Home ভ্রমণ শীত পর্যটকদের বরণ করতে প্রস্তুত প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের অপরূপ লীলাভূমি মৌলভীবাজার ...

শীত পর্যটকদের বরণ করতে প্রস্তুত প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের অপরূপ লীলাভূমি মৌলভীবাজার -আবদুল হাই ইদ্রিছী

আসি আসি করে আরেকটা শীত চলেই এলো। কিছুদিন ধরেই ভোর রাতে গায়ে একটা চাদর বা কাঁথা না নিলে একদম চলছেই না। সিলিং ফ্যানটার গতিও কমাতে হচ্ছে প্রতিদিন একটু একটু করে। আর ক’দিন পর ফ্যান হয়তো আর চালানোই যাবে না। বাংলাদেশে শীত এক পা দিয়ে দিয়েছে, এবার সবার অপেক্ষা তার আরেক পায়ের জন্য। শীত আমরা সবাই ভালোবাসি। আমাদের দেশে শীতকাল অতিথির মতো। অল্প কয়েকটা দিনের জন্যই সোয়েটার পরা, লেপের তলায় যাওয়া আর চুলায় পানি গরম করে হাতমুখ ধোয়া। এরপর সারা বছর তো ঘামতেই থাকা। ১০-১৫ দিন আগে থেকেই বাতাসে শীতের ঘ্রাণ পাওয়া যাচ্ছিল। শীতকে পাকাপোক্ত রূপ দেয়ার জন্য পিঠা বিক্রেতারা রাস্তায় শক্ত ঘাঁটি গড়ে তোলা শুরু করলো। এদিকে টঙদোকানেও চায়ের বেচা-বিক্রি বেড়েছে। শীতবিলাসীরা ভ্রমণের পরিকল্পনা শুরু করে দিয়েছে কিন্তু। আরেকটু শীত পড়লেই শুরু হবে রাঙ্গামাটি, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি কিংবা সিলেটের উদ্দেশে বাস বা ট্রেনে চড়ে বসবে।
মানবমন সর্বদা মুক্তি পিয়াসী, চিরচঞ্চল। একটু অবকাশ পেলেই মানুষ ছুটে যায় দিগদিগন্তে সৌন্দর্যের আকর্ষণে। জন্মগতভাবেই মানুষ কৌতূহলী। তার সে কৌতূহল নতুন নতুন বিষয়ের প্রতি। প্রকৃতি ও মানুষের সৃষ্ট সৌন্দর্যের নানা নিদর্শন সে মানবীয় সত্তা দিয়ে অনুভব ও উপলব্ধি করতে চায়। বন্ধুরা এই শীতে তোমাদেরকে পরিচয় করিয়ে দেই এক আকর্ষণীয় পর্যটন নগরীর সাথে। যেখানে দীর্ঘ পথজুড়ে সবুজ গালিচা বিছিয়ে আছে সারি সারি চা-বাগান। চা কন্যারা নিপুণ হাতে দু’টি পাতা আর একটি কুঁড়ি সংগ্রহ করে ঝুলিতে ভরছেন। এরই মাঝে ঠায় দাঁড়িয়ে আছে ছায়াবৃক্ষ। তাতে হয়তো শিস দিচ্ছে নানা রূপরঙের সুরেলা পাখি। পিচঢালা পথে চলতে চলতে স্বর্গীয় অনুভূতি তোমাদেরকে ছুঁয়ে যাবে। এমনই এক অপার মায়াবী সৌন্দর্যের লীলাভূমির নাম মৌলভীবাজার।
বর্ষায় অথৈ জল, শীতে পাখির উল্লাস, বছরজুড়ে উদ্ভিদ-প্রাণীবৈচিত্র্য নিয়ে দূরের মানুষকে কাছে ডাকে এ জেলা। একদিকে বিশ্বের বৃহত্তর হাওর হাকালুকি। সাথে দেশের অন্যতম বৃহত্তর হাওর কাউয়াদীঘি আর বাইক্কাবিল খ্যাত হাইল হাওর। যেটি হাজারো পাখির কলতান, মাছ ও জলজ উদ্ভিদের আধার। আবার কোথাও গহিন অরণ্য; পাহাড়, নদী, সমতল। মিশ্র চিরহরিত বন লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান কিংবা গগন টিলা। মাধবকুন্ড কিংবা হামহাম জলপ্রপাত। কোথাও লেক কিংবা পাহাড়ি ঝরনা। পাখিবাড়িসহ নয়নাভিরাম প্রকৃতি। যেন পরতে পরতে সাজানো প্রকৃতির রূপকন্যা; উদ্ভিদ জীববৈচিত্র্যের সম্মিলন। এক মার্কিন ফটোগ্রাফার প্রকৃতিকন্যা সম্পর্কে বলেন, মৌলভীবাজার হলো দক্ষিণ এশিয়ার এমন একটি জেলা যেটি জীববৈচিত্র্য আর প্রকৃতির অপূর্ব সমন্বয়, যা দ্বিতীয়টি আর নেই। ময়না, শ্যামা, ধনেশ, ঘুঘু, বনমোরগ, হরিণ, বামন মাছরাঙা, প্রজাপতি, সবকিছুই রয়েছে এর প্রকৃতিতে।
প্রকৃতিঘেরা এ অঞ্চলটি পর্যটকদের মোহাবিষ্ট করে রাখে। রূপময় প্রকৃতি; সারিসারি চা-বাগান, উঁচু-নিচু পাহাড়টিলা, আকাশ-পাহাড়ের মিতালি, মেঘেদের ভেসে বেড়ানো, হাওর-বিলে পাখির কলতান, জলপ্রপাতের ছলছল ধ্বনি আর জীববৈচিত্র্যের সমাহার এক মায়াবী সৌন্দর্যের খনি।
আদিবাসী খাসিয়া, মণিপুরী সম্প্রদায়ের বসবাস এ চা-কন্যার দেশে। তাদের লাস্যময় নৃত্য আর সাংস্কৃতিক ধারা, বিয়ে, পূজাপার্বণ প্রকৃতিকন্যাকে করে তুলেছে আরো মোহনীয় রূপে। খাসিয়া পানজুম, মণিপুরী কৃষি একে আরো সমৃদ্ধ করেছে। এই জেলায় চা-কন্যা হাঁটে প্রকৃতিকন্যার হাত ধরে। আবার প্রকৃতিকন্যা পথ চলে চা-কন্যার ছায়া মাড়িয়ে। সবুজে ঘেরা পুরো জেলাই যেন পর্যটন স্পট।

লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান
দেশের ১০টি জাতীয় উদ্যানের মধ্যে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের অপার লীলাভূমি মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ ও শ্রীমঙ্গল উপজেলার মধ্যবর্তী স্থান লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান সংরক্ষিত বনাঞ্চলের মাঝে সবচেয়ে দর্শনীয়, নান্দনিক ও আকর্ষণীয়। পশুপাখি, বন্য প্রাণীর নিরাপদ আবাসস্থল। এ উদ্যানে অপলক দৃষ্টিতে চেয়ে আছে সবুজ বৃক্ষরাজি। বিশ্বের বিলুপ্তপ্রায় জীব উলুকসহ কয়েকটি জন্তু ও বিলুপ্তপ্রায় কয়েকটি মূল্যবান গাছগাছালির শেষ নিরাপদ আবাসস্থল হলো লাউয়াছড়া। এই উদ্যান ভ্রমণপিপাসুদের একটি আকর্ষণীয় স্থান। ১৯২৫ সালে ১২৫০ হেক্টর জায়গাজুড়ে তৈরি লাউয়াছড়া উদ্যানকে ১৯৯৬ সালে ঘোষণা করা হয় জাতীয় উদ্যান হিসেবে। এ জাতীয় উদ্যানে রয়েছে ৪৬০ প্রজাতির প্রাণবৈচিত্র্য। এর ভেতর ১৬৭ প্রজাতির উদ্ভিদ, ৪ প্রজাতির উভয়চর প্রাণী, ৬ প্রজাতির সরীসৃপ, ২৪৬ প্রজাতির পাখি, ২০ প্রজাতির অর্কিড, ২০ প্রজাতির স্তন্যপ্রায়ী প্রাণী এবং ১৭ প্রজাতির পোকা-মাকড় রয়েছে। আগর বাগান, বিরল প্রজাতির গাছ, নানা প্রজাতির পাখির ডাক, ছড়া, বনফুল, অর্কিড, চশমাবানর, বিশ্বের বিলুপ্তপ্রায় দুর্লভ উলুক এগুলো এই বনের বিশেষ আকর্ষণ। এ বনের বিচিত্র পশু-পাখি ও পোকা-মাকড়ের অদ্ভুত ঝিঁঝিঁ শব্দ, বানরের ভেংচি, ভালুকের গাছে গাছে ছোটাছুটির দৃশ্য দেখতে খুবই ভালো লাগে।

চা বাগান
চায়ের জন্য বিখ্যাত মৌলভীবাজার জেলা। পাতা আর কুঁড়ির এই দেশ পাহাড় আর চা বাগানে ঘেরা আর সব সময়ই ভ্রমণপিপাসুদের জন্য এক আদর্শ স্থান। সবুজে মোড়ানো এ জেলার রয়েছে বিশ্বের সর্ববৃহৎ চা বাগান। রয়েছে আনারস ও রাবার বাগান। চায়ের রাজধানী খ্যাত এ জেলার শ্রীমঙ্গলের অপার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য আর পশুপাখির বিচরণ নিমিষেই মুগ্ধ করে দেয় চোখ আর মনকে। শ্রীমঙ্গলের উত্তর-পশ্চিম পাশে কিছু অংশ হাইল হাওর ছাড়া পুরোটা উপজেলাই চা বাগান দ্বারা আবৃত। তুমি যখন মাইলের পর মাইল চা বাগানের ভেতর দিয়ে যাবে, তখন তোমার মনে হবে বিশ্বের সকল সৌন্দর্যরাাশি যেন তোমার সম্মুখে।

