Home খেলার চমক অনন্য এক উজ্জলতায় মুমিনুল হক সৌরভ

অনন্য এক উজ্জলতায় মুমিনুল হক সৌরভ

Khelaবয়স মাত্র ২৩ বছর। বাড়ি কক্সবাজারে। জন্ম বা বেড়ে ওঠা কোনোটাই চট্টগ্রাম শহরে নয় কিন্তু বরাবরই সফল তিনি চট্টগ্রামের মাঠে। জাতীয় লিগে চট্টগ্রামের হয়ে খেললেও সে আসরে তেমন উজ্জ্বল নন মুমিনুল হক। যতটা উজ্জ্বল আর আলো ছড়াতে পেরেছেন টেস্ট ক্রিকেটে। ক্রিকেটের এই ধাঁচে মুমিনুল যেন অন্য মানুষ ভিন্ন ক্রিকেটার। টেস্ট মানেই তার ব্যাটে হাসি, রানের ফলগুধারা। বন্দরনগরীর জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়াম তার বড় প্রিয়। সাফল্যের স্বর্গ যেন রচিত হচ্ছে এক এক করে এ মাঠেই। এ মাঠে এলেই মুমিনুলের আস্থা, আত্মবিশ্বাস ও সেরাটা খেলার দৃঢ় সঙ্কল্প যেন বেড়ে যায় বহুগুণে। এখানে তার ট্র্যাক রেকর্ডও দারুণ। ক্যারিয়ারের চার সেঞ্চুরির তিনটিই সাগরকন্যা বন্দর নগরী চট্টগ্রামে। তাও আবার মাত্র ১৩ মাসে। ২০১৩ সালের অক্টোবর থেকে এ বছরের নভেম্বরের মধ্যে। প্রথম শতকটি নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে। মাঝে এ বছর ফেব্রুয়ারিতে শ্রীলঙ্কার সঙ্গে ম্যাচ বাঁচানো শতক। সবশেষ জিম্বাবুয়ের সাথে । ২০ মাসের অল্প সময়ে মাত্র ১২ টেস্টে তার সাফল্য আকাশছোঁয়া, সহযাত্রী ক্রিকেটারদের কাছে ঈর্ষনীয়ও বটে। এ সময়ের মধ্যে মুমিনুল সাফল্যের সিঁড়ি বেয়ে যত ওপরে উঠেছেন ততদূর যেতে পারেননি বাংলাদেশের কেউই। মোহাম্মদ আশরাফুল, হাবিবুল বাশার, তামিম ইকবাল, শাহরিয়ার নাফিস ও সাকিব আল হাসান কেউই তার ধারে কাছে নেই। মুমিনুলই বাংলাদেশের একমাত্র ব্যাটসম্যান যিনি ১২ টেস্টে চার-চারটি সেঞ্চুরির মালিক। এটাতো গেলো বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের সাথে তুলনা। আরও বড় সাফল্য রয়েছে তার, যা বাংলাদেশের কোনো ব্যাটসম্যানের তো নয়ই, ক্রিকেটবিশ্বের প্রায় ৯৯ ভাগেরই নেই। মাত্র তিনজন ব্যাটসম্যানের আছে। ওয়েস্ট ইন্ডিজের এভারটন উইক্স, ভারতের সুনীল গাভাস্কার ও অস্ট্রেলিয়ার মার্ক টেলরই শুধু এতকাল ওই দুর্লভ কৃতিত্বের অধিকারী ছিলেন। একটুও বাড়াবাড়ি নয়, ক্যারিয়ারের শুরুতে মানে প্রথম ১২ টেস্টে ওই আকাশছোঁয়া অর্জন নেই শচীন টেন্ডুলকার-ব্রায়ান লারার মতো জীবন্ত কিংবদন্তিরও। সেটা হলো ১২ টেস্টে ১১ বার হাফ সেঞ্চুরি বা তার ওপর রান। ক্যারিয়ারের প্রথম ভাগের প্রায় অর্ধেক সময় হাফ সেঞ্চুরি না হয় সেঞ্চুরি ইনিংস। ভাবা যায় !
