Home সাক্ষাৎকার সফলতার শর্ত নিরন্তর প্রচেষ্টা ও অনুশীলন -নাজিব ওয়াদুদ

সফলতার শর্ত নিরন্তর প্রচেষ্টা ও অনুশীলন -নাজিব ওয়াদুদ

নাজিব ওয়াদুদ কথাশিল্পী, ছড়াকার, প্রাবন্ধিক ও অনুবাদক হিসেবেই বেশি পরিচিত। তার উত্থান আশির দশকের শেষে, ছোটগল্পকার ও ছড়াকার হিসেবে, প্রতিষ্ঠা নব্বই দশকজুড়ে। এর পাশাপাশি তিনি শূন্য দশকে উপন্যাস, অনুবাদ ও প্রবন্ধ রচনায় মনোনিবেশ করেন। নাটক লিখেছেন অনেক। তাঁর লেখা ছড়ার বই ‘ফুলকুড়ুনি ধানকুড়ুনি’ ও ‘পদ্মাপাড়ের ছড়া’ (যৌথ সম্পাদিত)। এ ছাড়া ছোটদের জন্য লিখেছেন সায়েন্স ফিকশন ‘ভিন গ্রহের জ্বিন’ এবং কিশোর উপন্যাস ‘স্বর্ণনদীর রাজা’ (অনুবাদ)। গল্পগ্রন্থ- ‘কাক ও কারফিউ’, ‘নষ্ট কাল অথবা হৃদয়ের অসুখ’, ‘কমরেড ও কিরিচ’, ‘পদ্মাবতী কিংবা সুন্দরী মেয়েটির নাক বোঁচা’ ও ‘বরেন্দ্রবাংলার গল্প’; উপন্যাস- ‘দ্বিতীয় হৃদয়’, ‘বিয়ের ফুল’ ও ‘এক যে ছিলো ময়না’; অনুবাদ- বালজাকের উপন্যাস ‘আনাড়ী রসিকজন’, চিনুয়া আচেবের উপন্যাস ‘জননায়ক’, ‘নোবেলবিজয়ী অরহ্যান পামুক’, ‘আধুনিক ফিলিস্তিনী গল্প’, ‘বিশ্বসেরা ছোটগল্প’ অন্যতম। তাঁর বহু লেখা এখনো অগ্রন্থিত হয়ে আছে। একজন প্রতিথযশা সম্পাদক হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে সম্পাদনা করে আসছেন শিল্পসাহিত্যের ছোটকাগজ ‘পরিলেখ’ ও ‘নন্দন’। সাহিত্যকীর্তির স্বীকৃতিস্বরূপ অনেক পুরস্কার পেয়েছেন নাজিব ওয়াদুদ।

ছোটগল্প রচনায় নাজিব ওয়াদুদের কৃতিত্ব প্রশংসনীয়। মৃত্তিকাসংলগ্ন জনমানুষের বৈচিত্র্যময়, অনুভূতিপ্রবণ আর তিক্ত অভিজ্ঞতাসমৃদ্ধ জীবনের কাহিনী বয়ান করেন তিনি, তার মধ্যে জড়িয়ে থাকে তাঁর নিজস্ব ভাষাশৈলী, শিল্পবোধ ও আঙ্গিককৌশল। তিনি তাঁর গল্পের মাধ্যমে আমাদের জন্য নতুনতর জীবনবোধ ও সম্ভাবনা সৃষ্টি করেন। অনুবাদে তাঁর অনন্য বৈশিষ্ট্য হলো, তিনি মূল রচনার ভাব ঠিক রেখে এমনভাবে বাংলায়ন করেন, পড়তে পড়তে পাঠকের মনেই হয় না কোনো ভিনভাষী রচনা পড়ছেন। বিষয়কে আত্মস্থ করে নিজের মতো করে পরিবেশন করেন তিনি।
নাজিব ওয়াদুদ বর্তমানে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ডেপুটি চিফ মেডিক্যাল অফিসার হিসেবে কর্মরত।
বন্ধুরা, ‘মুখোমুখি’র এই সংখ্যায় তোমাদের প্রশ্নের উত্তর দিচ্ছেন প্রিয় লেখক নাজিব ওয়াদুদ।

প্রশ্ন : মেধা বিকাশের জন্য শিক্ষার্থীদের বেশি বেশি কী করা প্রয়োজন?
