Home সায়েন্স ফিকশন গোপন গবেষণাগার

গোপন গবেষণাগার

 কে. এস. খাঁন #

Sceince-Fictionহিমেল ছোটবেলা থেকেই একটু ভাবুক প্রকৃতির। চোখের দিকে তাকালে মনে হয় কোন এক গভীর চিন্তায় মগ্ন আছে। সারাক্ষণ কি নিয়ে ভাবে, তা আর কারো বোঝার উপায় নেই। জিজ্ঞেস করলে এমনভাবে চমকে ওঠে, মনে হয় আচানক কারো ধমকে ভয় পেয়েছে! ওকে কিছু বললে, অধিকাংশ সময় একাধিকবার বলতে হয়। কারো সাথে তেমন একটা কথাবার্তা বলে না। ক্লাসেও থাকে চুপচাপ। শিক্ষক পড়া জিজ্ঞেস করলে মনে হয়, অন্য কোন জগৎ থেকে হঠাৎ করে এখানে ঢুকে পড়েছে। তবে ছাত্র হিসেবে যে খারাপ; তা কিন্তু না। প্রত্যেক পরীক্ষায় প্রথম স্থান ওর দখলে থাকে। এ রেজাল্টের পেছনে অবশ্য ওর চেয়ে ওর মায়ের অবদানই বেশি। রাত জেগে ছেলেকে পড়া মুখস্থ করাতে এতটুকুও ক্লান্তি বোধ করেন না তিনি।
কয়েকদিন আগে ওর জেএসসি পরীক্ষা শেষ হয়েছে। প্রত্যেক বিষয়েই স¤পূর্র্ণ উত্তর দিয়েছে কিন্তু গণিতে ৪ নাম্বার ছেড়ে এসেছে। এমন সাধারণত হয় না ওর। অধিকাংশ পরীক্ষায় গণিতে ১০০ তে ১০০ পাওয়া যার অতীত ইতিহাস। তাই সে কোন মতেই এটা মেনে নিতে পারছে না। কিন্তু দোষ আর কাকে দেবে, এটাও হয়েছে তার বেখেয়ালিপনার কারণেই। পরীক্ষার পরে হিমেল যেন নিজের মধ্যে আরো চুপসে গেলো। আগে থেকেই খাওয়া-দায়ার প্রতি তেমন একটা আগ্রহ ছিল না। এখন তো মনে হচ্ছে বৈরাগী হওয়ার দশা। এ নিয়ে হিমেলের বাবা-মায়ের দুশ্চিন্তার অন্ত নেই। ছেলের মন ভাল করার বিভিন্ন উপায় তারা সন্ধান করতে লাগলেন। শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্ত হল, আগামীকাল হিমেলের নানার বাড়ি যাওয়া হবে। এ কথা শোনার পর থেকেই হিমেলের মধ্যে খুশির একটা আমেজ লক্ষ্য করা যাচ্ছে ।
পরের দিন বাবা-মায়ের সাথে নানার বাড়ি চলে আসল হিমেল। গাড়ি থেকে নামতেই চারপাশ থেকে ঘিরে ধরল মামাত ভাইবোনেরা। এখানে আসলে যেন হিমেলের আনমনা ভাবটা কেটে যায়। দৌড় দিচ্ছিল, পেছন থেকে ওর মা ডেকে বললেন : পোশাকটা বদলে যাও বাবা। কোনমত পোশাক বদলেই চলে এল বাগানে। সবাই আছে এখানে। অনেক দিনের জমানো কথা ব্যক্ত করার জন্য সবাই উসখুস করছে। বড় মামার ছোট ছেলে রাতুল বললো : হিমেল ভাইয়া, তুমি না গতবার বলেছিলে এবার এলে আমাদের স্কুলের পেছনের.. কথা শেষ করতে পারল না, হিমেলের ইশারায় চুপ হয়ে গেল। কারণ, ছোটরা জানলে পিছু লাগবে আর বড়রা জানতে পারলে সব কিছু ভন্ডুল হয়ে যাবে। এ ধরনের কাজে বেশি ছোটদের নেয়া বিপজ্জনক মনে করে হিমেল।
বিকালে পুকুর পাড়ে হিমেল আর রাতুল কথা বলছিল। পেছন থেকে ছোট মামার মেয়ে মণিকা এসে বললো : এই রাতুল, বাগানে তখন কি যেন বলতে ছিলে, হঠাৎ চেপে গেলে?