মুমিনুলের সাথে সাকিবের খুব মিল দেখা যায়। মাঠের বাইরের কোনো কিছু নিয়েই অত চিন্তা করেন না তারা । ক্রিজে নিজের খেলার প্রতিই তাদের মনোনিবেশ থাকে। ক্রিকেটের ‘লিটল মাস্টার’ শব্দযুগল আনার কপিরাইটের দাবিদার হয়ত ভারতীয় মিডিয়া। কিশোর শচীন রমেশ টেন্ডুলকার যখন ফর্মের তুঙ্গে, নব্বইয়ের দশকে বিধ্বস্ত ভারতীয় দল। তখনকার অলঙ্কারই ছিল শচীনের একেকটি সেঞ্চুরি। মরুদ্যানে এক টুকরো সবুজ পাওয়ার গর্বে তখন পাঁচ ফুট পাঁচের শচীনকে পদবিটি দিয়েছিল ভারতীয়রা। তুলনাটা হয়তো বাড়াবাড়ি হয়ে যাবে; কিন্তু এটাই এখন বলার সময়, বাংলাদেশও পেয়ে গেছে তাদের লিটল মাস্টারকে। মুমিনুল হক সৌরভ, ব্যাটিংয়ের মেধা আর অফসাইডে শট খেলার মোহময়তায় এখনই বলা যায় এই চড়ায় একদিন বাংলাদেশ দলের মহীরুহ হয়ে উঠবেন। শচীনের চেয়ে উচ্চতায় ইঞ্চি দেড়েক কম হলেও, ডান হাতি-বাঁ হাতির পার্থক্য থাকলেও ঠান্ডা মাথায় শট খেলার চরিত্রে কিশোর শচীনের পথেই হাঁটছেন মুমিনুল।
‘নিজেকে লিটল মাস্টার ভাবেন কি-না-’ এমন প্রশ্নে লজ্জায় জিভ কেটে লাজুক উত্তর দিয়েছিল সে। ‘কোথায় লিটল মাস্টার শচীন, আর কোথায় আমি…। সবে তো শুরু করলাম আমি, এখনও কত পথ বাকি। এসব কল্পনাতেও আনি না আমি। তবে কী জানেন, আমারও খুব ইচ্ছা করে বিশ্বের বড় বড় ব্যাটসম্যানের মতো লম্বা লম্বা ইনিংস খেলি..। আমি চাই না, এখনই আমাকে নিয়ে মিডিয়ায় বাড়াবাড়ি কিছু লেখা হোক। সব মনোযোগ আমি শুধুই খেলায় দিতে চাই।’ বয়স মাত্র ২৩ হলেও মুমিনুলের বুদ্ধিদীপ্ত উত্তর কিন্তু ত্রিশকেও ছাড়িয়ে গেছে, এটা বলা যায়। উচ্চতায় ছোট বলে এক সময় বুকের কাছাকাছি চলে আসা বলগুলো খেলতে অস্বস্তিতে পড়তে হতো। ‘এ’ দলের ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরের পরই সেটা বুঝে যান মুমিনুল। বিকেএসপির তার এক সময়কার শিক্ষক ফাইম স্যারের সঙ্গে পরামর্শ করেন সাথে সাথে। পরামর্শ দেন- ভেজা টেনিস বলে নিয়মিত ব্যাটিং অনুশীলন করতে। আর দেরি নয়, দিনের পর দিন, ঘণ্টার পর ঘণ্টা সে অনুশীলন করেছেন মুমিনুল। অত্যন্ত নিষ্ঠার সাথে। ফলাফলও জিম্বাবুয়ের সাথে দশ গজের মধ্যে অফসাইডে ছয় ফিল্ডার রেখেও ম্যাককুলাম মুমিনুলকে আটকাতে পারেননি। ট্রেন্ট বোল্ট শর্টবল করেও মুমিনুলকে ঘাবড়াতে পারেননি। পয়েন্ট আর কভার দিয়ে ঠিকই বাউন্ডারির রাস্তা বের করে নিয়েছেন। বছর তিনেক আগে যখন বয়সভিক্তিক দলের হয়ে খেলার সুযোগ পান এই লিটল মাস্টার, তখন ব্যাটের ওজন নিয়ে দ্বিধায় ছিলেন। পরে কোচের পরামর্শে দুই পাউন্ড ৬ আউন্সের (এক কেজি চারশ’ গ্রাম) হালকা ব্যাট নিয়ে নিজেকে প্রস্তুত করেন। ‘‘আমি ছোটখাটো মানুষ, তাই ভারী ব্যাট নিয়ে ব্যাটিং করতে পারি না। হালকা ব্যাটেই স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করি।’’ ঠিক এখানে কিশোর শচীনের সঙ্গে পার্থক্য মমিনুলের। শচীন তার কিশোরবেলা থেকেই দুই কেজি ওজনের ব্যাট নিয়ে খেলতে নামেন। এতে টাইমিংয়ে কিছুটা সমস্যা হলেও ভারী ব্যাটের কারণে বল বাউন্ডারির দিকে দ্রুত ছুটতে থাকে।
