Home ধারাবাহিক: দুর্গম পথের যাত্রি দুর্গম পথের যাত্রী

দুর্গম পথের যাত্রী

আসাদ বিন হাফিজ#

গত জানুয়ারি ২০১৫ সংখ্যার পর

খালিদ বিন ওয়ালিদের ঘোড়া আপন গতিতে এগিয়ে চলেছে মদীনার দিকে। ঘোড়ার পিঠে বসে খালিদ অনবরত স্মৃতি রোমন্থন করছেন। মনের পর্দায় ভেসে উঠলো এক বছর পরের কথা। যুদ্ধ না করে বদর থেকে পালিয়ে আসায় ইসলামের জাতশত্রু ইহুদিরা প্রমাদ গুনলো। তারা আবু সুফিয়ানের সাথে দেখা করে যুদ্ধে সহযোগিতার আশ্বাস দিলো। নিজের দুর্বলতা ঢাকতে আবু সুফিয়ান মক্কায় ফিরেই নতুন করে যুদ্ধের প্রস্তুতি নিতে শুরু করে দিলো। ইহুদিদের আশ্বাস পেয়ে এবং তাদের সহযোগিতা নিয়ে ব্যাপক আকারে বাহিনী গড়ে তোলার জন্য উঠেপড়ে লাগলো সবাই। দীর্ঘ এক বছর ধরে চললো সমর প্রস্তুতি। কুরাইশ ছাড়াও মক্কা এবং আরবের অন্যান্য এলাকার বিভিন্ন গোত্রকে এই যুদ্ধে শামিল করার জন্য তারা ছুটে বেড়ালো অঞ্চলের পর অঞ্চল। ইহুদিরাও এ প্রচারণায় শামিল হলো।
পরের বছর ৬২৭ খ্রিষ্টাব্দের ফেব্রুয়ারি মাস। বিভিন্ন গোত্রের যোদ্ধারা নিজ নিজ বাহিনীর সাথে শামিল হয়ে মাসের শুরুতেই দলে দলে মক্কায় আসতে শুরু করে দিলো। এই অভিযানে শামিল হলো মক্কার বিভিন্ন গোত্রের হাজার হাজার সৈন্য। সবচেয়ে বেশি যোদ্ধা শামিল হলো বনি আসাদ গোত্রের। তবে তাদের কী পরিমাণ সৈন্য এ অভিযানে শরিক হয়েছিল ইতিহাসে তার উল্লেখ নেই। এদের সালার ছিল তালহা বিন খাবিলত। এরপর সবচেয়ে অধিক সৈন্য ছিল বনি গাতফান গোত্রের। তাদের সৈন্যসংখ্যা ছিল তিন হাজার। এদের সালার নিযুক্ত হন মুনাইয়া। সাতশ সৈন্য পাঠালো বনি সালেম। কুরাইশদের নিজস্ব সৈন্য ছিল চার হাজার পদাতিক, তিন হাজার ছিল অশ্বারোহী আর উষ্ট্রারোহী সৈন্য ছিল দেড় হাজার। সম্মিলিত এই বাহিনীর প্রধান সেনাপতি ছিলেন আবু সুফিয়ান। খালিদ বিন ওয়ালিদ ছিলেন সহকারী প্রধান সেনাপতি, আর আকরামা উপপ্রধান সেনাপতি। বিভিন্ন গোত্রের সৈন্যদের পরিচালনা করছিল নিজ নিজ বাহিনীর সেনাপতিরা। এই বাহিনী গড়ে তোলার জন্য খালিদও কম দৌড়ঝাঁপ করেননি। এখন এই বিশাল বাহিনী দেখে তার চোখ জুড়িয়ে গেল। তার মনে এই বিশ্বাস জন্মাল, এবার মুহাম্মদ ধ্বংস হয়ে যাবে। দুনিয়ার বুক থেকে নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে মুসলিম জাতি। নিঃশেষ হয়ে যাবে ইসলাম নামের এই নতুন ধর্মমত।
মক্কা থেকে মদীনা যাওয়ার পথে যেসব গোত্র বসবাস করতো তারা খবর পাঠাল, আমরা যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত। মক্কায় না গিয়ে আপনারা যখন আমাদের অঞ্চল অতিক্রম করবেন তখন আমরা মূল বাহিনীর সাথে একাত্ম হয়ে যাবো। ফলে বাহিনী যত এগিয়ে যাচ্ছিল ততই বাড়ছিল বাহিনীর কলেবর।
