Home উপন্যাস পোড়োবাড়ি রহস্য

পোড়োবাড়ি রহস্য

এনায়েত রসুল #

[তৃতীয় এবং শেষ পর্ব]

কালিদহের বিল
তিনজন সেপাইয়ের সাথে শুভ্র আর ছেলেধরাদের থানায় পাঠিয়ে দিয়ে আমরা কংস নদীর বাঁকে চলে এলাম। সুড়ঙ্গপথ দিয়ে সেখানে পৌঁছোতে না পৌঁছোতেই দুটো স্পিডবোট এসে থামলো আমাদের সামনে। একজন সেপাইকে নিয়ে ডক্টর নিপু, আমি আর ওসি সাহেব উঠে বসলেন একটি স্পিডবোটে। অন্যটিতে উঠলো অন্যসবাই। তারপর আচমকাই ওসি সাহেব চিৎকার করে বললেন, কালিদহের বিল। হারিআপ!
পূর্ণগতিতে বোট দুটো ছুটে চললো। চলতে চলতে এক সময় আমরা সরু একটা খালের ভেতর ঢুকে পড়লাম। খাল পেরোতেই সামনে পড়লো কালিদহের বিল।
বিশাল সেই বিল। বিলের সারাটা বুকে কাজল কালো পানি থইথই করছে। তার বুক ছুঁয়ে বসে যাচ্ছে হিমেল বাতাস। দূরে জনপদের সারিÑ সে এক অপূর্ব দৃশ্য! নিজের চোখে না দেখলে এর সৌন্দর্য বিশ্বাস করা যায় না।
আমি মুগ্ধ চোখে থইথই বিলের দিকে তাকিয়ে আছি। হঠাৎ ওসি সাহেব বললেন, বড্ড ভুল হয়ে গেছে। বাইনোকুলারটা আনা হয়নি। ওটা দরকার ছিলো। সে যাক, চোখ-কান খোলা রেখো। নৌকা-টৌকা দেখতে পেলে আমাকে জানাবে।
ওসি সাহেবের কথা শেষ হয়েছে কি হয়নি, পাশ থেকে চেঁচিয়ে উঠলেন ডক্টর নিপুÑ ওটা আবার কি? পশ্চিম দিকে কালো মতো কি একটা দেখা যাচ্ছে না? দেখুন তো ওসি সাহেব!
ওসি সাহেব তার পুলিশি দৃষ্টি ছুড়ে পশ্চিম দিকে তাকালেন। তারপর বললেন, হ্যাঁ, তাই তো! নৌকার মতোই তো মনে হচ্ছে! ড্রাইভার, ফলো করো ওটাকে।
মুহূর্তেই বোটের মুখ পশ্চিম দিকে ঘুরে গেলো। অন্য বোটটা আমাদেরটিকে অনুসরণ করলো। পশ্চিম দিকে একটু এগোতেই আমরা বুঝতে পারলাম ডক্টর নিপু কালো মতো যে জিনিসটিকে দেখতে পেয়েছিলেন, সত্য সত্যই সেটি একটি দেশি নৌকা ছিলো।
আমরা যখন সেই নৌকাটির প্রায় কাছে গিয়ে পৌঁছেছি, ঠিক সে সময় প্রচণ্ড একটা শব্দ হলো। আর শব্দ হতেই পেছনের বোট থেকে কে যেনো বাবাগো বলে ককিয়ে উঠলো। ডক্টর নিপু বললেন, শুয়ে পড়ো শুয়ে পড়ো তন্ময়। ওই নৌকা থেকে বদমাশটা গুলি চালাচ্ছে।
আমি শুয়ে পড়তে না পড়তেই ওসি সাহেব ফাঁকা আওয়াজ করার জন্য আদেশ দিলেন। তার আদেশ পেয়ে পুলিশ বাহিনী আকাশের দিকে তাক করে বেশ কয়েকবার ফাঁকা গুলি ছুড়লো। ফলে একটা ভয়ানক অবস্থার সৃষ্টি হলো সেখানে। এভাবে সারাটা বিল তোলপাড় করে আমরা সেই নৌকাটিকে ঘিরে ফেললাম। কিন্তু এবারো আমাদের ব্যর্থ হতে হলো। নাফিসকে তো পাওয়া গেলো না।  তার য-ামার্কা সেই লোকটিকে পেলাম আমরা।
ওসি সাহেব এবার ভদ্রতা ত্যাগ করে তার পুলিশি মেজাজে খেঁকিয়ে উঠলেনÑ তুমিই কি গোলাপ সিং?
লোকটি জবাব দিলো, হ্যাঁ বাবুজিÑ ওটা হামার নাম আছে বটে।
: দেশ কোথায় তোমার? তোমাকে তো এদিকের লোক বলে মনে হচ্ছে না!
গোলাপ সিং বললো, কোথাটা ঠিকই বইলেছেন হাজুর। হামি ভুপালের লুক আছে। ফির বরস ছোট ছোট লেড়কা পাকড়ে লিয়ে হামি হিন্দুস্তান চইলে যাই। উদেরকে সারকাস পাটিকো পাস বেইচা দেই। ওটাই হামার কাম আছে হাজুরÑ বিজিনিস আছে।
ডক্টর নিপুর বললেন, ভালো কাজই বেছে নিয়েছো বাবা। তো এবার বলো, পোড়োবাড়ি থেকে যে ছেলেটিকে নিয়ে এসেছিলে, সে গেলো কোথায়? নৌকায় তাকে দেখছি না যে?
গোলাপ সিং বললো, হামি কিছু জানে না হাজুর। ছেইলেটা যে কোথায় গেলোÑ কিচ্ছু জানে না!
গোলাপ সিংয়ের কথা শুনে এবার বোমার মতো ফেটে পড়লেন ওসি সাহেবÑ জানি না বললেই হলো? ছেলেটাকে কিডন্যাপ করেছো তুমি। টেনে-হিঁচড়ে নৌকায় তুলেছো তুমি। এখন বলছো কুথায় গেলো কিচ্ছু জানে না! ইয়ার্কি পেয়েছো নাকি? সত্যি কথা বলো। নইলে চাপকিয়ে পিঠের চামড়া তুলে দেবো।
সেই অন্ধকার রাতেও গোলাপ সিংয়ের চোখ দুটো দপ্ করে জ্বলে উঠলো। পরক্ষণেই নিজেকে সামনে নিয়ে সে বললো, হামি ঝুট কোথা বলে না হাজুর। সেই ছেইলেটি হামারই সাথে এই লৌকোয় উঠেছিলোÑ কথা সত্য আছে! হামি লিয়ে এইছেছিলাম উকে। তো হামি যখন লিশার ঘোরে বুঁদ হইয়ে ছিলাম, ছেই ছেইলে তুখন কুথায় যেনো চইলে গেছে। আছমানে উইড়ে গেছে না পানিতে ডুইবে গেছে, হামি কিচ্ছুই জানে না হাজুরÑ কিছু জানে না।
ওসি সাহেব আরো অনেক প্রশ্ন করলেন গোলাপ সিংকে। কিন্তু কোনো প্রশ্নেরই সন্তোষজনক জবাব পেলেন না। অবশেষে হাল ছেড়েই দিতে হলো তাকে। তিনি বললেন, আমরা মনে হচ্ছে হেরেই গেলাম তন্ময়। নাফিসকে ফিরে পাবার ব্যাপারটি এখন শুধু আল্লাহর ওপরই নির্ভর করছে। আমার মাথায় আর কিছু আসছে না।
ওসি সাহেবের কথা শুনে আমার কেঁদে উঠতে ইচ্ছে হলো। এতো চেষ্টা করেও হতভাগাটাকে উদ্ধার করা গেলো না এ ব্যর্থতা আমি মেনে নেবো কেমন করে?