‘‘আসলে আমি সব সময় নিখুঁত টাইমিংয়ের ওপর খেয়াল রাখি বেশি। অফের দিকে লুজ বল পেলেই হাঁকিয়ে দিই…।’’ এমনিতে লাজুক মুমিনুল মাঠের বাইরেও খুব বেশি কথা বলেন না তবে সিনিয়রদের প্রতি অগাধ শ্রদ্ধা তার। ‘‘ব্যাটিং নিয়ে কার সঙ্গে কথা বলব, যেখানে সাকিব ভাই, তামিম ভাই, মুশফিক ভাইরা রয়েছেন, সেখানে অন্য কারও কাছে গিয়ে পরামর্শ নেয়ার খুব একটা দরকার হয় না।’’ দুই মিটার ছুঁই-ছুঁই উচ্চতার কারণে পিটার ফুলটনের পরিচিতি ‘টু মিটার পিটার’। মুমিনুল হককে তবে কী নাম দেওয়া যায়? ‘পকেট ডায়নামো!’ টেস্ট ক্রিকেটের সবচেয়ে দীর্ঘদেহী সেঞ্চুরিয়ান ফুলটন, আর সবচেয়ে খর্বকায় সেঞ্চুরিয়ান মুমিনুল।

টেস্ট ক্রিকেটে হোয়াটওয়াশ :
বাংলাদেশের নতুন রেকর্ড

টেস্ট সিরিজে জয়ের পাশাপাশি আরাধ্য হোয়াইটওয়াশের দেখাও পেয়েছে টাইগাররা। জিম্বাবুয়েকে ৩-০ ব্যবধানে হারালো বাংলাদেশ। টেস্ট সিরিজ আগেই সিরিজ নিশ্চিত করেছিল বাংলাদেশ। বাকি ছিল হোয়াইটওয়াশ। চট্টগ্রামে সেই দেখাও মিললো। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজ এর আগেও জিতেছে বাংলাদেশ। নয় বছর আগেই জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজ জয়টা ছিল দেশের ক্রিকেট ইতিহাসেই প্রথম সিরিজ জয়ের গৌরব। কিন্তু এই প্রথমবারের মতো জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজে হোয়াইটওয়াশের গৌরব নিজেদের করে নিয়েছে বাংলাদেশ। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে জয়টা বাংলাদেশের জন্য সবসময়ই প্রত্যাশিত। কিন্তু অবস্থার বিচারে এবারের সিরিজটি বাংলাদেশের জন্য ছিল যথেষ্টই চ্যালেঞ্জের। গোটা বছর জুড়েই ব্যর্থতা যেন বাংলাদেশকে বেঁধে রেখেছিল। এই সিরিজ জয়ের প্রত্যাশা থাকলেও জোর গলায় হোয়াইটওয়াশের কথাটা বলতে পারছিলেন বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা। ঢাকায় কষ্টার্জিত জয়টা আনন্দ দিলেও পুরোপুরি তৃপ্তি দিতে পারেনি। খুলনায় সাকিবের অসাধারণ পারফরম্যান্সে সিরিজটাকে ২-০ করেই প্রত্যাশার ফানুসটা ডানা মেলেছিল। জিম্বাবুয়েকে ৩-০তে হারাতে হবে। ক্রিকেট বিশ্বের সামনে প্রমাণ করতে হবে জিম্বাবুয়ের চেয়ে আমরাই এগিয়ে। চট্টগ্রামে জিম্বাবুয়েকে উড়িয়ে দিয়ে সেই স্বপ্নটাকেই সত্যে পরিণত করলেন বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা। এ নিয়ে তৃতীয় বারের মতো তিন টেস্টের সিরিজ খেলল বাংলাদেশ। ২০০৩ সালে পাকিস্তান আর ২০০৭ সালে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সিরিজি জয়ের কথা বলারই সাহস হয়নি। এবার তৃতীয় তিন