Home ধারাবাহিক: দুর্গম পথের যাত্রি দুর্গম পথের যাত্রী

দুর্গম পথের যাত্রী

আসাদ বিন হাফিজ#

গত সংখ্যার পর

‘আবদুল্লাহ বিন উবাই কী করছে?’ আবু সুফিয়ান জানতে চাইল।
হাসলো ইহুদি। বললো, ‘তোমরা ভুল লোককে বন্ধু বাছাই করেছো। আসলে তার কোন ধর্ম নেই। এই লোক আগে ছিল ইহুদি। মুসলমানদের অগ্রযাত্রা দেখে সে হয়ে গেল মুসলমান। ওহোদের যুদ্ধের সময় তার ভক্ত তিন শ’ লোককে ভাগিয়ে নিয়ে আসার পর থেকে মুসলমানরা আর তাকে বিশ্বাস করে না। এখন তারা তাকে ডাকে মুনাফিক বলে। বিশাল বাহিনী নিয়ে তোমরা আসবে জেনে সে গোপনে তোমাদের দলে ভিড়ে গিয়েছিল। কিন্তু খন্দক খননের পর মুসলমানদের প্রতিরক্ষা প্রস্তুতি দেখে সে নিশ্চিত হয়ে গেছে, এবার তোমরা মুসলমানদের কিছুই করতে পারবে না। তাই সে তার চোখ উল্টে ফেলে আবার মুসলমানদের সঙ্গী হয়ে গেছে। আসলে সে তোমাদেরও বন্ধু নয়, মুসলমানদেরও বন্ধু নয়। সে কেবল তার নিজের বন্ধু।’
আবু সুফিয়ানের চেহারা দুশ্চিন্তায় ছেয়ে গেল। মদীনার সীমান্তে অল্প ক’জন পাহারাদার দেখে তার মুখে যে হাসি হাসি ভাব জমা হয়েছিল এ খবর শোনার পর সে হাসি কোথায় যেন মিলিয়ে গেল। সে এবার প্রশ্ন করলো, ‘যুইয়া বিন আফতাব কোথায়? সে কী করছে?’
‘সে মদীনার ভেতরেই আছে। সে এবং আমার আরো কিছু সঙ্গী ওখানে মুসলমানদের মনোবল দুর্বল করার জন্য সম্ভাব্য সবকিছুই করবে।’
ওহোদের প্রান্তর অতিক্রম করতে করতে এসব কথাই মনে পড়ছিল খালিদ বিন ওয়ালিদের। তার মনে আছে এই অবরোধ বাইশ দিন স্থায়ী হয়েছিল। এ বাইশ দিনে কাফেররা মদীনার ওপর কার্যকর কোন আঘাতই হানতে পারেনি। তাদের খাদ্য ও রসদ কমে আসছিল। তারচেয়েও সঙ্কট দেখা দিল পানির। সৈন্যদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিলো। বিশেষ করে কুরাইশ ছাড়া যেসব গোত্র এ অভিযানে শরিক হয়েছিল তারা ফিরে যেতে চাইল। খালিদ দুঃসহ যন্ত্রণায় ছটফট করেছে এ বাইশ দিন।
ওদিকে মদীনার অবস্থাও ভালো ছিল না। কাফেররা কতদিন অবরোধ অব্যাহত রাখবে জানা নেই তাদের। এ ব্যাপারে মহানবী সা: নিজেও জানেন না কিছু। তাই তিনি খাবার রেশন করে দিলেন। মদীনার সমস্ত জনসাধারণকে নিয়ে এলেন এই প্রোগ্রামের আওতায়। এই সুযোগকে কাজে লাগালো মুনাফিক ও ইহুদি সম্প্রদায়। তারা প্রচার করতে লাগলো, মদীনায় খাদ্য ঘাটতি দেখা দিয়েছে। আত্মসমর্পণ না করলে না খেয়ে মরতে হবে সবাইকে। তারা দাবি তুললো, ‘খাবার চাই, পানি চাই, বাঁচার মত বাঁচতে চাই।’ এ সময় নানা রকম গুজব ছড়িয়ে পড়লো শহরময়। এই গুজবের উৎপত্তি কোথায় কেউ জানতো না। একবার গুজব ছড়িয়ে পড়লো, কাফেরদের জন্য খাদ্য ও রসদ নিয়ে এগিয়ে আসছে পারস্য বাহিনী। জনসাধারণের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টির জন্য ওরা বলাবলি করতে লাগলো, ‘পেটের ক্ষুধায় আমাদের না খেয়ে মরতে হবে। আমাদের চোখের সামনে মারা যাবে আমাদের শিশু ও নারীরা।’ লোকজন জটলা করে যখন এসব বলাবলি করছিল তখন শোনা গেল এক সাহাবীর বলিষ্ঠ কণ্ঠস্বর। তিনি বলতে লাগলেন, ‘হে মদীনার জনসাধারণ, আমাদের সৌভাগ্য যে, আমরা একজন নবী পেয়েছি। আল্লাহর সাহায্য সবসময় নবীর সাথে আছে। তিনি চাইলে আকাশ থেকে আমাদের জন্য খাবার পাঠাবেন, যেমন পাঠিয়ে ছিলেন মূসা নবীর উম্মতের জন্য। আর যদি আল্লাহ তাঁর নবীকে না খাইয়ে মারতে চান তবে আমরা এমন কী হয়ে গেছি যে, নবীর চাইতেও অধিক মর্যাদা দাবি করবো? তিনি না খেয়ে মরলে আমরাও না খেয়ে মরবো, তবু কাফেরের কাছে আত্মসমর্পণ করবো না। যুদ্ধের সময় এ ধরনের আলোচনা কাপুরুষতা ও নির্লজ্জতার নামান্তর। আমরা তো নিয়মিত খাবার পাচ্ছি, তবে অহেতুক এসব আলোচনা কেন? এরপরও যারা এ নিয়ে সমাজে অসন্তোষ সৃষ্টির চেষ্টা করবে তারা আল্লাহ ও তাঁর নবীর দুশমন। প্রয়োজনে তাদের বিরুদ্ধেও আমরা অভিযান পরিচালনা করতে বাধ্য হবো।’ তার এ বক্তব্যের পর লোকজন জটলা ভেঙে যার যার ঘরের দিকে চলে গেল।
অবরোধের দশ দিন চলে গেছে। কাফেররা কোন আক্রমণই পরিচালনা করতে পারেনি। খালিদ উদাস নয়নে তাকিয়ে দেখে মদীনা। ভাবে, মুষ্টিমেয় মুসলমান আত্মরক্ষার কী কৌশলই না এঁটেছে। দশ হাজারের অধিক প্রশিক্ষিত বাহিনী নিয়েও তারা ওদের কিছুই করতে পারছে না। যুদ্ধ হলে তো জয় পরাজয়ের প্রশ্ন, যুদ্ধই তো হচ্ছে না। আবু সুফিয়ান তাঁবুর বাইরে অস্থিরভাবে পায়চারি করছিল। তার অস্থিরতার কারণ খাদ্যসঙ্কট। কুরাইশের একদল সেনা পাশের গ্রামে হানা দিয়ে কিছু খাবার লুট করে এনেছে। এতে দুই ধরনের সমস্যা দেখা দিয়েছে। মদীনার আশপাশের গ্রামের লোকজন অধিকাংশই ছিল ইহুদি। এসব ইহুদি গ্রামবাসী তাদেরকে শত্রু জ্ঞান করা শুরু করেছে। অন্য দিকে অন্যান্য কবিলার সৈন্যরাও লুটপাটের প্রতি প্রলুব্ধ হয়ে পড়েছে, বলছে, ‘কুরাইশরা লুট করতে পারলে আমাদের দোষ কোথায়?’
পায়চারি করতে করতে একসময় আবু সুফিয়ানের মনে পড়লো হাইয়া বিন আফতাবের কথা। এই ইহুদিই একমাত্র ব্যক্তি, যে মদীনার অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতির খবর নিয়মিত তাকে সরবরাহ করছিল। আবু সুফিয়ানের মনে নতুন খেয়াল এলো, মদীনার ইহুদিদের সাথে সম্পর্ক বাড়াবার ক্ষেত্রে এ লোক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারবে। পায়চারি থামিয়ে আবু সুফিয়ান এক রক্ষীকে ডেকে বললো, ‘হাইয়া বিন আফতাবকে খবর দাও। খুঁজে দেখো সে কোথায় আছে। তাকে বলবে, আমি জরুরি ভিত্তিতে তাকে স্মরণ করছি।’
রক্ষীবাহিনী চারদিকে ছড়িয়ে পড়লো তাকে খুঁজতে। একসময় পেয়েও গেল। খবর পেয়েই ছুটে এলো হাইয়া বিন আফতাব। আবু সুফিয়ান তাকে জানালো খাবার লুটের ঘটনা। বললো, ‘আমি আশঙ্কা করছি এতে ইহুদিদের সাথে আমাদের সম্পর্ক খারাপ হয়ে যেতে পারে। এটা যাতে না হয় সে ব্যবস্থা করতে হবে তোমাকে।’
হাইয়া বিন আফতাব তাকে আশ্বস্ত করে বললো, ‘এটা নিয়ে আপনি ভাববেন না। আপনি চাইলে তাদেরকে আমাদের পক্ষে ব্যবহার করার একটা চেষ্টাও করতে পারি।’
‘এটা তো উত্তম প্রস্তাব।’ আবু সুফিয়ান বললো, ‘তাদেরকে লোভ দেখাও। তারা যদি আমাদের সহায়তা করে তবে আমরা তাদের এমন প্রতিদান দেবো যা তারা কল্পনাও করতে পারবে না।’
সেদিনই রাতের ঘটনা। মদীনার উপকণ্ঠে বাস করতো ইহুদিদের এক সম্প্রদায় বনু কোরাইজা। সেই সম্প্রদায়ের সরদার ছিল কাব বিন আসাদ। রাতে তিনি ঘুমিয়েছিলেন। গভীর রাতে শুনতে পেলেন বাইরের ফটকের কড়া নাড়ছে কেউ। শুয়ে শুয়ে অনেকক্ষণ তিনি সেই কড়া নাড়া শুনলেন। শেষে অধৈর্য হয়ে চাকরকে বললেন, ‘দেখো তো এত রাতে কড়া নাড়ছে কে?’