একটি ছোট্ট খবর
দুর্গাপুর থেকে এসেছি চার দিন হয়ে গেলো।
আমি এখন নবম শ্রেণীতে পড়ছি। ইদানীং পুরোদমে ক্লাস চলছে। তার ওপর মামণি এক শিক্ষক রেখেছেন আমাকে পড়াবার জন্য। স্কুল থেকে ফিরেই বসতে হয় পড়ার ঘরে। নাফিসের সাথে তাই স্কুলের বাইরে দেখা হওয়াটাই একটা সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
আজ শুক্রবার। স্কুল বন্ধ। মিতালি বিদ্যাপীঠের সাথে আজ আমাদের ক্রিকেট ম্যাচ। একজন চৌকস খেলোয়াড় হিসেবে আমাকে ম্যাচে অংশগ্রহণ করতেই হবেÑ এটা স্কুল টিমের দাবি।
মামণিকে সে কথা জানাতেই তিনি বললেন, খেলতে যাবে ভালো কথা। তবে তার আগে দুটো অংক করে আমাকে দেখাতে হবেÑ তারপর অন্যকথা।
সত্যি কথা বলতে কি, এ পৃথিবীতে যতোগুলো বিচ্ছিরি কাজ আছে, অংক করা তার মধ্যে অন্যতম। অথচ এমন অবাক কাণ্ড, আমাকে পড়াতে বসানোর সময় মামণির সবচে আগে মনে পড়ে সেই অংকের কথা!
ক্রিকেট খেলতে যেতে হলে মামণির পারমিশন পেতেই হবেÑ আর পারমিশন পেতে হলে অংক করতে হবে! সুতরাং অনিচ্ছা সত্ত্বেও অংক বইটি খুলে ধরতে হলো আমাকে।
একটা কথা সত্য, দয়াময় আল্লাহ কখনো কাউকে মারাত্মক বিপদে ফেলেন না। আর সে জন্যই একটি অংক শেষ করতে না করতেই কোথা থেকে ছুটে এলো নন্দিতা। তারপর হাঁপাতে হাঁপাতে বললো, আজকের পেপারটা পড়েছো ভাইয়া? তোমাকে নিয়ে একটা দারুণ নিউজ বেরিয়েছে।
: দারুণ নিউজ? এই আমাকে নিয়ে? দেখো নন্দিতা, সাতসকালে দুষ্টুমি করে মেজাজটাকে বিগড়ে দিস না। তাহলে ভালো হবে না।
আমার ধমক খেয়েও ঘাবড়ালো না নন্দিতা! বরং লাল টুকটুকে ফিতেয় বাঁধা বিনুনি দুটো দুলিয়ে নন্দিতা বললো, মিছেমিছি ধমকাচ্ছো কেনো? আমি বুঝি তোমার সাথে শুধু দুষ্টুমিই করি? বেশ তো, পড়েই দেখো না নিউজটা!
নন্দিতা এবার টেবিলের ওপর পেপারটাকে মেলে ধরলো। তারপর বললো, প্রথম পৃষ্ঠার চতুর্থ কলামের তৃতীয় খবর। সত্যি না মিথ্যে দেখো এবার।
নন্দিতার কথা বলার ধরন আমার মাঝে এমন কৌতূহলের সৃষ্টি করলো যে, আমি হুমড়ি খেয়ে পড়লাম পেপারটার ওপর। আর অবাক বিস্ময়ে দেখলাম, তাই তো! নন্দিতা তো মিথ্যে বলেনি! ওরা তো আমার কথাই লিখেছে…