বিশাল বাহিনী মক্কা থেকে মদীনার উদ্দেশে যাত্রা শুরু করলো। খালিদ তার গর্বিত ঘোড়ার পিঠে চড়ে এক পাহাড়ের চূড়ায় উঠে গেলেন। সেখান থেকে দেখতে লাগলেন সৈন্যদের মার্চ করার দৃশ্য। যতদূর চোখ যায় অগণিত ফৌজ। যুদ্ধের দামামা বাজছে, সানাই বাজছে। সৈন্যদের চোখে খেলা করছে প্রতিশোধের আগুন। খেলা করছে গভীর আত্মপ্রত্যয়। খালিদ মনে মনে বললেন, এই ¯্রােতের সামনে মুসলমানরা খড়কুটোর মত ভেসে যাবে। তাদের পায়ের তলায় পড়ে থাকবে লাশ আর লাশ। মুসলমানদের রক্তে রঞ্জিত হবে পাহাড়ের কঠিন শিলা ও সমতল বালিয়াড়ি। আরবের বুক থেকে ইসলাম চিরদিনের জন্য বিলীন হয়ে যাবে। মুহাম্মদকে নিজ হাতে হত্যা করার কঠিন সঙ্কল্প নিয়ে পাহাড় থেকে নিচে নেমে এলেন খালিদ বিন ওয়ালিদ।
যেখানে ওহোদের যুদ্ধ সংঘটিত হয়েছিল সেই জায়গায় এসে পৌঁছলো এই সম্মিলিত বাহিনী।
এখানে দু’টি নদী এসে এক মোহনায় মিলিত হয়েছে। কুরাইশরা এই নদীর মোহনায় তাঁবু গাড়ল। অন্যান্য ফৌজ তাঁবু গাড়লো ওহোদ পাহাড়ের পূর্ব পাশে। এ যুদ্ধের ব্যাপারে আবু সুফিয়ান পূর্ব থেকে মুসলমানদের কিছু জানায়নি। সে বিপুল বাহিনী নিয়ে অতর্কিতে মুসলমানদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ার চিন্তা করছিল। ওহোদ প্রান্তরে তাঁবু ফেলে আবু সুফিয়ান দু’জন গোয়েন্দাকে মদীনায় প্রেরণ করলো মদীনার সর্বশেষ অবস্থা জানার জন্য। তারা বণিকের বেশে মদীনায় গিয়ে পৌঁছলো। আবু সুফিয়ান ধারণা করেছিল, মুসলমানরা কাফেরদের রণপ্রস্তুতি ও অগ্রগতির খবর জানে না। অন্যান্য সেনাপতিরও ধারণা ছিল একই রকম। কিন্তু যে দু’জন ইহুদি গোয়েন্দাকে মদীনায় পাঠিয়েছিল পরের দিন তারা ফিরে এসে বলল, ‘আমাদের অগ্রাভিযানের খবর মদীনাবাসী আগেই পেয়েছে। মদীনার অলিতে গলিতে ত্রাস ও ভীতি ছড়িয়ে পড়েছে। সমস্ত শহরে এক ধরনের থমথমে ভাব ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। কিন্তু এ খবরে মুহাম্মদ ও তার সঙ্গী-সাথীরা মোটেই ভীত-শঙ্কিত হয়নি। খবর পেয়ে তারা এই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে। শহরের অলিতে গলিতে যুদ্ধের প্রস্তুতি নেয়ার জন্য সবাইকে উদাত্ত আহবান জানানো হচ্ছে। এই ঘোষণা শুনে দলে দলে লোক যুদ্ধের প্রস্তুতি নিয়ে সমবেত হচ্ছে। তাদের মধ্যে উদ্দীপনার অভাব নেই। আমরা যতদূর বুঝেছি, তাতে বলতে পারি, মদীনায় সমবেত লোকের সংখ্যা তিন হাজারের ওপর হবে না।’ ঐতিহাসিকরাও এ যুদ্ধে মুসলমান মুজাহিদদের সংখ্যা তিন হাজার বলে উল্লেখ করেছেন।
কাফেরদের সৈন্যসংখ্যা দশ হাজারের অধিক। পদাতিক ছাড়াও তাদের রয়েছে বিপুলসংখ্যক অশ্বারোহী। হস্তিবাহিনীও আছে দেড় হাজারের অধিক। আরবের জনগণ এর আগে এত বিপুলসংখ্যক সৈন্য একত্রে দেখেনি। তার মোকাবেলায় মুসলমানদের সৈন্য মাত্র তিন হাজার। গুটিকয় অশ্বারোহী থাকলেও হাতি নেই একটিও। যদি কোন শিশুকেও জিজ্ঞেস করা হয় এ যুদ্ধে কাদের জেতার সম্ভাবনা অধিক, চিন্তা-ভাবনা ছাড়াই সে বলবে, কাফেরদের। কোন সমরনায়ককে জিজ্ঞেস করা হলে সে বলবে, এ অবস্থায় মুসলমানদের আত্মসমর্পণ করা উচিত। আর না হয় রাতের অন্ধকারে শহর ছেড়ে অন্য কোথাও পালিয়ে গিয়ে আত্মগোপন করা উচিত। দশ হাজারের অধিক প্রশিক্ষিত সৈন্যের বিরুদ্ধে তিন হাজার মুজাহিদের লড়াই করার কথা কোনো সুস্থ মাথার মানুষ কল্পনাও করতে পারে না।