চাকর ফিরে এসে বললো, ‘হাইয়া বিন আফতাব এসেছে।’
সরদার তার নাম শুনে মনে মনে বললো, ‘নিশ্চয়ই কোন কুমতলব নিয়ে এসেছে, নইলে এত রাতে আসার কারণ কী?’ চাকরকে বললো, ‘কেন এসেছে তোমাকে বলে যেতে বলো। আর যদি আমার সাথেই দেখা করতে চায় তবে দিনের বেলা আসতে বলো।’
চাকর ফিরে গিয়ে হাইয়া বিন আফতাবকে মনিবের অভিপ্রায় জানালো। হাইয়া বললো, ‘ভীষণ জরুরি দরকার না হলে এ মুহূর্তে আমি আসতাম না। তুমি তোমার মনিবকে বলো, আমি এখনই তার সাথে দেখা করতে চাই।’
চাকর মনিবকে এসে সেই কথা জানালো। কাব বিন আসাদ অগত্যা তাকে দেখা করার সুযোগ দিলো। গায়ে কাপড় চড়িয়ে বৈঠকখানায় গিয়ে বসলো সরদার। চাকরকে বললো, ‘নিয়ে এসো তাকে।’
হাইয়া বিন আফতাবকে দেখেই কাব বিন আসাদ বললো, ‘আমি জানি তুমি কেন এসেছো। তুমি আবু সুফিয়ানের প্রস্তাব নিয়ে এসেছো। তাকে বলো, আমরা মুসলমানদের সাথে সহযোগিতা চুক্তিতে আবদ্ধ। তারা আমাদের বিশ্বাস করে এবং সম্মান করে, আমরাও তাদের বিশ্বাস ও সম্মান করি। আমি বিশ্বাসঘাতক নই, মুসলমানদের সাথে আমি বিশ্বাসঘাতকতা করতে পারবো না।’
হাইয়া বিন আফতাব বললো, ‘আপনি ঠিকই ধরেছেন। আপনি জানেন কুরাইশরা মদীনা অবরোধ করে বসে আছে। আবু সুফিয়ান আপনার বন্ধুত্ব কামনা করছে। তিনি এর উপযুক্ত প্রতিদান দেয়ারও অঙ্গীকার করেছেন।’
‘কিন্তু তুমি জানো মুসলমানদের সাথে আমাদের শান্তিচুক্তি আছে। আমরা আক্রান্ত হলে তারা আমাদের সহায়তা করবে আর তারা আক্রান্ত হলে আমরা তাদের সহায়তা করবো।’ বনু কুরাইজার সরদার বললো, ‘চুক্তি ভঙ্গ করলে মুসলমানরা আমাদের সাথে সেই ব্যবহার করবে যা করেছিল বনু কাইনুকা ও বনু নজির গোত্রের সাথে।’

‘সে জন্যই তো বলছি। বনি কাইনুকা ও বনি নজির গোত্র চুক্তি করার পরও মুসলমানদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করেছিল বলে মুসলমানরা তাদের জন্মভিটা থেকে তাড়িয়ে দিয়েছিল। হত্যা করেছিল ষড়যন্ত্রে জড়িত যুবকদেরকে। আরবের সীমানার বাইরে গিয়ে তারা এখন সিরিয়ায় বসবাস করছে। এখন বাকি আছো তোমরা। কোন একদিন ষড়যন্ত্র ভঙ্গের অজুহাত তুলে তোমাদেরও এখান থেকে বহিষ্কার করবে না এর নিশ্চয়তা কোথায়? তুমি জানো মুসলমানদের সংখ্যা মাত্র হাজার তিনেক। আর কুরাইশরা আবু সুফিয়ানের মত সেনাপতির নেতৃত্বে দশ হাজারের অধিক প্রশিক্ষিত সৈন্য নিয়ে এখানে এসেছে মুসলমানদের শায়েস্তা করতে। একটা শিশুও বলবে, এ যুদ্ধে কুরাইশদের জয় সুনিশ্চিত। তারা জয়ী হলে তোমরা মুসলমানদের হাতে নিগৃহীত হওয়ার আশঙ্কা থেকে চিরতরে নিস্তার পেয়ে যাবে। এমন সুযোগ কেন হারাবে তোমরা? এ যুদ্ধে তোমরা সামান্য সহযোগিতা করলে বলতে পারবে যুদ্ধে তোমরাই জয়ী হয়েছো। আবু সুফিয়ানের প্রস্তাব তোমাদের জন্য এক মহা সুযোগ। কাব, এখনো সময় আছে সাবধান হও। এটা তোমার একার বিষয় নয়, এর সাথে জড়িয়ে আছে একটা সম্প্রদায়ের বাঁচা-মরার প্রশ্ন।’ হাইয়া বিন আফতাব আশায় বুক বেঁধে তার দিকে তাকিয়ে রইলো।