দুঃসাহসী কিশোরের নেতৃত্বে
দুর্ধর্ষ ছেলেধরার দল ধৃত
[নিজস্ব সংবাদদাতা প্রেরিত]
গত ২৫ ডিসেম্বর তন্ময় নামে এক কিশোরের সহযোগিতায় দুর্গাপুর থানার পুলিশ একদল দুর্ধর্ষ ছেলেধরা গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছে। এ ছাড়াও উক্ত অভিযানে ছেলেধরাদের কবল থেকে শুভ্র ও নাফিস নামে দুই কিশোরকে উদ্ধার করা হয়েছে। জানা গেছে, ছেলেধরার দল পাশের রাজ্যের নাগরিক। নির্ভীক তন্ময় ঢাকার মতিঝিল মডেল উচ্চবিদ্যালয়ের নবম শ্রেণীর ছাত্র এবং শিশুসাহিত্যিক এনায়েত রসুলের একমাত্র পুত্র।
খবরটা পড়া শেষ হতেই আমি নন্দিতার দিকে তাকালাম। নন্দিতা তখন দীপ্ত ভঙ্গিতে বললো, এখন দেখলে তো? সাতসকালে তোমার মেজাজ বিগড়ে দেবো, অতোটা বোকা মেয়ে আমি নই।
আমি বললাম, আসলে কি হয়েছিলো জানিস? আমার মতো একটা সাধারণ ছেলেকে নিয়ে পেপারে নিউজ বেরোবে, আমি তা ভাবতে পারিনি। সুখবরটা পৌঁছে দেয়ার জন্য তোকে ধন্যবাদ।
: না। শুধু ধন্যবাদ জানালে চলবে না। আমাকে ছেলেধরাদের গল্প শোনাতে হবে। ইট ইজ মাস্ট এবং আজ বিকেলে।
নন্দিতার কথার জবাব দিতে যাবো, তার আগেই রান্নাঘর থেকে ভেসে এলো মামণির কণ্ঠস্বর পড়া রেখে কার সাথে কথা বলছো তন্ময়? অংক করা শেষ হয়েছে?
মামণির প্রশ্নের জবাব না দিয়ে আমি মামণির কাছে ছুটে গেলাম। খুশিতে উচ্ছ্বল হয়ে বললাম, দেখো না কি কাণ্ড! আমাকে নিয়ে নিউজ বেরিয়েছে।
মামণি তো অবাক। এ কখনো হতে পারে? তার অমন একরত্তি ছেলেকে নিয়ে নিউজ বেরোবে কেনো? কী এমন কাজ করেছে সে!
প্রচন্ড কৌতূহল নিয়ে পুরো খবরটি এক এক করে তিনবার পড়লেন মামণি। তারপর আমার হাতে পেপারটা ফিরিয়ে দিয়ে বললেন, ক্রিকেট ম্যাচ কখন হবে তন্ময়? খেলা শেষ করে তাড়াতাড়ি ফিরে এসো।
আমি বললাম, অসম্ভব। ম্যাচ খেলতে আর যাওয়া হবে না, মা। এখন আমার অনেক কাজ। আজকের এই দারুণ খবরটা জানিয়ে বাপি আর ডলি ফুপিকে চিঠি লিখবো। সে সাথে দুটো পেপার কাটিংসও পাঠিয়ে দেবো। নাফিসটাকে ফোন করতে হবে। এতো কাজ ফেলে রেখে মাঠে যাই কেমন করে?
সারাটা দৃষ্টিতে গর্ব ছড়িয়ে মামণি তাকালেন আমার দিকে। পরক্ষণেই গম্ভীর হয়ে বললেন, নাফিসদের দেশটা যে অমন রিস্কি, তা যদি জানতাম তাহলে কিন্তু ওখানে যেতে দিতাম না। আল্লাহকে ধন্যবাদÑ ভালোয় ভালোয় তোমরা ফিরে এসেছো।

