Home নাটিকা ভাইরাস -আহসান হাবীব খান

ভাইরাস -আহসান হাবীব খান

(জনৈক ভদ্রলোক মাহমুদ সাহেব তার বখে যাওয়া ছেলেকে নিয়ে মনোরোগ বিশেষজ্ঞের কাছে এসেছেন। ছেলে কানে ‘এয়ার ফোন’ লাগিয়ে গান শুনছে, সঙ্গে সঙ্গে শরীরে তাল দিচ্ছে, মাঝে মাঝে হ্যান্ডসেট থেকে বাটন চেপে বিনোদন অনুষঙ্গ পরিবর্তন করছে। মাহমুদ বসবে, ছেলে গানের তালেই বুদ হয়ে থাকবে)
ডাক্তার    :    আরে মাহমুদ সাহেব যে! আপনি আমার চেম্বারে? কী মনে করে?
মাহমুদ    :    কিছু মনে করে নয়, এসেছিলাম ছেলেকে নিয়ে।
ডাক্তার    :    ওকি আপনার ছেলে? মাসাআল্লাহ, বেশ বড় হয়েছে দেখছি।
মাহমুদ    :    তা হয়েছে, গায়ে-গতরে। মাথায় কিছু হয়নি।
ডাক্তার    :    (হেসে) ওভাবে বলছেন কেন? হয়েছেটা কী তাই বলুন।
মাহমুদ    :    কী আর হবে? F. M ভাইরাস, নেট-ভাইরাস, R. J ভাইরাস, এসবে পেয়েছে আরকি। দিন রাত সারাক্ষণ এভাবেই থাকে।
ডাক্তার    :    হ্যু! media impact !
মাহমুদ    :    দেখছেন না, সে যে একটা জায়গায় এসেছে সে দিকে কোন খেয়াল আছে। আজকাল কিছু শিল্পী আছে না, ঐ যে ভাঙা গলায়, অস্ফুট সুরে, অশুদ্ধ উচ্চারণে গান করে।
কম্পাউন্ডার    :    জি স্যার, ক্লান্ত সুরে আধো আধো বুলিতে গান গায়, বাংলা-ইংরেজি-হিন্দি মিলিয়ে কথা বলে…
মাহমুদ    :    ওইটা কী কালচার বলুন তো! আর এরকম হাত-পা ছোড়াছুড়ি করাও কি কালচার! এখন আর সে কোথাও সোজা হয়ে দাঁড়াতে পারে না।
(ডাক্তার তার কম্পাউন্ডারকে বলছেন ছেলেকে এনে বসাতে। কম্পাউন্ডার এগিয়ে যাবে এর মধ্যে ছেলে সজোরে ধমক দিয়ে উঠবে।)
ছেলে    :    Shut up..!
(ধমক শুনে সবাই থমকে যাবে। কম্পাউন্ডার ছিটকে দূরে সরে যাবে।)
ছেলে    :    (কান থেকে হেয়ারিং ফোন খুলতে খুলতে) O come on baby, এতো ভয় পাওয়ার কী হলো? In factআমিby this time রেডিও হ.য.ব.র.ল’র একটিprogram enjoy করছিলাম। ওখানে যেকোন program এর ending address টা করে চিৎকার দিয়েShut up!তাই আমিও ওদের সঙ্গে কোরাস মিলিয়ে ছিলাম আর কি!
ডাক্তার    :    ঠিক আছে, তুমি বস বাবা।
কম্পা:    :    (বসাতে বসাতে) আসেন ভাইজান আসেন, বসেন। আপনার এই ‘হযবরল ভাইরাস’ এক্ষণি দূর হয়ে যাবে। (বসবে)
মাহমুদ    :    দেখেছেন কি রকম psyche patient এর মত আচরণ।
ছেলে    :    Come on dad! তুমি আমাকে পেশেন্ট বলছো কেন? ও I m just holding my culture, এভাবে insult করা কিন্তু তোমার ঠিক হচ্ছে না।
ডাক্তার    :    Relax, relax my boy. তুমি আমার সাথে কথা বল। (ছেলে শান্ত হয়ে বসবে) তোমার নাম কী?
ছেলে    :    Camel, Camel Me mud!
কম্পা:    :    ক্যামেল! মানে উট!
মাহমুদ    :    আসলে এর নাম হলো কামাল মাহমুদ। ওটাকে সে কী বানিয়েছে দেখেন।
ছেলে    :    Please doctor, realize the ব্যাপার। আজকাল ইংলিশ ছাড়া speaking এর কোনvalue  আছে?
কম্পা:    :    তাহলে পুরোটাই ইংরেজি বলেন। one  -দুই-three চার- five ছয়, এরকম ইন্টারভেল দিয়ে দিয়ে বলেন কেন?
