Home প্রবন্ধ ঈদ এলো বর্ষা নিয়ে

ঈদ এলো বর্ষা নিয়ে

ড. রফিক রইচ#

বৃষ্টিভেজা কুমড়োর লকলকে ডগার মত স্বপ্নভরা আমার স্নেহের সোনামণিরা, তোমাদের জন্য আজকের লেখাটি মূলত ঈদ নিয়ে লিখবো। তবে এবারের ঈদুল ফিতরের চাঁদের নৌকাটি যেহেতু বর্ষার আকাশের কালো মেঘভরা নদীর ঢেউয়ে দুলতে দুলতে এসেছে তাই বর্ষার কিছু কথাও থাকবে লেখাটিতে। ছোট বন্ধুরা ঈদের একটি গান দিয়ে আজকের লেখাটি শুরু করি-
এক ফালি চাঁদ ভেঙে দেয় বাঁধ
সুখ শুধু রাশি রাশি,
সুখেরই বন্যায় ভেসে যায় অন্যায়
ঈদ শুধু খুশি হাসির।
সিয়ামের সাধনায় ত্যাগের মহিমায়
জীবন যে হয় চির সুন্দর,
পৃথিবীটা হয় কল্যাণময়
হয় যে কুরআনের প্রান্তর।
ইহকালীন পরকালীন মুক্তি যে বিশ্ববাসীর।
মানবতার জয় বিভেদের ক্ষয়
মুছে যায় অতীতের গ্লানি
চারিদিকে সব সাজ সাজ রব
মধুময় ঈদের যে বাণী
বিচ্ছেদ নয় বিশ্বময় ঈদটা ভালোবাসাবাসির।
আশা করি ঈদ নিয়ে গানের কথাগুলো তোমাদের ভালো লেগেছে। ঈদের মৌলিক যে বিষয়গুলো সেগুলো নিয়েই গানটি সাজানো। ঈদের ইতিহাস তোমরা অনেকেই কমবেশি জান। তারপরও সবার জন্যই অল্প করে বলছি।
বিশ্ব সংস্কৃতির রূপকার মহানবী (সা:) মক্কা থেকে মদিনায় হিজরত করে পর্যায়ক্রমে দেখলেন তারা ‘মিহিরজান’ ও ‘নওরোজ’ নামক দু’টি অনুষ্ঠানের মাধ্যমে আনন্দ উৎসব পালন করে। যে উৎসবে পরকালের কোনোই কল্যাণ নেই। শুধু পৃথিবীর ভোগ বিলাস ভরা। যারপরনাই খারাপ সব কাজে তারা লিপ্ত হতো। তখন (২) বিশ্বনবী (সা:) তাদের এমন পাপাচার পূর্ণ আনন্দ উৎসব দেখে চমকে গেলেন। তখন তিনি ব্যর্থ ঐ উৎসব দু’টির পরিবর্তে অর্থময়, কল্যাণময়, শান্তিময়, মুক্তিময়, ত্যাগ ও ভ্রাতৃময় ও অতিরিক্ত আনন্দময় দু’টি উৎসবের সূচনা করেন। এর একটি হলো ঈদুল ফিতর এবং অন্যটি হলো ঈদুল আজহা। ঈদুল আজহা, ঈদুল ফিতর অনুষ্ঠিত হওয়ার আড়াই মাস পর অনুষ্ঠিত হয়।
ঈদ শব্দের অর্থ হলো খুশি, বা বারে বারে ফিরে আসা। আর ফিতর শব্দের অর্থ হলো দান করা, সাদকা দেয়া, সুতরাং ঈদুল ফিতর শব্দের অর্থ হলো দানের আনন্দ বা সাদকাহ করার আনন্দ। অন্য দিকে আজহা শব্দের অর্থ হলো ত্যাগ বা কোরবানি। তাহলে ঈদুল আজহা শব্দের অর্থ দাড়ায় ত্যাগের বা কোরবানির আনন্দ। রমজানর মাসে একমাস রোজা রাখি আমরা। আশা করি তোমাদের মধ্যেও বেশির ভাগই রাখ। এ সময়টাতে আমরা সুবেহে সাদিক থেকে থেকে সূর্য অস্তমিত পর্যন্ত আল্লাহর নির্দেশে পানাহারসহ যাবতীয় বিধিনিষেধ মান্য করে আমরা রোজা করি। এ সময় গরিব, দুস্থ, অনাহারী, অভাবী মানুষের দুঃখ, কষ্ট আমরা অনুভব করি। এ সময়ে টাকাপয়সা বাঁচিয়ে এবং আমাদের গচ্ছিত সম্পদের জাকাতের অংশ তাদের দান করি এবং এর মাধ্যমে অনেক খুশি অনুভব করি। খুশি অনুভব করি দীর্ঘ একমাস মহান আল্লাহ পাকের দেয়া বিধিনিষেধ মেনে রোজা রেখে এবং বেশি বেশি দানখয়রাতসহ ইবাদত বন্দেগি করে নিজেদের গুনাহ মাফ করে নিয়ে পাপমুক্ত হয়ে। মহানবী (সা:) বলেছেন, সেই ব্যক্তি ধবংস হোক যে রমজান মাসকে পেল অথচ নিজেকে নিষ্পাপ করে নিতে পারলো না।
সুতরাং বুঝতেই পারছো রমজানের গুরুত্ব কত। ছোট বন্ধুরা তোমরা আরও একটি বিষয় জেনে আনন্দিত হবে যে, রজমান মাসে যারা রোজা রাখবে তাদের পুরস্কার আল্লাহ নিজ হাতে দেবেন। রোজাদারদের পুরস্কার কী? কেমন করে দেবেন ছোট বন্ধুরা এ বিষয়ে একটি

