Home ধারাবাহিক: দুর্গম পথের যাত্রি দুর্গম পথের যাত্রী -আসাদ বিন হাফিজ

দুর্গম পথের যাত্রী -আসাদ বিন হাফিজ

৯.

মদিনাবাসীদের জানা ছিল, রাসূলে করীমের পয়গাম নিয়ে মুতার উদ্দেশে ইসলামের দূত রওনা হয়ে গেছে। তারা অপেক্ষা করছিল, কবে দূত ফিরে আসবে সে জন্য। দূত কী পয়গাম নিয়ে আসে তার ওপর নির্ভর করবে পরবর্তী পদক্ষেপ। তাদের ধারণার আগেই একদিন তারা দেখতে পেল, দূত নয়, দূতের সাথে যে রক্ষীরা গিয়েছিল ফিরে এসেছে তারা। তাদের চেহারায় কেবল ক্লান্তিই নয়, সেখানে খেলা করছে রাগ, ক্ষোভ ও দুঃখ। মদিনাবাসী ঘিরে ধরলো তাদের। জানতে চাইল কী ঘটেছে। রক্ষীরা ঘটনার বর্ণনা দিলে রাগে, ক্ষোভে ফেটে পড়ল মদিনাবাসী। মুহূর্তে এ খবর ছড়িয়ে গেল মদিনার ঘরে ঘরে। দলে দলে নওমুসলিমরা এসে সমবেত হলো মদিনার উন্মুক্ত প্রান্তরে। প্রতিটি চেহারা আগ্নেয়গিরির লাভার মতো টগবগ করছে। তৎকালীন আরবের প্রচলিত নিয়ম ছিল, হত্যার বদল হত্যা। ইসলামও সীমাহীন রক্তপাত বন্ধ করার জন্য খুনের বদল খুন করাকেই সবচেয়ে যৌক্তিক ও অনিবার্য বিধান বলে মনে করে। কারণ নিজের জীবনের প্রতি যার মায়া আছে সে সহজে অন্য কাউকে হত্যা করতে প্রলুব্ধ হবে না। সে জানে, কাউকে হত্যা করলে অনিবার্যভাবেই তার ওপরও নেমে আসবে মৃত্যুর বিভীষিকা। এই ভয়ই মানুষকে অহেতুক রক্তপাত থেকে নিবৃত্ত করবে। ফলে মুতার সরদার শারজিল বিন উমরুকে হত্যা করা মুসলমানদের ওপর ফরজ হয়ে পড়ল।
যথাসময়েই রাসূলের কানে গেল এ খবর। মদিনার অলিতে গলিতে তখন চলছে বিক্ষোভ মিছিল। গগনবিদারী শ্লোগানে প্রকম্পিত হচ্ছে মদিনার আকাশ-বাতাস। ‘রক্তের বদল রক্ত চাই, উমরু তোমার রক্ষা নাই’, ‘খুন হয়েছে আমার ভাই, খুনিরে তোর রক্ষা নাই’Ñ এ ধরনের শ্লোগান যেন সবার মনে আগুন ধরিয়ে দিলো।
দূতকে হত্যা করা সর্বকালেই ঘৃণ্য অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হয়ে এসেছে। সে যুগেও এটাকে অমার্জনীয় অপরাধ হিসেবেই গণ্য করা হতো। কোনো দূতকে হত্যা করার মানে দাঁড়াতো প্রকাশ্যে যুদ্ধ ঘোষণা করা। দূতকে হত্যা করার পরও প্রতিপক্ষ ময়দানে না এলে ধরে নিতে হবে তারা পরাজয় মেনে নিয়েছে। তাই রাসূল (সা) যখন শুনলেন দূতকে হত্যা করা হয়েছে, তিনি খুব মর্মাহত হলেন। দূতকে হত্যা করার মাধ্যমে মুতার সরদার শারজিল বিন উমরু নবীকে মুতা আক্রমণের যে আমন্ত্রণ জানিয়েছে তার উপযুক্ত জবাব দেয়া নবীজীর দায়িত্ব হয়ে পড়লো। রাসূল (সা) তার কয়েকজন ঘনিষ্ঠ সাহাবীকে সঙ্গে নিয়ে বাইরে এলেন। বাইরের উত্তেজিত জনতাকে হাত ইশারায় থামতে বললেন তিনি। বললেন, হে আমার প্রিয় মুসলমান ভাইয়েরা, হে প্রিয় মদিনাবাসী, আমি দূতকে যুদ্ধসংক্রান্ত বিষয়ে কিছুই বলিনি। আমি দূতকে বলেছিলাম, তাদেরকে সঠিক দ্বীন গ্রহণের জন্য আহবান জানাতে। বলেছিলাম, এতেই তাদের কল্যাণ, এতেই তাদের মঙ্গল। তারা তার দাওয়াত কবুল না করে তাকে ফেরত পাঠিয়ে দিতে পারতো। তারা যদি তা করতো তবে আল্লাহর দ্বীনকে গ্রহণ না করার জন্য আমি এখনি হয়তো তাদের ওপর অভিযান চালাতাম না। কিন্তু তারা এমন ন্যক্কারজনক কাজ করেছে যা ইসলামের রীতিবিরুদ্ধ তো বটেই, এমনকি আরবের প্রচলিত প্রথারও বিপরীত। এ অবস্থায় মুতায় অভিযান করা ছাড়া কোনো বিকল্প নেই। অচিরেই আল্লাহর সৈনিকরা মুতার উদ্দেশে কদম ফেলবে। মুতার সরদার দূতকে হত্যা করে আমাদেরকে মুতা আক্রমণের যে আহবান জানিয়েছে সে আহবান শোনার পর আমরা চুপ করে ঘরে বসে থাকতে পারি না। তিনি উপস্থিত সাহাবীদের কাছে জানতে চান, আপনারা কি যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত?