মাধবকুন্ড জলপ্রপাত
দেশের বৃহত্তম জলপ্রপাত মাধবকুন্ড। এ জেলার বড়লেখা উপজেলার কাঁঠালতলী বাজার থেকে ৪ কিলোমিটার পূর্ব দিকে এগোলেই কানে আসবে ক্রমাগত জল গড়ানোর শব্দ। সেই সঙ্গে থাকবে সবুজ চা পাতার তাজা গন্ধ। প্রায় ২০০ ফুট পাথারিয়া পাহাড়ের ওপর থেকে ছোট-বড় পাথরের বুক চিরে আছড়ে পড়া জলরাশির ঝরনাধারার দৃশ্যে মন নাচে আনন্দ আবেগে। পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে দেশ-বিদেশে পরিচিত এই স্থানটিতে বর্তমানে বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশনের রেস্ট হাউজ ও রেস্টুরেন্ট নির্মাণ করা হয়েছে। ফলে বেড়েছে পর্যটন সম্ভাবনা। এ ছাড়া সরকারি উদ্যোগে পুরো এলাকাটিকে ঘিরে তৈরি করা হচ্ছে ‘মাধবকুন্ড ইকোপার্ক’। শ্যামল সবুজ বনরাজিবেষ্টিত মাধবকুন্ড ইকোপার্ক, নয়নাভিরাম দৃশ্য, নান্দনিক পিকনিক স্পট, সুবিশাল পর্বতগিরি, পাহাড়ি ঝরনার প্রবাহিত জলরাশির কল কল শব্দÑ সব মিলিয়ে মাধবকুন্ড বেড়াতে এলে পাওয়া যাবে বাড়তি মাত্রা।
প্রতিদিন অসংখ্য পর্যটক ভিড় জমান এই ঝরনা ধারার সৌন্দর্য উপভোগে। মাধবকুন্ড জলপ্রপাতে এলে চোখে পড়বে উঁচু-নিচু পাহাড়ি টিলায় দিগন্ত জোড়া চা বাগান। টিলার ভাঁজে ভাঁজে খাসিয়াদের পানপুঞ্জি ও জুম চাষ। পাহাড়িদের সনাতনী বাড়িঘর জীবনযাত্রা দৃশ্য সত্যিই অপুর্ব।
পরীকুন্ড ঝরনা
সচরাচর লক্ষ্য করা যায় দর্শনার্থীরা কেবল মাধবকুন্ড ঝরনা দর্শন করেই ফিরে আসেন। তাদের বেশির ভাগেরই জানা নেই মাধবকুন্ডের নিকটেই রয়েছে পরীকুন্ড নামে দৃষ্টিনন্দন আরো একটি ঝরনা। মাধবকুন্ড যেতে পায়ে হাঁটা পথের মাঝামাঝি গিয়ে ডান দিকে নেমে গেছে আর একটি পথ। পথটি ধরে নামলেই ছড়া, তারপর ছড়া ধরে হাঁটতে হবে বিশ থেকে পঁচিশ মিনিটের মত। দেখবে তোমার সামনেই ঝরছে পরীকুন্ডের অনর্গল ধারা। মাধবকুন্ড ও পরীকুন্ড যাওয়ার পথে দুই পাশে উঁচু-নিচু পাহাড় ও টিলাগুলো দেখবে চা গাছে আবৃত।