বনু কোরাইজার সরদার বললো, ‘যুদ্ধে জয় এত সহজ হলে আবু সুফিয়ান আমাদের দিকে তাকিয়ে আছে কেন? না, হাইয়া, মুসলমানদের সাথে বিজয় এত সহজ নয়। তোমরা পরাজিত হলে মুসলমানরা আমাদের সাথে কী ব্যবহার করবে তা তোমার অজানা নয়। তোমরা জেনেশুনে আমাকে এক মহাবিপদে ফেলতে চাচ্ছো। হাইয়া, আমি তোমার প্রস্তাবে সাড়া দিতে পারছি না। আমি এতদূর করতে পারি, টালবাহানা করে মুসলমানদের সহযোগিতা করা থেকে বিরত থাকতে পারি।’
‘তাতে এটাই প্রমাণিত হবে, তুমি মুসলমানদের সাথে চুক্তির শর্ত রক্ষা করোনি। সে ক্ষেত্রে মুসলমানরা তোমাদের সাথে সেই ব্যবহারই করবে, যা করেছিল বনু কাইনুকা ও বনু নজির গোত্রের সাথে। না, এমনটা করা তোমাদের জন্য মঙ্গলজনক হবে না। তুমি যদি আবু সুফিয়ানের সহযোগিতা না করো তবে মুসলমানদেরই সহযোগিতা করো। যুদ্ধের সময় নিরপেক্ষতার কোন স্থান নেই। হয় তুমি আবু সুফিয়ানকে সহযোগিতা করে তার বন্ধুত্ব ও উপহার লাভ করো আর না হয় মুসলমানদের সাহায্য করে ভবিষ্যতের জন্য বিপদ বাড়িয়ে তোল। কোনটা করবে ভালো করে চিন্তা করে দেখো।’
হাইয়া বিন আফতাব এভাবে মুসলমানদের বিরুদ্ধে বনু কুরাইজার সরদার কাব বিন আসাদকে প্ররোচিত করতে থাকে। তাকে বলে, ‘তর্কের খাতিরে যদি ধরে নিই কুরাইশরা পরাজিত হয়েছে তাহলে তারা যখন দেশে ফিরবে তোমরাও তাদের সাথে যাবে। বন্ধুত্বের বিনিময়ে সেখানে পাবে নতুন করে বসতি গড়ার সুযোগ।’
এক সময় সফল হয় হাইয়া বিন আফতাবের চাল। আবু সুফিয়ানকে সহযোগিতার ওয়াদা নিয়ে তবে বিদায় হয় সে। কাব বিন আসাদ বলে, ‘হাইয়া, আমার সৈন্যদের প্রস্তুত করার জন্য আমাকে কিছুটা সময় দাও। আমি তোমাকে জানাবো কবে আমরা ময়দানে নামতে পারবো।’
‘এ নিয়ে তুমি কোন চিন্তা করো না।’ হাইয়া বিন আফতাব বললো, ‘তুমি মুসলমানদের সহযোগিতা করার জন্যই মদীনা যাবে। পরে যুদ্ধের কৌশল নিয়ে তাদের সাথে মতবিরোধের সৃষ্টি করে গোলযোগ পাকিয়ে তুলবে। মুসলমানদের মনোযোগ যখন তোমাদের দিকে সেই সুযোগে মক্কার বাহিনী মুসলমানদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়বে। তুমি তোমার বাহিনীকে বেশি ঝুঁকিতে না ফেলে সেখান থেকে সরে আসবে। আর হ্যাঁ, তুমি মদীনায় প্রবেশ করবে পাহাড়ের কোল ঘেঁষে। পাহাড়ের আড়ালে কুরাইশদের একটা অংশ ওঁৎ পেতে বসে আছে। তারা চেষ্টা করবে তোমার বাহিনীর সাথে মিশে মদীনায় প্রবেশ করতে। একবার মদীনায় ঢুকতে পারলে এরপর কী করতে হবে সেটা ওরাই বুঝবে, ও নিয়ে তোমাকে মাথা ঘামাতে হবে না।’
হাইয়া বিন আফতাবের চতুরতার কাছে হার মানলো বনু কোরাইজার সরদার।  তার সম্মতি নিয়ে রাতের আঁধারেই আবার বেরিয়ে এলো হাইয়া বিন আফতাব।
খালিদ বিন ওয়ালিদ ওহোদের প্রান্তর পার হচ্ছে, স্মৃতিতে ভাসছে খন্দকের যুদ্ধ। কত ঘটনাই না ঘটেছে সেদিন। তার মনে পড়ে গেল সাদ বিন আতিকের কথা।