আবু সুফিয়ান এ খবর শুনে তৃপ্তির হাসি হাসলো। খালিদও ভাবছিল, এই বিশাল বাহিনী মদীনায় পৌঁছলে লড়াই করার কোন মওকাই পাওয়া যাবে না। সহজেই এ বাহিনী মদীনার ইট-পাথর গুঁড়ো করে দেবে। কিন্তু তাদের জানা ছিল না, এটা সত্য-মিথ্যার লড়াই। এক পক্ষে দাঁড়িয়েছে বিশ্বজাহানের ¯্রষ্টা আল্লাহ ও আল্লাহর রাসূলপ্রেমিক মুজাহিদবৃন্দ, অন্য পক্ষে নিষ্প্রাণ মূর্তিপূজক দাম্ভিক কাফের বাহিনী। আল্লাহ সবসময় সত্যের পক্ষে থাকেন এবং সংখ্যায় কম হলেও আল্লাহর সৈনিকরা যখন সর্বশক্তি নিয়ে ময়দানে ঝাঁপিয়ে পড়েন তখন তাদেরকেই আল্লাহ বিজয় দান করেন। এর আগে বদরে তারা এর প্রমাণ পেয়েছে। ফলে সংখ্যায় কম হলেও বিজয়ের তামান্না নিয়েই তারা ময়দানে নেমে এসেছে।
মদীনার অলিতে গলিতে ঘোষণা হচ্ছিল : সত্যের সৈনিকরা ঘর ছেড়ে বেরিয়ে এসো। আল্লাহর রাসূলের নেতৃত্বে ছুটে চলো ময়দানে। হক ও বাতিলের এ লড়াইয়ে আল্লাহ তোমাদের সাথেই আছেন। তোমরা লড়াই করো। মারো অথবা শাহাদাতের পেয়ালা পান করে চলে যাও আল্লাহর দরবারে। তোমরা কি জানো না, যারা আল্লাহর পথে নিহত হয় আল্লাহ তাদেরকে মৃত বলতে নিষেধ করেছেন? আমাদের হারাবার কিছু নেই। বাঁচলে আমরা গাজী আর মরলে শহীদ। উভয় ক্ষেত্রেই মুমিনের সাফল্য সুনিশ্চিত।
ওদের অস্ত্র নষ্ট হয়ে যেতে পারে, ভেঙে যেতে পারে। কিন্তু মুমিনের অস্ত্র কখনো নষ্ট হয় না, ভাঙে না। আমাদের অস্ত্র হচ্ছে ঈমান ও মনোবল। আজ যদি আমরা পরাজিত হই তাহলে নিঃশেষ হয়ে যাবে আমাদের অস্তিত্ব। নিঃশেষ হয়ে যাবে ইসলাম। দুনিয়ার বুক থেকে মুছে যাবে মুসলমানের নাম নিশানা। আর আমাদের বিজয় মানে মদীনার বিজয়ই শুধু নয়, বিজয় হবে মানবতার, বিজয় হবে আল্লাহ ও আল্লাহর রাসূলের। কোন ভয়ভীতি মুমিনকে স্পর্শ করতে পারে না। জীবন-মৃত্যু আমাদের পায়ের ভৃত্য। যারা হাসতে হাসতে মরতে জানে মরণ তাদের থেকে পালিয়ে যায় দূরে- বহু দূরে। এভাবে মদীনার সাহাবীরা উজ্জীবিত করছিলেন মুজাহিদদের। শাহাদাতের তামান্না নিয়ে মুজাহিদরা শামিল হচ্ছিল যুদ্ধকাফেলায়।
ওহোদের প্রান্তর মাড়িয়ে খালিদের ঘোড়া ছুটে যাচ্ছে মদীনার দিকে। নিঃসঙ্গ পথিকের মনে ভাসছে অতীত দিনের স্মৃতি। খন্দকযুদ্ধের কথা মনে পড়লো তার। বিপুল বাহিনী নিয়ে এই ওহোদ প্রান্তরে তারা যখন তাঁবু ফেলেছিল তখন বিজয়ের স্বপ্নে মন ছিল টইটম্বুর। অল্প ক’জন মুসলমানের সাধ্য ছিল না তাদের হাত থেকে বেঁচে যায়। কিন্তু এটা মানুষের হিসাব, আল্লাহর হিসাব ছিল অন্যরকম। মুষ্টিমেয় মুসলমানকে রক্ষার ব্যবস্থা আল্লাহ নিজেই করে রেখেছিলেন। কিভাবে এই বিপদ থেকে রেহাই পাবে এটা যেমন জানা ছিল না মুসলমানদের, তেমনি কাফেররাও জানতো না এবারও মুসলমানদের নিঃশেষ না করেই ফিরে যেতে হবে তাদের। আল্লাহ মুসলমানদের রক্ষার এমন এক ব্যবস্থা করলেন আরবের যুদ্ধ ইতিহাসে যার কোনো পূর্ব নজির নেই। এই অভাবিত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার নায়ক ছিলেন এক ভিনদেশী। সত্যের সন্ধানে ঘুরতে ঘুরতে তিনি এসে পৌঁছেছিলেন মদীনায়। রাসূলের সাথে দেখা করে বৃদ্ধ বয়সে ইসলাম কবুল করে নিজের আত্মাকে শান্ত করেছিলেন। এই ব্যক্তির নাম সালমান ফারসি।