হাকালুকি হাওর
এ জেলায় রয়েছে এশিয়ার অন্যতম বৃহৎ জলাভূমি হাকালুকি হাওর। ২৪০টি বিল নিয়ে এ হাওরের আয়তন ২০ হাজার ৪ শ’হেক্টর। হাওরটির অবস্থান জেলার বড়লেখা, জুড়ী, কুলাউড়া, সিলেটের বিয়ানীবাজার, গোলাপগঞ্জ ও ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলায় বিস্তৃত। হাওরের বেশির ভাগ এলাকা বড়লেখা উপজেলায় অবস্থিত।
নানা প্রজাতির দেশীয় মাছ, পাখি, শাপলা-শালুক, ঝিনুক, শ’ শ’ প্রজাতির জলজ প্রাণী আর হিজল, কড়চ, আড়ং, মূর্তা, কলুমসহ সবুজের ঘেরা এক পরিবেশ। শীতকালে হাওরের দিগন্ত বিস্তৃত প্রাকৃতিক দৃশ্য ও বিলের কান্দিগুলো সত্যিই দৃষ্টিনন্দন। বিলের জলের মাঝে ও চারিধারে জেগে থাকা সবুজ ঘাসের গালিচায় মোড়া কিঞ্চিত উঁচুভূমি বিলের জলে প্রতিচ্ছবি ফেলে সৃষ্টি করে অপরূপ দৃশ্যের। সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের সময় হাওরের জলরাশির মাঝে সূর্যের প্রতিচ্ছবি বেশ মনোমুগ্ধকর। শীতকালে অতিথি পাখিরা সারি বেঁধে পার্শ্ববর্তী দেশ থেকে আসতে থাকে বিলগুলোতে। এইসব পরিযায়ী পাখিদের আগমনে হাওর যেনো পরিণত হয় স্বর্গোদ্যানে। বিমোহিত রূপ মাধুর্যে কাছে টানে প্রকৃতিপ্রেমীদের। আর এ সময় অতিথি পাখিদের সাথে মিতালি গড়তে মানুষের কলকাকলিও বাড়ে হাওরপাড়ে।

হামহাম জলপ্রপাত
প্রকৃতির অপরূপ এক লীলাভূমি এ জেলার কমলগঞ্জ উপজেলার (রাজকান্দি রিজার্ভ ফরেস্টের কুরমা বনবিট) গহিন অরণ্যঘেরা দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় অবস্থিত হামহাম জলপ্রপাত। বুনো পাহাড়ের গা বেয়ে ১৫০ ফুট ওপর থেকে গড়িয়ে পড়া কাচের মতো স্বচ্ছ পানির স্রোতধারা কলকল শব্দ অ্যাডভেঞ্চার-প্রিয়দের হাতছানি দিয়ে ডাকে। উপজেলা সদর থেকে প্রায় ৩০ কিলোমিটার পূর্ব-দক্ষিণে রাজকান্দি বন রেঞ্জের কুরমা বনবিট এলাকার প্রায় ১০ কিলোমিটার গহিন অরণ্যের দুর্গম দৃষ্টিনন্দন হামহাম জলপ্রপাত। স্থানীয় পাহাড়ি অধিবাসীরা এ জলপ্রপাত ধ্বনিকে হামহাম বলে। তাই এটি হামহাম নামে পরিচিত। সেখানে সরাসরি যানবাহন নিয়ে পৌঁছার ব্যবস্থা নেই। উপজেলা সদর থেকে কুরমা চেকপোস্ট পর্যন্ত প্রায় ২৫ কিলোমিটার পাকা রাস্তায় স্থানীয় বাস, জিপ ও মাইক্রোবাসে যেতে হয়। বাকি ১০ কিলোমিটার যেতে হয় পায়ে হেঁটে। সেখান থেকে প্রায় ৫ কিলোমিটার দূরে সীমান্ত এলাকায় ত্রিপুরা আদিবাসী পল্লী। দুর্গম পাহাড়ি এলাকা তৈলংবাড়ী কলাবন বস্তি থেকে পায়ে হেঁটে রওনা হতে হবে। প্রায় ৬ কিলোমিটার পাহাড় টিলা ও ২ কিলোমিটার ছড়ার পানি অতিক্রম করে ৩ ঘন্টা পায়ে হাঁটার পর দেখতে পাওয়া যায় ১৬০ ফুট উচ্চতার এই ‘ঝরনা সুন্দরী’র হামহাম জলপ্রপাতের আঙিনা।
হামহাম জলপ্রপাতে পৌঁছার পর অপরূপ নির্মল ওই সৌন্দর্যে নিমেষে জুড়িয়ে যায় পথের ক্লান্তি। পথের দুই পাশের বুনো গাছের সজ্জা যে কোনো পর্যটকের দৃষ্টি ফেরাতে সক্ষম। জারূল, চিকরাশি ও কদম গাছের ফাঁকে ফাঁকে রঙিন ডানা মেলে দেয় হাজারো প্রজাপতি। চশমা বানরের আনাগোনা ডুমুর গাছের শাখায়। চারদিকে গাছগাছালি ও প্রাকৃতিক বাঁশবনে ভরপুর এ বনাঞ্চল। ডলু, মুলি, মিটিংগা, কালি ইত্যাদি অদ্ভুত নামের বিভিন্ন প্রজাতির বাঁশ এ বাগানগুলোকে দিয়েছে ভিন্ন এক রূপ। পাথুরে পাহাড়ের ঝিরি পথে হেঁটে যেতে যেতে সুমধুর পাখির কলরব মনকে ভাললাগার অনুভূতিতে ভরিয়ে দেয়। দূর থেকে কানে ভেসে আসবে বিপন্ন বন মানুষের ডাক। কিছুদূর এগিয়ে যাওয়ার পর শুরুতে দুই চোখের সামনে ভেসে উঠবে পাহাড় থেকে ধোঁয়ার মতো ঘন কুয়াশা ভেসে ওঠার অপূর্ব দৃশ্য। মনে হয় যেন ওই নয়নাভিরাম পাহাড় হাতছানি দিয়ে ডাকছে। এখানে জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশ এত সমৃদ্ধ যে যা দেশের আর কোথাও পাওয়া যায় না। এখানে যেভাবে পায়ের নিচে ঝিরির স্বচ্ছজল আর সম্মুখে অপরূপ ঝরনা, ঠিক তেমনি বিরল প্রজাতির জীব ও পশু পাখি দেখতে পাওয়া যায়।

