Home কুরআন ও হাদিসের আলো সময়ের গুরুত্ব দাও, নচেৎ গুরুত্বহীন হয়ে পড়বে

সময়ের গুরুত্ব দাও, নচেৎ গুরুত্বহীন হয়ে পড়বে

সময়ের কসম। মানুষ আসলে বড়ই ক্ষতির মধ্যে রয়েছে। তবে তারা নয়, যারা ঈমান এনেছে, সৎকাজ করতে থেকেছে এবং একজন অন্যজনকে সত্য কথার ও সবর করার উপদেশ দিতে থেকেছে। (সূরা আসর : ১-৩)

বন্ধুরা,
দেখতে দেখতে শীত শেষে গ্রীষ্মের গরম হওয়া শুরু হয়ে গেছে। তোমাদের এসএসসি-দাখিল পরীক্ষার্থী বন্ধুরা ফলাফলের অপেক্ষায় কিছুদিন মুক্ত সময় কাটাবে। যদিও ছোট্ট বন্ধুরা স্কুল-মাদরাসার পড়াশুনার চাপে পড়ে গেছে। ফলপ্রার্থীরা নানাবাড়ি, দাদাবাড়ি, নানাদিকে ছোটাছুটি শুরু করে দিয়েছে। মনে রেখ কিন্তু আজকের দিনটি আর কখনো ফিরে আসবে না। আজ যে সময়টি নষ্ট করছ কাল সে সময়টার জন্য ভোগতে হবে। মুখোমুখি হতে হবে চরম বাস্তবতার। সময়ের অবহেলার জন্য এসএসসি-দাখিল পরীক্ষায় কেউ কেউ বিব্রতকর ফলাফল করবে। যদিও সবার স্বর্ণোজ্জ্বল ফলাফল মা-বাবার মত কিশোরকণ্ঠ পরিবারও কামনা করছে। বছর শুরু মনে করে যারা খেলায় সময় নষ্ট করবে তারা দেখতে পাবে দিন দিন পড়াশুনায় পিছিয়ে পড়বে। যারা সময়কে অবমূল্যায়ন করে সময়ও তাদেরকে ব্যর্থতার সাগরে ছুড়ে ফেলবে। তাই মহান আল্লাহ পবিত্র কুরআনের সূরা আসরে বলেছেন :
সময়ের কসম! মানুষ বড়ই ক্ষতির মধ্যে রয়েছে এবং এই ক্ষতি থেকে একমাত্র তারাই রক্ষা পাবে যারা চারটি গুণাবলি অর্জন করতে পেরেছো। আর সে গুণগুলো হলোÑ ১. ঈমান ২. সৎকাজ ৩. পরস্পরকে সত্যের উপদেশ দেয়া, ৪.একে অন্যকে সবর করার উপদেশ দেয়া।
বন্ধুরা,
আমাদেরকে আল্লাহ যে সময় বা বয়স দিয়েছেন তা দিন দিন বরফ বিক্রেতার বরফের মত নিঃশেষ হয়ে যাচ্ছে। বরফ যতই আগে বিক্রি করা যায় তাই লাভ নচেৎ বরফ গলে ব্যবসার পুঁজি শেষ হয়ে যাবে। তদ্রƒপ মানুষও ঈমান, সৎকাজ, পরস্পরকে সত্যের উপদেশ, ধৈর্যের উপদেশ দেয়া ও নিজে আমল করা ছাড়া অন্য যত কাজই করুক না তা পুঁজি হারিয়ে ফেলা। বরফ বিক্রেতার মতো পরকালীন জীবনের বিবেচনায় শূন্য হাতে পরিণত হবে। ফলে তার দুনিয়ার জীবনও ব্যর্থতার সাগরে নিমজ্জিত হবে।
তাই বন্ধুরা,
এসো ব্যস্ত হয়ে পড়ি জ্ঞানচর্চায়, গবেষণায়। অযথা সময় নষ্ট না করে ক্লাসের পড়ায় মনোযোগ দিই। সুকুমার বৃত্তির চর্চা করি। ফজরের নামাজ আদায়ের পর অবশ্যই কুরআন হাদিস অধ্যয়নে কিছু সময় অতিবাহিত করি। ক্লাসের প্রতি ঘণ্টা কাজের জন্য সুচিন্তিত একটি রুটিন তৈরি করি। অতঃপর তা প্রতিদিন রিপোর্ট আকারে লিখে রাখি। অতঃপর তা পর্যালোচনা করি।
গ্রন্থনায় : মিজানুর রহমান

SHARE

Leave a Reply