সালমান ফারসি ছিলেন পারস্যের অগ্নিপূজকদের ধর্মীয় নেতা। তিনি কেবল জ্ঞান-বিজ্ঞানে পারদর্শী ছিলেন এমন নন, যুদ্ধবিদ্যায়ও ছিলেন কুশলী ও পটু। পারস্যের সেনাপ্রধান যুদ্ধের সময় তার পরামর্শ গ্রহণ করতেন। ঘোরতর যুদ্ধ বাধলে স্বয়ং স¤্রাটও স্মরণ করতেন তাকে। ধর্মের প্রতি অনুরাগের কারণে পারস্যের জনগণ তাকে ধর্মীয় নেতা বলে মান্য করতো। পারস্যবাসী ছিল অগ্নি-উপাসক। তারা কেবল অগ্নিপূজাই করতো না, সালমান ফারসিকেও দেবতাজ্ঞান করে তার পূজা শুরু করে দিয়েছিল। কিন্তু তিনি ছিলেন সত্যসন্ধানী এক সাধক পুরুষ। সত্যের সন্ধানে ঘুরে বেড়াচ্ছিলেন তিনি। একদল আরব বণিক সিরিয়া যাচ্ছিল। তিনি সেই কাফেলায় শামিল হয়ে গেলেন। একদিন এক বণিক শোনালো তাকে এক অদ্ভুত কথা। মক্কার এক লোক নিজেকে নবী বলে দাবি করেছে। সে সবাইকে এক আল্লাহর ইবাদত করতে বলে। তার দাবি, তার কাছে অহি আসে। সে আরো বলে, এক আল্লাহর ইবাদত করো এবং আমাকে আল্লাহর রাসূল বলে মেনে নাও। আমাদের মতো সে মূর্তিপূজা করে না। সে বলে, যে মূর্তি তার গায়ে মাছি বসলে সেই মাছিও তাড়াতে পারে না সে মানুষের কল্যাণ করবে কিভাবে? যে আল্লাহ আমাদের বানিয়েছেন, আমাদের সব সমস্যা কেবল তিনিই দূর করতে পারেন।
মক্কার লোকেরা তাকে এসব বলা থেকে বিরত থাকার জন্য চাপ দিলো। কিন্তু তিনি থামলেন না। তাকে সম্পদ, ক্ষমতা ও সুন্দরী নারীর প্রলোভন দেখানো হলো, তবু তিনি থামলেন না। তার ওপর নির্যাতন চালানো হলো কিন্তু তিনি নিবৃত্ত হলেন না। অবশেষে তাকে হত্যা করার চেষ্টা করা হলো, কিন্তু তার আল্লাহ তাকে বাঁচিয়ে দিলেন। তিনি মক্কা ছেড়ে মদীনায় গিয়ে আশ্রয় নিলেন।
সালমান ফারসির প্রচন্ড লোভ হলো এই লোকটিকে দেখার। তার মন বললো, এ লোক যদি সত্যি নবী হয়ে থাকে তবে যে সত্যের সন্ধানে আমি ঘুরে মরছি সে সত্য তার কাছে পাওয়া যেতে পারে। জীবন সমস্যার যেসব সমাধান খুঁজে ফিরছি আমি হয়তো তার কাছে পাওয়া যেতে পারে সেসব সমস্যার সমাধান। বুড়ো বয়সে শুধুমাত্র সত্য ও সুন্দরের প্রত্যাশায় তিনি মদীনার পথ ধরলেন। কাফেররা যখন খন্দক যুদ্ধের জন্য রওনা হয় তখন তিনি মদীনাতেই ছিলেন। ইতোমধ্যে তিনি রাসূলের সাথে দেখা করে এবং তার সাথে কথা বলে প্রশান্ত চিত্তে ইসলাম কবুল করেছিলেন।