গান বলি-
রোজা আল্লাহ পাকের জন্য
আর কারো তো জন্য নয়,
রোজার সওয়াব পুরস্কার তাই
মহান আল্লাহর হাতেই হয়।

আসমানেরই দরজা খোলা
রমজানেরই দিনে
নেক আমল উঠাইবে
রাব্বুল আলমিনে।
খাঁটি রোজা আর নামাজে
আল্লাহ মাবুদ খুশি রয়।
রোজাদারের নিদ্রা হল
এবাদতের তুল্য,
নেয়ামতের বেহেস্ত হবে
তারই রোজার মূল্য।

আল্লাহর দয়ার কারিগরি
রোজার মধ্যে বেশি হয়।
রমজানের এত গুরুত্বের পেছনে যে কারণটি বড় সেটি হলো রমজানে শেষ দশকের বেজোড় রাতগুলোর মধ্যে পবিত্র লাইলাতুল কদরের রাতে মহানবী (সা:)-এর নিকট পবিত্র আল-কোরআন নাজিল করা হয়েছে। তা ছাড়া আরও বড় তিনখানা কিতাব যেমন তাওরাত, ইনঞ্জিল, যাবুর এ মাসেই নাজিল হয়। কাজেই ছোই সোনামণিরা বুঝতেই পারছো রমজানের গুরুত্ব কেমন।
bor2
যারা এ মাসে এবাদত বন্দেগিসহ রোজা রেখে নিজেদের পাপমুক্ত করতে পারলো না তাদের জন্য এ ঈদ কিন্তু খুশির নয়, খুবই দুঃখের। তাই তোমাদের যাদের সক্ষমতা আছে রোজা রাখায় তারা ভুল করে এ সুযোগ হাত ছাড়া করবে না। অন্য বন্ধুদেরও এ সুযোগ হাত ছাড়া করতে না করবে। অন্য দিকে ঈদ এলে তোমরা যারা সচ্ছল পরিবারের ছেলেমেয়ে তারা ভালো-ভালো জামা, জুতা, টুপিসহ অনেক কিছু পাচ্ছো। তোমাদের পিতা-মাতা এগুলো কিনে দিচ্ছেন। কিন্তু যাদের পিতা-মাতা নেই এতিম বা পিতা-মাতা থাকা সত্ত্বেও গরিব হওয়ার কারণে নতুন জামা-জুতা পায় না তাদের কী হবে? তাদেরকে কিন্তু তোমাদের আগে ব্যবহৃত জামা-জুতাগুলোর মধ্যে থেকে ভালো দু-একটি দিতে পারো। সম্ভব হলে তোমাদের দু-একজন অসহায় গরিব বন্ধুদের তোমাদের পিতা-মাতাকে বলে দু-একটি নতুন জামা বা জুতা কিনে দিতে পারো তাতে তারা অত্যন্ত খুশি হবে। আর তাদের কাউকে খুশি করতে পারলে দেখবে তোমার খুশিটা কেমন হবে। আমাদের ঈদের খুশিটা কিন্তু এমনই। যার দ্বারা মানবসমাজ উপকৃত হয় তিনিই উত্তম মানুষ। তোমরা যারা উত্তম মানুষ হতে চাও তারা অন্তত এ ঈদে গরিব দুঃখীদের সাধ্যমত সহযোগিতা করে উত্তম মানুষ হওয়ার গৌরব অর্জন করতে পারো। ঈদের দিনের মতো প্রতিটি দিন থাকবে নিরহঙ্কার, ত্যাগ ও দানের হাত করবে প্রসারিত। হানাহানি, মারামারি থেকে দূরে থাকবে। পরস্পরকে ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে আবদ্ধ করবে। কোলাকুলি করবে। আমাদের ঈদের শিক্ষা এগুলোই। সেদিকে খেয়াল রেখে ঈদের সারাটি দিন ঘুরবে, বেড়াবে। হইচই করবে। খাওয়া-দাওয়া করবে। তবে একটি কথা না বলে পারছি না-