মো: মাহমুদুল হাসান (সাব্বির)
ঠাকুরগাঁও সরকারি বালক উচ্চবিদ্যালয়
নাজিব ওয়াদুদ : উত্তরটা খুব সহজ, তোমরাও জানো- সেটা হচ্ছে, লেখা এবং পড়া, পড়া এবং লেখা।
প্রশ্ন : আমি ছড়া লেখার চেষ্টা করি। কিন্তু ঠিকমতো ছন্দ মিলাতে পারি না। এখন আমাকে কী করতে হবে?
আফনান মাহমুদ
সেনবাগ, নোয়াখালী
নাজিব ওয়াদুদ : ছন্দ হচ্ছে শেখার জিনিস, সেটা শিখতে হবে। আর ভালো ভালো ছড়া বেশি বেশি পড়তে হবে, বুঝে বুঝে পড়তে হবে, বড় বড় ছড়াকার কিভাবে ছন্দকে ব্যবহার করেছেন সেটা বুঝে নিতে হবে।
প্রশ্ন : আপনি কি মনে করেন বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থা একজন শিক্ষার্থীকে যোগ্যভাবে এবং উপযুক্ত মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার জন্য যথেষ্ট?
মেহেদী হাসান নোবেল
রানীশংকৈল, ঠাকুরগাঁও
নাজিব ওয়াদুদ : বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থা যোগ্য ও ভালো মানুষ গড়ে তোলার ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখতে পারছে না। একদিকে তো বর্তমানে প্রচলিত প্রথাগত শিক্ষার সিলেবাস এবং পদ্ধতি ত্রুটিপূর্ণ, অন্য দিকে এই শিক্ষাব্যবস্থা মানুষকে সৎ, মানবিক ও দেশপ্রেমিক হিসেবে গড়ে না তুলে বরং উল্টোটা করতেই সাহায্য করছে। এই শিক্ষাব্যবস্থার ব্যাপক পরিবর্তন দরকার।
প্রশ্ন : আপনি জীবনে কী হতে চেয়েছেন? আপনার বর্তমান অবস্থানে আপনি কতটুকু সন্তুষ্ট?
শাহাদাত হোসাইন আরিফ
সোনাপুর, নোয়াখালী
নাজিব ওয়াদুদ :  শৈশব ও কৈশোরে কবি-ই হতে চেয়েছিলাম বোধ হয়। তখন নজরুল ইসলাম, ফররুখ আহমদ এবং সুকান্ত ভট্টাচার্য আমাকে খুব প্রভাবিত করেছিলেন। তারপর, যৌবনে, নেতা হতে চেয়েছিলাম। কিন্তু মোটের ওপর সত্যিকারের একজন মানুষ হওয়ার আগ্রহ আমার বরাবরই ছিল। সেটা কতটুকু হতে পেরেছি তা নিয়ে আমার যথেষ্ট সন্দেহ আছে। সে জন্য আমি নিজেকে নিয়ে সন্তুষ্ট হতে পারি না।
প্রশ্ন : আপনার সাফল্যের পেছনে কার অনুপ্রেরণা বেশি?
ঈষিতা খাতুন
ফুলকুঁড়ি ইসলামিক একাডেমি, চাঁপাইনবাবগঞ্জ
নাজিব ওয়াদুদ : প্রথমেই বলা ভালো, আমি সফল কি না সেটাই প্রশ্নসাপেক্ষ ব্যাপার। তারপরও বলব, আদর্শ হিসেবে হজরত মুহাম্মদ (সা) আমার সব সময়কার অনুপ্রেরণা। তারপর আমার আব্বা। এ ছাড়া বিচ্ছিন্নভাবে আরো অনেকেই আছেন এবং ছিলেন যারা আমাকে বিভিন্ন সময় বিভিন্নভাবে অনুপ্রেরণা জুগিয়েছেন।
প্রশ্ন : ছড়া ও কবিতার মাঝে কী পার্থক্য?