রাতুল বললো : ভাইয়া বলেছে, ছোটোদের বলা যাবে না।
মণিকা বললো : বারে আমি বুঝি তোমার ছোট! কেবল ক্লাস সেভেনে উঠেছ। আমার এক কøাস নিচেই আছ, বুঝলে? লাগবে না তোমার বলা। হিমেল ভাইয়া বলো না! স্কুলের পেছনে কি হয়েছে?
হিমেল কিছুক্ষণ চিন্তা করে বললো : তেমন কিছু না। আমি আর রাতুল একদিন ঘুরতে ঘুরতে স্কুলের পেছনের ঐ বনটাতে ঢুকে পড়েছিলাম। বনের অনেক ভেতরে বড় একটা টিলায় গুহার মত জায়গা দেখেছিলাম। সেইবার সময় না থাকায় জায়গাটা ভাল করে দেখা হয়নি।
মণিকা : আমিও যাবো তোমাদের সাথে।
হিমেল : ভয় পাবে না তো?
মণিকা : কী মনে কর আমাকে?
হিমেল : আচ্ছা, তাহলে সন্ধ্যার একটু আগে টর্চ নিয়ে এখানে চলে এসো। আর রাতুল তোমার চাইনিজ চাকুটা নিয়ে এসো।
মণিকা : ফুপা ফুপু যে বলে হিমেল ভাইয়া একটু আনমনা টাইপের ছেলে। আমার কিন্তু তা বিশ্বাস হয় না।
হিমেল একটু মুচকি হেসে বাড়ির দিকে চললো।
সূর্য ডোবার কিছুক্ষণ আগে সবার অজান্তে ওরা তিনজন পুকুর পাড়ে এসে জড়ো হলো। শেষবারের মতো পিঠের ব্যাগটা দেখে নিল হিমেল, সব কিছু ঠিক-ঠাক আছে কি না। এ ব্যাগেই হিমেলের ভুবনের সব কিছু থাকে।
সবাই রেডি তো? বললো হিমেল। হ্যাঁ সূচক মাথা নাড়ল ওরা। তাহলে এবার আগানো যায়, বলে হাঁটা ধরল হিমেল।
বনের মধ্যে ঢুকে অন্ধকার নেমে এল। টর্চ জ্বালিয়ে চলতে হলো। এক সময় ওরা পৌঁছে গেল সেই গুহার কাছে। একে একে সবাই উঠে এলো গুহার মুখে। গাছের শক্ত ডাল ভেঙে তা দিয়ে ঝোপঝাড় ফাঁকা করে সামনে এগোচ্ছে হিমেল। টর্চ ধরে পেছন পেছন আসছে মণিকা। আর সব শেষে চাকু হাতে প্রস্তুত অবস্থায় রাতুল। মোটাসোটা শরীরে ওকে মানিয়েছেও বটে।
জায়গাটা দেখ মনে হচ্ছে এখানে কোনো এককালে মানুষের বসবাস ছিল। ভেতরের দিকটা পরিষ্কার করতে গিয়ে বেশি অন্ধকার মত জায়গায় মাঝারি সাইজের একটা পাথরের ধাক্কায় পড়ে গেল হিমেল। আগে অবশ্য খেয়াল করেনি। পড়তেই পাথরটা নিচের দিকে একটু দেবে গেল। ওর মাথায় এক পাশে কিছুটা কেটে গেল। পাথরটা দেবে যাওয়াতে যে ফাঁক হল ঐ দিক দিয়ে লাফিয়ে বেরিয়ে এলো এক ঝলক আলোক রশ্মি। ওরা দু’জনও ছুটে আসল। সবাই মিলে পাথরটা সরিয়ে দেখল নিচের দিকে একটা সিঁড়ি নেমে গেছে। ঠিক সিঁড়ি না, সিঁড়ির ধ্বংসাবশেষ। তবে আলোর উৎস যে বৈদ্যুতিক বাতি তা বোঝা যাচ্ছে। তবে কি এখানে মানুষ বসবাস করে?