তোমাদের অনেকেই ঈদের খুশি মেটাতে ঈদের কমপক্ষে চার-পাঁচ দিন আগে থেকে টিভি সিরিয়াল দেখা শুরু কর। শেষ কর ঈদের চার পাঁচ দিন পার হলে। শুধু তাই না এর ধারাবাহিকতা চলতে থাকে, যা মোটেও ভালো নয়। তবে টিভি দেখার অভ্যাসটা তোমাদের মধ্যে যারা শহরে থাক তাদের বেশি হয়। সেটা অবশ্য নানা কারণে।
যেমন-
১.    পিতা-মাতা চাকরিজীবী হওয়ার কারণে তোমাদেরকে সময় দিতে না পারা।
শারীরিক ও মানসিক বিকাশের উপযোগী বিনোদন ব্যবস্থার অভাব আবার থাকলেও অনিরাপদ।
৩.    চার দেয়ালে আবদ্ধ ঘরে করে বসবাস।
৪.    বৈচিত্র্যহীন নিঃসঙ্গ জীবন যাপন।
৫.    উপযুক্ত বন্ধু-বান্ধবের কমতি।
৬.    কাজের লোকের কাছে বেড়ে ওঠা ইত্যাদি।
তবে যে কারণেই হোক না কেন তা ক্ষতিকর। তোমাদেরকে একটি তথ্য দিই ওয়ার্ক ফর এ বেটার বাংলাদেশ (ডব্লিউ বিবি) ট্রাস্ট নামে একটি বেসরকরি সংস্থার জরিপে দেখা যায় ৪৮ ভাগ শিশুর অবসর কাটে টেভি দেখে। গ্লোবাল স্ট্্র্যাটেজির প্রতিবেদন অনুসারে অত্যন্ত জনপ্রিয় এ টেলিভিশন মারাত্মক ক্ষতিকর শিশুদের জন্য। ঘন্টার পর ঘন্টা টেভি দেখে সময় কাটানোতে এ শিশুগুলোর ওজন বেড়ে যায়। শরীরে শুরু হয় বড় ধরনের অসুখ। তাই ঈদের আনন্দ বা খুশি পেতে অতিরিক্ত টিভি না দেখে পিতা-মাতার সাথে সময় কাটাবে। একটি কথা মনে রেখ পিতা-মাতার মতো কেউ এ জগতে ভালো বন্ধু হয় না। কাজেই তোমাদের বেড়ানো বা আড্ডা দেয়ায় পিতা-মাতাকে বেছে নিতে পারো চমৎকার বন্ধু হিসেবে। মন খুলে সব বিষয়ে শেয়ার করতে পারো। তাতে শুধু ভালোই হবে, খারাপ হবে না। কাজেই পিতা-মাতার সাথে ঈদে ঘুরবে, বেড়াবে, আত্মীয় স্বজনের বাড়ি যাবে এবং মজাদার সব রকমারি খাবার খাবে। তবে খাবার গ্রহণের ক্ষেত্রে থাকবে সচেতন নইলে অপরিমিত তৈলাক্ত খাবার খেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়লে ঈদের আনন্দটাই মাটি হয়ে যাবে। সব সময়ই স্ন্যাকস জাতীয় খাবার বা ফাস্ট ফুড পরিহার করবে। না করলে মুটিয়ে জাবে। ধরবে নানা বড় বড় রোগ যেমন উচ্চরক্তচাপ, পরবর্তীতে ডায়াবেটিস স্ট্রোক ইত্যাদি।
