Home সায়েন্স ফিকশন পৃথিবীর বিপর্যয় -ইমরান হোসাইন

পৃথিবীর বিপর্যয় -ইমরান হোসাইন

ডক্টর আরিয়ের কথা শোনে পিলে চমকে ওঠে আদনান সাইয়েফের। এ কি হতে পারে! সূর্য না থাকলে এ পৃথিবী থেকে প্রাণীর অস্তিত্ব বিলীন হয়ে যাবে। এমনকি কোনো মানুষও জীবন্ত থাকবে না, থাকবে না গাছপালা। তার মানেতো এই পৃথিবীটাই ধ্বংস হয়ে যাবে। কথাগুলো ভাবতে ভাবতে শিউরে ওঠে আদনান সাইয়েফ। ড. আরিয়েহ তো তাহলে ভয়ঙ্কর এক দুঃসংবাদ দিলো। এ সংবাদ এতটাই ভয়ঙ্কর যে ভাবতেই ভয় লাগে। কিন্তু এ সংবাদের সত্যতা কতটা এটা নিয়ে আদনান বেশ চিন্তিত। তাই সে ড. আরিয়েহকে জানিয়ে দিয়েছে উনার রিসার্চের কপি মেইল করতে। আদনান যতক্ষণ না নিজে এর সত্যতার প্রমাণ পাচ্ছে ততক্ষণ সে এই সংবাদ বিশ্বাস করতে চায় না।
ল্যাপটপের ভিপ টুনে আওয়াজ আদনানের ভাবনায় ছেদ ফেলে। ড. এর মেইল চলে এসেছে। পাগলের মতো রিসার্চের কপি পরীক্ষা করতে থাকেন তিনি। তার কপালে বিন্দু বিন্দু ঘাম জমতে শুরু করেছে। মুখে ভর করছে ভয়ঙ্কর বিষাদের কালো ছায়া। আদনানের যেন নিজেকেই নিজের বিশ্বাস হচ্ছে না। ড. আরিয়েহ এর রিসার্চের সত্যতায় সামান্যতমও ভুল কিছু পায়নি সে। তাহলে কি সত্যিই পৃথিবী ধ্বংস হতে যাচ্ছে! আর ভাবতে পারছে না সে। রুম থেকে বের হয়ে বেলকনিতে দাঁড়িয়ে আদনান উপভোগ করতে থাকে এই পৃথিবীর সৌন্দর্য। আর কিছু দিন পরই কিনা যে সৌন্দর্য বিলীন হতে চলেছে।
নিউ ইয়র্কভিত্তিক প্রতিষ্ঠান নাসা (NASA)-এর সিনিয়র বিজ্ঞানীদের একজন আদনান। এই প্রথম বাংলাদেশি কোনো মুসলিম এই প্রতিষ্ঠানে নিজেকে এতটা সুদৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠা করতে পেরেছে। ইসরাইলি বিজ্ঞানী ড. আরিয়েহ আদনানের সহকর্মী। সূর্যের ওপর প্রায় সাত বছর গবেষণার পর আজ এই ভয়ঙ্কর তথ্য আদনানের কাছে প্রকাশ করেন তিনি। আদনান গভীর ভাবনায় নিমজ্জিত। পৃথিবীকে এ ধ্বংসের হাত থেকে কি বাঁচানোর কোনো উপায় রয়েছে? আদনানের তখন মনে পড়ে যায় তার দাদুর একটি কথা। তিনি বলেছিলেন, আমাদের ধর্মগ্রন্থে রয়েছে যে, পৃথিবী একদিন ধ্বংস হয়ে যাবে। যখন কিনা মানুষ তার সৃষ্টিকর্তাকে ভুলে যাবে। মানুষের মাঝে ছড়িয়ে পড়বে বেহায়াপনা, নির্লজ্জতা। দাদুর সে কথাগুলো আজ কী অদ্ভুতভাবে মিলে যাচ্ছে। পৃথিবী একদিকে প্রযুক্তির উৎকর্ষতার মধ্য দিয়ে ভুলে যাচ্ছে সৃষ্টিকর্তাকে, আর চারদিকে বেড়ে চলছে নগ্নতা, বেহায়াপনা। তাহলে কি সত্যিই এই পৃথিবী ধ্বংস হতে চলেছে!