টেস্টের সিরিজে কেবল সিরিজ জয় নয় প্রতিপক্ষকে হোয়াইটওয়াশ করার গৌরবে সিক্ত বাংলাদেশ। ভবিষ্যতে হয়ত আরও তিন টেস্ট সিরিজের দেখা পাবে বাংলাদেশ। কিন্তু প্রথম হোয়াইটওয়াশের স্মৃতি জাগরুক থাকবে বহুদিন। এ জয়ে হাসছে বাংলাদেশ। আনন্দ-উল্লাসে মেতে উঠেছে পুরো দেশ। সাফল্যের সূতিকাগারই বলা চলে বন্দরনগরী চট্টগ্রামকে। ২০০৫ সালে এই চট্টগ্রামে থেকেই উড়েছিল টেস্ট জয়ের বিজয় কেতন। দীর্ঘ ৯ বছরের মাথায় এসে সেই চট্টগ্রামেই স্থাপন হলো এমন দৃষ্টান্ত, যা আগে কখনোই হয়নি বাংলাদেশের ক্রিকেটে। হোয়াইটওয়াশ! সেটি আরেকবার করেছেন তারা। ২০০৯ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে, তাদেরই মাটিতে ২-০ তে। কিন্তু তিন ম্যাচ সিরিজে ৩-০তে প্রতিপক্ষকে হোয়াইটওয়াশ এবারই প্রথম।
বছরের শুরু আর প্রায় শেষের মধ্যে কত অমিল। বছরজুড়েই ব্যর্থতার বৃত্তে বন্দি ছিলেন মুশফিকুর রহিমরা। কোনোভাবেই দেখা মিলছিল না জয়ের। জয়টা পেতে পেতেও শেষ পর্যন্ত মুঠো গলে বেরিয়ে গেছে। অবশেষে ব্যর্থতার চোরাবালি থেকে জেগে উঠতে পেরেছে বাংলাদেশ। যে সিরিজটি সাকিব-মুমিনুল-তাইজুলদের দু’হাত ভরে দিয়েছে। দলীয় আর ব্যক্তিগত নৈপুণ্যে ওই সিরিজটা স্বাগতিকদের জন্য ছিল অনেক অনেক প্রাপ্তির এক সিরিজ। পুরো সিরিজজুড়েই অনেক অর্জন ছিল বাংলাদেশের। বিশেষ করে জিম্বাবুয়েকে পেছনে ফেলে আইসিসির টেস্ট র‌্যাংকিংয়ে ৯ নাম্বারে উঠে এসেছে বাংলাদেশ। টেস্ট র‌্যাংকিংয়ে জিম্বাবুয়ের চেয়ে এখন ১৪ রেটিং পয়েন্টে এগিয়ে আছে তারা। তিন টেস্টের সিরিজ ৩-০ ব্যবধানে জেতার পর ৯ নাম্বারে থাকা বাংলাদেশের রেটিং পয়েন্ট এখন ৩২। ২০১৭ সালের ৩১ ডিসেম্বর অথবা সেই সময় চলতে থাকা কোনো সিরিজ শেষ হওয়ার পর আইসিসি টেস্ট র‌্যাংকিংয়ের দশম দলটি সহযোগী দেশগুলোর প্রতিযোগিতা ইন্টারকন্টিনেন্টাল কাপের বিজয়ী দলের বিপক্ষে ৫ দিনের ৪টি ম্যাচ খেলবে। অন্তত এই আসরে না খেলা থেকে কিছুটা হলেও মুখ রক্ষা করতে পেরেছে বাংলাদেশ। কারণ, ২০১৭ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত ৯ নাম্বার অবস্থান ধরে রাখতে পারলে সহযোগী দেশগুলোর টেস্ট মর্যাদা পাওয়ার লড়াই ‘আইসিসি টেস্ট চ্যালেঞ্জে’ খেলতে হবে না বাংলাদেশকে।
মাত্র একটি উইকেটের জন্য তিন ম্যাচের সিরিজে ৫০ উইকেট নেয়ার কৃতিত্ব দেখাতে পারেননি বাংলাদেশের স্পিনাররা। তারপরও জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ৩-০ ব্যবধানের জয়ে তাদের মায়াবী স্পিনের মাহাত্ম্য একটুও কমেনি। মাত্র তিন দিনেই ঢাকা টেস্টে হারের পর বাংলাদেশের স্পিন আক্রমণকে ‘ডেডলি অ্যাটাক’ বলে অ্যাখ্যায়িত করেছিলেন জিম্বাবুয়ের কোচ স্টিফেন ম্যাঙ্গাঙ্গো। স্পিনারদের ওপর অগাধ আস্থা থাকায় খুলনা টেস্টে জিম্বাবুয়েকে অলআউট করতে মাত্র ৬৮ ওভার রেখেছিলেন স্বাগতিক অধিনায়ক মুশফিক। অধিনায়কের আস্থার প্রতিদান ঠিকই দিয়েছেন সাকিব-তাইজুল-জুবায়েররা। মাত্র ৫১.