আরো একটি কথা বলি সেটা হলো-ঈদকে কেন্দ্র করে মাদক ব্যবসায়ীরা তৎপর থাকে। মাদক ব্যবসায়ীদের এখন বড় টার্গেট হলো স্কুল-কলেজসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কোমলমতি ছাত্রছাত্রী। সেখানে তারা নানা কৌশল প্রয়োগ করে মাদক বা নেশাজাতীয় জিনিস ঢুকিয়ে দিচ্ছে। এই যেমন ধর কেউ তোমাকে বললো এই ট্যাবলেট খেলে ঘুম কম হবে পড়ালেখার প্রতি আগ্রহ বাড়বে, শরীর মনে ফুর্তি থাকবে। ঈদের মধ্যে দু-একটি খেলে ক্ষতি নেই ইত্যাদি। তবে সংক্ষেপে বলি যে যাই খেতে দিক না কেন পিতামাতার সাথে আলোচনা বা শেয়ার না করে কিছু খাবে না। তোমরা একটি জরিপের কথা শুনলে চমকে যাবে। আমাদের দেশে যারা নেশাগ্রস্ত তাদের ৯০ ভাগই শিশুকিশোর ও তরুণ। তাই সাবধান ঈদের আনন্দ বা ফুর্তিতে যেন কেউ এটা তোমাদের জীবনে যোগ না করতে পারে সেদিকে খেয়াল রাখবে।
আগামী দিনের কর্ণধার আমার হীরের টুকরোরা তোমরা জান এবারের ঈদুল ফিতর এসেছে কদম ফুলের তোড়া নিয়ে। ঈদুল ফিতর চাঁদের নৌকাটি এবার কদম কেয়া দোলনচাপা ও জুঁই ফুলে ভরা। বুঝতেই পারছো ঈদুল ফিতর, খুশি ও আনন্দের সাথে নিয়ে এসেছে প্রশান্তির প্রত্যাশিত বর্ষা। যা এবারের ঈদে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
তোমরা জান আষাঢ়-শ্রাবণ দুই মাস বর্ষাকাল। ছয়টি ঋতুর মধ্যে গ্রীষ্ম, বর্ষা ও শীতই প্রধানত দৃশ্যমান ঋতু। সব ঋতুর মধ্যে বর্ষা আমাদের শিল্প-সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে ব্যাপক প্রভাব বিস্তার করে আছে। বর্ষার এ আগমন একটু আগে ভাগেই আসে আবার সময়টা বিদায় নিলেও এর রেশটা বেশ কিছুদিন থেকে যায় যেন। তোমাদেরও প্রিয় ঋতুগুলোর মধ্যে বর্ষা অন্যতম। প্রিয় ঋতুর সাথে প্রিয় খুশির ঈদ একেবারে সোনায় সোহাগা যেন। বর্ষার আগমন রুক্ষ প্রকৃতি সিক্ত হয়ে ওঠে। তরুলতা, বৃক্ষরাজি, সজীব হয়ে গাঢ় সবুজ হয়ে ওঠে। সবুজ আর সতেজতায় ভরে যায় ডালপালা, বর্ষার আকাশ কালো মেঘে ভরা থাকে। সূর্যের দেখা কখনো মেলে কখনো মেলে না। আবার কখনো রোদ বৃষ্টি একাকার। বৃষ্টি শুরু হলে যেন থামার নাম নেই। অঝোর ধারায় ঝরতে থাকে। খাল-বিল, নদ-নদী ভরে যায়