উপস্থিত জনতা সমস্বরে চিৎকার দিয়ে বলে ওঠে, আমরা লড়াই করবো, আল্লাহ ও আল্লাহর রাসূলের ডাকে আমরা জীবন বিলিয়ে দেবো। কয়েকজন যুবক একটু এগিয়ে রাসূলের আরো কাছাকাছি এসে বলতে থাকে, মুসলমানরা কখনো ভীরু ও কাপুরুষ নয়। আল্লাহর পথে শাহাদাত লাভ আমাদের জন্য গৌরবের বিষয়। আপনি বলুন, কখন আমরা রওনা করবো? কে আমাদের নেতা?
রাসূলে করীমের আদেশে সেদিনই যারা এ অভিযানে যেতে চায় সেইসব মুজাহিদের নাম তালিকাভুক্ত হয়ে গেল। বাহিনীর সংখ্যা দাঁড়াল তিন হাজারে। ইতিহাসখ্যাত মুতা অভিযানের এই ছিল প্রেক্ষাপট।
আল্লাহর নবী এই অভিযানের দায়িত্ব অর্পণ করলেন সেনাপতি জায়েদ বিন হারেসার ওপর। তিনি উপস্থিত মুজাহিদদের সামনে ভাষণ দিতে গিয়ে বললেন, যদি জায়েদ বিন হারেসা শহীদ হয়ে যায় তবে সেনাপতির দায়িত্ব গ্রহণ করবে জাফর বিন আবি তালিব। যদি জাফরও শাহাদাত বরণ করে তবে সেনাপতির দায়িত্ব গ্রহণ করবে আবদুল্লাহ বিন রাওয়াহা। আল্লাহ যদি আবদুল্লাহ বিন রাওয়াহাকেও কবুল করে নেন তখন মুজাহিদরা নিজেরাই নিজেদের নেতা নির্বাচন করে নেবে।
এ ছিল এমন এক বক্তব্য, যার মর্মার্থ সকলেই বুঝতে পারছিল। মুজাহিদরা যেন চোখের সামনে দেখতে পাচ্ছিল সেই মরণপণ লড়াই। আল্লাহর নবীর ঘোষণা তাদের বলছিল, এমন এক ভয়ানক অভিযানে যাচ্ছো তোমরা, তোমাদের চোখের সামনে একে একে শাহাদাত বরণ করবে তোমাদের সেনাপতিগণ। তিনজন সেনাপতির শাহাদাতের পর কী ঘটবে তা কেবল আল্লাহই জানেন। এমন ভয়ঙ্কর ঘোষণা শোনার পর কারো মাঝেই বিন্দুমাত্র ভয়ের উদ্রেক হলো না, কেউ এ অভিযান থেকে নিজেকে সরিয়ে নেয়ার কথাও ভাবলো না। বরং তাদের মাঝে অভিযান দ্রুত করার প্রেরণা সৃষ্টি হলো।
ঐতিহাসিক ইবনে সায়াদ ও মাগাজি লিখেছেন, হুজুর (সা) সেনাপতি জায়েদ বিন হারেসাকে বললেন, যখন তোমরা মুতা গিয়ে পৌঁছবে, তোমাদের প্রথম দায়িত্ব হবে শারজিল বিন উমরু, যে আমাদের দূতকে হত্যা করেছে তাকে হত্যা করা। শারজিল বিন উমরু নিহত হলে তোমরা শান্তি পতাকা উড়িয়ে যুদ্ধ বন্ধ করতে চাইবে। যদি তারা লড়াই বন্ধ করতে সম্মত হয় তবে তাদের এবং মুতার আশপাশের জনগণকে ইসলামের দাওয়াত দেবে। তাদের বলবে, যে আল্লাহ আমাদের এবং তোমাদের সৃষ্টি করেছেন এসো আমরা সবাই মিলে সেই আল্লাহর আনুগত্য মেনে নেই। ইসলাম কী চায়, কিভাবে সমাজে শান্তি স্থাপন করতে চায়, কিভাবে ধনী-গরিব, উঁচু-নিচুর ভেদাভেদ দূর করে সবাইকে ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে আবদ্ধ করতে চায় তাদের খুলে বলবে। তাদের অন্তরে ইসলামের সৌন্দর্য গেঁথে দেয়ার চেষ্টা করবে। যদি তারা ইসলাম গ্রহণ করতে সম্মত হয় তবে তাদের ওপর কোনো রকম হস্তক্ষেপ করবে না। তাদেরকে ভাই হিসেবে গ্রহণ করে তাদের যাতে কল্যাণ হয় সেই ব্যবস্থা করে ফিরে আসবে। এরপর তিনি মুজাহিদদের জন্য দোয়া করলেন এবং তাদের বিদায় দিলেন।