আবু সুফিয়ান কিংবা খালিদ কেউ জানতো না সালমান ফারসি মদীনায় আছেন এবং তিনি যুদ্ধবিদ্যায় অসম্ভব রকমের পারদর্শী। খালিদের ঘোড়া ওহোদের ময়দান অতিক্রম করছিল আর খালিদ স্মরণ করছিলেন খন্দক যুদ্ধের কথা। সালমান ফারসি যখন শুনতে পেলেন মক্কা থেকে বিশাল বাহিনী এগিয়ে আসছে মুসলমানদের নিশ্চিহ্ন করতে এবং রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ও অল্পসংখ্যক মুসলমান এই বিপদের মোকাবেলা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তখন মহানবী ও তার প্রিয় সাহাবীদেরকে এক পরামর্শ দিলেন। বললেন, বিশাল বাহিনীর বিরুদ্ধে এই অল্পসংখ্যক মুসলমান নিয়ে শহরের বাইরে গিয়ে যুদ্ধ করা ঠিক হবে না। কাফেররা যদি যুদ্ধের পাশাপাশি মদীনা অবরোধ করে বসে তবে মহা বিপর্যয় ঘটে যেতে পারে। অরক্ষিত মদীনা সহজেই তারা কব্জা করে নিতে পারে। শহর অরক্ষিত রেখে বাইরে গিয়ে যুদ্ধ করলে তার ভয়াবহ পরিণতি মুসলমানদের জন্য শুভ হবে না। মুসলমানদের উচিত মদীনাকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করা।
কোন কোন সাহাবী প্রশ্ন তুললেন, ‘তাহলে কি আমরা দুশমনকে নির্বিঘেœ আমাদের ঘরের দুয়ার পর্যন্ত বিনা বাধায় চলে আসার সুযোগ দেবো? আমাদের স্ত্রী-কন্যা ও শিশুদের দিকে তাকিয়ে হলেও আমাদের উচিত পথেই তাদের থামিয়ে দেয়া। নইলে অবর্ণনীয় পরিস্থিতির মোকাবেলা করতে হবে আমাদের।’
তিনি বললেন, ‘আমরা দুশমনকে মদীনায় প্রবেশ করার কোন মওকা দেবো না। এমন ব্যবস্থা করবো যাতে যত বড় বাহিনীই হোক মদীনায় প্রবেশ করার সাহস তারা না পায়।’
চিন্তান্বিত সাহাবীরা বললেন, ‘কিন্তু কিভাবে?’ তাদের চোখে মুখে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা।
তিনি বললেন, ‘আমরা শহরের চারপাশে পরিখা খনন করবো।’
আরবের লোকেরা যুদ্ধের কৌশল হিসাবে পরিখা ব্যবহারের কথা কেউ জানতো না। এই অভিনব প্রস্তাব শুনে তারা বললো, ‘পরিখা কী? এটা দিয়ে কি দুশমনকে ঠেকিয়ে রাখা আদৌ সম্ভব হবে?’
তিনি জওয়াব দিলেন, ‘পরিখা মানে গর্ত। আমরা শহরের চারপাশে এমন গর্ত করবো যাতে চাইলেও কেউ লাফ দিয়ে তা পার না হতে পারে। আর এর উচ্চতা এমন হবে, কেউ যাতে তাতে নেমে সহজে উপরে উঠতে না পারে।’
‘এটা কি আদৌ সম্ভব? এত বিশাল এলাকা জুড়ে গর্ত খনন করা তো বিশাল কাজ। এভাবে গর্ত করে আত্মরক্ষা করা যায় বলে তো কখনো শুনিনি।’
‘কেন সম্ভব নয়? সবাই মিলে হাত লাগালে খুব বেশি সময় লাগবে না। আর এর কার্যকারিতা? এ ব্যাপারে আপনাদের কোন ধারণাই নেই। দুর্বলদের আত্মরক্ষার এ এক সহজ উপায়। ধরুন, বিশাল বাহিনী নিয়ে কাফেররা আমাদের অবরোধ করলো। প্রতিদিন সেই বাহিনীর জন্য দরকার হবে প্রচুর খাদ্য ও পানীয়। শুধু তাদের নয়, খাদ্য-পানীয় লাগবে তাদের উট, ঘোড়ার জন্যও। রসদ ফুরিয়ে গেলে সুদূর মক্কা থেকে খাবার, পানি এনে সরবরাহ অটুট রাখবে এটা সম্ভব নয়। বাধ্য হয়ে তাদের পিছু হটতে হবে এবং ফেরার মতো খাদ্য, পানীয় থাকতেই অবরোধ তুলে পালাতে হবে তাদের। নইলে মরুভূমির বিস্তারে না খেয়েই মরতে হবে।’