১ ওভারে জিম্বাবুয়েকে অলআউট করে দলকে দারুণ জয় এনে দিয়েছিলেন তারা। চট্টগ্রামের ব্যাটিং সহায়ক উইকেটেও দলকে জয় এনে দেয়ায় বড় অবদান বাংলাদেশের স্পিনারদের। সাকিব-তাইজুলদের জিম্বাবুয়ের ব্যাটসম্যানরা কোনোমতে ঠেকিয়ে রাখলেও জুবায়ের এবং দুই অফস্পিন অলরাউন্ডার শুভাগত ও মাহমদউল্লাহ ঠিকই সফরকরীদের প্রতিরোধের বাঁধ  ভেঙে দিয়েছেন।

তিন ম্যাচের টেস্ট সিরিজে বাংলাদেশের অর্জন
ঢাকায় প্রথম টেস্টে ইতিহাস গড়েছেন তাইজুল ইসলাম। ৩৯ রানে ৮ উইকেট নিয়ে টেস্টে বাংলাদেশের ইনিংসসেরা বোলিং এখন এই বাঁ-হাতি স্পিনারে দখলে। এমনকি টেস্টে বাঁ-হাতি স্পিনে সেরা বোলিংয়েও তাইজুলের অবস্থান তিনে।
আর প্রথম টেস্টের প্রথম ইনিংসে ৬ উইকেট পাওয়ার পর ৮টি টেস্ট খেলুড়ে দেশের বিপক্ষে ইনিংসে ৫টি উইকেট পাওয়া হয়ে গেল সাকিবের। বাকি রইল কেবল অস্ট্রেলিয়া। এ ছাড়া খুলনা টেস্টে রেকর্ড বইয়ের আরেক পাতায় জায়গা হয়েছে সাকিবের। একই ম্যাচে সেঞ্চুরি এবং ১০টি উইকেট নেয়ার কীর্তি এতদিন ছিল মাত্র দুইজনের, ইয়ান বোথাম ও ইমরান খানের। এই রেকর্ডের সর্বশেষ সংযোজন সাকিব।
চট্টগ্রাম টেস্টে তামিম ইকবাল-ইমরুল কায়েসের উদ্বোধনী জুটিতে উঠেছে ২২৪ রান। উদ্বোধনী জুটিতে এটাই বাংলাদেশের সর্বোচ্চ রান।
একই সঙ্গে প্রথম একই ইনিংসে সেঞ্চুরি পেলেন বাংলাদেশের দুই ওপেনার। এক টেস্টে দুই ওপেনারের সেঞ্চুরিও ছিল এই প্রথম। চট্টগ্রামে বাংলাদেশের হয়ে সবচেয়ে বেশি টেস্ট সেঞ্চুরিতে তামিম ছুঁলেন আশরাফুলকে। ৬১ টেস্টে ৬টি সেঞ্চুরি ছিল আশরাফুলের, তামিম ছুঁয়ে ফেললেন সেটা ৩৭ টেস্টেই।
তা ছাড়া টেস্ট ক্রিকেটে চট্টগ্রামে বাংলাদেশ দল চতুর্থবারের মতো ৫০০ রান করল। আর ৫০০ কিংবা এর চেয়ে বেশি রান করে এই প্রথম জিতল স্বাগতিকরা। একই সঙ্গে তিন ম্যাচের টেস্ট সিরিজে এই প্রথম প্রতিপক্ষকে ধবলধোলাই করল বাংলাদেশ।
১২ টেস্টে ৪টি সেঞ্চুরি পেয়ে গেলেন মুমিনুল হক সৌরভ। মাত্র ১২ টেস্টে এত দ্রুত একাধিক সেঞ্চুরি পাননি আর কোনো বাংলাদেশি ব্যাটসম্যান। সেই সঙ্গে টানা ৯ টেস্টে ফিফটি ছুঁয়েছেন মুমিনুল। এ বি ডি ভিলিয়ার্সের টানা ১২ টেস্ট ফিফটির রেকর্ড ছোঁয়ার সুযোগ আছে তার সামনে।
জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে তিন ম্যাচের টেস্ট সিরিজে বাংলাদেশের অধিনায়ক একটি অনন্য রেকর্ড গড়েছেন। হাবিবুল বাশারকে ছাপিয়ে টেস্টে এখন বাংলাদেশের সবচেয়ে সফল অধিনায়ক মুশফিক। এমনকি ম্যাচে নেতৃত্ব দেয়া এবং জয় তুলে নেয়ার ক্ষেত্রেও বাংলাদেশের অন্য অধিনায়কদের ছাড়িয়ে গেলেন তিনি। ১৯ টেস্টে মুশফিকের নেতৃত্বে বাংলাদেশ জিতেছে ৪টিতে, হার ১০টিতে এবং ড্র ৫টিতে।
– কিশোরকণ্ঠ ডেস্ক

SHARE

Leave a Reply