কিছুক্ষণ অপেক্ষা করে ওরা একে একে নিচের দিকে নামা শুরু করল। কয়েক ধাপ নামতেই একটা মানব কঙ্কাল দেখতে পেলো। পাশেই পড়ে আছে তার আগ্নেয়াস্ত্র। ওরা বিশাল একটা হল রুমে এসে পৌঁছাল। আশপাশে অনেক রুম রয়েছে। বিশাল এ স্থাপনাটি ওরা ঘুরে ঘুরে দেখল। অন্তত কয়েক একর জায়গাজুড়ে করা হয়েছে এটা। ভূগর্ভে এ বিল্ডিংটার ভূগর্ভে নানা রকম যন্ত্রে ভরপুর। কোনো মানুষ নেই, মাঝে মাঝে দুই-একটা করে কঙ্কাল পড়ে থাকতে দেখা যাচ্ছে। এইগুলো অন্তত কয়েক বছর আগের হবে।
অদ্ভুত এসব দৃশ্য দেখে ওদের চোখ তো ছানাবড়া। আরও আশ্চর্যের বিষয় হল, কোন মানুষ নেই অথচ এসব যন্ত্রপাতি চলছে। বিদ্যুৎই বা কিভাবে আসছে? সবচেয়ে বেশি আশ্চর্য হলো ওরা যে বিষয়টি দেখে, তা হলÑ বিশ্বের ঢ়ড়বিৎভঁষ ংঁঢ়বৎ পড়সঢ়ঁঃবৎ, ঃরধহযব-২ এর চেয়ে অন্তত ১০০ গুণ ক্ষমতাসম্পন্ন একটা ংঁঢ়বৎ পড়সঢ়ঁঃবৎ এখানে রয়েছে। আর এত কিছু চলছে একেবারে নিঃশব্দে।
স্থাপনার একেবারে শেষ প্রান্তে এসে ওরা আরও অবাক হল। বর্তমান বিশ্বের সবচেয়ে আশ্চর্যজনক আবিষ্কার সাইলেন্স পারমাণবিক চুল্লি। এটাই এখানকার বিদ্যুতের উৎস। এ চুল্লিতে কোন শব্দ বা পরিবেশ দূষণ হয় না। আর এটা চালাতে কোনো মানুষের প্রয়োজন হয় না। ংঁঢ়বৎ পড়সঢ়ঁঃবৎ-এ একবার কমান্ড দিলে একাই চলতে থাকে। এর বর্জ্যগুলো নবায়ন হয়ে আবার চুল্লির কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহার হয়। একবার চালু করলে বন্ধ না করা পর্যন্ত এ প্রক্রিয়া চলতেই থাকে। এ অংশটা আগের স্থাপনার প্রায় সমান।
ফিরে আসতে গিয়ে আর একটা কক্ষ ওদের নজরে পড়ল। ঢুকে মনে হল এটাই হয়ত কন্ট্রোল রুম বা পরিচালকের কক্ষ। বড় চেয়ারে শুয়ে আছে একটা কঙ্কাল। হাতের কাছে টেবিলের ওপর চামড়ার ডায়েরি। হিমেল এগিয়ে গিয়ে ডায়রিটা নিয়ে পড়া শুরু করল।
যার মূল অংশ হলোÑ পশ্চিমের একজন বিজ্ঞানী স্পেন ভ্রমণে গিয়ে পোড়া, ধ্বংসাবশেষ লাইব্রেরির ভূগর্ভের কক্ষ থেকে একটা অর্ধ ছেঁড়া বই উদ্ধার করেছিলেন। মানব সভ্যতার এ পর্যন্ত যত থিওরি আবিষ্কার হয়েছে, সমস্ত কৃতিত্ব ম্লান করার মত কিছু থিওরি পাওয় যায় সেই বই টিতে। তবে শেষের অংশ পুড়ে যাওয়াতে কয়েকটা গাণিতিক সমীকরণের সমাধান পাওয়া যায়নি। যতটুকু পাওয়া গেছে তাই নিয়ে বিজ্ঞানী, তার কিছু সহযোগীদের সাথে করে বিশ্বের সমস্ত শক্তিধর চক্ষুর অন্তরালে গোপনে