মো: মাহমুদুল হাসান
সোনাইমুড়ি, নোয়াখালী
নাজিব ওয়াদুদ :  একটা সফল ছড়া আর একটা সফল কবিতার মধ্যে তেমন একটা পার্থক্য নেই। বিষয়ের দিক থেকে কিছু পার্থক্য আছে, যেমন, ছড়া সাধারণত ‘ছেলেভুলানো’ বিষয়াদি নিয়ে লেখা হয়, এবং সেই ভঙ্গিতে উপস্থাপিত হয়। আর কবিতার বিষয় সাধারণত ‘গুরু-গম্ভীর’ বিষয়, যেগুলো নিয়ে বড়রা চর্চা করেন।
প্রশ্ন : আপনার জন্মস্থান কোথায়? বাংলাদেশের কাব্যের ধারা বর্তমানে কোন দিকে প্রবাহিত হচ্ছে বলে মনে করেন?
আরিব মাহমুদ
পিয়ারাবাগান, চাঁপাইনবাবগঞ্জ
নাজিব ওয়াদুদ :  এক সময়কার কথা ধরলে আমার আর তোমার জন্ম-জেলা একই, মানে রাজশাহী। রাজশাহী মহানগরীর উপকণ্ঠে শ্যামপুর গ্রামে আমার জন্ম। আর কাব্যের ধারার কথা বলছ? এ তো খুব ভারি প্রশ্ন, সংক্ষেপে এর উত্তর দেয়া কঠিন। তবে দু-চার শব্দে বলা যায়- আঙ্গিক, শৈলী, বিষয়, আদর্শ ইত্যাদি বিবেচনায় বাংলাদেশের কবিতা এখন বহু ধারায় বিভক্ত।
প্রশ্ন : আপনার প্রথম গ্রন্থ কত বছর বয়সে প্রকাশিত হয়? একজন নীতিবান কবি হতে হলে কী কী গুণ দরকার?
মুসলিহা তাফহীম
পিয়ারাবাগান, চাঁপাইনবাবগঞ্জ
নাজিব ওয়াদুদ :  আমার প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থ ছোটগল্প। তার নাম ‘কাক ও কারফিউ’, প্রকাশিত হয় ১৯৯৮ সালে। আর আমার জন্ম ২০ জুলাই, ১৯৬১। এবার তুমিই হিসাব করে বলে দাও সবাইকে। তোমার পরের প্রশ্নর উত্তর হলো, মানুষ হিসেবে তোমাকে নীতিবান হতে হবে, আবার কবি হিসেবেও সফল হতে হবে। নীতিবান হওয়ার মূল কথা হলো আল্লাহ ছাড়া আর কাউকে ভয় না করা, আর সফল কবি হওয়ার উপায় হলো কবিতার সকল উপাদান ও চাহিদা আত্মস্থ করে কবিতা লেখা। বলা বাহুল্য, নীতিবান হওয়া বা থাকা আর সফল কবি হওয়া দুটোই কিন্তু নিরন্তর প্রচেষ্টা ও অনুশীলনের ব্যাপার।
প্রশ্ন : আমি একজন ভালো ছাত্র হতে চাই- এ জন্য আমাকে কী করতে হবে?
ছগীর আহম্মেদ
বাঘা, রাজশাহী
নাজিব ওয়াদুদ :  শুধু চাইলেই হবে না, চেষ্টা করতে হবে। ভালো ছাত্র হওয়ার সবচেয়ে উপযুক্ত পথ হচ্ছে নিয়মিত ও মনোযোগ দিয়ে লেখাপড়া করা। আর কোনো বিকল্প পথ নেই।
প্রশ্ন : আপনি তো একজন ছড়াকার, ছড়াকার হওয়ার জন্য কী করতে হবে?
মো: শহিদুল্লাহ
চন্দনাইশ, চট্টগ্রাম
নাজিব ওয়াদুদ :  খুব সোজা। প্রথমত, বড় বড় লেখকের রচনা, বিশেষ করে ছড়া ও কবিতা নিয়মিত পড়তে হবে, ছড়া লেখার নিয়ম-কানুন জানতে হবে। আর লিখতে তো হবেই। আর সম্ভব হলে, অন্য ছড়াকারদের সঙ্গে নিজেদের রচনার ভালো-মন্দ নিয়ে মতবিনিময় ও আলোচনা-পর্যালোচনা করতে হবে।
প্রশ্ন : লেখক হতে হলে প্রাথমিকভাবে কোন বিষয়গুলো আয়ত্ত করতে হবে?