বদলে গেলো দিন
দুর্গাপুরের সেই ঘটনার পর সবার চোখে আমি যেনো অন্যমানুষ হয়ে গেলাম। বয়স আমার তখন যা ছিলো এখন প্রায় তাই আছেÑ ছয়-সাত মাসের বেশি বয়স বাড়েনি আমার। অথচ সবাই আমাকে আরো ম্যাচিউর, আরো দায়িত্ববান ভাবতে শুরু করেছে। এই সবার মাঝে মামণিও আছেন।
আগে মামণি যখন বাবা বা নুটু কাকুর সঙ্গে কথা বলতেন, আমি তখন সেখানে গিয়ে দাঁড়ালে মামণি বিরক্ত হতেন। বলতেন, হাঁ করে দাঁড়িয়ে বড়োদের কথা গিলছো কেনো? যাও, পড়তে যাও। এবার রেজাল্ট ভালো না করলে খেলাধুলা বন্ধ করে দেবো।
আজকাল কিন্তু মামণি অমন করে আমাকে বকাঝকা করেন না। নুটু কাকু বা বাবার সঙ্গে যখন কথা বলেন, আমি কোনো কারণে কখনো যদি সেখানে চলে যাই, মামণি ধমকে উঠে বলেন না, দুষ্টু ছেলে পড়তে যাও। বরং আদর করে কাছে টেনে নেন। বলেন, পড়া শেষ? তাহলে বোসো এখানে।
নুটু কাকুর ব্যাপারটা অবশ্য আলাদা। মামণি যখন তার সামনে আমার প্রশংসা করেন নুটু কাকু তখন কোনো কথা বলেন না। কোনো মন্তব্যও করেন না। মুখটাকে অন্যরকম বানিয়ে অন্যদিকে চেয়ে থাকেনÑ যেনো কোনো কথাই শুনতে পাননি তিনি। অথচ এই নুটু কাকুই মামণি সরে গেলে স্বমূর্তি ধারণ করেন। আমার মাথায় চাটি মেরে বলেন, সাহসী ছেলে না ছাই। তাহলে ভূতের গল্প শুনে লেপের নিচে ঢুকিস কেনো? প্রশংসা করে করে ভাবী তোর বারোটা বাজিয়ে দিচ্ছেন।
বারোটা বাজিয়ে দিচ্ছেন কিনা জানি না, তবে আমার ব্যাপারে মামণির মাঝে যে একটা লক্ষণীয় পরিবর্তন এসেছে, আমি তা অনুভব করতে পারি।
সাহসীকতার জন্য আমি যে প্রেসিডেন্ট পুরস্কার পেয়েছি, ওটা ছিলো একান্তভাবেই আমার অর্জন। কিন্তু মামণির কথা শুনলে মনে হয় আমি নই পুরস্কারটা তিনিই পেয়েছেন! ওটাকে নিয়ে কতো যে তার গর্ব, কতো যে অহঙ্কারÑ ভেবে অবাক হয়ে যাই! সকাল নেই দুপুর নেই, রাত নেই দিন নেই, আমার ঝকঝকে ক্রেস্টটাকে অনবরত আঁচল দিয়ে ঝেড়েমুছে আরো ঝকঝকে করে রাখেন। আতীয়স্বজনরা এলে তাকে হাত ধরে টেনে নিয়ে যান শোকেসটার সামনে। কণ্ঠে রাজ্যের অহঙ্কার মিশিয়ে বলেন, তোমাকে তো মনে হয় এ জিনিসটা দেখানো হয়নি। এটা প্রেসিডেন্ট পুরস্কারের ক্রেস্ট। এ দেশের সবচেয়ে সাহসী ছেলে হিসেবে এ ক্রেস্টটা আমার তন্ময় পেয়েছে।
বাবা কিন্তু মায়ের মতো নন। বাবা বলেন, তন্ময় আমাদের মাথা উঁচু করেছে এ কথা সত্য। তন্ময়ের জন্য আমি গর্ব অনুভব করি তাও সত্য। কিন্তু আরেকটি কথাও সত্য, এ দেশের সবচে ভালো ছাত্র হিসেবে তন্ময় যদি এ পুরস্কারটা পেতো, তাহলে আমি আরো বেশি খুশি হতাম।
বাবা যখন এমন কথা বলেন, মামণি তখন দ্রুত আমার পক্ষ নেন। মামণি বলেন, তন্ময় তো খারাপ ছাত্র নয়। মাত্র ক্লাস নাইনে উঠেছে। সময়ও তো শেষ হয়ে যায়নি। ছেলেটা সাহসীকতায় পুরস্কার এনেছেÑ লেখাপড়ায়ও পুরস্কার আনবে। তোমার ক্যারিয়ারে তো কোনো পুরস্কারই নেই।
বাবা তখন হেসে আমার মাথায় হাত রেখে বলেন, তন্ময়ের মতো ছেলের বাবা আমিÑ এটাই আমার পুরস্কার।
মামণি, নুটু কাকু আর আত্মীয়স্বজনদের আদর-ভালোবাসায় দিন কেটে যাচ্ছে বেশ। স্কুলে স্যাররাও এখন আমাকে নতুন চোখে দেখছেন। আর সাজু-দীপুর মতো ক্লাসমেট, যারা কিছুদিন আগেও ….[?]
[সংক্ষেপিত]

SHARE

1 COMMENT

Leave a Reply