সাদ বিন আতিক মদীনার এক সাধারণ যুবক। পেশায় একজন কামার। সারাদিন ছুরি আর তলোয়ার ধার দেয়। পরিশ্রমী বলেই শরীরে মেদ নেই, সুঠাম দেহ। বিস্ময়কর হচ্ছে তার কণ্ঠের জাদু। এমন সুমিষ্ট গলা যার জুড়ি মেলা ভার। যখন কাজ করে তখনও গুনগুন করে গান গায় আর রাতে বিভিন্ন আসরে গান গেয়ে মাত করে দেয়। তার গান শুনলে পথিক গন্তব্যের কথা ভুলে দাঁড়িয়ে যায় গান শুনতে। সেই সুর শ্রোতার অন্তরে প্রজাপতি হয়ে উড়তে থাকে। একদিন রাতে লোকালয় থেকে বেশ খানিকটা দূরে গিয়ে নির্জন মাঠে বসে গানে টান দিলো সাদ। তন্ময় হয়ে গান গাইছে সে। চোখের পাতা নিমীলিত। হঠাৎ তার মনে হলো তার সামনে কেউ দাঁড়িয়ে আছে। চোখের পাতা খুলে দেখলো এক অনিন্দ্যসুন্দরী যুবতী দাঁড়িয়ে আছে তার সামনে। মনে হলো এ কোন মানুষ নয়, জিন বা পরী হবে। ভয়ে গা কাঁটা দিলো তার। সে চুপ হয়ে গেল। যুবতী বললো, ‘থামলে কেন, গাও।’
সাদ বললো, ‘আমার ওপর দয়া করো। তুমি জিন বা পরী হলে এখান থেকে চলে যাও।’
অনুচ্চস্বরে হাসলো মেয়েটি। বললো, ‘তুমি ভয় পাচ্ছো? আমি জিনও না, পরীও না। সামান্য এক নারী। ইহুদি গোত্র বনু কোরাইজার আদ বিন আরমানের কন্যা। তোমার সুর আমাকে ঘরছাড়া করেছে। সুরের টানে পাগল হয়ে এখানে ছুটে এসেছি আমি। আমাকে দেখে নীরব হয়ে গেলে কেন, গাও।’
সাদ চাঁদনী রাতে এমন নীরব নির্জন প্রান্তরে মেয়েটিকে দেখে সত্যি ভয় পেয়েছিল, মেয়েটি বলার পরও কোন গান এলো না তার কণ্ঠে। সে অপলক চোখে তাকিয়ে রইলো মেয়েটির দিকে। মেয়েটি বললো, ‘ঠিক আছে, আমি সামনে থাকলে যদি তুমি গাইতে না পারো তবে আমি সরে যাচ্ছি তোমার দৃষ্টির আড়ালে। তবু তুমি গাও। তোমার সুরকে তুমি খুন করো না। তোমার সুরে যে মোহন জাদু আছে তা থেকে বঞ্চিত করো না আমাকে।’
এতক্ষণে সাদের কণ্ঠে কথা ফুটলো। বললো, ‘সত্যি করে বলো তো তুমি কে? তোমার এ অনিন্দ্য রূপ বলছে তুমি কোন মানবী নও। তবে তুমি কে?’
‘বলেছি তো, আমি বনু কোরাইজার আদ বিন আরমানের কন্যা। বিশ্বাস না করলে দিনের বেলা খোঁজ নিয়ে দেখো।’
সাদ বললো, ‘তোমার কথা সত্যি হলে শোন, তোমার মতো আমিও এক ইহুদির সন্তান ছিলাম। এখন অবশ্য আর ইহুদি নেই, মুসলমান হয়ে গেছি।’
‘এর মাঝে ধর্মকে টেনো না তো।’ ইহুদি মেয়েটি বললো, ‘গানের কোনো ধর্ম নেই। আমি তোমার গানের সুরে পাগল হয়ে এখানে ছুটে এসেছি, ধর্মের জন্য নয়।’
সাদ বিন আতিক মেয়েটির মুগ্ধ চোখের দিকে তাকালো। গভীর কালো সেই চোখে অথৈ মায়া। সাদের মন সেই মায়ার জালে জড়িয়ে গেল। সাদ রাত হলেই সে নির্জন প্রান্তরে চলে যায় আর গান গায়। গান শুরু হতেই মেয়েটি এসে বসে তার পাশে। কোনদিন গান শুরুর আগেও চলে আসে। একদিন ইহুদি কন্যা সাদ বিন আতিককে বললো, ‘সাদ, আমার কিছু ভালো লাগে না। সারাদিন কেবল তোমার কথাই মনে হয়। তুমি আমাকে গ্রহণ করো সাদ, আমি তোমার কাছে চলে আসি।’
গান থামিয়ে সাদ বললো, ‘অবশ্যই তোমাকে আমি গ্রহণ করবো। তবে কয়টা দিন অপেক্ষা করতে হবে তোমাকে। যুদ্ধের কারণে কাজের চাপ খুব বেড়ে গেছে। এত তলোয়ার জমা পড়ছে যে, সারাদিন ধার দিয়েও শেষ করতে পারি না। যুদ্ধটা শেষ হোক, এরপর তোমাকে আর অপেক্ষা করতে বলবো না।’
সেদিন সাদের আগেই মেয়েটি ওই মাঠে হাজির হয়ে অন্ধকারে বসেছিল। সাদ মেয়েটিকে দেখতে পেয়ে বললো, ‘তুমি চলে এসেছো? বসো, আজ তোমাকে নতুন গান শোনাবো।’
মেয়েটি বললো, ‘গান পরে হবে, আগে আমার কথা শোন। কাল রাতেই তুমি শহর ছেড়ে পালাবে। কালকে পালাতে না পারলে আর কোনদিন পালাতে পারবে না।’
‘কেন, কী হয়েছে? তুমি আমাকে পালাতে বলছো কেন?’