খালিদ বিন ওয়ালিদ এই বাহিনীতে একজন সাধারণ সৈনিক হিসেবে যোগদান করলেন। আরবের মশহুর সেনাপতি হিসেবে খ্যাত খালিদের মনে একবারও এই চিন্তা এলো না, তিনি একজন জাঁদরেল সেনাপতি। সৈনিক নয়, এ অভিযানে তার সেনাপতি না হোক, অন্তত একজন ক্ষুদ্র দলের কমান্ডার হলেও হওয়া উচিত। না, এসব কিছুই ভাবলেন না তিনি। একজন মুজাহিদ হিসেবে অভিযানে শরিক হতে পেরেছেন, এরচেয়ে বড় পাওয়া যে আর কিছু নেই। এতেই তিনি সন্তুষ্ট, পরিতৃপ্ত। খালিদের ছোট্ট এই দৃষ্টান্তও আজ ইতিহাস। নিজের অহংবোধকে নিঃশেষ করে কিভাবে একজন মানুষ মুমিনে পরিণত হয় এ ঘটনা তার অনুপম দৃষ্টান্ত। নিজেকে ছোট করলেই কেউ ছোট হয়ে যায় না। ছোট হয়ে তারা বরং নিজের মহত্ত্বকে আরো প্রকট করে তোলেন। কেবল যারা বড়মাপের মানুষ তারাই পারেন এভাবে নিজেকে অসাধারণ থেকে সাধারণ করতে এবং এর মধ্য দিয়েই তারা সাধারণ থেকে হয়ে যান অসাধারণ। আনুগত্য কাকে বলে এবং কিভাবে আনুগত্য করতে হয় অনাদিকালের মানুষ এই ঘটনা থেকে শিক্ষা নিতে পারবে। মহানবীর সান্নিধ্যে মাত্র তিনটি মাস অতিবাহিত করে এই অসাধারণ গুণ আয়ত্ত করেছিলেন তিনি। একদিন যিনি পৃথিবীর সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বীর বলে গণ্য হবেন, মুতার অভিযানে তিনি অংশ নিলেন একেবারেই একজন সাধারণ সৈনিক হিসেবে।

রোম স¤্রাট হারকিউলিস জর্ডানের এক স্থানে তাঁবু গেড়ে বসেছিলেন। এলাকাটি ছিল গাসসান সম্প্রদায়ের প্রভাবাধীন। ঐতিহাসিকদের মতে, তাঁর সৈন্য সংখ্যা ছিল এক লক্ষ। এই বাহিনী গাসসানদের বন্ধু হিসাবে সেখানে থাকলেও আশপাশের জনগণের জন্য তারা এক বিরাট বোঝা হিসেবে দেখা দিয়েছিল। কারণ তাদের মেহমানদারি করতে গিয়ে পার্শবর্তী গ্রামগুলোর বাসিন্দাদের জীবন দুর্বিষহ হয়ে পড়েছিল। এই বিশাল বাহিনীর খাবার সরবরাহ করতে গিয়ে তাদের খাদ্যভান্ডার নিঃশেষ হয়ে গিয়েছিল। একদিকে রবিশস্যের অপ্রতুলতা, অন্যদিকে তাদের উট, ঘোড়া সবই চলে যাচ্ছিল খ্রিষ্টানদের কব্জায়। সৈন্যরা খেজুর বাগানের খেজুর সাবাড় করছিল। অসহায় গ্রামবাসী তাদের যুবতী মেয়েদের বাধ্য হচ্ছিল সেনাপতিদের ভেট দিতে। যুদ্ধ ছাড়াই যুদ্ধের বীভৎসতা মর্মে মর্মে অনুভব করছিল এলাকার জনসাধারণ।
স¤্রাট হারকিউলিস তার আলিশান তাঁবুতে বসা। শামিয়ানায় রঙবেরঙের ঝালর লাগানো। পাশে মোটা কাপড়ের পর্দা। এ পর্দার কারণে ভেতরে বাইরের গরম বাতাস ঢুকতে পারে না। ভেতরে প্রশস্ত জায়গায় আবলুস কাঠের খাট, বসার জন্য নরম গদি। গাসসান সরদারের কানে পৌঁছলো হারকিউলিসের আগমন সংবাদ। সরদার মূল্যবান উপহার সামগ্রী ও সম্প্রদায়ের সেরা দশ সুন্দরীকে নিয়ে হারকিউলিসের তাঁবুতে পৌঁছলো। হারকিউলিস সরদারকে অভ্যর্থনা জানিয়ে ভেতরে নিয়ে গেল। মুখোমুখি বসলো দুই সেনাপতি। মেয়েদের দু’জন গিয়ে হারকিউলিসের দু’পাশে বসলো। একইভাবে সরদারের দু’পাশেও বসলো দু’জন। কুশল বিনিময়ের পর হারকিউলিস বললো, ‘শুনলাম মদিনার মুহাম্মদ নাকি তোমার কাছে দূত পাঠিয়েছিল, যাতে তুমি তোমার সম্প্রদায়কে নিয়ে তার ধর্ম গ্রহণ করে নাও?’