মাধবপুর লেক
মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার মাধবপুরে নয়নাভিরাম মনোরম দৃশ্য মাধবপুর লেক। ভ্রমণপিপাসু মানুষের জন্য একটি আকর্ষণীয় স্থান। এখানকার পাহাড়ি উঁচু নিচু টিলার মাঝে দৈর্ঘ্যে প্রায় ৩ কিলোমিটার পানির হ্রদ ও তার শাখা-প্রশাখা, চারপাশে পাহাড়ি টিলার ওপর সবুজ চা বাগানের সমারোহ, জাতীয় ফুল দুর্লভ বেগুনি শাপলার আধিপত্য, ঝলমল স্বচ্ছ পানি, ছায়া নিবিড় পরিবেশ, শাপলা শালুকের উপস্থিতি আনন্দের বাড়তি মাত্রা যুক্ত করেছে। ন্যাশনাল টি কোম্পানির মালিকানাধীন চা বাগানের ভেতরে মাধবপুর লেক নিজের রূপ দিয়েই দেশী-বিদেশী পর্যটককে আকর্ষণীয় করে তোলে।

বাইক্কা বিল
মৌলভীবাজার জেলার প্রখ্যাত চা-সমৃদ্ধ শহর শ্রীমঙ্গলের হাইল হাওরের পূর্বদিকের প্রায় ১০০ হেক্টর আয়তনের একটি জলাভূমির নাম বাইক্কা বিল। ১ জুলাই ২০০৩ তারিখে বাংলাদেশের ভূমি মন্ত্রণালয় এই বিলটিকে মৎস্য সম্পদের একটি অভয়াশ্রম হিসেবে সংরক্ষণের সিদ্ধান্ত নেয়। আইড়, কই, মেনি, ফলি, পাবদাসহ আরো অনেক প্রজাতির মাছ এখানে বংশবৃদ্ধি করে পুরো হাওর ছড়িয়ে পড়ে। এই বিল মাছের জন্যই শুধু নয়, পাখি এবং অন্যান্য অনেক প্রাণীর জন্যও একটি চমৎকার নিরাপদ আবাসস্থল। এটি একটি নয়নাভিরাম জলাভূমি যেখানে হাজারো শাপলা আর পদ্ম ফুল ফোটে। এ ছাড়া এই বিলের বুনো বাসিন্দা আর শীতে আগত পরিযায়ী পাখিদের ভালোভাবে দেখার জন্য তৈরি করা হয়েছে একটি পর্যবেক্ষণ টাওয়ার।
বিলের কিনারে ফোটে হাজারো পানা, শাপলা আর পদ্মফুল। বিলের পানিতে সকাল-সন্ধ্যা চলে রঙিন ফড়িংয়ের বিরতিহীন উড়াউড়ি। বৃষ্টিহীন উষ্ণদিনে বিলের ফুলের পাশে আসে আরো একদল পতঙ্গপ্রজাতি। প্রকৃতিপ্রেমীর চোখে পাখিই এই অভয়াশ্রমের সেরা প্রাণী। শীত মৌসুমে এখানে আসে বিভিন্ন প্রজাতির পরিযায়ী পাখি। এই বিলের উল্লেখযোগ্য পাখি-পানকৌড়ি, কানিবক, ধলাবক, গোবক, ধুপনিবক, রাঙ্গাবক, দলপিপি, নেউপিপি, পান মুরগি, বেগুনি কালেম, কালোমাথা কাস্তেচরা, শঙ্খ চিল, পালাসী কুড়া ঈগল। শীতের অতিথি হয়ে এই বিলে আসে অনেক জাতের সৈকত পাখি। এদের মধ্যেÑ গেওয়ালা বাটান, মেটেমাথা চিটি আর কালাপঙ্খ ঠেঙ্গী, ধলা বালিহাঁস, পাতি সরালী, রাজসরালী, মরচেরং, ভূতিহাঁস, গিরিয়াহাঁস, ল্যাঙ্গাহাঁস, গুটি ঈগল।

বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান স্মৃতিসৌধ
১৯৭১ সালে স্বাধীনতাযুদ্ধে শহীদ সিপাহি হামিদুর রহমান আত্মোৎসর্গের কারণে বাংলাদেশ সরকার তাকে ‘বীরশ্রেষ্ঠ’ খেতাবে ভূষিত করেছে। হামিদুর রহমানের স্মৃতিকে স্মরণীয় করে রাখতে মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার ধলই সীমান্ত ফাঁড়িসংলগ্ন স্থানে শহীদ সিপাহি হামিদুর রহমান ‘বীরশ্রেষ্ঠ সরণি’ নির্মাণ করে। ২০০৬ সালে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে গণপূর্ত বিভাগ ১৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা ব্যয়ে এখানে একটি স্মৃতিসৌধ নির্মাণ করে। ধলই চা বাগানে বিজিবির সীমান্ত ফাঁড়ি সংলগ্ন এলাকায় বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের স্মৃতিসৌধ পর্যটন কেন্দ্রে পরিণত হচ্ছে। এখানে প্রতিদিনই দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পর্যটক, দর্শনার্থী ও শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন পেশার লোকজন এ স্মৃতিসৌধ দেখতে আসছেন। সকালে বের হলে লাউয়াছড়া ভ্রমণ শেষে মাধবপুর লেক ও বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান স্মৃতিসৌধ ঘুরে আসা যাবে।

মনুনদী ব্যারাজ
মৌলভীবাজারের মনুনদী ব্যারাজ ও নয়নাভিরাম লেকে বিভিন্ন জেলা থেকে আসা পর্যটকদের পদচারণায় মুখরিত হয়ে ওঠে। একটু অন্যরকম সময় পার করতে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে এই নৈস্বর্গীয় অপরূপ সৌন্দর্য দেখতে পর্যটকরা ছুটে আসেন এখানে। ভারতের ত্রিপুরা রাজ্য থেকে আসা ৮৩ কিলোমিটার দৈর্ঘ্য (বাংলাদেশ অংশ) এই মনুনদী মৌলভীবাজার শহর ঘেঁষে সদর উপজেলার মনুমুখ পয়েন্টে কুশিয়ারা নদীতে গিয়ে মিলিত হয়েছে। বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) এর অধীনে কৃষিক্ষেতকে আধুনিকায়ন করার লক্ষ্যে শহর থেকে প্রায় ৫ কিলোমিটির পূর্বে নদীর ওপর ব্যারাজ দিয়ে (মনু নদী প্রকল্প) মৌলভীবাজার সদর ও রাজনগর উপজেলার কাউয়াদিঘি হাওরসহ অন্যান্য জায়গায় পানি নিষ্কাশন করার লক্ষ্যে মূলত এটি তৈরি করা হয়েছে।
নদীর ওপর দিয়ে যাওয়া ব্যারাজে হিমেলে হাওয়ার সাথে একান্ত মিশে যেতে বৈকাল্যের শেষ প্রহরে দল বেঁধে ছুটে আসেন প্রকৃতিপ্রেমী অসংখ্য নারী-পুরুষ। এই ব্যারাজ থেকে দাঁড়িয়ে প্রায় দুই কিলোমিটার নয়নাভিরাম দৃশ্য অবলোকন করেন পর্যটকরা। মনু ব্যারাজের পাশে প্রায় ১ কিলোমিটার দৈর্ঘ্য মনুব্যারাজ লেক থাকায় নৌকা দিয়ে নিজের মতো করে ঘুরতে পারা যায় অনায়াসে।