মোহাম্মদ অলিউল্লাহ
আশাশুনি, সাতক্ষীরা
নাজিব ওয়াদুদ :  প্রচুর পড়তে হবে, আর ভাষার ওপর দখল তৈরি করতে হবে। সব ধরনের লেখারই কিছু-না-কিছু সাধারণ নিয়ম-কানুন আছে, সেগুলো ভালোভাবে জানতে হবে।
প্রশ্ন : ক্যারিয়ার ভালো করার ক্ষেত্রে আপনার উপদেশ কী? আপনি কি ছাত্রজীবন থেকেই লেখালেখি করতেন?
তালহা জুবাইর
মিঠাপুকুর, রংপুর
নাজিব ওয়াদুদ :  ক্যারিয়ার ভালো করতে হলে প্রথমত ভালো রেজাল্ট করতে হবে। সে জন্য লেখাপড়ায় নিয়মিত ও অধ্যবসায়ী হতে হবে। আমি ছাত্রজীবন থেকেই লিখি, সেই ১০ বছর বয়স থেকে।
প্রশ্ন : একজন সাহিত্যিক হিসেবে আপনি কি মনে করেন, আমাদের দেশে পশ্চিমা ধাঁচের লেখকদের গল্প-উপন্যাসগুলো শিশু-কিশোরদের নৈতিক উৎকর্ষ সাধনের ক্ষেত্রে ন্যূনতম কোনো ভূমিকা রাখছে?
?
নাজিব ওয়াদুদ :  অধিকাংশ ক্ষেত্রেই রাখছে না। সে জন্য হা-হুতাশ করে কোনো লাভ নেই। তোমাদের, অবশ্য আমাদেরও এগিয়ে আসতে হবে। প্রচুর লেখক তৈরি করতে হবে, প্রচুর ভালো লেখা লিখতে হবে।
প্রশ্ন : আপনি কোনো কঠিন কাজের সম্মুখীন হয়েছেন কি না? কিভাবে তার মোকাবেলা করেছেন?
মনিরুল কাজী
গোয়াল ভাথা, নড়াইল
নাজিব ওয়াদুদ : জীবনে অনেক রকম কঠিন পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়েছি। আল্লাহর ওপর ভরসা করে, ভেঙে না পড়ে, মাথা ঠান্ডা রেখে, কাজ করে গেছি।
প্রশ্ন : আমি ইসলামী সংস্কৃতির একজন শিল্পী হতে চাই, এ জন্য আপনার কিছু পরামর্শ চাই।
তাসনিয়া খানম
ইমাম গাজ্জালী গার্লস স্কুল এন্ড কলেজ, পাবনা
নাজিব ওয়াদুদ :  ইসলাম ও সংস্কৃতিকে ভালো করে বোঝ, বিশ্বাসের জায়গাটাকে সুদৃঢ় করবে, বাকিটুকু তোমার পরিশ্রম ও অধ্যবসায়।
প্রশ্ন : আপনার শখ কী?
মো: তারিকুজ্জামান তারিক
শিশুকলি মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়, শ্রীপুর, হরিণাকুন্ডু, ঝিনাইদহ
নাজিব ওয়াদুদ : দুঃখের বিষয়, আমার নির্দিষ্ট কোনো শখ নেই। তবে হ্যাঁ, বই কেনা এবং পড়া, এটাকে আমার শখ বলা চলে।
প্রশ্ন : প্রযুক্তি কি শিশু-কিশোরদের সাহিত্যবিমুখ করে তুলছে? এর ফলে কি আমাদের সৃষ্টিশীলতা কমে যাচ্ছে?
