Home আইটি কর্নার প্রযুক্তির ছোঁয়া

প্রযুক্তির ছোঁয়া

কে এস খান#

কয়েকজন শিশুকে যদি প্রশ্ন করা যায় কে বড়? সবাই দাবি করবে নিজেকে। মানুষ জন্মগতভাবেই বড় হওয়ার প্রতি আগ্রহী। বড় বিভিন্ন দিক থেকে হতে পারে : বয়সে বড়, জ্ঞানে বড়, সম্পদের দিক থেকে বড়, ক্ষমতার দিক  থেকে বড়, আরও অন্যান্য দিক  থেকে হতে পারে। যে যেদিক থেকেই হোক না কেন, বর্তমান বিশ্বে দেখা যাচ্ছে যার জ্ঞান বুদ্ধি বেশি সেই প্রকৃতপক্ষে বড়। কারণ জ্ঞানই এখন প্রধান সম্পদে পরিণত হয়েছে।
আর সম্পদের জন্যই মানুষ আদি কাল থেকে যুদ্ধবিগ্রহ করে আসছে। যখন মানুষ সম্পদ রাখতো বস্তায় পুরে তখন যুদ্ধ করত ঢাল-তলোয়ার দিয়ে, যখন সম্পদ সিন্দুকে রাখত তখন যুদ্ধ করত পারমাণবিক অস্ত্র দিয়ে, এখন মানুষ সম্পদ রাখে মাথার মধ্যে আর যুদ্ধ করে অনলাইনে।
জ্ঞান বুদ্ধি যাদের বেশি তারা নতুন নতুন প্রযুক্তির মালিক হয়েছে। আর প্রযুক্তিই এখন সুপার পাওয়ার। যার মাধ্যমে সবাই তার সামর্থ্য অনুযায়ী শক্তির জানান দেয়। এই নিয়েই চলে বিশ্বরাজনীতি। যার কাছে  লেটেস্ট প্রযুক্তি সেই মোড়ল।
আধুনিক প্রত্যেক প্রযুক্তির সাথেই কোন না কোন ভাবে কম্পিউটার জড়িত। তাই বর্তমান সভ্যতায় কম্পিউটার অতি গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। এ যন্ত্রের কর্মকান্ড মানুষের সাথে অনেক মিল রয়েছে। মানুষকে যেমন স্রষ্টা প্রথমে দেহ তৈরি করেন তার পর দেন আত্মা এর পর আস্তে আস্তে প্রয়োজন অনুসারে জ্ঞান বুদ্ধি দিয়ে কর্মের উপযোগী করেন। ঠিক কম্পিউটারেরও প্রথমে হার্ডওয়ার নামক দেহ তৈরি করা হয়, এরপর আত্মা অর্থাৎ বৈদ্যতিক সংযোগ দিয়ে চালু করা হয়। তার পর আস্তে আস্তে প্রয়োজন অনুপাতে জ্ঞান বুদ্ধি অর্থাৎ সফ্টওয়ার দিয়ে কাজ আদায় করা হয়।
আশ্চর্যের বিষয় হলো, মানুষ জীব আর কম্পিউটার জড় কিন্তু এদের অধিকাংশ ক্ষেত্রেই সাদৃশ্যতা দেখা যাচ্ছে। মানুষের শরীর কম্পিউটারেও হার্ডওয়ার দেখা যায়, মানুষের আত্মা দেখা যায় না কম্পিউটারেরও প্রাণ দেখা যায় না, আবার মানুষের বুদ্ধি দেখা যায় না যা মস্তিষ্কে সংরক্ষিত থাকে, কম্পিউটারেরও সফ্টওয়ার দেখা যায় না মেমরিতে সংরক্ষিত থাকে। তবে মস্তিষ্কে উপাদান যেমন দেখা যায় তেমনি সফ্টওয়ার গড়ে ওঠার উপাদানও দেখা যায়।
আর কম্পিউটারের বুদ্ধি বা সফ্টওয়ার তৈরির সম্পূর্ণ প্রক্রিয়াটাই হলো প্রোগ্রামিং। কম্পিউটার এবং এর সফটওয়ার  তৈরি করে এ পর্যন্ত নিয়ে আসার পেছনে অনেক বিজ্ঞানীর অবদান রয়েছে। তাদের মধ্যে চার্লস ব্যাবেজকে আধুনিক কম্পিউটারের জনক আর অ্যাডা লাভলেসকে প্রোগ্রামিং ধারণার প্রবর্তক বলে মনে করা হয়।
বুদ্ধি যেমন মানুষের বিচারের মানদন্ড তেমনি সফ্টওয়ারও কম্পিউটার জগতের একটা মূল্যবান বিষয়। বিভিন্ন দিকে এর বিস্তৃতিও ঘটেছে ব্যাপকভাবে। সফ্টওয়ারকে কেন্দ্র করে বর্তমান প্রযুক্তিনির্ভর বিশ্ব গড়ে ওঠার ক্ষেত্রে অনেকের নিরলস পরিশ্রম স্বীকৃত রয়েছে। যেমন- উইলিয়াম হেনরি ‘বিল’ গেটস, স্টিভ জবস, মার্ক জাকারবার্গ, জগদীশ চন্দ্র বসুসহ আরও অনেকের কথা বিভিন্ন বইপত্রে লেখা থাকে। আমরা সেদিকে না গিয়ে, কম্পিউটার কিভাবে কাজ করে, সেখানে সফফ্টওয়ারের ভূমিকা কী এবং সফটওয়ার কিভাবে তৈরি হয়, সে ব্যাপারে আলোচনা করব; যদি আবার কখনও সুযোগ হয়।

SHARE

Leave a Reply