মেয়েটি সাদের হাত ধরে বললো, ‘সাদ আমি এমন এক কথা জেনে ফেলেছি যে, এর পর থেকে সারাক্ষণ আমার বুক ধড়ফড় করছে।’
‘এত ভয় পেয়ো না। কী জেনেছো আমাকে খুলে বলো।’
‘সাদ, আমাদের বাড়িতে আজ কয়েকজন লোক এসেছিল। তারা বৈঠকখানায় বাবার সাথে কথা বলছিল। এদের মধ্যে হাইয়া বিন আফতাবও ছিল। তারা বলাবলি করছিল, মদীনার ইহুদিরা শান্তিচুক্তি লঙ্ঘন করে শহরে গোলযোগ সৃষ্টি করবে। সেই সুযোগে মক্কার কুরাইশ বাহিনী ঝাঁপিয়ে পড়বে মদীনার ওপর। মক্কার বিশাল বাহিনী মদীনায় একবার হামলা করার সুযোগ পেলে মুসলমানদের আর রক্ষা নেই। আমি চাই এই যুদ্ধে তুমি জড়াবে না। তোমাকে ছাড়া আমি বাঁচবো না। যেভাবেই হোক তুমি কালকে শহর ছেড়ে পালিয়ে যাবে। কথা দাও সাদ, আমার কথা রাখবে?’
এ খবর শুনে সাদের মন চঞ্চল হয়ে উঠলো। সে বললো, ‘তুমি ঠিক জানো বনু কোরাইজা শান্তিচুক্তি ভঙ্গ করবে?’
‘হ্যাঁ, বনু কোরাইজার সরদার ও হাইয়া বিন আফতাবের মধ্যে এ ব্যাপারে এক চুক্তি হয়েছে। কুরাইশদের মদীনা আক্রমণের সুযোগ করে দেবে বনু কোরাইজা, বিনিময়ে তারা পাবে কুরাইশদের বন্ধুত্ব ও অনেক সম্পদ। দু-এক দিনের মধ্যেই বনু কোরাইজা শহরে গোলযোগ পাকিয়ে তুলে মুসলমানদের দৃষ্টি তাদের দিকে ফিরিয়ে নেবে আর এই সুযোগে কুরাইশরা হামলা চালাবে মদীনায়।’
সেদিন আর গান হলো না। সাদ বিন আতিক বললো, চলো তোমাকে এগিয়ে দেই।’
তারা দু’জন সেখান থেকে উঠলো এবং মেয়েটিকে এগিয়ে দিয়ে সাদও তার বাড়ির পথ ধরলো। পথে এক প্রবীণ মুসলমানের সাথে দেখা হলো তার। সে ওই প্রবীণ মুসলমানের পথ আগলে বললো, ‘আপনার সাথে আমার কিছু জরুরি কথা আছে।’
প্রবীণ ব্যক্তি দাঁড়িয়ে বললো, ‘বলো কী বলতে চাও।’
সাদ ইহুদি মেয়েটির কাছ থেকে যা জেনেছিল সব খুলে বললো। প্রবীণ ব্যক্তি বললেন, ‘এ কথা আমাকে বলে তুমি খুবই ভালো কাজ করেছো। তুমি ঘরে যাও, আমি এ খবর নবীজীকে বলে আসি।’
সাদ বাড়ির দিকে রওনা হয়ে গেল। প্রবীণ ব্যক্তি উল্টো দিকে ফিরে নবীজীর আস্তানার দিকে চললেন। নবীজীর কাছে গিয়ে বললেন, ‘ইয়া রাসূল, বনু কাইনুকা ও বনু নজির গোত্রের মত বনু কোরাইজাও শান্তিচুক্তি ভঙ্গ করেছে। তারা কাফেরদের সাথে গোপন চুক্তি করেছে। অচিরেই শহরে গোলযোগ পাকানোর চেষ্টা করবে তারা।’
মহানবী সা: মন দিয়ে এই প্রবীণের কথা শোনলেন কিন্তু কিছু না বলেই তাকে বিদায় দিলেন। সিদ্ধান্ত নেয়ার আগে অভিযোগ সত্য না মিথ্যা যাচাই করতে চাইলেন তিনি। তিনি দু’জন সাহাবীকে দায়িত্ব দিলেন এর সত্যতা যাচাই করার জন্য। অবশেষে তিনি জানতে পারলেন, বনু কোরাইজা সত্যি সত্যি গভীর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে। হাইয়া বিন আফতাবের মধ্যস্থতায় কুরাইশ ও বনু কোরাইজার মধ্যে নতুন চুক্তি হয়েছে।
