Home খেলার চমক আনকোরা ক্যাঙ্গারুদের বিরুদ্ধে প্রস্তুত উদ্দীপ্ত টাইগাররা -হাসান শরীফ

আনকোরা ক্যাঙ্গারুদের বিরুদ্ধে প্রস্তুত উদ্দীপ্ত টাইগাররা -হাসান শরীফ

চট্টগ্রামে ৯ অক্টোবর শুরু প্রথম টেস্ট, তারপর ১৭ অক্টোবর থেকে ঢাকায় দ্বিতীয় টেস্ট। বাংলাদেশে অস্ট্রেলিয়ার সফরসূচি এটাই। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড চেষ্টা করেছিল একদিনের একটা সিরিজ আয়োজনের। কিন্তু রাজি হয়নি অস্ট্রেলিয়া। ঘোষিত কারণ, সূচিতে মিলছে না। তাদের আরো ম্যাচ রয়েছে। তবে অনেকে মনে করছে, সাম্প্রতিক সময়ে টাইগারদের দুর্দান্ত ফর্মের কারণে ঝুঁকি নিতে চায়নি অস্ট্রেলিয়া।
তবে এই সিরিজটি বাংলাদেশের জন্য বিরাট একটা সুযোগ। পূর্ণ প্রস্তুত বাংলাদেশ পাচ্ছে অগোছালো আর নতুন করে গড়ে উঠতে থাকা অস্ট্রেলিয়ার। অবশ্য, এটাও ঠিক যে, অস্ট্রেলিয়ায় ক্রিকেটারের অভাব নেই। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে দাপট দেখানোর মতো অগণিত ক্রিকেটারই রয়েছেন দেশটিতে। এমনকি মেধাবী ক্রিকেটারদের ভিড়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় টিকতে না পেরে অনেক দাপুটে খেলোয়াড়কেও তড়িঘড়ি জাতীয় দলের ক্যারিয়ারে পর্দা টেনে দিতে হয়, যে কারণে কখনই কোনো সিরিজের ভারসাম্যপূর্ণ দল গঠন নিয়ে অস্ট্রেলিয়ান নির্বাচকদের এতটা ভাবতে হয়নি। কিন্তু বাংলাদেশ সফরের আগে তাদেরও মাথা খাটাতে হচ্ছে খুব বেশি।
অস্ট্রেলিয়া এখন যে অবস্থায় রয়েছে, সম্ভবত আগে তাদেরকে কখনো এমন পরিস্থিতিতে পড়তে হয়নি। একের পর এক অবসর আর ইঞ্জুরি তাদের সমস্যা ক্রমাগত জটিল করে তুলছে। যেনতেনভাবে একটা দল পাঠালেই জয় নিশ্চিত, ওই দিন আর নেই। সেটা হাড়ে হাড়ে বুঝেছে পাকিস্তান, ভারত আর দক্ষিণ আফ্রিকা। তিনটি দলই এলো, খেললো, জিতবে- এমন মানসিকতা নিয়ে এসে পুরোপুরি ‘ধরা’ খেয়েছে। এটা তাদের দুর্বলতার কারণে নয়, বাংলাদেশের উন্নতির জন্য।
অস্ট্রেলিয়ার সবচেয়ে বড় সমস্যা হয়েছে তাদের অধিনায়ক মাইকেল ক্লার্কের বিদায়ে। ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে সিরিজে পরাজয়ের পর তিনি অবসর নিয়েছেন। স্টিভেন স্মিথকে নেতৃত্ব দিতে হবে বাংলাদেশ সিরিজে। তিনি এখন দুর্দান্ত ফর্মে আছেন তা ঠিক। কিন্তু একা তো খেলতে পারবেন না। পরিচিত অধিনায়কের বিদায়ের পর থেকেই অসিদের সমস্যার শুরু। এরপর থেকে প্রতিনিয়ত নতুন নতুন সমস্যা যোগ হয়েছে। পেনার ও সহ-অধিনায়ক ডেভিড ওয়ার্নারের ইনজুরি তাদের জটিলতা বাড়িয়ে দিয়েছে। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডেতে আঙুলে আঘাত পেয়ে ৬ সপ্তাহের জন্য মাঠের বাইরে চলে যেতে হয়েছে ওয়ার্নারকে। ফলে বাংলাদেশ সফরে তিনি থাকছেন না, তা একপ্রকার নিশ্চিত। ফলে টেস্ট দলে নতুন একজন ওপেনার, সঙ্গে সহ-অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করতে পারবেন তেমন একজন ব্যাটসম্যানকে নির্বাচন করতে হচ্ছে অস্ট্রেলিয়াকে। আর তা করতে গিয়েই সমস্যা বাড়ছে। কেননা, এমনিতেই সদ্য অবসর নেয়া আরেক ওপেনার ক্রিস রজার্সের রিপ্লেসমেন্ট খুঁজতে হচ্ছে। এর পর আবার ওয়ার্নারের ইনজুরির কারণে তাদের দুই ওপেনারই সম্ভবত হবেন নতুন।
