Home প্রচ্ছদ রচনা স্বাধীনতা হীনতায় কে বাঁচিতে চায় হে…

স্বাধীনতা হীনতায় কে বাঁচিতে চায় হে…

জয়নুল আবেদীন আজাদ #

পাখির গান আমাদের ভালো লাগে। ভালো লাগে নদীর কলতান এবং মেঘমালার ছন্দময় ওড়াউড়ি। আসলে ছন্দ আমরা ভালোবাসি, এ কারণে ছড়া কবিতাও আমাদের প্রিয় বিষয়। এই মুহূর্তে একটি কবিতার কথা আমার বিশেষভাবে মনে পড়ছে, স্বাধীনতার মাস বলেই হয়তো
‘স্বাধীনতা হীনতায় কে বাঁচিতে চায় হে
কে বাঁচিতে চায়,
দাসত্ব-শৃঙ্খল বল কে পরিবে পায় হে
কে পরিবে পায়।’

একবার যারা বন্দী হয়, তারা বোঝে স্বাধীনতার গুরুত্ব। আমাদের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম ব্রিটিশ শাসনামলে বন্দী হয়েছিলেন। জেলে থেকে তিনি উপলব্ধি করেছিলেন বন্দিজীবনের বেদনা। বন্দিজীবনে স্বাধীনভাবে কিছুই করা যায় না, মানুষের মত জীবন-যাপন করা যায় না। বন্দী মানুষরা যেন খাঁচায় ভরা এক প্রাণী। এমন জীবনকে তো বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলাম মেনে নিতে পারেন না। তাইতো তিনি লিখেছিলেন,
‘কারার ঐ লৌহ-কবাট
ভেঙে ফেল, কর রে লোপাট
রক্ত জমাট
শিকল-পুজোর পাষাণ-বেদী।
ওরে ও তরুণ ঈশান।
বাজা তোর প্রলয়-বিষাণ।
ধ্বংস-নিশান
উড়ুক প্রাচীর প্রাচীর ভেদী।’

শুধু মানুষ কেন, এই যে ছোট্ট পাখিÑ সেও তো বন্দী থাকতে চায় না। বন্দী পাখিকে কখনও ভালো করে তাকিয়ে দেখেছো? ওরা কেমন ছটফট করে খাঁচার ভেতর। পাখা ঝাপটায় খাঁচা থেকে বেরিয়ে আসার জন্য। বন্দিজীবনের দুধ-কলাও ওদের পছন্দ নয়। খাঁচা ভেঙে বেরিয়ে আসতে পারলে ওরা মুক্তির আনন্দে উড়ে উড়ে গান গেয়ে বেড়ায়। সেই গান আমাদেরও ভালো লাগে। বন্দী মানুষের কথা শুনলে, বন্দী পাখির কথাও শুনলে, কিন্তু বন্দী দেশের কথা শুনেছো কি? একটু অবাক লাগছে, তাই না? মানুষ কিংবা পাখিকে তো বন্দী করা যায়, জেল বা খাঁচা হলেই কাজটি হয়ে যায়। কিন্তু এত বড় খাঁচা কোথায় যে, পুরো একটি দেশকে বন্দী করা যাবে? দেশকে বন্দী করতে আসলে খাঁচার প্রয়োজন হয় না।
দেশের মানুষের ইচ্ছার বিরুদ্ধে যখন কোনও ব্যক্তি বা শক্তি কোনও দেশকে শাসন করে, তখনই সেই দেশটি বন্দী হয়ে যায়। এমন অবস্থায় সেই দেশের মানুষ স্বাধীন থাকে না, দেশটিও নয়। সে রকম দৃশ্য আমরা দেখেছি ব্রিটিশ ও পাকিস্তান আমলে। বাংলাদেশের মানুষ সবসময় ছিল স্বাধীনচেতা। পরাধীনতাকে তারা কখনও মেনে নেয়নি; তাই ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে তারা যেমন স্বাধীনতার যুদ্ধ করেছে, তেমনি পাকিস্তানের সামরিক জান্তার বিরুদ্ধেও করেছে মুক্তির লড়াই। স্বাধীনতার দীর্ঘ লড়াই সংগ্রামে নেতৃত্ব প্রদানের জন্য আমরা শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করি নবাব সিরাজ-উদ-দৌলাহ, শহীদ তিতুমীর, নবাব সলিমুল্লাহ, শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক, হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী, মওলানা ভাসানী, শেখ মুজিবুর রহমান, শহীদ জিয়াউর রহমানসহ আরও অনেক মহান নেতাকে। তবে স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয়ে দীর্ঘ দিনের লড়াই সংগ্রামে বিশেষ অবদান রাখার জন্য জাতির স্থপতি হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছেন শেখ মুজিবুর রহমান।
২৬ মার্চ আমাদের মহান স্বাধীনতা দিবস। ২০১৫ সালে আমাদের স্বাধীনতার ৪৪ বছর পূর্ণ হবে। এই দীর্ঘ সময় স্বাধীন দেশ হিসেবে টিকে থাকার জন্য আমরা অবশ্যই মহান আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করবো।
স্বাধীনতা দিবস আমাদের জন্য গর্বের ও আনন্দের দিবস। একই সাথে আত্মসমালোচনার দিবসও বটে। আজ আমাদের ভেবে দেখতে হবে, স্বাধীনতার লক্ষ্যগুলো অর্জিত হয়েছে কিনা।
দীর্ঘ ৪৪ বছরে যেখানে পৌঁছানোর কথা ছিল আমরা সেখানে পৌঁছতে পেরেছি কিনা। আমরা জানি গণতন্ত্র, ন্যায়, সাম্য ও সুশাসন প্রতিষ্ঠিত না হলে কোনও স্বাধীন দেশই তার লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারে না। এ বিষয়গুলো নিয়ে যাদের ভাবার কথা, দায়িত্ব পালনের কথাÑ তাঁরা তা করলে দেশের মানুষের দুঃখ কমবে, আমাদের সকালগুলো আরও সুন্দর হবে। তবে পৃথিবীর বুকে আমাদের প্রিয় এই বাংলাদেশের গৌরব বৃদ্ধি করতে হলে ছোটদেরও করণীয় আছে।
আর সেই কাজটি হলো নিজেদেরকে জ্ঞান-বিজ্ঞান ও নৈতিক গুণে সমৃদ্ধ করে তোলা। একটু ভেবে বলো তো, ঠিক বললাম কিনা।

SHARE

1 COMMENT

Leave a Reply