বনু কোরাইজার বিরুদ্ধে তিনি তখনো কোন পদক্ষেপ নেননি, এ সময় ঘটলো আরেক ঘটনা। ঘটনাটা এ রকম : মদীনার শিশু, বৃদ্ধ ও নারীদেরকে কেল্লার ভেতর সরিয়ে নেয়া হয়েছিল। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ফুফু সুফিয়া রাদিয়াল্লাহু আরো কয়েকজন মহিলার সাথে শিশুদের দেখাশোনার দায়িত্বে ছিলেন। সেদিন তিনি বাইরের অবস্থা দেখার জন্য কেল্লার প্রাচীরের ওপর উঠলেন। তিনি দেখতে পেলেন প্রাচীর ঘেঁষে এক লোক খুব সন্তর্পণে এগিয়ে যাচ্ছে এবং মাঝে মাঝে দাঁড়িয়ে কেল্লার প্রাচীর পরীক্ষা করছে। লোকটির চলাফেরা কেমন সন্দেহজনক। তিনি লোকটির গতিবিধি লক্ষ্য করতে লাগলেন। এক সময় সুফিয়া রাদিয়াল্লাহু নিশ্চিত হলেন, এ লোক শত্রুপক্ষের। কেল্লায় প্রবেশের জন্য প্রাচীরের দুর্বল জায়গা খুঁজছে সে।
লোকটির হাতে বর্শা, কোমরে তলোয়ার। লোকটি যদি মুসলমান বা মুসলমানদের বন্ধু হতো তবে কেল্লায় প্রবেশের জন্য সে সরাসরি কেল্লার ফটকে চলে যেতো। সুফিয়া রাদিয়াল্লাহুর আরো সন্দেহ হলো, এখন সবাই খন্দকের পাহারায় আছে নয়তো মুজাহিদদের বিশ্রামস্থলে আছে। এ সময় একজন পুরুষ একাকী এখানে কী করছে? কেন বারবার থেমে কেল্লার প্রাচীর পরীক্ষা করছে। সুফিয়া রাদিয়াল্লাহু যখন এসব ভাবছেন তখন তিনি দেখতে পেলেন কবি হাসসান বিন সাবিত রাদিয়াল্লাহুকে। তিনি কেল্লার ভেতরে ছিলেন। সুফিয়া রাদিয়াল্লাহু মনে করলেন হাসসান বিন সাবিত কেল্লারক্ষীদের কেউ। তাই তিনি তাকে ডাকলেন। বললেন, ‘এক লোক কেল্লার বাইরে সন্দেহজনকভাবে ঘোরাফেরা করছে। তুমি এগিয়ে দেখো সে কী করছে এবং এখানে কেন? যদি দেখো সে ইহুদি তবে তাকে হত্যা করবে। কারণ ইহুদি বনু কোরাইজা শান্তিচুক্তি ভঙ্গ করেছে এবং দুশমনকে শহরে প্রবেশের পথ করে দেয়ার প্রচেষ্টা চালাচ্ছে।’
কবি হাসসান বিন সাবিত রাদিয়াল্লাহু ভেতরের সিঁড়ি বেয়ে কেল্লার প্রাচীরে চড়লেন এবং লোকটিকে দেখতে পেলেন। দেখলেন লোকটির হাতে বর্শা আর কোমরে তলোয়ার। তিনি সুফিয়া রাদিয়াল্লাহুর দিকে তাকিয়ে বললেন, ‘তুমি জানো আমি একজন কবি। রাসূল আমাকে যুদ্ধের কবিতা লেখার দায়িত্ব দিয়েছেন। একজন নিরস্ত্র কবি অস্ত্রধারী এক লোকের মোকাবেলা করবে এটা কী করে তুমি আশা করো?’ হাসসান রাদিয়াল্লাহু সুফিয়া রাদিয়াল্লাহুর কথার গুরুত্ব না দিয়ে চলে গেলেন
কবি হাসসানের কথা শুনে সুফিয়া রাদিয়াল্লাহু এমনভাবে তার দিকে তাকালেন যেন পারলে সে দৃষ্টি দিয়ে তাকে পুড়িয়ে মেরে ফেলবেন। তিনি হাসসানের কথায় রাগান্বিত হয়ে নিজেই একটি লাঠি নিয়ে লোকটির দিকে এগিয়ে গেলেন। সুফিয়া রাদিয়াল্লাহুর সন্দেহ হলো এ লোক ইহুদি। ইহুদি বনু কোরাইজা শান্তিচুক্তি ভঙ্গ করেছে এ কথা তখন অনেক মুজাহিদই জেনে গিয়েছিলেন। এদের মধ্যে সুফিয়া রাদিয়াল্লাহুও ছিলেন। তিনি ভাবলেন এ লোক ইহুদি বনু কোরাইজার কেউ নয়তো? তিনি লোকটির কাছে গিয়ে ধমকের সুরে বললেন, ‘তুমি কে? এখানে কী করছো?’
