না।” (সূরা আল বাকারা : ৯)

সাজিদ ও রিদওয়ান বুঝতে পারল, এ কাজটি তারা ঠিক করেনি। অযথাই তারা অনেক কষ্ট দিয়েছে সাফওয়ানকে। এর মাধ্যমে তার রক্তদানের মহৎ গুণটির সাথে উপহাস করা হয়েছে। বুকের মাঝে সাফওয়ানকে চেপে ধরল তারা। এ অনুশোচনার যেন শেষ নেই।
বিলাল হোসাইন নূরী

SHARE

Leave a Reply