সালমান ফারসির এ প্রস্তাব মনোপূত হলো মহানবীর। অধিকাংশ সাহাবীও চমৎকৃত হলেন এ অভিনব প্রস্তাবে। কিন্তু বিপুল এলাকার খননকার্য নিয়ে দুশ্চিন্তা তাদের। মহানবী প্রতি দশজনের একেকটা গ্রুপ করলেন। খন্দকের লম্বা, চওড়া ও গভীরতা হিসাব করে দেখা গেল প্রতি গ্রুপ যদি চল্লিশ হাত গর্ত খনন করে তবেই হবে, মানে প্রতিজনের ভাগে পড়ে মাত্র চার হাত। তিনি মদীনার তিন দিকে খন্দক খননের সিদ্ধান্ত নিলেন। চারপাশের পুরোটাই খনন করার দরকার হলো না, কারণ এক পাশের উঁচু পাহাড় প্রতিরক্ষা দেয়াল হিসেবে কাজ করবে।
মহানবী গ্রুপ ভাগ করে সাহাবীদেরকে তাদের দায়িত্ব বুঝিয়ে দিলেন। সাহাবীরা তখনো কাজে নামেননি, দেখা গেল কোদাল নিয়ে মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নিজেই খননকার্য শুরু করে দিয়েছেন। এটা দেখে সাহাবীরা সব দ্বিধাদ্বন্দ্ব ও জড়তা ফেলে নিজ নিজ অংশের খননকাজে লেগে গেল।
খন্দকের গর্ত খোঁড়া চলছে। মুজাহিদরা যেন ক্লান্ত হয়ে না পড়ে সে জন্য মহানবী তাদের উদ্দীপনামূলক কবিতা শোনাতে বললেন কবি হাসসান বিন সাবিতকে। হযরত হাসসান রাদিয়াল্লাহু ঘুরে ঘুরে কবিতা আবৃত্তি করতে লাগলেন। কোথাও মুজাহিদরাও গাইছিলেন গান, আবৃত্তি করছিলেন কবিতা। সৈনিকদের উজ্জীবিত করার জন্য মহানবী নিজেও শোনাচ্ছিলেন মিসরা, মানে, স্বরচিত ক্ষুদ্র কবিতা। এভাবেই বিপুল উৎসাহ উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে কয়েক মাইল দীর্ঘ পরিখা খননের কাজ এগিয়ে চললো। কোথাও মাটির পরিবর্তে ছিল শুধু বালু, কোথাও আবার কঠিন শিলা। সেই পাথুরে শিলা ভেঙে এগিয়ে চলল গর্ত করার কাজ। মুজাহিদদের বিশ্রামের কোনো অবকাশ ছিল না। শত্রুরা ছিল ঘাড়ের ওপর। তারা মদীনার অনতিদূরে ওহোদ পাহাড়ের পাদদেশে তাঁবু গেড়ে অপেক্ষা করছিল মুসলমানদের।
খালিদের মনে পড়লো এই পাহাড়ের ওপর দাঁড়িয়ে সে দেখেছিল তার বিশাল বাহিনী। পাহাড়ের পাদদেশে অগণিত তাঁবু। সৈন্যরা তাদের ঘোড়া ও উটের তদারক করছে। আগামীকাল ভোরে এরাই টুটে পড়বে মুসলমানদের ওপর। ভাবছিল, এ ফৌজের হাতেই এবার মুসলিম ফৌজ নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে। চিরতরে মুছে যাবে মুহাম্মদের নাম। সে এবং অন্যান্য সালাররা গভীর আগ্রহে অপেক্ষা করছিল মুসলিম ফৌজের আগমনের।
পরদিন ভোরে আবু সুফিয়ান খালিদকে বললো, ‘মুসলমানরা ভয় পেয়েছে। এই বিশাল বাহিনী দেখে ঘাবড়ে গেছে তারা। ময়দানে আসতে সাহস পাচ্ছে না। আমরা কি এখানেই বসে থাকবো, নাকি মদীনায় গিয়ে ওদের সাথে শেষ বোঝাপড়া করে নেবো?’
খালিদ ভাবছিল ভিন্ন কথা। ওহোদের ময়দানে সে দেখেছে মুসলমানদের সাহস। ভয় নামক শব্দটি ওদের অভিধানে নেই। মোকাবেলা না করে হাত-পা গুটিয়ে বসে থাকার মানুষ মুসলমানরা নয়। কিন্তু মুসলমানরা আসছে না কেন? নিশ্চয়ই এর মধ্যে কোন ‘কিন্তু’ আছে। কি সেই ‘কিন্তু’ জানে না সে, তবে কোন না কোন কারণ এর মধ্যে আছে এ ব্যাপারে সে নিশ্চিত। সে আবু সুফিয়ানকে বললো, ‘আমি ঠিক বুঝতে পারছি না, তারা ময়দানে আসছে না কেন? তাদের মতলবটা আসলে কী?’