নাসার (NASA) ১২৪ জন বিজ্ঞানীসহ পৃথিবীর খ্যাতনামা ৪৭৬ জন বিজ্ঞানী নাসার (NASA) সদর দফতরে এক জরুরি বৈঠকে মিলিত হন। ড. আরিয়েহ এর আলোচনা চলছে। সবার চোখে-মুখে বিস্ময়, সেই সাথে উদ্বেগ। তিনি বলে চলেছেন, আজ আমাদের পৃথিবী একটা চূড়ান্ত চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হতে চলছে। আমার গবেষণার ফলাফল এই বলছে যে, এই পৃথিবী আর মাত্র ১৭৬ ঘণ্টা টিকে থাকবে। তারপর সূর্য বিলীন হয়ে যাবে, পৃথিবী হয়ে যাবে প্রাণহীন। আর আপনারা এটা নিশ্চয়ই লক্ষ্য করেছেন, গত কিছুদিন ধরে সূর্যের কার্যক্ষমতা কমে এসেছে। আর কিছু ঘন্টা পরই সূর্য একদম অকার্যকর হয়ে যাবে। তখন এই পৃথিবীকে বাঁচানোর মত আর কেউ থাকবে না।
ড. আরিয়েহ এর কথা শুনে সকল বিজ্ঞানীর চোখ-মুখ একদম শুকিয়ে গেল। তাদের মুখে এখন ভয়ার্ত ভাব। পুরো হল রুমজুড়ে পিনপতন নীরবতা। স্টেজে উঠলেন আদনান সাইয়েফ। তার মুখে আর সবার মতো এখন আর নেই ভয়ার্ত ভাব। বলতে শুরু করলেন তিনি, প্রিয় বিজ্ঞানী ভাইয়েরা, আজ এখানে কোনো আনন্দ উৎসব কিংবা গবেষণা উন্মোচনের জন্য নয় বরং নিজেদের অস্তিত্বের জন্য একত্র হয়েছি। ড. আরিয়েহ-এর সাথে আমিও একমত যে আর কিছু সময় পরই পৃথিবী ধ্বংস হতে চলেছে। আমি অনেক চেষ্টা করে দেখেছি, কিন্তু পৃথিবীকে এই বিপর্যয়ের হাত থেকে বাঁচানোর কোনো উপায় পাওয়া যায়নি। পাওয়ার কথাও নয়। কারণ আমরা যতই অস্বীকার করি না কেন, এই পৃথিবী একজন স্রষ্টা সৃষ্টি করেছেন তাতে বিন্দুমাত্র সন্দেহ নেই। মুসলিমদের ধর্মগ্রন্থে বলা হয়েছে যে, মানুষ যখন তার সৃষ্টিকর্তাকে ভুলে যাবে, পাপাচারে ছেয়ে যাবে মানুষের জীবন, তখন সৃষ্টিকর্তা এই পৃথিবী ধ্বংস করে দেবেন। ধ্বংস হয়ে যাবে চাঁদ, সূর্য সব কিছু। এ বিপর্যয় অনিবার্য। আমরা কেউ এই পৃথিবীকে বাঁচাতে পারব না। আদনান সাইয়েফ তার কথা শেষ করতে পারলেন না। একটা মারণাস্ত্র আঘাত হানে তাকে।
নাসার (NASA) প্রধান বিজ্ঞানী ড. ডিউকের রিভলবার থেকে গুলিটা আঘাত হানে আদনানকে। স্টেজেই লুটিয়ে পড়েন তরুণ মুসলিম বিজ্ঞানী আদনান সাইয়েফ। স্টেজে ওঠেন ড. ডিউক। বলতে শুরু করেন তিনি, এই অপদার্থটা অযথা আপনাদের ভয় দেখাচ্ছিল। সৃষ্টিকর্তা বলতে কিছু নেই। পৃথিবীকে আমরা নিয়ন্ত্রণ করেছি এবং করব। এ পৃথিবী ধ্বংস হবে না। কখনো হওয়ার নয়। ডিউকের কথা শেষ হয়নি। প্রচন্ড কম্পনে কেঁপে ওঠে পুরো পৃথিবী। ধূলিকণার মতো উড়তে থাকে সব। খুব একটা সময় লাগেনি। কোটি বছরের হাজার কোটি মানুষের পৃথিবী অস্তিত্বহীন হয়ে যায়। এই পৃথিবীকে সৃষ্টিকর্তা কর্তৃক সৃষ্ট বিপর্যয়ের হাত থেকে কেউ বাঁচাতে পারেনি। পারার কথাও ছিল না।

SHARE

Leave a Reply