পানিতে কানায়-কানায়। কখনো কখনো উপচিয়ে আশপাশের অঞ্চলকে ডুবিয়ে দেয়, ভাসিয়ে দেয়। গরিব-দুঃখী মানুষগুলোর কষ্টের সীমা থাকে না। জানমালেব ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। এসবের প্রধান কারণ হলো পর্যায়ক্রমে আমরা পরিবেশদূষণ করে যাচ্ছি। নদীর ভেতর শস্য বুনছি, ভরাট করছি, দখল করছি। বাঁধ নির্মাণ করছি অপরিকল্পিতভাবে। এসব কারণে নদ-নদীগুলো ভরাট হয়ে পানি ধারণক্ষমতা কমে যাচ্ছে। যার ফলে বর্ষার পানিতে ভেসে যায় দেশের এদিক সেদিক। যাহোক পরিবেশের ব্যাপারে আমরা যতœবান হবো। বর্ষার আরাম-আয়েশ আমরা তবেই ভোগ করতে পারবো। বর্ষাকে পাবো বন্ধু হিসাবে। আশীর্বাদ হিসেবে। আমাদের দেশের কৃষির সফলতা বর্ষা ঘিরেই। এ সময় কৃষক বীজ বোনেন, চারা তোলেন, রোপণ করেন।
ফসলের আয়োজন শুরু হয় এ সময়। যখন অঝোর ধারায় বৃষ্টি শুরু হয় তখন কাজকর্মে অনীহা বোধ হয়। অলস সময় পার করতে ইচ্ছা করে। তোমাদের তো স্কুল আর পড়ালেখায় ফাঁকি দেয়ার মোক্ষম সময়। আমরা গাঁও গ্রামে বড় হয়েছি। বর্ষার এ সময়টাতে বৃষ্টি শুরু হলেই আর স্কুলে যাওয়া নেই। বড়শি দিয়ে মাছ মারা, পাড়াগাঁয়ের ছেলেদের সাথে হই হল্লোড় করা। খাল বিল নদীতে ঝাঁপিয়ে পড়া কত আনন্দ করতাম। তোমরাও কর নিশ্চয়। ঈদের সাথে এমন বর্ষাকে কাছে পাওয়া তোমাদের আনন্দের মাত্রাকে বাড়িয়ে দিয়েছে বহুগুণ। তবে সাবধান তোমরা যারা সাঁতার জানো না তারা সাঁতার না শিখে কখনও পানির ধারে কাছে যাবে না। কোন বন্ধু-বান্ধব ডাকলেও যাবে না। হঠাৎ করে কোনো অঘটন ঘটলে বর্ষাভেজা ঈদের এ আনন্দ একেবারে ম্লান হয়ে যাবে তোমার ও তোমার পরিবারের কাছে। পাশাপাশি আত্মীয় স্বজনদেরও ঈদ মাটি হয়ে যাবে।
তা ছাড়া এসময় সাপের উপদ্রব বেশি থাকে। কারণ চারিদিকে পানি থই থই। নানা প্রজাতীর বিষাক্ত সাপ এ সময় গাছে বা ঘরের শুকনো স্থানে আশ্রয় নেয় বাঁচার জন্য। তাই চলাফেরা সাবধানে করতে হবে। বর্ষার সময় সাপের কামড়ে যারা মারা যায় তাদের অধিকাংশ শিশু-কিশোর। অন্য দিকে ঈদের আনন্দ আরো জোরালো করতে যেন বৃষ্টিতে ভিজ না। অসুখ করবে। জ্বর-সর্দি হবে। তা ছাড়া খাবার গ্রহণের ক্ষেত্রে বিশেষ করে পানি পানের ক্ষেত্রে যতœবান থাকবে যেন, ডায়রিয়া কলেরা, আমাশয়ের মতো বর্ষাকালীন রোগ না হয়। তবেই ঈদের আনন্দ অটুট থাকবে।
পরিশেষে বলতে চাই ঈদ যেমন আমাদের অন্তরের ময়লা পরিষ্কার করে, পাপমোচন করে বিশুদ্ধ করে, পরিবার সমাজ তথা দেশের মধ্যে সুখ শান্তি ও সমৃদ্ধি আনে ঠিক তেমনি ভাবে বর্ষার বৃষ্টির পানিতে দেশের ময়লা আবর্জনা ধুয়ে-মুছে পরিষ্কার হয়ে যায়। নিয়ে আসে অর্থনৈতিক মুক্তির পলি। প্রকৃতিকে করে তোলে সুফলা, সবুজ সতেজ। সুতরাং বুঝতেই পারছো ঈদ এবং বর্ষার মধ্যে বড় মিল রয়েছে। ঈদ মনের ময়লা বা অন্তরের ময়লা পরিষ্কার করে পক্ষান্তরে বর্ষা প্রকৃতির ময়লা পরিষ্কার করে। ঈদ এবং বর্ষার এই পরিচ্ছন্নতায় তোমরা পরিচ্ছন্ন হও। পবিত্র হও। এগিয়ে যাও। এগিয়ে যাক বাংলাদেশ। আমাদের বাংলাদেশ।

SHARE

Leave a Reply