Home কুরআন ও হাদিসের আলো কারো আমানতের খেয়ানত করো না

কারো আমানতের খেয়ানত করো না

হযরত আবু হুরাইরা (রা:) থেকে বর্ণিত, তিনি রাসূল (সা:) থেকে বর্ণনা করেন, যে ব্যক্তি তোমার নিকট আমানত রেখেছে তার আমানত তাকে ফেরত দাও। আর যে ব্যক্তি তোমার আমানত খেয়ানত করেছে, তুমি তার আমানত খেয়ানত করো না।
(তিরমিজি ও আবু দাউদ)

বন্ধুরা, আজ তোমাদের নিকট সর্বাধিক বর্ণনাকারী সাহাবীর একটি হাদিস পেশ করেছি। আমানত শব্দের অর্থ গচ্ছিত রাখা, এটি খেয়ানতের বিপরীত শব্দ। সাধারণত কোন অর্থ-সম্পদ কারো নিকট গচ্ছিত রাখাকে আমানত বলা হয়। যিনি গচ্ছিত দ্রব্যকে যথাযথভাবে সংরক্ষণ করেন এবং গচ্ছিত মালিককে চাওয়া মাত্রই ফেরত দেন তাকে আমিন বা বিশ্বস্ত বলা হয়। কোন ব্যক্তি যদি কারো কাছে কোন মালপত্র, ধন, কথা ও সম্পদ গচ্ছিত রাখে তা যতœসহকারে সংরক্ষণ করা, আর মালিক যখন তা ফেরত চাইবে কোন ধরনের গড়িমসি না করে তা ফেরত দেয়াÑ এটিই ইসলামের মূল শিক্ষা। যদি কোন ব্যক্তি কারো নিকট কোন অর্থ বা টাকা-পয়সা জমা রাখে তাহলে মালিক চাওয়ামাত্র ঠিক ঐ টাকাই ফেরত দেয়াই আমানতদারিতার পরিচয়। গচ্ছিত সম্পদ ফেরত নিতে মালিক দেরি করলে তা খরচ করা বা এদিক-সেদিক করা আমানতদারিতা নয়। শুধু ধনসম্পদ নয়, মানুষের নিকট কথাও আমানত রাখে। কারো গোপন কথা, কোন দোষের বিষয় কেউ জানল, কারো দুবর্লতা কারো নিকট প্রকাশ হয়ে পড়লে তার প্রকাশ ঘটিয়ে তার ক্ষতি সাধন করা, সম্ভ্রম নষ্ট করা, কাউকে হেয় করা বা সম্পদ নষ্ট করা খেয়ানত। কোন ব্যক্তির কারো নিকট পরামর্শ চাইলে যার কাছে পরামর্শ চাওয়া হলো সেও আমানতদার।
বন্ধুরা, তোমরা তোমাদের, বন্ধুদের অনেক দুবর্লতার কথা জান। যা প্রকাশ করলে তোমার বন্ধু সমাজে বা ক্লাসে বা পরিবারে অপমানিত হয়ে যাবে। তা যদি তুমি সংরক্ষণ করে গোপন রাখ, তাহলে আল্লাহ তোমার দোষত্রুটি কিয়ামতের সময় গোপন রাখবেন। তবে হ্যাঁ সেটা যদি এমন গোপন বিষয় হয় যা তারই কল্যাণে অভিভাবকের বা দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের জানা উচিত, তা হলে তার সংশোধনের জন্য যথাযথ কর্তৃপক্ষের নিকট প্রকাশ করে দেয়া দোষ হবে না। রাসুল (সা:) অন্যত্র বলেছেন, যার মধ্যে আমানতদারিতা নেই তার মধ্যে ঈমান নেই। আর যে ওয়াদা পালন করে না, তার মধ্যে দ্বীন নেই।
তাই এসো বন্ধুরা, আমরা অপরের আমানত, গোপন কথা, দৃষ্টি, সময়, যৌবন, তারুণ্যসহ আল্লাহ ও বান্দার সকল আমানত সংরক্ষণ করি। আল্লাহ আমাদের তৌফিক দান করুন। আমিন।
গ্রন্থনায় : মিজানুর রহমান

SHARE

Leave a Reply