মেহেদী হাসান, চাঁপাইনবাবগঞ্জ
নাজিব ওয়াদুদ : তোমার আশঙ্কা সাধারণভাবে সত্যি। কিন্তু দেখ, ইউরোপ-আমেরিকা তো প্রযুক্তিতে আমাদের চেয়ে অনেক বেশি অগ্রসর, তাই না? কিন্তু সেখানে একেকটা বই লাখ-লাখ কপি বিক্রি হয়। আসল কথা হলো, আমরা প্রযুক্তির অপ-ব্যবহার করছি।
প্রশ্ন : আমি একজন বড় রাজনীতিবিদ ও বক্তা হতে চাই, এ জন্য আমাকে কী করতে হবে?
মুহাম্মদ আসাদ হোসেন
সুন্দরগঞ্জ, গাইবান্ধা
নাজিব ওয়াদুদ :  এই পরামর্শ দেয়া তো আমার পক্ষে কঠিন। তবে একটা কথা বলতে পারি- সেটা হলো, বড় রাজনীতিবিদ হতে গেলে মানবদরদি ও দেশপ্রেমিক হতে হবে। সমাজ ও দেশকে জানতে হবে, বুঝতে হবে। ভালো বক্তা হওয়ার জন্য প্রচুর পড়তে হবে, শব্দ ও ভাষার ওপর দখল আনতে হবে।
প্রশ্ন : আপনার অনুপ্রেরণা কে?
আফজাল হোসেন হৃদয়
হাসাদা ফাজিল মাদরাসা, জীবন নগর, চুয়াডাঙ্গা
নাজিব ওয়াদুদ : আমার সকল অনুপ্রেরণার উৎস মূলত হজরত মুহাম্মদ (সা)। এ ছাড়া জীবন চলার পথে আরও অনেকেই এসেছেন যারা আমাকে নানাভাবে অনুপ্রাণিত করেছেন।
প্রশ্ন : আপনার জীবনের স্মরণীয় একটি ঘটনা বলুন?
মু. আবু নাঈম, পঞ্চগড়
নাজিব ওয়াদুদ : স্মরণীয় ঘটনা তো অনেকই আছে, তো বলি একটা। আমি তখন রাজশাহী কলেজে প্রথম বর্ষে পড়ি, সেটা ১৯৭৭ সালের কথা, বাড়ি থেকে কলেজে যাতায়াত করতাম। সেকালে যাতায়াতব্যবস্থা এতটা সহজ ছিল না। সে জন্য বন্ধু-বান্ধবদের পাল্লায় পড়ে মাঝে-মাঝে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসে উঠে পড়তাম, বিশেষ করে বাড়ি ফেরার সময়। একদিন সে রকমই বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসে উঠেছি। বসেছি বাসের মাঝ বরাবর। হলো কি, বাসের কন্ডাক্টর পেছন দিক থেকে আইডি কার্ড চেক করতে শুরু করল। যে আইডি কার্ড দেখাতে পারছে না তাকে বাস থেকে নামিয়ে দিচ্ছে। আমি তো শঙ্কায়-লজ্জায় কাঠ হয়ে গেলাম। এত বড় অপমানকর অবস্থার মধ্যে পড়তে পারি এ কল্পনাই কখনো করিনি। একেবারে আল্লাহর দরবারে পড়ে গেলাম। মনে মনে তাঁর কাছে নিজেকে সোপর্দ করে দিয়ে বললাম, আল্লাহ, তুমি আমাকে এ অপমানের হাত থেকে বাঁচাও, আমি আর কোনোদিন এ কাজ করব না। কন্ডাক্টর একে একে কার্ড দেখতে দেখতে এগিয়ে আসছে, আর আমি আকুল প্রাণে দোয়া করে চলেছি। কন্ডাক্টর যখন আমার পেছনের সিটে কার্ড চেক করতে এগিয়ে এলো, তখন আর কোনো আশা নেই ভেবে আমার অজ্ঞান হওয়ার মতো অবস্থা। এতো বড় অপমান আমি কী করে সইব? আল্লাহর কাছে আমি শেষবারের মতো নিজেকে সম্পূর্ণ সঁপে দিলাম। পেছনের সিটের একজনের কার্ড দেখতে দেখতে হঠাৎ কী মনে হলো কন্ডাক্টরের, সে চেঁচিয়ে উঠল, চলেন উস্তাদ, গাড়ি ছাড়েন। এই বলে, কোনো দিকে না তাকিয়ে, সে সামনে ড্রাইভারের দিকে এগিয়ে গেল। বাসটা চলতে শুরু করল। আল্লাহর এই করুণার কথা আমি কখনো ভুলতে পারি না।
প্রশ্ন : আপনি একাধারে কথাশিল্পী, ছড়াকার, অনুবাদক, প্রাবন্ধিকসহ অনেক গুণের অধিকারী, কোন পরিচয়টা আপনার ভালো লাগে?
