Home খেলার চমক তবুও অনেক সাফল্য জুনিয়র টাইগারদের -হাসান শরীফ

তবুও অনেক সাফল্য জুনিয়র টাইগারদের -হাসান শরীফ

ফাইনালে যাওয়া হলো না জুনিয়র টাইগারদের। অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল থেকেই বিদায় নিতে হয়েছে মিরাজদের। যে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে চেয়েছিল তারা সেমিতে, তাকেই পেয়েছিল কিন্তু তবুও পারল না। তাদেরকে কাঁদিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজ উঠে গেছে ফাইনালে।
হারলেও জুনিয়র টাইগারদের অর্জন কিন্তু কম ছিল না। মুশফিক-সাকিবরা যা করতে পারেননি, তা-ই করে দেখিয়েছেন মিরাজ-শান্তরা। অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের স্বপ্নের ফাইনাল খেলার সুবর্ণ সুযোগ তাদের সামনে।
এই প্রথম বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে খেলল। এর আগে দক্ষিণ আফ্রিকা, নামিবিয়া ও স্কটল্যান্ডকে হারিয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হিসেবে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছিল বাংলাদেশ। ওটাও ছিল রেকর্ড। প্রথমবার তারা কোয়ার্টারে উঠেছিল। কোয়ার্টারে নেপালকে হারিয়ে অপরাজিত হিসেবে সেমিফাইনালে খেলার যোগ্যতা অর্জন করে জুনিয়র টাইগাররা। গ্রুপপর্ব ও সেমিফাইনালে সাফল্যই বাংলাদেশের প্রত্যাশার পারদটা ওপরে তুলে দিয়েছিল। কিন্তু ওয়েস্ট ইন্ডিজের সঙ্গে সেমিফাইনালের ব্যর্থতায় সেই প্রত্যাশা এবার আর পূরণ হলো না।
ফাইনালে ওঠা কি অসম্ভব ছিল? হয়তো ছিল না। কুয়াশার মধ্যেই টস জিতে প্রথমে ব্যাটিং নেয়াটা সঠিক ছিল কি না সে প্রশ্ন তাদের তাড়া করে ফিরবে। বিশ্লেষকদের মতে, নিজেরাই সুযোগটি হাতছাড়া করেছে। হোম সুবিধাকে কাজে লাগাতে পারেনি তারা। এখন পরাজয়ের এই আক্ষেপই তাদের পোড়াচ্ছে, অন্যদেরও পোড়াচ্ছে সমান ভাবে।
তবে হারলেও তারা যে অদম্যভাবে লড়ে যাওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে, তাতেই খুশি সবাই। নিশ্চিত পরাজয়ের মুখেও তারা শেষ বল পর্যন্ত খেলেছে। এটাই তাদেরকে আরো অনেক দূরে নিয়ে যাবে।
গত বছর থেকে টাইগাররা যে দক্ষতা দেখিয়ে আসছিল, জুনিয়র টাইগাররা সেটার ধারাবাহিকতা রেখেছে। তারা জানিয়ে দিয়েছে, বাংলাদেশের পাইপলাইনটা অনেক বড়। আর তাদের পেছনে ফেলা যাবে না।
এই টুর্নামেন্ট আসলে বাংলাদেশের জন্য একটা মাইলফলক হয়ে থাকবে। দেশের মাটিতে এত বড় টুর্নামেন্ট আয়োজনও একটা সাফল্য।
ছোটদের এই আসরে নিজেকে বড় তারকা হিসেবে প্রমাণ করেছেন অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ। এটাও একটা বড় অর্জন।
পুরো টুর্নামেন্টেই অসাধারণ খেলে আসছেন মিরাজ। নিয়মিত রানের দেখা পাচ্ছেন। তবে বিশেষ করে সেমিফাইনালে কঠিন পরিস্থিতিতে তিনি যেভাবে ব্যাট চালান, তা ছিল এককথায় বিস্ময়কর। তার ইনিংসটি অনন্য উচ্চতায় ঠাঁই পেয়েছে। দলীয় ৮৮ রানে চতুর্থ উইকেট হারানোর পর মাঠে নামেন অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ। মাঠে নেমে যেন পুরো দলের দায়িত্ব নিজের ছোট্ট কাঁধে নেন মিরাজ। তার অসাধারণ ও দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশের সংগ্রহ ২২৬। সর্বোচ্চ ৬০ রান আসে মিরাজের ব্যাট থেকেই। সত্যিই তিনি বড় ম্যাচের বড় তারকা মিরাজ। বাংলাদেশ ফাইনালে যাক আর না-ই যাক মিরাজের ইনিংস ক্রিকেটপ্রেমীদের চোখে লেগে থাকবে অনেক দিন।

SHARE

Leave a Reply