সিতেশ বাবুর চিড়িয়াখানা
জেলার শ্রীমঙ্গল শহর থেকে পশ্চিম দিকে রূপুসপুর-ফুল-বাড়ি এলাকায় অবস্থিত সিতেশ বাবুর চিড়িয়াখানা। শহর থেকে প্রায় আধা-কিলোমিটার দূরে চিড়িয়াখানাটি ‘সিতেশ দেবের চিড়িয়াখানা’ নামে সারাদেশে পরিচিত। এক সময়ের দুর্ধর্ষ শিকারি সিতেশ রঞ্জন দেব সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত উদ্যোগে গড়ে তুলেছেন একটি মিনি চিড়িয়াখানা। শ্রীমঙ্গলে তার মিশন রোড বাসভবনে ১৯৭২ সালে শুরু করা চিড়িয়াখানাটি বর্তমানে স্থানান্তর করে শহরতলির ভাড়াউড়া এলাকাকায় নিজ খামার বাড়িতে নিয়ে গেছেন তিনি। তার মিনি চিড়িয়াখানায় রয়েছে দুর্লভ ও বিলুপ্তপ্রায় কিছু প্রাণী। বর্তমানে ভাল্লুক, পাহাড়ি ময়না, গন্ধগকোল, হরিয়াল, লক্ষণ টিয়াা, ধনেশ, গুইসাপ, উরূক্কু কাঠবিড়াালি, বিরল প্রজাতির সাদা আলবিনো বাঘ, মেছোবাঘ, গোল্ডেন টারটইল বা সোনালি কচ্ছপ, সোনালি বাঘ, লজ্জাবতী বানর, সাইবেরিয়ান লেজ্জা লামবার্ড, ঘুঘু, বানর, বন্যমথুরা, বন্যমোরগ, সরালী, কালেম, ময়না, বন্যমাছ, অজগর সাপ, মেলর্ড, তিতির, মায়া হরিণ, সজারু, ইন্ডিয়ান সোনালি বানর, বন্যখরগোস, সাদা খরগোস প্রভৃতি প্রাণী রয়েছে তার চিড়িয়াখানায়। সোনালি কচ্ছপের বৈশিষ্ট্য হচ্ছেÑএরা গাছে বসবাস করে। ভুলেও কখনো পানিতে নামে না। সব সময় শুকনো খাবার খায়। লজ্জাবতী বানর দিনের বেলা মাথা নিচু করে, চোখ বন্ধ করে বসে থাকে। দিনে কোন খাবার খায় না। রাতের আঁধারে স্বাভাবিক চলাফেরা করে এবং খাবার গ্রহণ করে। এটি একটি বিলুপ্তপ্রায় প্রাণী।
চিড়িয়াখানার অন্যতম আকর্ষণ সোনালি বাঘ। বিলুপ্ত প্রজাতির এই প্রাণীদের আবাস মূলত গভীর জঙ্গলে। আকারে ছোট এ বাঘ অত্যন্ত হিংস্র। সাদা বাঘ দেশের আর কোন চিড়িয়াখানায় নেই। তাই এটিকে দুর্লভ প্রাণী হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে। তুমি সিতেশ বাবুর চিড়িয়াখানায় গিয়ে এসব প্রাণী দেখে আসতে পারবে। তোমার অভিজ্ঞতার ভান্ডার সমৃদ্ধ করতে প্রাণীগুলোর বৈশিষ্ট্য জেনে নিতে পারবে সদা হাস্যোজ্জ্বল সিতেশ রঞ্জন দেবের কাছ থেকে।
টি এস্টেট
তোমরা চাইলে এ জেলার শ্রীমঙ্গলের চা কারখানাও ঘুরে দেখতে পারবে। টি রিসার্চ ইনস্টিটিউট হতে পারে পরিদর্শনের অন্যতম একটি জায়গা। দেখতে পারবে চা প্রস্তুত প্রণালী। বাগানের ভেতর শ্রমিকদের সঙ্গে খানিকটা সময়ও কাটানো যেতে পারে। শ্রীমঙ্গলে থাকার জায়গা হিসেবে টি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের ‘টি রিসোর্ট’ অত্যন্ত চমৎকার একটি জায়গা। টিলার ওপর বিশাল জায়গা নিয়ে নির্মিত রিসোর্টে রয়েছে দশ-বারোটি কটেজ। বৃক্ষের ছায়াতলে অনেক দূরে দূরে একেকটি কটেজ। বড়সড় রেস্তেরাঁর সঙ্গে রয়েছে পুরনো আমলের সুইমিংপুল। পাশেই নেট দিয়ে ঘেরা জায়গার মধ্যে চরে বেড়ায় বেশ কয়েটি চিত্রল হরিণ। কেবল রিসোর্ট সীমানার মাঝে অবস্থান করে ও আশপাশের চা বাগান দেখেই কাটিয়ে দেয়া সম্ভব দু’তিন দিন।
সাতরঙা চা
মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে যারা বেড়াতে আসেন সাত লেয়ারের চায়ের স্বাদ নিতে ভুলেন না তাদের কেউই। এ চা জিভে জলের বদলে বিস্ময় জাগায় বেশি। প্রায় এক যুগ ধরে সপ্তবর্ণের ওই চা বানিয়ে যাচ্ছেন রমেশ রাম গৌড় (৪০)। তার দু’টি দোকান রয়েছে। একটি শ্রীমঙ্গলে চা বাগান অন্যটি মণিপুরী অধ্যুষিত রামনগর ও কালিঘাট রোডের ১৪ বিজিবি ব্যাটালিয়নের ক্যান্টিনে। রমেশের রাম গৌড়ের সুনাম সারা পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়ে বাংলা ভাষাভাষী মানুষের মধ্যে। ইতোমধ্যে বিদেশ থেকে চাকরির প্রস্তাব পেয়েও ফিরিয়ে দিয়েছেন তিনি। সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মৌলভীবাজার-শ্রীমঙ্গল সরকারি হাসপাতাল উদ্বোধনকালে রমেশের সাত লেয়ারের চা পান করে প্রশংসা করেন।
শমশেরনগর ও ডবলছড়া খাসিয়া পল্লী
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরুর সময়ে ব্রিটিশ আমলে গড়ে উঠেছে মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার শমশেরনগরে বিশালাকার বিমানবন্দর। বর্তমানে এখানে আরটিএস (রিক্রুট ট্রেনিং) স্কুল স্থাপন করায় ভেতরে প্রবেশ করে ভ্রমণ করা সবার পক্ষে সম্ভব হয়ে ওঠে না। শমশেরনগর বিমানবাহিনী ইউনিট এলাকায় পতিত ভূমিকে কাজে লাগিয়ে কাঁঠাল, আনারস, লিচু, কুল, ধান, আলুসহ নানা জাতের ফল, কৃষি ও মৎস্য খামার গড়ে তোলা হচ্ছে। শমশেরনগর বিমানবাহিনীর সংরক্ষিত এলাকা সংলগ্ন স্থানে মুক্তিযুদ্ধকালীন বধ্যভূমির ওপর একটি স্মৃতিসৌধও নির্মিত হয়েছে। ত্রিপুরা সীমান্তবর্তী দুর্গম পাহাড়ি এলাকা ডবলছড়া। ত্রিপুরা থেকে উৎপত্তি হওয়া একটি পাহাড়ি ছড়ার নামে স্থানটির নাম হয়েছে বলে জানা যায়। ডবলছড়া খাসিয়া পল্লী যেতে পাহাড়ি উঁচু নিচু কাঁচা ১২ কিলোমিটার রাস্তা পাড়ি দিতে হয়। পথিমধ্যে শমশেরনগর চা বাগানের দুটো প্রাকৃতিক হ্রদ, একটি গলফ মাঠ ও ক্যামেলিয়া ডানকান হাসপাতাল যে কোন পর্যটকের নজর কাড়বে। অপরূপ সৌন্দর্যের আধার ডবলছড়া খাসিয়া পল্লীটি পাহাড়ি টিলার ওপর ঘর করে বসবাস করছে খাসিয়া জনগোষ্ঠীর লোকজন। একজন হেডম্যান বা মন্ত্রীর নিয়ন্ত্রণে ডবলছড়া খাসিয়া পল্লীতে আড়াই শ’ ফুট উপরের হেডম্যান বা মন্ত্রীর বাংলোটি দেখতে খুবই সুন্দর।
এ ছাড়াও মৌলভীবাজার জেলায় ৯২টি মনোমুগ্ধকর চা বাগানসহ আছে কুলাউড়া উপজেলার টাটুরার বান্ধ (বাঁধ) লেক, লালমাটি টিলা, গগনটিলা (ওপেন ওয়াচ টাওয়ার), হুমায়ূন আহমেদের স্মৃতিবিজড়িত সিআরপি রেস্ট হাউজ ও জুড়ী উপজেলার কমলা ও আনারসের বাগান, ডেবলছড়া খাসিয়া পুঞ্জি, মাগুরছড়াপুঞ্জিসহ মনিপুরী সম্প্রদায়ের এলাকা। সব মিলিয়ে শীতের আগমনে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের অপরূপ লীলাভূমি নামে খ্যাত মৌলভীবাজারের এসব আকর্ষণীয় পর্যটন স্পটগুলো পর্যটকদের বরণ করতে প্রস্তুত হচ্ছে।

