Home প্রবন্ধ ঢাকায় বন্দী ত্রিপুরা রাজা ধর্মমানিক্যকে নিয়ে দ্বিতীয় মুর্শিদকুলী খানের ঈদ উদযাপন

ঢাকায় বন্দী ত্রিপুরা রাজা ধর্মমানিক্যকে নিয়ে দ্বিতীয় মুর্শিদকুলী খানের ঈদ উদযাপন

মাহমুদ গজনবী#

সম্রাট শাহজাহান পুত্র শাহ সুজা (১৬৩৯-১৬৬০) যখন ঢাকার সুবাহদার তখনই ঢাকার ধানমন্ডিতে তৈরি করা হয় শাহি ঈদগাহ। এ ঈদগাহটি এখনো ধানমন্ডিতে আছে এবং প্রাচীন ঈদগাহ হিসেবে সকলের কাছেই এর একটি প্রতœমর্যাদা রয়েছে।
এ ঈদগাহ স্থাপনের বহু আগে ইসলাম খান চিশতি ঢাকাকে রাজধানী করার সময় অর্থাৎ ১৬১০ সালের দিকে ঢাকায় ঈদ উৎসবের বর্ণনা পাওয়া যায় বাহারিস্তান-ই-গায়বি নামক ইতিহাসগ্রন্থে। সেখানে অত্যন্ত জাঁকজমকের সাথে ঢাকায় মোগলদের ঈদ উৎসব পালনের বর্ণনা রয়েছে।

ঢাকায় ঈদ উদযাপনের এ মোগল ধারা পরবর্তীতেও অব্যাহত ছিল। মুর্শিদকুলী খান (১৭০০-১৭২৭) ওরফে করতলব খান প্রথমে শাহজাদা মোহাম্মদ আজিম উদ্দিনের অধীনে দিওয়ান ও পরে সুবাহদার হিসেবে দীর্ঘদিন বাংলা শাসন করেন। শুধুমাত্র ১৭০৮-১৭০৯ এ দুই বছর ছাড়া তিনি দীর্ঘ ২৫ বছর বাংলার দেওয়ান ও সুবাহদারের দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ১৭১৫-১৬ সালে পুরাদস্তুর বাংলাদেশের সুবাহদার হন। প্রথম দিকে দিওয়ান হিসেবে নিয়োগের পর শাহজাদা মোহাম্মদ আজিম উদ্দিনের (১৬৯৭-১৭১২) সঙ্গে তাঁর ক্ষমতার দ্বন্দ্ব এবং সমস্যা সৃষ্টি হওয়ায় ১৭০৩ সালে তিনি তাঁর দিওয়ানির কার্যালয় মখসুসাবাদে স্থানান্তর করেন। পরবর্তীতে তিনি যখন সুবাহদার (১৭১৭) হন তখন থেকে মখসুসাবাদ নাম মুর্শিদাবাদ নামে পরিণত হয়। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, মোগল প্রশাসনে সুবাহদার এবং দিওয়ান উভয় পদই দিল্লি সম্রাটের সরাসরি তত্ত্বাবধানে থাকায় তাঁকে সুবাহদার মোহাম্মদ আজিম উদ্দীনের নিকট থেকে কোন অনুমতি নেয়ার প্রয়োজন পড়েনি। রাজনৈতিক কারণে তাঁর এ স্থানান্তর কার্যক্রম ঘটলেও ঢাকার গুরুত্বকে তিনি কখনো খাটো করে দেখেননি। তিনি খুবই ন্যায়পরায়ণ শাসক ছিলেন। বিচারের ক্ষেত্রে তিনি তাঁর নিজ পুত্রকেও ছাড় দেননি।

