Home কুরআন ও হাদিসের আলো কেমন হবে মালিক-শ্রমিক সম্পর্ক

কেমন হবে মালিক-শ্রমিক সম্পর্ক

“আবদুল্লাহ ইবনে উমার রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল সা. ইরশাদ করেছেন, তোমরা শ্রমিককে তার শরীরের ঘাম শুকানোর আগেই পারিশ্রমিক দিয়ে দাও।”
(ইবনু মাজাহ)

বন্ধুরা, পৃথিবীজুড়েই শ্রমিকরা নির্যাতিত হচ্ছেন মালিকপক্ষের হাতে। যেমনটি হয়েছিল ১৮৮৬ সালের ১লা মে আমেরিকার শিকাগো শহরে। অথচ ইসলামের দৃষ্টিতে মালিক-শ্রমিকের সম্পর্ক হওয়া উচিত ভাইয়ের মতো। আজ আমরা সে বিষয়েই কথা বলছি।
শ্রমিকের মর্যাদা অনেক
জীবিকা নির্বাহের জন্য যারা অন্যের কাজ করে, ইসলাম তাদের অনেক অধিকার প্রদান করেছে। শ্রমিকের মর্যাদা কত বেশি, আবু হুরায়রাহ রা.- এর একটি উক্তিই তা প্রমাণের জন্য যথেষ্ট। তিনি বলেছেন, “যে সত্তার হাতে আবু হুরায়রাহ্র প্রাণ, তার কসম!  যদি আল্লাহর পথে জিহাদ, হজ ও আমার মায়ের প্রতি সদ্ব্যবহারের ব্যাপারগুলো না থাকত, তাহলে আমি শ্রমিক হিসেবে মৃত্যুবরণ করতে পছন্দ করতাম।” (বুখারি ও মুসলিম)
সাধ্যের অতিরিক্ত কাজ দেয়া যাবে না
একজন শ্রমিককে তার সাধ্যের অতিরিক্ত কাজ দেয়া অন্যায় এবং অমানবিক। আল্লাহ কুরআনে বলেছেন, তিনি মানুষকে সাধ্যের অতিরিক্ত কাজ করতে বাধ্য করেন না। রাসূল সা. বলেছেন,  তুমি যদি তোমার কর্মচারীর কাজ হালকা করে দাও, তাহলে এর জন্য তোমার বিনিময় রয়েছে।
ন্যায্য পারিশ্রমিক দিতে হবে
যেসব মালিক শ্রমিকের প্রাপ্য বুঝিয়ে দেন না, তাদের ব্যাপারে হাদিসে কুদসিতে এসেছে- ‘‘মহান আল্লাহ বলেন, কিয়ামতের দিন তিন ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হবে। তাদের মধ্যে একজন হলো, যে শ্রমিকের নিকট থেকে পূর্ণ শ্রম গ্রহণ করে অথচ তার পূর্ণ পারিশ্রমিক প্রদান করে না।” (বুখারি)
শ্রমিকের সম্মান রক্ষা করতে হবে
শ্রমিকের সম্মান রক্ষা করা মালিকের অন্যতম কর্তব্য। রাসূল সা. কাজের লোকদের সাথে একত্রে বসে আহার করতেন। তাদের গালিগালাজ করা যাবে না। প্রহার করা যাবে না। শ্রমিককে প্রহার করলে তার ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।

গ্রন্থনা : বিলাল হোসাইন নূরী

SHARE

Leave a Reply