ডাক্তার    :    (কম্পাউন্ডারকে ধমকে) তুমি থামতো, আমাকে কথা বলতে দাও। আচ্ছা কামাল, তুমি কোন বিষয়টা বেশি উপভোগ কর, শিল্পীর গান, আর জের উপস্থাপনা নাকি ডিজের ডান্স?
ছেলে    :    Critical question, আসলে আমি কোনটাকে যে বেশি লাইক করি তা আমিও নিজেও নিজেও বীঢ়ষধরহ করতে পারবো না। আসলে হয়েছেটা কী, ঐ যে ‘ব্যবহারেই বোনাস’  more talk more profit,‘কথা চলুক দিনে রাতে’ এতসব অফার ক্যাচ করতে গিয়ে আমি সারাক্ষণই সেলফোনে কথা বলি। আর রেডিও হ.য.ব.র.ল, চ্যানেলthunder bolt এদের presentation-3একদম avoid  করতে পারি না। সেই সাথে ইন্টারনেটতো আছেই।
ডাক্তার    :    তা তুমি দিনে কত ঘণ্টা সময় ইন্টারনেট আর মোবাইলের সাথে কাটাও।
ছেলে    :    এইতো 16 to 18 hours. কখনো কখনো whole night  পার হয়ে যায়। ইশ! দিনটা যদি ২৪hours না হয়ে আরো বেশি হতো…
মাহমুদ    :    লজ্জা করে না? লজ্জা করে না এভাবে বলতে?
ছেলে    :    Why লজ্জা! Remember dad, আমি টেকনোলজির যুগে বসবাস করছি।
মাহমুদ    :    (রেগে) তাই বলে সারা রাত?
ছেলে    :    কেন dad? তুমি আর মাম্মি যখন আমাকে দূরে সরিয়ে রেখে সারারাত জেগে জেগে ডিশ দেখতে, তখনতো আমি কোন complain করিনি। ছোট আমি তখন আলাদা ঘরে একা একা বালিশ বুকে চেপে পড়ে থাকতাম। ঘুম আসতো না।
(ছেলের কথায় মাহমুদ সাহেব থমকে যাবেন। তবে নিজেকে সামলে নেয়ার চেষ্টা করবেন।)
মাহমুদ    :    ও, তাই প্রতিশোধ নিচ্ছ!
ছেলে    :    No dad, its not প্রতিশোধ। আমি যখন তোমাদের companion-এর কাঙাল ছিলাম তখন কিছুই পাইনি। তুমি আমাকে অনেক amusement সামগ্রী এনে দিয়েছো। computer, cell-phone, internet etc. etc. আর আমি সেগুলি দিয়েই slowly আমার মধ্যে একটা জগৎ তৈরি করে নিয়েছি Now I have my own world. আমি এখন সেখানেই ডুবে থাকতে চাই।
মাহমুদ    :    (খুব রেগে যাবে) দেখলেন? দেখলেন? শেষ পর্যন্ত প্যারেন্টসদের ওপর  ক্লেইম দিচ্ছে! How dare you…
ডাক্তার    :    (শান্ত করার প্রয়াসে) Mr. Mahmud! Get cooled, please, get cooled. আপনি ছেলের সঙ্গে ক্ল্যাশে যাচ্ছেন কেন?
(মাহমুদ শান্ত হয়ে বসবে। এমন সময় উগ্র গানের মিউজিকে তার মোবাইল বেজে উঠবে। ইতস্তত করে মাহমুদ লাইন কেটে দেবে। অন্যরাও ভ্যাবাচেকা খেয়ে যাবে।)
ডাক্তার    :    আমি মনে হয় ওর ডায়াগনোসিস করতে পেয়েছি। (মাহমুদ স্বস্তি পাবে) এই তুমি ওকে পাশের রুমে নিয়ে যাও। (কম্পাউন্ডার ছেলেকে নিয়ে যাবে)
ডাক্তার    :    বুঝলেন মাহমুদ সাহেব? সব দোষ ছেলেপেলেকে দিয়ে দিলেই কি সব ঠিক হয়ে যাবে? কিছু দায়তো আমাদেরও নিতে হবে।
মাহমুদ    :    I got your point doctor, বুঝতে পেরেছি। আমাকে আর লজ্জা দেবেন না।
ডাক্তার    :    আমরা যদি পরিবারকে সময় দেই, নিজেদের নিয়ন্ত্রণ করি, তাহলে এমন কোনো সমস্যাই সৃষ্টি হবে না। আমাদের নিজেদের আরও বেশি বেশি জানতে হবে, কাছাকাছি থাকতে হবে, ভালোবাসতে হবে।

SHARE

1 COMMENT

Leave a Reply to Tahmid Hasan Cancel reply