যেভাবে আসবে
নিজ ব্যবস্থাপনাতেই শ্রীমঙ্গল ও তার আশপাশ এলাকা ভ্রমণ করা সম্ভব। ঢাকা থেকে ট্রেনে যাওয়া সবচেয়ে নিরাপদ ও আরামদায়ক। জয়ন্তিকা এক্সপ্রেস, পারাবত এক্সপ্রেস, উপবন এক্সপ্রেস এবং সুরমা মেইল কমলাপুর থেকে সিলেট নিয়মিত যাতায়াত করে। নামতে হবে শ্রীমঙ্গল, ভানুগাছ অথবা বড়লেখা স্টেশনে। এ ছাড়াও ঢাকার সায়দাবাদ, মহাখালী ও ফকিরাপুল থেকে সারাদিনই বাস সার্ভিস রয়েছে। শ্যামলী, সোহাগ পরিবহন, হানিফ এন্টারপ্রাইজ, সৌদিয়া এই রুটের অন্যতম বাস।
অনেকটা সময় এই মৌলভীবাজারের গল্প শুনে এখন কি তোমাদের দুই চোখে সারি সারি চা বাগানের দৃশ্য ভেসে উঠছে। তাহলে এখনই ব্যাগ গোছানো শুরু করে দাও। এই শীতে ঘুরতে এসো মৌলভীবাজারেই!

SHARE

Leave a Reply