বিচারের রায়ে তিনি তাঁর একমাত্র ছেলেকে মৃত্যুদন্ড কার্যকরের মাধ্যমে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার এক চরম পরাকাষ্ঠা প্রদর্শন করেছিলেন। তাঁর সময়ে ঢাকা পুনরায় সমৃদ্ধি লাভ করে এবং টাকায় ৪ মণ চাল পাওয়া যেত। তিনি খুবই ধার্মিক ছিলেন এবং নিয়মিত নামাজ পড়া ছাড়াও তিনি পবিত্র কুরআন তেলাওয়াত করতেন এবং রমজান মাসের বাধ্যতামূলক রোজাসহ বছরে তিন মাস রোজা রাখতেন। প্রতি চান্দ্র মাসের ১২-১৩ তারিখও তিনি নফল রোজা রাখতেন। মৃত্যুর আগে তিনি অসিয়ত করে যান তাঁর কবর যেন তাঁরই নির্মিত মুর্শিদাবাদ কাটরা মসজিদের সিঁড়ির সোপানের নিচে দেয়া হয় যাতে মুসল্লিদের পায়ের ধূলি তার কবরে পতিত হয়। এবং তাঁর মৃত্যুপরবর্তী তা-ই করা হয়েছিল। তাঁর রাজত্বের শেষ দিকে তিনি ঢাকার শাসনকার্য পরিচালনার জন্য তাঁর দৌহিত্রী জামাতা মীর্জা লুৎফুল্লাহ উরফে লুৎফে আলী খানকে তাঁর সহকারী নিয়োগ করেন। লুৎফে আলী খানের পিতার নাম হাজী লুৎফুল্লাহ এবং তিনি তাব্রিজের অধিবাসী ছিলেন। মীর্জা লুৎফুল্লাহ মুর্শিদকুলী খানের দৌহিত্রীকে বিবাহ করেন এবং মুর্শিদকুলী খান তাঁর নাতনী জামাতাকে ‘মুুশিদকুলী খান-২’ উপাধিতে ভূষিত করেন। উল্লেখ্য মুর্শিদকুলী খানের নিজের বেলায়ও নামটি কিন্তু উপাধি হিসেবেই ব্যবহৃত হয়েছে কেননা মূল মুর্শিদকুলী খানের নামও ছিল করতলব খান (তিনি সুবাহদার হওয়ার পর নওয়াব মুর্শিদকুলী খান নামে পরিচিত হন। তাঁর আরও টাইটেল ছিল ‘মুতামেনুল মুলক আলাউদ্দৌলা নওয়াব জাফর খান নাসিরি, নাসির জং বাহাদুর’) ফলে আমরা দেখতে পাই মীর্জা লুৎফুল্লাহ ওরফে লুৎফে আলী খানকেও মুর্শিদকুলী খান সম্রাটের অনুমতিক্রমে ‘মুর্শিদকুলী খান-২’ উপাধিতে ভূষিত করে বাংলার ডেপুটি সুবাহদার নিয়োগ করতে।
da1
মীর্জা লুৎফে আলী খান ওরফে দ্বিতীয় মুর্শিদকুলী খান নিজে একজন কবি ছিলেন। তাঁর কাব্য নাম ছিল মাখমুর। দ্বিতীয় মুুর্শিদকুলী খান বেশ কয়টি যুদ্ধের এবং নানান সংস্কারের জন্য বিখ্যাত। আরাকানিদের হাতে বিধ্বস্ত ইসলামাবাদ তথা চট্টগ্রাম ফাঁড়ি পুনরুদ্ধারে তাঁর দক্ষ অভিযান উল্লেখযোগ্য। তাঁর সবচেয়ে বড় অবদান হলো মোগল রাজত্বের শেষ দিকে ত্রিপুরা বিজয়ের ঘটনা।

ত্রিপুরার মানিক্য পরিবার সুলতানি আমল থেকেই দাপটের সঙ্গে তাদের রাজত্ব পরিচালনা করে আসছিলো। তারা বিভিন্ন সময় মুসলমান শাসকদের সাথে সম্পর্ক রেখে এবং কোন কোন সময় করদ রাজ্য হিসেবে তাদের শাসন কর্তৃত্ব দীর্ঘকালব্যাপী বজায় রাখতে সক্ষম হয়েছিলেন। এ রাজপরিবারের দ্বিতীয় রতন মানিক্য বেশ দীর্ঘকাল রাজত্ব করেন এবং তাকে হত্যা করে তার ভ্রাতা মহেন্দ্র মানিক্য সিংহাসন অধিকার করেন। তার পরে তাঁর ভ্রাতা দ্বিতীয় ধর্ম