Home কুরআন ও হাদিসের আলো বাংলা আমার মাতৃভাষা, খোদার সেরা দান

বাংলা আমার মাতৃভাষা, খোদার সেরা দান

“আমি প্রত্যেক রাসূলকেই তার স্বজাতির ভাষাভাষী করে পাঠিয়েছি। তাদের নিকট পরিষ্কারভাবে ব্যাখ্যা করার জন্য, আল্লাহ যাকে ইচ্ছা বিভ্রান্ত করেন এবং যাকে ইচ্ছা সৎপথে পরিচালিত করেন এবং তিনি পরাক্রমশালী প্রজ্ঞাময়।” (সূরা ইবরাহিম : ৪)

বন্ধুরা, নববর্ষের আনন্দ উদযাপনের পরপরই হাজির হলো আন্তর্জাতিক মাতৃভাষার মাস ফেব্রুয়ারি। মাতৃভাষা আমাদের কাছে পরম শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার। এ ভাষাতেই আমরা কথা বলি। এ ভাষার প্রধান শিক্ষক আমাদের আম্মুরাই। আল্লাহ আমাদেরকে মনের ভাব প্রকাশ করার জন্য বাংলা ভাষা শিখিয়েছেন। তিনিই সকল ভাষার ¯্রষ্টা। তিনি মানুষের হেদায়েতের জন্য প্রেরিত নবী রাসূলদের স্বজাতীয় ভাষায় প্রেরণ করেছেন। তিনি কুরআনে বলেছেন, “আমি প্রত্যেক রাসূলকেই তার স্বজাতির ভাষাভাষী করে পাঠিয়েছি যেন তিনি তাদের নিকট পরিষ্কারভাবে আল্লাহর বিধানসমূহ বুঝাতে পারেন। আর রাসূলগণও তাদের ভাষা বুঝতে পারেন।” হযরত আবু জর (রা.) হতে বর্ণিত, রাসূল (সা.) বলেছেন, মহামহিমান্বিত আল্লাহ প্রত্যেক নবীকে তার কওমের ভাষাভাষী করে প্রেরণ করেছেন। সুতরাং তাদের ওপর সত্য তো উদ্ভাসিত হয়েই যায়। কিন্তু হেদায়েত ও গুমরাহি আল্লাহর পক্ষ থেকেই হয়। স্বজাতির রাসূলের সহজ ভাষা সত্ত্বেও অনেক লোক   হেদায়েত থেকে স্বীয় গুমরাহির কারণে বঞ্চিত হবে। হযরত জাবির (রা.) বর্ণিত হাদিসে রাসূল (সা.) বলেছেন, আমাকে এমন পাঁচটি জিনিস দেয়া হয়েছে যেগুলো আমার পূর্ববর্তী নবীদের কাউকে দেয়া হয়নি। এর পঞ্চম জিনিসটি হলো প্রত্যেক নবীকে শুধুমাত্র তার কওমের নিকট প্রেরণ করা হয়েছিল। আর আমি সব মানুষের নিকট প্রেরিত হয়েছি। রাসূল (সা.) নিজেও নিজের ভাষাভাষীদের কাছে প্রেরিত হয়ে সহজ ভাষায় দ্বীনের দাওয়াত দিয়েছেন।
রাসূল যাতে তার জাতিকে অন্যায়, অসত্য ও কুফরির অন্ধকার থেকে সত্য, ন্যায় ও ইসলামের আলোতে আনতে পারেন সে জন্য তাকে তার জাতির ভাষায় পাঠানোর বিকল্প  নেই। রাসূল (সা.) আরবি ভাষাভাষীদের কাছে প্রেরিত হলেও তাঁর পরবর্তীতে তার অনুসারীরা সহজ প্রাঞ্জল আরবি ভাষায় অনুবাদ করে সবার কাছে এর সরল অর্থ ও খোদায়ি মূল কপি সবার কাছে পাঠানোর ফলে এটি সবার কাছে সহজ ও গ্রহণযোগ্য হয়েছে।
বন্ধুরা, আমাদের মাতৃভাষা আজ নানা ভাষার ভিড়ে স্বদেশেই যেন দিনের পর দিন অবহেলিত হয়ে পড়েছে। সালাম, জব্বার, বরকতের রক্ত এ মাতৃভাষার জন্য অকাতরে প্রবাহিত হলেও আজও সর্বত্র এ ভাষা স্বমর্যাদায় প্রতিষ্ঠিত নয়। আমরা শুদ্ধ ভাষায় বাংলা বলতে পারি না। নানা আঞ্চলিকতায় বাংলা ভাষা আজ বড়ই আহত। অন্য ভাষার শিক্ষার জন্য আজ হাজার কোটি টাকার আয়োজন থাকলেও বাংলা ভাষা আজ খোদ বাংলা একাডেমিতেই অবহেলিত। হিন্দি, ইংরেজি নাচ-গান আজ বাংলা ভাষাকে নির্বাসিত করছে। কর্তৃপক্ষের যথার্থ উদ্যোগ ও তার বাস্তবায়ন প্রয়োজন বাংলা ভাষার ব্যবহার ও প্রতিষ্ঠা বৃদ্ধির জন্য।
আল্লাহ আমাদের মাতৃভাষায় জ্ঞানচর্চা ও কুরআন-হাদিস বোঝার তৌফিক দিন। আমিন।
গ্রন্থনায় : মিজানুর রহমান

SHARE

Leave a Reply