Home তোমাদের গল্প বাবড়ি চুলওয়ালা ভূত

বাবড়ি চুলওয়ালা ভূত

তাজরিয়া আক্তার এমি #

aমিরানা রাতে মায়ের সাথে ঘুমোয়। আজ সকালে মা বলেছিলেন, তিনি এক জরুরি কাজে খালার বাসায় যাবেন। আজ রাতটা মিরানার মাকে ছাড়াই কাটাতে হবে। প্রথমে সে তৎক্ষণাৎ রাজি হয়ে গিয়েছিলো, পরক্ষণেই রাতে একা থাকতে হবে ভেবে তার মনটা বিষন্নতায় ভরে গেলো। আসলে কারণটা ছিল কার্টুন দেখা। মা চলে গেলে কার্টুন দেখতে পারবে ইচ্ছেমতো। বারণ করার কেউ নেই।
রাত দশটা থেকে এগারটার দিকে ঘুমোয় মিরানা। আজ রাত জেগে কার্টুন দেখার ইচ্ছে ছিল। কিন্তু মাকে ছাড়া তার ভালো লাগছিল না। তাই একটু তাড়াতাড়িই শুয়ে পড়লো সে। কিন্তু মাঝরাতে হঠাৎ তার ঘুম ভেঙে গেল। হাতটা শূন্য বিছানার ওপর পড়তেই তার শরীর শিউরে উঠলো। মনে পড়ে গেলো, মা পাশে নেই। ঘুটঘুটে অন্ধকার। শান্ত-পরিবেশ। হাতের পাশের জানালাটি দিয়ে আসছে শো শো বাতাস। পরিবেশটা কেমন যেন ভৌতিক ভৌতিক লাগছে। একটু কৌতূহলী হয়ে জানালাটির দিকে তাকাতে না তাকাতেই ঝাপসা ঝাপসা ঠিক কী যেন দেখতে পেলো মিরানা। মনে হচ্ছে একটা মেয়ে দাঁড়িয়ে আছে তাদের পাশের বিল্ডিংয়ের ছাদে। একদম নড়াচড়া নেই। একটু টলেও না। মিরানা আরো ভালোভাবে দেখার জন্য বিছানা থেকে উঠে ভয়ে ভয়ে জানালার পাশে গেলো। কিন্তু প্রচন্ড বাতাসের কারণে স্পষ্টভাবে কিছুই দেখতে পেলো না। তবে মনে হলো চুলগুলো ঘাড় অবধি পড়বে মানে বাবড়ি কাটা। শরীরের কাপড়টি স্পষ্ট  বোঝা না গেলেও তা খুব বড়সড় ছিল এবং বাতাসে উড়ছিল। ভয়ে তার শরীর কাঁপুনি দিয়ে উঠলো। মাথাটা ঝিম ধরে চোখ দুটো ঝাপসা হয়ে আসছে। তারপর তার আর কিছু মনে নেই।
সকালে চোখ মেলতেই মাকে দেখে সে হাউমাউ করে কাঁদতে লাগলো। রাতে ঘটে যাওয়া সবটা ঘটনা খুলে বলল মাকে। সবকিছু শুনে তিনি কিছু হতভম্ব হয়ে বসে রইলেন। তিনি তাকে আবার জিজ্ঞাসা করলেন, ওই মেয়েটিকে সে কোথায় দেখেছে। সে জবাব দিল, কমলা ভবনের দোতলা ছাদের ওপর। তিনি অনেকক্ষণ ওই দিকটায় তাকিয়ে রইলেন। ক্ষণিকবাদে মা উচ্চস্বরে হেসে উঠলেন, মিরানা কিন্তু তখনও বুঝে উঠতে পারছিল না, আসলে ব্যাপারটা কী? আসলে কমলা ভবনের ছাদের ওপর আছে একটি লম্বা বাঁশ আর তার মাথায় মাঝারি আকারের একটি বাংলাদেশের পতাকা। তার নিচে উড়ছে একটা বড়সড় আর্জেন্টিনার পতাকা। আসলে ওই সময় ফুটবল বিশ্বকাপ চলছিল তো।

SHARE

1 COMMENT

  1. আসসালামু আলাইকু দয়া করে বলবেন কি, কিভাবে ইমেইল এর মাধ্যমে লেখা পাঠানো যায়।?
    নিয়মাবলী বিশদ ভাবে জানালে উপকার হয়। আর ইমেইলের কি রিপ্লাই দেয়া হব্এ যে লেখা পাব্লিশ হবে কি না?

Leave a Reply to আহমেদ মুসা Cancel reply