আকরামা বললো, ‘সেটা বুঝার জন্য আমাদের মদীনা যেতে হবে। আবু সুফিয়ানের সাথে আমি একমত, এখানে বসে না থেকে আমাদের মদীনায় হামলা করা উচিত।’
আবু সফিয়ান বাহিনীকে মদীনা আক্রমণের হুকুম দিলো। খালিদ তার বাহিনীর কাছে ফিরে গিয়ে বললো, ‘হে কুরাইশ বংশের বীর সন্তানেরা। মুসলমানরা ভয় পেয়েছে। তারা তাদের ঘাঁটি মদীনা ছেড়ে বাইরে আসার সাহস পাচ্ছে না। এগিয়ে চলো। মদীনাকে মাটির সাথে মিশিয়ে দিতে হবে। আমাদের দেবতাদের অপমান করে মুহাম্মদ যে নতুন ধর্মমত প্রচার করছে মদীনার ইট ও বালুর নিচে কবর দিতে হবে তাকে। আগামীকালের সূর্যোদয় মুহাম্মদ নামে কাউকে যেন জীবিত দেখতে না পায়।’
সম্মিলিত কাফের বাহিনী এগিয়ে চললো মদীনার দিকে। বিশাল বাহিনীর ঠিক মধ্যিখানে আবু সুফিয়ান। ডানে খালিদ আর বাঁয়ে আকরামা। মদীনার কাছাকাছি গিয়ে হঠাৎ করেই কাফেলা থেমে গেল। আবু সুফিয়ান চিৎকার করে বললো, ‘আগে বাড়ো।’ কিন্তু বাহিনী একচুলও নড়লো না, যেমন ছিল তেমনি ঠায় দাঁড়িয়ে রইলো। অধৈর্য হয়ে আবু সুফিয়ান নিজেই সামনে বাড়লো। কাফেলার সম্মুখভাগে গিয়ে যা দেখলো তাতে সে বিস্মিত না হয়ে পারলো না। সে দেখলো, শহরের বাইরে দীর্ঘ পরিখা। শহরে ঢুকার সব পথ বন্ধ হয়ে গেছে। সেই গর্ত এতটাই প্রশস্ত যে লাফ দিয়ে পার হওয়ার উপায় নেই। গর্তে নেমে ওপাশে ওঠাও দুষ্কর। মুসলমানরা নিরাপদ দূরত্বে তীর-ধনুক নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। কেউ গর্ত পেরিয়ে ওপাশে উঠতে গেলেই তার বুক ঝাঁঝরা হয়ে যাবে। এমন অভিনব প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দেখে আবু সুফিয়ানের মাথায় রক্ত উঠে গেল। সে চিৎকার করে বললো, ‘খালিদকে ডাকো, আকরামাকে ডাকো।’
একটুপর আবু সুফিয়ান দেখতে পেলো, দু’দিক থেকে দুই দ্রুতগামী অশ্বারোহী এগিয়ে আসছে। দেখতে দেখতে খালিদ ও আকরামা তার পাশে এসে দাঁড়াল। আবু সুফিয়ানের মত ওরাও দেখলো সামনে অলঙ্ঘনীয় পরিখা। বিস্মিত খালিদ কিছুক্ষণ সেদিকে তাকিয়ে বিমূঢ় হয়ে দাঁড়িয়ে রইল। একই অবস্থা আকরামার। তাদের বিস্ময়ের ঘোর কাটলো আবু সুফিয়ানের কথায়। আবু সুফিয়ান বললো, ‘এটা কী খালিদ?’
খালিদ জবাব দেয়ার আগেই আকরামা স্বগতকন্ঠে বললো, ‘এটা নিশ্চয়ই কোন চতুর ইহুদির বুদ্ধি। ইহুদিরা যেমন কূটকৌশলী তেমনি সূক্ষ্ম বুদ্ধির অধিকারী। তারা কাফেরদের সাথে যেভাবে ভাব রেখে চলছে হয়তো একইভাবে মুসলমানদের সাথেও সম্পর্ক বজায় রেখে চলেছে।’
‘এটা কী বলছো তুমি?’ আবু সুফিয়ান বিস্মিতকণ্ঠে বললো।
‘ঠিকই বলেছি। কোন মুসলমানের মাথায় এমন অদ্ভুত বুদ্ধি আসার কথা নয়। মুসলমানের আমি যেমন চিনি তেমনি আপনিও চেনেন। আপনি এটাও জানেন, ইহুদিরা হলো দু’মুখো সাপ। কূটকৌশল ও প্রতারণায় তাদের কোন জুড়ি নেই। তারাই হয়তো এমন অভিনব প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার বুদ্ধি দিয়েছে মুসলমানদের।’
‘না আকরামা, এটা মুসলমানেরই কাজ। বুদ্ধি এবং সমর কৌশলে মুহাম্মদ অতুলনীয়। বদরে শক্তিতে নয়, এই বুদ্ধি ও বিচক্ষণতার কারণেই তারা আমাদের পরাজিত করতে পেরেছিল।’ খালিদ বললো, ‘ওহোদের যুদ্ধেও নিশ্চিত পরাজয় এবং ধ্বংস থেকে বেঁচে গিয়েছিল এই বুদ্ধির জোরেই। শহরের চারদিকে খন্দক করে আত্মরক্ষার কৌশল অভিনব সন্দেহ নেই। কিন্তু বিশাল বাহিনীর হাত থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য এমনটা করা সমর কৌশলেরই অংশ। মুহাম্মদের চালের কাছে প্রতিবারই আমরা হেরে গেছি। খুব কম লোকই অবস্থা অনুযায়ী এমন কার্যকর ব্যবস্থা নিতে পারে।’
‘আমরা কি তবে খন্দক পেরিয়ে আক্রমণের চেষ্টা করবো না?’ আকরামা খালিদের দিকে তাকিয়ে প্রশ্ন করলো।
‘নিশ্চয়ই করবো। এসো ঘুরে দেখি। কোথাও না কোথাও ভেতরে ঢুকার মত পথ পেয়েও যেতে পারি।’ আবু সুফিয়ান দৃঢ়তার সাথে বললো।
খালিদ তখন গভীর চিন্তায় ডুবে ছিল। সে ভাবছিল, কী করে এই বাধা ডিঙিয়ে মদীনায় হামলা করা যায়। খালিদকে চিন্তান্বিত দেখে আবু সুফিয়ান বললো, ‘কী হলো ওয়ালিদের বেটা, কী ভাবছো তুমি?’