এর মধ্যেই টেস্ট ক্রিকেটকে বিদায় জানিয়ে বসেছেন অভিজ্ঞ অলরাউন্ডার শেন ওয়াটসন। অলরাউন্ডার শেন ওয়াটসনের আকস্মিক অবসর নেয়ার কারণেও টপঅর্ডারে ব্যাটিং ভারসাম্য রক্ষা করার বিষয়ে সমস্যায় পড়ছে অস্ট্রেলিয়া। আর ভারতীয় উপমহাদেশে ওয়াটসন বরাবরই সফল। এমন একজনকে হারানো বড় ধরনের ক্ষতিই অসিদের জন্য। ফলে বাংলাদেশ সফরে স্মিথের ওপর বাড়তি চাপ থাকছে। দলের সঙ্গে সফরে না থাকার সম্ভাবনা রয়েছে দুই অভিজ্ঞ পেসার মিচেল জনসন ও জোস হ্যাজলউডের। সব মিলিয়ে তা-ই ভারসাম্যপূর্ণ ও শক্তিশালী একটি স্কোয়াড তৈরি করতে গিয়ে এই মুহূর্তে খানিকটা বেসামাল অবস্থায় পড়েছে অস্ট্রেলিয়া। আর ঘরের মাঠে সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশ যেমন সত্যিই বাঘের মতো প্রতিপক্ষের ওপর হামলা করেছে; তাতে করে যেমন তেমন দল নিয়ে বাংলাদেশ সফরে আসার চিন্তাও করা সম্ভব নয় অস্ট্রেলিয়ানদের পক্ষে।
বর্তমানে ওয়ানডে দলের ওপেনার জো বার্নসের বাংলাদেশ সিরিজে দলে সুযোগ পাওয়া একপ্রকার নিশ্চিতই। তবে তিনি কোথায় ব্যাট করবেন তা ঠিক করতে গিয়ে অসি নির্বাচকদের ভাবনায় পড়তে হচ্ছে। এদিকে, প্রায় নতুন একটি টেস্ট দল গড়তে গিয়ে ক্যামেরন বেনক্রফট ও শন মার্শের ব্যাটিং পজিশন নিয়েও ভাবতে হচ্ছে। বিশেষ করে অ্যাশেজ সিরিজে মার্শের বাজে পারফরম্যান্সও দুশ্চিন্তার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ডেভিড ওয়ার্নারের মতো একজন অভিজ্ঞ সহ-অধিনায়ককে হারানোও অস্ট্রেলিয়ার জন্য বড় ধরনের ধাক্কা হয়ে এসেছে। কেননা, তরুণ অধিনায়ক স্টিভেন স্মিথকে মাঠে যোগ্য সহায়তা করতে পারবেন তেমন বিকল্প একজন সহ-অধিনায়ক এই মুহূর্তে পাইপলাইনে তেমন একটা নেই। অস্ট্রেলিয়ান মিডিয়াগুলোর দেওয়া সংবাদ অনুযায়ী, ভারত সফরে অস্ট্রেলিয়া ‘এ’ দলকে নেতৃত্ব দেওয়া উসমান খাজাকেই ওয়ার্নারের বিকল্প হিসেবে ভাবা হচ্ছে। কারণ, দলকে নেতৃত্ব দেওয়ার পাশাপাশি ব্যাটিংটাও ভালো করতে পারেন খাজা।
অন্য দিকে দক্ষিণ আফ্রিকা সিরিজের পর কয়েক দিন বিরতি দিয়ে নিবিড় অনুশীলন চালিয়ে যাচ্ছেন বাংলাদেশের খেলোয়াড়রা। অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে তারা লড়াই করতে প্রস্তুত। সাম্প্রতিক সময়ে তারা যে সাফল্য লাভ করেছেন, তা আরো বড়ভাবে স্বীকৃতি পাবে অস্ট্রেলিয়াকে হারাতে পারলে। ফিটনেস, স্কিল ট্রেনিং, ব্যাটিং-বোলিং অনুশীলন ব্যাপকভাবে চালিয়ে গেছেন তারা।

SHARE

Leave a Reply