গাসসানের সরদার বলল, ‘আপনি ঠিকই শুনেছেন, তবে দূত আমার কাছে পৌঁছতেই পারেনি, পথেই সে নিহত হয়। আমার অধীনস্থ মুতার সরদার শারজিল বিন উমরু তাকে মুতা অতিক্রম করতে দেয়নি, সেখানেই তাকে হত্যা করে।’
‘দূতকে হত্যা করার মানে জানো তো? তুমি তো মুহাম্মদকে যুদ্ধের জন্য চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছো।’
‘দূতকে হত্যার মানে না জানার কী আছে। আপনি কি মনে করেন মদিনার মুহাম্মদের শক্তি ও সাহস এতটাই বেড়ে গেছে যে, সে এর প্রতিশোধ নিতে আসবে?’
‘তাদের শক্তি হয়তো কম, কিন্তু সাহস কম এমনটা আমি বলতে পারি না। বরং শক্তির তুলনায় তাদের সাহস বিস্ময়কর রকম বেশি।’ বলল হারকিউলিস।
‘আপনার কথা যে একেবারে অমূলক এমনটি আমি বলতে পারি না। সাহস নয়, বলুন তাদের দুঃসাহস বেশি। আপনি ভাবতে পারেন, কত বড় স্পর্ধা তার? সে আমাকে এবং আমার সম্প্রদায়কে তার ধর্ম গ্রহণ করার জন্য দূত পাঠাতে পারে!’
‘আমার মনে হয় মুসলমানদের ওপর মুহাম্মদের জাদুর প্রভাব আছে। প্রথমে তাদের ব্যাপারে আমিও কোনো গুরুত্ব দেইনি। কিন্তু যখন সংবাদ পেলাম, নগণ্য সংখ্যক ফৌজ নিয়ে তারা বিপুল বাহিনীর ওপর জয়লাভ করে তখন মুসলমানদের ব্যাপারে গুরুত্ব দিতে শুরু করলাম। কোনো একটি বিশেষ যুদ্ধ নয়, বরং এ পর্যন্ত তারা যে কয়টি যুদ্ধ করেছে বলতে পারো সবকটাতেই তারা বিজয়ী হয়েছে। যুদ্ধে তাদের হাতে থাকে মামুলি অস্ত্র এবং সরঞ্জাম। কিন্তু তারা এমনসব কৌশল প্রয়োগ করে যা প্রতিপক্ষ সামাল দিতে পারে না। মুহাম্মদ যে নিজেকে অনেক বড় শক্তিধর মনে করে তার প্রমাণতো তোমার হাতেই আছে। নইলে কি সে তোমাকে তোমার ধর্ম ত্যাগ করার জন্য দূত পাঠাতো?’
‘শুনেছি মুহাম্মদ শৈশবে সবার খুব প্রিয় ছিল। তারা ভাবতেই পারে না তাদের সে প্রিয় মানুষটি তাদের সাথে এমন নিষ্ঠুর আচরণ করতে পারে। এখন পর্যন্ত যারা তার হাতে পরাজিত হয়েছে তারা সবাই তার আপন ছিল। মুহাম্মদের জয়ের এটাই হয়তো কারণ। নইলে আমি মনে করি না, তার হাতে কোনো জাদু আছে। আপন লোকদের বাইরে গিয়ে সে যদি জিততে পারে তবেই বুঝা যাবে তার হাতে কোনো অভিনব কৌশল আছে।’    (চলবে)

SHARE

Leave a Reply