‘একজন সমরনায়কের চোখে আমি ওদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দেখছি। শহরে কোন শিশু, বুড়ো ও নারীকে দেখা যাচ্ছে না। তার মানে ওদেরকে ওরা নিরাপদ কেল্লায় পাঠিয়ে দিয়েছে। তারা পাহারায়ও অল্পসংখ্যক লোককে রেখেছে, যাতে দিন-রাত চব্বিশ ঘণ্টা পালাক্রমে ডিউটি দিতে পারে। বাকি সৈন্যরা বিশ্রাম ও রিজার্ভ অবস্থায় আছে। তুমি যেদিক দিয়েই শহরে ঢুকতে যাবে সেখানেই তারা প্রতিরোধের শক্ত দেয়াল তুলে দেবে। তাদের তীরের আঘাতে লুটিয়ে পড়বে আমাদের সৈন্যরা। আমাদের বিশাল বাহিনী এই পাড়ে বসে দাঁত কামড়ানো ছাড়া আর কিছুই করতে পারবে না।’
আবু সুফিয়ান বললো, ‘তারপরও পুরো খন্দক এলাকা আমরা ঘুরে দেখতে চাই। শহরে প্রবেশের কোন উপায় যদি বের না করতে পারি তবে আমরা শহর অবরোধ করবো। কতদিন ওরা এই ঘেরাওয়ের মধ্যে পড়ে থাকবে? দানাপানির অভাব দেখা দিলে ওরা যুদ্ধ করতে বাধ্য হবে। এত বিশাল বাহিনী নিয়ে ওদের পরাজিত না করে মক্কায় ফিরে যাবো না আমি।’
‘কিন্তু আবু সুফিয়ান, তুমি শুধু মুদ্রার একপিঠ দেখছো, অপর পিঠ দেখছো না। ওদের রসদ ফুরাবে, তোমার ফুরাবে না? তোমার বিশাল বাহিনীর জন্য প্রতিদিন কী পরিমাণ খাদ্য-পানীয় লাগবে সেটা ভেবে দেখেছো? মক্কা এখান থেকে অনেক দূরে। ওখান থেকে রসদ এনে ঘাটতি পূরণ করবে সে সুযোগ নেই। ফেরার মত রসদ না নিয়ে এখানে অবরোধ করে বসে থাকলে দুশমনের দরকার হবে না, না খেতে পেয়ে তোমার সৈনিকরা এমনিতেই মারা যাবে।’
‘কতদিন আমরা অবরোধ করে থাকবো সে আলোচনা পরে করলেও চলবে। আগে চলো খন্দকটা ঘুরে দেখি।’ ওদেরকে থামিয়ে দিয়ে বললো আকরামা।
ওরা তিনজন নিরাপদ দূরত্ব দিয়ে খন্দক ঘুরে দেখলো। না, শহরে প্রবেশের মত কোন ফাঁকফোকড়ই রাখেনি মুসলমানরা।
আবু সুফিয়ান তার সেনাপতিদের নিয়ে যখন খন্দক দেখছিলেন তখন এক ঘোড়সওয়ারকে তাদের দিকে আসতে দেখলো। কাছে এলে তাকে চিনতে পারলো আবু সুফিয়ান। এ লোক এক ইহুদি। কাফেরদের গোয়েন্দা হিসাবে যে দু’জন মদীনা গিয়েছিল সে তাদেরই একজন। আবু সুফিয়ান তাকে দেখেই বললো, ‘নতুন কোন খবর আছে?’
‘মুসলমানরা যুদ্ধের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত। অল্পকিছু লোককে তোমরা পাহারায় দেখছো, বাকিরা অপেক্ষা করছে তোমরা কোন দিক দিয়ে ভেতরে ঢুকার চেষ্টা করছো তার অপেক্ষায়। তোমরা যেদিক দিয়েই ঢুকতে চাও না কেন, তারা মুহূর্তে ছুটে যাবে সেখানে আর তীরের আঘাতে তোমাদের ধরাশায়ী করবে। রাতের আঁধারে খন্দক পার হওয়ার মত বেশকিছু কাঠের সাঁকো বানিয়ে রেখেছে ওরা। আর অনেকগুলো মোটা রশি বানিয়ে রেখেছে। অন্ধকারের সুযোগে তোমাদের দৃষ্টি বাঁচিয়ে তাই দিয়ে তারা খন্দক পার হয়ে তোমাদের ওপর অতর্কিত আক্রমণ করার ফন্দি আঁটছে।’
(চলবে)

SHARE

1 COMMENT

  1. অনেক দিন পড় পড়লাম;
    মনটা প্রশান্তিতে ভরে গেল……..খুব ভালো লাগল

Leave a Reply