লোকটি পেছন ফিরে তাকাতেই সুফিয়া রাদিয়াল্লাহু তাকে চিনতে পারলেন। বললেন, ‘আরে, তুমি বনু কোরাইজার লোক না? তোমার ওপর আল্লাহর গজব পড়–ক।’
লোকটি হঠাৎ সুফিয়া রাদিয়াল্লাহুর কথা শুনে একটু ঘাবড়ে গিয়েছিল। সুফিয়া রাদিয়াল্লাহুকে দেখে বললো, ‘ওহ, তুমি? তুমি মুহাম্মদের ফুফু না? তুমি এখানে কী করছো? হ্যাঁ, আমি বনু কোরাইজার সন্তান। এতো জায়গা থাকতে তুমি আমার হাতে মরতে এলে কেন? এখনো সময় আছে, কথা না বাড়িয়ে এখান থেকে চলে যাও।’
‘মরতে আমি আসি নাই, তুই মরতে এলি কেন? খোদার কসম, তোকে আর জীবিত ফিরে যেতে দেবো না।’ এই বলে সুফিয়া রাদিয়াল্লাহু লাঠি হাতে দ্রুত তার দিকে এগিয়ে গেলেন। লোকটি সুফিয়া রাদিয়াল্লাহুর মারমুখী অবস্থা দেখে আর অপেক্ষা করলো না, সে হাতের বল্লম সুফিয়া রাদিয়াল্লাহুকে তাক করে ছুড়ে মারলো। সুফিয়া রাদিয়াল্লাহু চকিতে এক পাশে সরে গেলেন এবং বল্লম দেয়ালে গিয়ে বিদ্ধ হলো। ইহুদি লোকটি তলোয়ারের বাঁটে হাত রাখলো কিন্তু তার আগেই সুফিয়া রাদিয়াল্লাহু পূর্ণ শক্তিতে লাঠি দিয়ে তার মাথায় আঘাত করলেন। লোকটির মাথা চক্কর দিল, চোখ অন্ধকার হয়ে এলো, শিথিল হাত সরে গেল তলোয়ারের বাঁট থেকে। সুফিয়া রাদিয়াল্লাহু এই সুযোগে তার মাথায়, ঘাড়ে আরো কয়েকটা বাড়ি বসিয়ে দিলেন। মুখ থুবড়ে মাটিতে পড়ে গেল সশস্ত্র ইহুদি। সুফিয়া রাদিয়াল্লাহু সেখানে দাঁড়িয়ে লোকটির ছটফটানি দেখলেন, নিথর না হওয়া পর্যন্ত ওখানেই দাঁড়িয়ে রইলেন।
লোকটি মারা গেলে সুফিয়া রাদিয়াল্লাহু আবার প্রাচীরে উঠে এলেন। দেখলেন প্রাচীরের ভেতর হাসসান বিন সাবিত রাদিয়াল্লাহু তখনো দাঁড়িয়ে আছেন। তিনি হাসসানকে ডাকলেন। কবি হাসসান বিন সাবিত আবারো উঠে এলেন প্রাচীরে। সুফিয়া রাদিয়াল্লাহু বললেন, ‘হাসসান, আল্লাহর শোকর আদায় করো। আমি যে কাজ করে এসেছি এ কাজ তোমার করা উচিত ছিল। তাকিয়ে দেখো বনু কোরাইজার বিশ্বাসঘাতক এক ইহুদি প্রাচীরের পাশে মরে পড়ে আছে। যাও, তার অস্ত্র নিয়ে যাও তুমি। তার দেহ তল্লাশি করে দেখো, যদি মালে গনিমত কিছু পেয়ে যাও, তাও তুমি নিয়ে নিও। মালে গনিমতের কোন প্রয়োজন নেই আমার। ইসলামে মহিলাদের পর-পুরুষের দেহ স্পর্শ করা নিষেধ। তাই নারী হয়ে অন্য এক পুরুষের দেহ তল্লাশি করতে চাই না আমি, সে জন্যই তোমাকে আবার ডেকেছি। যাও, মালে গনিমত নিয়ে লোকটির লাশের সৎকার করো, এখান থেকে সরিয়ে নিয়ে যাও লাশ।’
(চলবে)

SHARE

Leave a Reply