Home কুরআন ও হাদিসের আলো কাজ কারো মর্যাদা কমায় না

কাজ কারো মর্যাদা কমায় না

“সালাত সমাপ্ত হলে তোমরা পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়বে এবং আল্লাহর অনুগ্রহ সন্ধান করবে ও আল্লাহকে অধিক স্মরণ করবে, যাতে তোমরা সফলকাম হও।” (সূরা জুমুয়াহ : ১০)

হালাল জীবিকার সন্ধান
পরিশ্রমের মাধ্যমেই জীবনধারণের সামগ্রীসমূহ অর্জন করে নিতে হয়। আর এ পরিশ্রমলব্ধ উপার্জনকে ইবাদতের মতোই ফরজ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন রাসূল সা.। তিনি বলেছেন, “ফরজ আদায়ের পর হালাল উপাজর্নের অনে¦ষণ করাও ফরজ।” (বায়হাকি)। হালাল জীবিকা উপার্জনের বিভিন্ন পথ ও পদ্ধতি রয়েছে। কৃষিকর্ম, শিল্প-উৎপাদন, ব্যবসা-বাণিজ্য, চাকরি সবই এর অন্তর্ভুক্ত। কাজের প্রতি উৎসাহ প্রদান করেই আল্লাহ পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়ার কথা বলেছেন। আলোচ্য আয়াতে ‘পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়া’র অর্থ হচ্ছে ‘কর্মক্ষেত্রে ছড়িয়ে পড়া’ এবং ‘আল্লাহর অনুগ্রহ’ দ্বারা জীবিকা অনুসন্ধানের কথা বলা হয়েছে।

কাজ করার মধ্যে লজ্জা নেই
কাজ করার মধ্যে কোনো লজ্জা নেই, তা বড় হোক কিংবা ছোটই হোক। প্রত্যেক পেশার মানুষই সমাজে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছেন। মুটে-মজুর, কামার-কুমার, জেলে-চাষি, মুচি-মেথর থেকে শুরু করে শিক্ষক, ব্যবসায়ী, ডাক্তার-ইঞ্জিনিয়ারসহ সবাই। তাই, সব ধরনের বৈধ পেশাজীবির প্রতি সমান সম্মান প্রদর্শন করা উচিত। যেমন, রাসূল সা. বলেছেন, “তোমাদের কেউ যদি রশি নিয়ে পিঠে কাঠের বোঝা বহন করে তা বিক্রি করে এবং এর বিনিময়ে যদি আল্লাহ তার চেহারাকে (শাস্তি থেকে) নিরাপদ রাখেন; এ কাজটি মানুষের নিকট ভিক্ষা করার চেয়ে উত্তমÑ চাই তাকে কেউ দান করুক বা না করুক।” (সহীহ বুখারি)।

নবীরাও কাজ করতেন
পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ মানুষ নবী-রাসূলরাও কাজ করতেন। আমাদের প্রিয়নবী মুহাম্মদ সা. নিজের কাপড় নিজেই পরিষ্কার করতেন, নিজের জুতো সেলাই করতেন। দাউদ আ. লোহার বর্ম তৈরি করে জীবিকা নির্বাহ করতেন। জাকারিয়া আ. ছিলেন কাঠমিস্ত্রি। ইদরিস আ. দর্জির কাজ করতেন। আদম আ. করতেন কৃষিকাজ। এভাবে প্রত্যেক নবী-রাসূলই কাজ করে প্রমাণ করেছেন যে, নিজের হাতের উপার্জনই শ্রেষ্ঠ।
বন্ধুরা, এসো আমরাও নিজেদের কাজগুলো নিজেরাই করার চেষ্টা করি।

গ্রন্থনা : বিলাল হোসাইন নূরী

SHARE

Leave a Reply