Home কুরআন ও হাদিসের আলো মুমিনরা পরস্পর ভাই ভাই

মুমিনরা পরস্পর ভাই ভাই

হযরত নুমান (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, সব মুমিন একই ব্যক্তিসত্তার মতো। যখন তার চোখে যন্ত্রণা হয় তখন তার গোটা শরীরই তা অনুভব করে। যদি তার মাথাব্যথা হয় তাতে তার গোটা শরীরই বিচলিত হয়ে পড়ে। (মিশকাত)

বন্ধুরা, ঈমানদার ব্যক্তি মাত্রই এতটাই ভালোবাসা ভ্রাতৃত্ব ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে থাকবে যে পরস্পর একটা দেহের মতো মিলে মিশে থাকবে। একজনের ক্ষতি আরেক জনকে ততটাই আহত করবে যতটা মাথা আঘাত পেলে তার সারা শরীর আহত হয়। রাসূল (সা.) বলেছেন, আল্লাহ বান্দাহর সাহায্যে ততক্ষণ থাকেন যতক্ষণ সে অপর ভাইয়ের সাহায্যে থাকে। এক মুমিন অপর মুমিনকে সাহায্য করবে এটি আল্লাহ ও রাসূলের একান্ত চাওয়া। এ পৃথিবীতে মানুষ এতটাই অসহায় যে অপরের সহযোগিতা ছাড়া কেউ চলতে পারে না। বিপদ মুসিবতের সময় পারস্পরিক সহযোগিতা আরো বেশি জরুরি। কোন ভাই যদি আঘাতপ্রাপ্ত হয়, অসুস্থ হয় বা কারো দ্বারা কোনো ক্ষতির সম্মুখীন হয় তাহলে অপর ভাইয়ের উচিত তার সাহায্যে এগিয়ে যাওয়া। একের সাহায্যে অপর ভাই এগিয়ে গেলে বিপদগ্রস্ত ভাইয়ের মনে সাহস সঞ্চার হয়, তার সমস্যার আশু সমাধান হয়।
রাসূল (সা.) অন্য হাদিসে বলেন, মুসলমান সেই ব্যক্তি যার হাত ও মুখ থেকে অন্য মুসলমান নিরাপদ।
বন্ধুরা, কাজেই খেয়াল রাখতে হবে সমগ্র মুসলিম জাতি একটি দেহের মত বিধায় দেহের কোনো অঙ্গ ক্ষতিগ্রস্ত হলে যেমন শরীরে ব্যথা অনুভব হয় তেমনি সারা দুনিয়ার কোথাও কোনো মুসলিম ভাই আহত বা নিহত হলেও ঈমানদার হিসেবে তার মনে যদি এর জন্য ব্যথা অনুভব না হয় তাহলে বুঝতে হবে সে যথার্থ ঈমানদার নয়।
ফিলিস্তিনে কোনো শিশু যদি ইসরাইলি বোমায় আহত বা নিহত হয় তাহলে বাংলাদেশী মুসলমান হিসেবে তোমাদের মনে ব্যথা অনুভব হয় কি? যদি হয় বুঝতে হবে সে একজন ঈমানদার। আর যদি মনে করে সে অন্য পরিবারের বা অন্য দেশের, তার প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করা প্রয়োজন, তাহলে বুঝতে হবে সে ঈমানের মূল শাখায় প্রবেশ করতে পারেনি। তাই বন্ধুরা এসো, আমরা সকল সমস্যাগ্রস্ত, আহত, অসুস্থ শিশু, কিশোর ও দুস্থ মানবতার পাশে দাঁড়িয়ে মুসলিম ভ্রাতৃত্ববোধকে আরো শক্তিশালী করি।
আল্লাহ আমাদেরকে তৌফিক দিন। আমিন।
গ্রন্থনায় : মিজানুর রহমান

SHARE

1 COMMENT

Leave a Reply to এম. সাইফুল ইসলাম Cancel reply