মানিক্য রাজা হন ১৭১৪ খ্রিষ্টাব্দে। তিনি প্রকাশ্যে মুর্শিদাবাদের নবাব দরবারে নজরানা ও উপঢৌকনাদি প্রেরণ করে নবাবের আনুগত্য স্বীকার করে তাকে সন্তুষ্ট রাখার চেষ্টা করতেন। ১৭২২ খ্রিষ্টাব্দে নবাব মুর্শিদকুলী খাঁর ভূমি রাজস্বব্যবস্থা ‘জমা কামেল তুমারি’তে ত্রিপুরা রাজ্যও অন্তর্ভুক্ত দেখা যায়। ফলে বোঝা যায় এটি তখন করদরাজ্য ছিল। তবে দ্বিতীয় ধর্মমানিক্য ভেতরে ভেতরে শক্তি সঞ্চয় করে স্বাধীনতা ঘোষণার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন তা পরবর্তী ঘটনাক্রম থেকে আঁচ করা যায়। ১৭২৭ সালের ৩০ জুন মুর্শিদকুলী খান মৃত্যুবরণ করলে তার স্থলাভিষিক্ত হন মুর্শিদকুলী খাঁর জামাতা শুজাউদ্দিন। দ্বিতীয় মুর্শিদকুলী খান তখন ঢাকার নায়েব সুবাহদার। এ সময় মীর হাবিব নামক একজন ভাগ্যান্বেষী অথচ অতি বিচক্ষণ ও দক্ষ সেনাপতি মুর্শিদকুলী খান-২ এর অধীনে ঢাকায় কর্মরত ছিলেন। এ সময় ত্রিপুরার রাজা ধর্মমানিক্য করপ্রদানে গড়িমসি প্রদর্শন এবং তার পারিবারিক বিরোধের সুযোগে পরলোকগত মহারাজ ছত্র মানিক্যের (নক্ষত্র রায়) প্রপৌত্র জগৎ রায় বা জগৎ রাম ঠাকুরকে রাজ্য থেকে বহিষ্কার করায় উত্তরাধিকার উদ্ধারের আন্দোলনে জগৎ রায় ঢাকার নায়েব সুবাহদারের সাহায্যপ্রার্থী হন। এসব বিষয় দ্বিতীয় মুর্শিদকুলী খানকে ত্রিপুরা অভিযানে প্রলুব্ধ করে। তিনি চট্টগ্রাম অভিযানে রত তাঁর সেনাপতি সৈয়দ হাবিবুল্লাহ উরফে মীর হাবিব, মোহাম্মদ সাদিক, মীর হাকিম, শেখ সেরাজউদ্দিন মোহাম্মদ ও মেহেদী বেগকে এ মর্মে পত্র লেখেন যে তারা যেন চট্টগ্রাম থেকে তাদের বাহিনীসহ সাবধানে অগ্রসর হয়ে ত্রিপুরা রাজ্য দখল করে নেয়। এদিকে ঢাকা থেকে সৈয়দ ফতেহ রফিক, শেখ মোবারক, মুহি উদ্দীন ও অন্যান্য বীরপুরুষসহ জান মোহাম্মদ খানকে ত্রিপুরা অভিমুখে প্রেরণ করা হয়। করম আলী খান ও আজাদ আল হোসায়নি রচিত ‘মোজাফফর নামা’ ও ‘নওবাহার ই মুর্শিদকুলী খানি’ নামক গ্রন্থে এ যুদ্ধের চমৎকার বর্ণনা দেয়া আছে। লেখার কলেবর বৃদ্ধির আশঙ্কায় আমি এ বর্ণনায় যাচ্ছি না। তবে এ যুদ্ধে পাথর কাটার শ্রমিক, সূত্রধর, সুড়ঙ্গ প্রস্তুতকারীর দল, কামান বসাবার লোক, অগ্নিসংযোগ, পানি বহনকারী, গৃহ নির্মাণকারী, ঘাট পারাপারকারী শ্রমিক, চিকিৎসক, নাপিত ও দর্জিসহ এমন একটি পরিপূর্ণ সৈন্যদল প্রেরণ করা হয় যা মোগলদের বড়ধরনের সুনিপুণ যুদ্ধদৃশ্য ফুটিয়ে তোলে। এ যুদ্ধে আধুনিক অস্ত্রপাতি ব্যবহৃত হয়। মাস্কেট বন্দুক, রকেট ও গোলন্দাজ বাহিনীসহ আগা সাদেকের বাহিনীর অগ্রসর হওয়ার বর্ণনা থেকে আমরা তা আঁচ করতে পারি। ত্রিপুরার পাহাড়, অসমতল টিলাযুক্ত এলাকা, বন জঙ্গল ইত্যাদি পরিষ্কার করে সেনাবাহিনীর অগ্রসর হওয়া, সাঁতরে নদী পার হওয়া ইত্যাদি নানা ঘটনা এ যুদ্ধাভিযানকে একটি রোমাঞ্চকর অভিযানে পরিণত করে। ত্রিপুরা রাজ্যের অভিযানে চন্ডিগড় দুর্গের পতন হলে দুর্গাধিপতি নবাব সৈন্যদের হাতে নিহত হন এবং তার মাথা ঢাকায় প্রেরণ করা হলে চকবাজার তোরণে তা টাঙিয়ে রাখার নির্দেশ দেয়া হয়। বিশৃঙ্খল ত্রিপুরা বাহিনী এর পর গাজীগড় দুর্গে ও উদয়পুর দুর্গে আশ্রয় নেয়। গাজীগড় দুর্গের পতনের পর ত্রিপুরা বাহিনী উদয়পুর দুর্গ রক্ষায় প্রাণপণ যুদ্ধ করেও পরাস্ত হয়। রাজা ধর্মমানিক্য পলায়নকালে মুসলিম সৈন্যদের হাতে ধরা পড়ে ও তাকে সেনাপতি মীর হাবিবের নিকট নিয়ে আসা হয়। সেনাপতি জান মোহাম্মদ খান ও অন্যরাও সেখানে উপস্থিত হন। উদয়পুর দুর্গচূড়ায় মুর্শিদকুলী খান-২ এর বিজয় পতাকা উত্তোলিত হয়। মুসলিম বাহিনী আল্লাহু আকবার ধ্বনি ও মুসলিম ধর্মবিশ্বাসের (লা ইলাহা ইলাল্লাহু মোহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ) বাণী উচ্চারণ করে। মুসলিম বাহিনী সেখানে একটি সমতল আঙিনা স্থাপন করে নামাজ আদায় ও সম্রাটের নামে খোৎবা পাঠ করে। যুগের খলিফার নামে সেখানকার টাঁকশাল থেকে তারা স্বর্ণ ও রোপ্য নির্মিত দিনার ও দিরহাম প্রচলন করে। বিশ্ব উজ্জ্বলকারী মোহাম্মদীয় ধর্মের সূর্য প্রতিমা পূজার অন্ধকারকে দূরীভূত করে এবং ইসলামের উজ্জ্বল প্রভাতের সূচনা করে।
da4da5da6
দ্বিতীয় মুর্শিদকুলী খান যুদ্ধ বিজয়ের এ সংবাদে তাঁর প্রধান সেনাপতি মোহাম্মদ ইসহাককে ত্রিপুরা প্রেরণ করেন এবং তাঁর মাধ্যমে অভিযানের সেনানায়ক মীর হাবিবুল্লাহ ও অন্যদের অভিনন্দন জানান এবং তাদের মাঝে নবাবপ্রদত্ত পুরস্কার বিতরণ করেন। মোহাম্মদ সাদিক ও মোহাম্মদ মেহেদীকে ত্রিপুরার দায়িত্বে রাখা হয় এবং বন্দী ত্রিপুরা রাজ ধর্মমানিক্যকে সসম্মানে ঢাকায় নবাবের সামনে হাজির করার জন্য মীর হাবিবকে নির্দেশ দেয়া হয়।