ইয়ামিন হোসেন
কুষ্টিয়া জেলা স্কুল
নাজিব ওয়াদুদ :  এভাবে কখনও ভাবিনি। তবে আমার কথাশিল্পী পরিচয়টাই বোধ হয় মুখ্য। সবচেয়ে বড় কথা আমি একজন ভালো মানুষ হিসেবে পরিচিত হতে চেয়েছি।
প্রশ্ন : আপনার প্রিয় মানুষ কে এবং কেন?
মো: রবিউল ইসলাম
চরপাড়া, শালডাঙ্গা, পঞ্চগড়
নাজিব ওয়াদুদ : আমার প্রিয় মানুষ হজরত মুহাম্মদ (সা)। তার কারণ, তিনি সর্বশ্রেষ্ঠ মানুষ, জীবনের সকল সমস্যার সমাধানের উৎস। দুঃখে-সুখে সকল অবস্থায় সব সময়ই তিনি প্রেরণার উৎস।
প্রশ্ন : আমার খুব ইচ্ছা একজন কবি হবো। এর জন্য এখন থেকে কী করা উচিত?
মো: আকবর হোসেন
হাজির হাট উপকূল কলেজ, কমলনগর, লক্ষ্মীপুর
নাজিব ওয়াদুদ : এর সহজ উত্তর হলো, কবিতা লিখতে হবে। সে জন্য বড় বড় কবির কবিতা পড়তে হবে, কবিতা লেখার নিয়ম-কানুন জানতে হবে। আর নিজেকেও লিখতে হবে, নিজের লেখা বারবার সংশোধন করতে হবে।
প্রশ্ন : শিশু-কিশোরদের মধ্যে সামাজিক মূল্যবোধ বাড়াতে কিশোরকণ্ঠ কতটুকু ভূমিকা রাখছে বলে আপনার মনে হয়?
এস. এ. মুরাদ সরকার
রানীগাঁও, চুনারুঘাট, হবিগঞ্জ
নাজিব ওয়াদুদ : ভালো ভূমিকা রাখছে বলেই আমার মনে হয়। সৎ, রুচিশীল ও মানবিক মূল্যবোধসম্পন্ন মানুষ গড়ার কাজে কিশোরকণ্ঠের প্রয়াস প্রশংসার দাবি রাখে।
প্রশ্ন : বাংলাদেশের বর্তমান তরুণ প্রজন্মের প্রতি আপনার পরামর্শ কী?
মো: শাহজালাল ইবনে জিহাদী
তেঁতুলিয়া, পঞ্চগড়
নাজিব ওয়াদুদ : একটাই পরামর্শ- লেখাপড়া করো ভালোভাবে, জ্ঞান অর্জন করো, আর নিজেকে সৎ ও যোগ্য মানুষ হিসেবে গড়ে তোল। বন্ধু ও সহপাঠীদেরও এ ব্যাপারে উৎসাহিত করতে হবে।
প্রশ্ন : আপনার শিক্ষাজীবন সম্পর্কে কিছু বলবেন কি?
এস এম শাহীন
ফুলবাড়ী, নহাটা, মাগুরা
নাজিব ওয়াদুদ : আমার শিক্ষার হাতেখড়ি আমার আব্বার কাছে। গ্রামের প্রাইমারি স্কুলে ভর্তি হয়েছি ক্লাস টুতে।
তারপর গ্রামের অদূরে মাসকাটাদীঘি হাইস্কুল থেকে মাধ্যমিক, রাজশাহী সরকারি কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক এবং রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ থেকে এমবিবিএস পাস করেছি। রেজাল্ট বরাবরই ভালো ছিল। বৃত্তি পেয়েছি, বোর্ডে স্ট্যান্ড করেছি।

SHARE

Leave a Reply