Home তোমাদের গল্প স্বপ্ন -আ: সবুর খান

স্বপ্ন -আ: সবুর খান

হঠাৎ মায়ের ডাকে ঘুম ভেঙে গেল। ধ্যাত, আজকেও স্বপ্নের শেষটা দেখা হলো না। মাঝপথে এসেই শেষ হয়ে গেল। যাকগে, মা নিশ্চয়ই নামাজের জন্য ডেকেছেন। বিছানা ছেড়ে ওজু করে সোজা মসজিদে চলে গেলাম। নামাজ শেষে ঘরে ফিরে বইখাতা হাতে নিয়ে জাকারিয়া স্যারের কাছে ইংরেজি পড়ার জন্য বের হলাম। পথিমধ্যে রিমন, অনিম, রফিক ও ফৌজিয়ার সাথে দেখা।
আমাকে দেখেই রফিক বলে উঠল, ‘আজকেও কি কোন স্বপ্ন দেখলি?’
বললাম, ‘কেন দেখব না। স্বপ্ন দেখতে কারও কোনো বাধা আছে নাকি?’
অনিম প্রার্থনা করল, ‘আল্লাহ তোমার ভালো স্বপ্নগুলো পূরণ করে দিক।’
আমি বললাম, ‘আমাদের তো প্রচেষ্টা করতে হবে স্বপ্নগুলোকে বাঁচিয়ে রাখতে। তোরা কি আমার সাথে থাকবি না?’
‘আমি নেই বাবা। এতগুলো স্বপ্নের পেছনে ছুটতে গেলে আমার চৌদ্দগোষ্ঠী হাঁপিয়ে উঠবে,’ রফিক দুষ্টুমি করে বলে ফেলল।
ফৌজিয়া বলল, ‘ঠিক আছে, ও না থাকলেও আমি আছি।’
‘আমরাও আছি,’ রিমন ও অনিম একসাথে বলে উঠল।
এবারে রফিক একা হয়ে গেল। সে বলল, ‘ঠিক আছে, আমরা সবাই তোর সাথে আছি।’
‘আলহামদুলিল্লাহ, তাহলে আগামীকাল থেকেই আমাদের স্বপ্নিল পথচলা শুরু হয়ে যাক।’ কথা বলতে বলতে আমরা স্যারের বাসার কাছাকাছি এসে পড়লাম। পরদিন সকালে শুরু হয়ে গেল আমাদের কাজ। রফিক বলল, আমরা কী করব?
আমি বললাম, ‘মানুষকে ভালো কাজের উপদেশ দেবো এবং খারাপ কাজ থেকে বিরত রাখবো।’
পথের মধ্যে একটা লোক একটা ছাগলকে ভীষণভাবে পেটাচ্ছিল। আমরা বললাম, ‘ভাই এটা তো ঠিক নয়। ছাগলের কোনো দোষ নেই। আপনি কেন একে পেটাচ্ছেন?’
লোকটা আমাদের অশ্লীল ভাষায় গালি দিল। আমরা হতাশ হয়ে ফিরে এলাম।
একটা বৃদ্ধ লোককে অনেক বুঝিয়ে নামাজে আসতে আহবান করলাম। তিনিও আমাদের নানা ধরনের কথা শুনিয়ে বিদায় করে দিলেন। কয়েকজন ছেলে একটা ছেলেকে মারছে। সেখানে বাধা দিতে গিয়ে উল্টো আমরাই মার খেলাম। আমার এক বন্ধুর গালে একজন ঘুষি মেরে ফেলে দিল। আমি হতাশ। চোখ দিয়ে আমার পানি ঝরছে। এক সময় অজ্ঞান হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়লাম। সবাই এসে আমাকে ধরল। তারপর আমি হাসপাতালের বেডে শুয়ে। পাশে আমার বন্ধুরা। আমার জ্ঞান ফিরেছে বলে তারা খুশি। রিমন বলল, বন্ধু তুই আর পাগলামি করিস না। হ্যাঁ বন্ধু প্লিজ, অন্য সবাইও যোগ দিল। কী বলিস তোরা, আমি বললাম। তাহলে কি আমার স্বপ্নগুলো এভাবেই ঝরে পড়বে। না- না বলে আমি বেড থেকে ওঠে দৌড় শুরু করলাম। আমি দৌড়াচ্ছি আমার স্বপ্নগুলোর পেছনে। আর বন্ধুরা দৌড়াচ্ছে আমার পেছনে। আমাকে তারা প্রায় ধরে ফেলছে। কিন্তু আমি স্বপ্নগুলো ছুঁতেও পারছি না। স্বপ্নগুলো আমার থেকে অনেক দূরে সরে যাচ্ছে, অনেক দূরে বহুদূরে…।

SHARE

2 COMMENTS

  1. কিছু বলার নেই। সবকিছু এত দ্রুত ঘটে গেল। আর আমার মনে হয় না সাহাবীদের যুগ ছাড়া এত সুন্দর হঠাৎ তরে সম্মতি পাওয়া যায়। তবে এমন বন্ধু সবারই কাম্য। লেখক চাইলে আরেকটু গুছিয়ে,বিস্তরভাবে বর্ণনা করতে পারতেন। শুভকামনা লেখকের জন্য। অগোছালো লাগলো। প্রশ্ন থাকল-এটা কি কিশোরকণ্ঠের গল্পে শব্দসংখ্যার বাধার দরুন?

Leave a Reply