১১৪১ হিজরি মোতাবেক ১৭২৯ ঈসায়ী সালের এপ্রিল মাসে এ বিজয় সংঘটিত হয়। ১৮ এপ্রিল মীর হাবিবুল্লাহ ত্রিপুরা রাজ ধর্মমানিক্যকে সাথে নিয়ে ঢাকায় নবাবের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। ভাগ্যাহত ত্রিপুরার শেষ রাজার পুত্র ‘সরদুবরাজ’ (জগৎ রায়) জোয়ান মর্দখানের আশ্রয়ে নবাব প্রাসাদের চৌকাঠ চুম্বন করার সৌভাগ্য লাভ করেন। মীর হাবিব ত্রিপুরায় একটি থানা স্থাপন করে বলদাখালের ফৌজদার আগা সাদিককে এর ফৌজদার নিয়োগ করেন এবং ভাগ্যাহত যুবরাজ জগৎ রায়কে জগৎ মানিক্য উপাধি দিয়ে ত্রিপুরার রাজপদে আসীন করেন। ইসলামের বিজয়ে অন্ধকার দূরীভূত হয়ে আলোর মশাল প্রজ্বলিত হওয়ায় মীর হাবিব ত্রিপুরা রাজ্যের নাম পরিবর্তন করে রাখেন রৌশনাবাদ বা আলোকের নগরী যা পরবর্তীতে চাকলা রৌশনাবাদ নামে পরিচিত হয়। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য পুরান ঢাকার আগা সাদেক রোড ত্রিপুরা বিজয়কালীন ফৌজদার আগা সাদেকের নামের স্মৃতিকে ধারণ করে আছে এবং তাঁর কবরও সে স্থানে বিদ্যমান। da3
ত্রিপুরা বিজয়ের এ ঘটনার পর পরই ঈদ সমাগত হওয়ায় সে বছর ঢাকায় যুদ্ধ বিজয়ের আনন্দ এবং ঈদের আনন্দ যোগ হয়ে এক মহা উৎসবের রূপ পরিগ্রহ করে। নবাব এ বিজয়ের কারণে দ্বিগুণ উৎসাহে ঈদ পালন করেন এবং দরিদ্রদের মধ্যে ১,০০০ টাকা বিতরণ করার জন্য মীর সাঈদ আলী ও মীর মোহাম্মদ জামানকে আদেশ দেন। ঈদের দিন কিলা থেকে ঈদগাহ পর্যন্ত এক ক্রোশ পথে প্রচুর মুদ্রা বিতরণ করা হয়। ঈদের দিন ত্রিপুরার রাজা ধর্মমানিক্য বন্দী অবস্থায় ঢাকায় নীত হয়। ১৯ এপ্রিল ১৭২৯ তারিখে ছিল সে বছরের ঈদুল ফিতর। ত্রিপুরা রাজকে ঢাকা দুর্গে অন্তরীণ রাখার জন্য নবাব মহানুভবতার সঙ্গে নিজেই আদেশ প্রদান করেন এবং তার জন্য আহার্য ও পরিচ্ছদের ব্যবস্থা করেন। ‘তিবুরা মফতুহ’ ১১৪১ হিজরি ১৯২৯ ঈসায়ী শব্দ দ্বারা আরবি আবজাদ হাওয়াজের নিয়মে এ বিজয়ের তারিখ নির্ণয় করা হয়। ব্যতিক্রমী এ ঈদ উৎসবের ঘটনাকে কেন্দ্র করে ঢাকায় ঈদ উৎসবের ইতিহাসে যোগ হয় আরেকটি দিন। কোন বিজয়ে মুসলিম সৈন্যদের আল্লাহু আকবার শ্লোগান এবং কলেমা পাঠ, যুদ্ধবন্দীকে সসম্মানে এবং উপযুক্ত পোশাকে সম্মানের সহিত নিজেদের ঈদ উৎসবে সংযোগ ঘটানোর সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ঘটনা ঢাকার ইতিহাসে এটিই প্রথম। গরিবদের দান খয়রাত ইত্যাদির মাধ্যমে সে বিজয়ের ঈদ উৎসব ঢাকায় যে ঐতিহ্য সৃষ্টি করেছিল আজও এর ধারা অব্যাহত রয়েছে। বিশেষ করে ত্রিপুরা বিজয়ের ঘটনার স্মারকে ঢাকার সে বছরের ঈদ উৎসব ইতিহাসে আজও অক্ষয় হয়ে রয়েছে।

SHARE

Leave a Reply