Home ফিচার মে ফ্লাই পৃথিবীর সবচেয়ে ক্ষণজীবী প্রাণী -মৃত্যুঞ্জয় রায়

মে ফ্লাই পৃথিবীর সবচেয়ে ক্ষণজীবী প্রাণী -মৃত্যুঞ্জয় রায়

প্রাণীরা কত দিন বাঁচে?
কোনো কোনো প্রাণীর আয়ু তোমার-আমার চেয়ে তিন গুণ। সবচেয়ে বেশিদিন বাঁচে কচ্ছপ। কিন্তু কোন প্রাণী সবচেয়ে কম সময় বাঁচে, তা কি জানো?
মে ফ্লাই নামে একটি পোকা সবচেয়ে কম দিন বাঁচে। ওদের আয়ু মাত্র ২৪ ঘন্টা বা ১ দিন। এই একদিনের মধ্যেই আবার ওরা ওদের বংশ রেখে যায়। খুব সহজেই তুমি এই পোকার দেখা পেতে পারো।
পানিভরা ধানক্ষেতে আমি যখন ধানের পোকামাকড় নিয়ে কাজ করি, তখন একটা চালুন দিয়ে ধানক্ষেতের তলার সরকাদা তুললে অনেক সময় মে ফ্লাইয়ের বাচ্চাদের দেখতে পাই। কিন্তু না চিনলে তোমরা বুঝতেই পারবে না যে ওটা মে ফ্লাইয়ের বাচ্চা।
কেননা, বাচ্চাদের চেহারা আর বড়দের চেহারা কখনো এক নয়।
বাচ্চাদের কোনো পাখা থাকে না, ব্যাঙাচির মতো ওরা পানিতে থাকে, পানির তলার কাদামাটির মধ্যে থাকে।
বাচ্চাদের সরু সুতোর মতো ২-৩টি লেজ থাকে। আবার মাছের বা ব্যাঙাচির মতো ফুলকাও থাকে যা দিয়ে ওরা শ্বাস নেয়।
মে ফ্লাইয়ের বাচ্চাদের বলে নায়াড। বয়স্ক মে ফ্লাইয়ের আয়ু একদিন হলে কি হবে, ওর বাচ্চা কিন্তু পানির মধ্যে প্রায় এক বছর বাঁচে। পানির মধ্যে বাচ্চারা বিভিন্ন শেওলা ও ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র উদ্ভিদ খেয়ে বাঁচে। মরা গাছ ও মরা প্রাণীও ওদের খাদ্য।
পরিষ্কার পানিতে বাচ্চারা বাস করে।
বাচ্চারা খুব ভালোভাবে সাঁতরাতে পারে, কিন্তু মোটেই উড়তে পারে না। পূর্ণাঙ্গ মে ফ্লাই মশার চেয়ে একটু বড়ো, পাখা দেখতে ড্রাগন ফড়িংয়ের পাখার মতো জালবিশিষ্ট ও স্বচ্ছ। কোথাও বসলে পাখাজোড়া উপরের দিকে ভাঁজ করে রাখে।
পেটের পেছনে এ পোকার একজোড়া সরু সুতোর মতো লেজ থাকে।
বাচ্চা অবস্থায় মে ফ্লাই ২০-৩০ বার খোলস বদলায়। রাতে আলো জ্বালালে সে আলোতে ওদের আসতে দেখা যায়। মজার ব্যাপার হলো, পূর্ণাঙ্গ মে ফ্লাই তার জীবদ্দশায় কিছুই খায় না।
মে ফ্লাই অনেক পুরনো পোকা। ডাইনোসরদের সে সিনিয়র। পৃথিবীতে ডাইনোসরদের আবির্ভাবের আগে থেকেই মে ফ্লাইরা এ পৃথিবীতে ছিল। প্রায় ৩০০ মিলিয়ন বছর আগেও ওদের পূর্বপুরুষদের অস্তিত্ব ছিল। পৃথিবীতে মে ফ্লাইদের কোনো কাজ হয়তো নেই, কিন্তু ওদের বাচ্চাদের খেয়ে অনেক প্রাণী বেঁচে থাকে।
কোনো জলাশয়ের পানি দূষিত কিনা তা মে ফ্লাইদের উপস্থিতি দেখে বুঝা যায়।
কোনো পানিতে ওদের দেখা না গেলে বুঝতে হবে সে পানি ভালো না, দূষিত বা অপরিষ্কার। অপরিষ্কার পানিতে কখনো মে ফ্লাইয়ের বাচ্চারা থাকে না।
রাশিয়ায় প্রতি বছর মে ফ্লাইরা এক অদ্ভুত কান্ড করে।
সে দেশের প্রিমরি প্রদেশের একটি হ্রদে বছরের একটি নির্দিষ্ট দিনে কোটি কোটি মে ফ্লাইয়ের আবির্ভাব ঘটে।
সে দিনে তারা মিলিত হয় ও সে দিনেই সবাই মারা যায়। পৃথিবীর অনেক দেশেই মে ফ্লাই নিয়ে নানা রকম বিশ্বাস প্রচলিত আছে।
আমেরিকা ও জাপানের অনেক লোক মে ফ্লাইকে শক্তি, শান্তি, সৌহার্দ্য, পবিত্রতা, সৌভাগ্য, আনন্দ ও স্বচ্ছতার প্রতীক হিসেবে মনে করে।

SHARE

Leave a Reply