তৈরি করেছিলেন এ গবেষণাগার। তবে এখনও ঐ গাণিতিক সমীকরণগুলোর সামাধান মেলেনি। ত্রুটিপূর্ণ অবস্থায় মেশিনে কমান্ড দেওয়াতে কোনো এক ভিনগ্রহে বিশেষ সিগন্যালে চলে যায়। ওরা আবার মানুষের থেকে বেশি বুদ্ধিমান, প্রযুুক্তির দিক থেকেও তারা এগিয়ে। পৃথিবীর এ বিজ্ঞানীদের প্রতিদ্বন্দ্বী মনে করে লোকেশন ইন্ডিকেট করে গ্যাস বোমা নিক্ষেপ করে তারা। আলো থেকে অনেক বেশি বেগসম্পন্ন বিশেষ ইলেক্ট্রিক ম্যাগনেটিক সিগন্যালের মাধ্যমে বোমা পড়ার কয়েক ঘন্টা আগেই বিজ্ঞানী গ্যাস বোমার অস্তিত্ব বুঝতে পেরেছিলেন । তবে করার কিছু ছিল না। বোমাগুলো এমন ছিল, যে বস্তুকে ইন্ডিকেট করে ছোড়া হবে ঠিক সেটাকেই আঘাত করবে, সে যেখানেই থাক না কেন। এটা বুঝতে পেরেই বিজ্ঞানী ডায়েরি লেখা শুরু করেন।
বিজ্ঞানীর শেষ মিনতি হল পরবর্তীতে যদি কোন বুদ্ধিমান কেউ এ গবেষণাগারের সন্ধান পান, তাহলে তিনি যেন অসমাপ্ত কাজ সমাপ্ত করেন। বিজ্ঞানী যে কাজটা করতে ছিলেন সেটি হলÑ বিশেষ ইলেক্ট্রিক ম্যাগনেটিক ওয়েবের মাধ্যমে মানুষের মস্তিষ্ক নিয়ন্ত্রণ করা। যার উপর এ প্রসেস প্রয়োগ করা হবে তার মস্তিষ্ক কন্ট্রোলার নিজে নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে। তিনি এর মাধ্যমে বিশ্বের সকল কুচক্রী মানুষের মস্তিষ্কে সৎ বুদ্ধি ঢোকাতে চেয়েছিলেন। তবে এর একটা ভয়াবহ দিক হল এ যন্ত্র যদি কোন কুচক্রী মহলের হাতে চলে যায় তাহলে সর্বনাশ।
ওরা তিনজন পূর্ণ আবেগ নিয়ে, গিয়ে বসল ংঁঢ়বৎ পড়সঢ়ঁঃবৎ-এর সামনে। খাওয়া, ঘুম সব বাদ দিয়ে কাজে লেগে গেল। কিছুতেই গাণিতিক ঐ সমীকরণগুলোর সমাধান করতে পারছে না। তৃতীয় দিন সন্ধ্যায় হিমেল পেরেছি পেরেছি বলে চেঁচিয়ে উঠল। রাতুল ও মণিকা কিছুটা দূরেই চেয়ারে বসে ঝিমিয়ে পড়েছিল। ওরাও ছুটে আসল। দেখল হিমেল অপূর্ণ ঝড়ভঃধিৎব টাকে পূর্ণাঙ্গ করেছে। স্ক্রিনে গ্রিন সিগন্যাল দিচ্ছে। এখন ওদের আনন্দ আর দেখে কে!
এবার প্রয়োগের পালা। সিদ্ধান্ত হলো মণিকার উপর প্রথম প্রয়োগ করা হবে এ প্রসেস। পরীক্ষার পর ব্রেক করা হবে কমান্ড।
চেয়ারে বসে আছে মণিকা। মেশিনের সেন্সর ওর মাথার দিকে তাক করা। পাশেই দাঁড়িয়ে আছে রাতুল। কন্ট্রোল প্যানেলে বসা হিমেল। টান টান উত্তেজনা। যদি কোন দুর্ঘটনা ঘটে যায়। রাতুল ১০ থেকে নিম্ন ক্রমে কাউন্টডাউন শুরু করল। শূন্য বলার সাথে সাথে ঊহঃবৎ ইধঃড়হ-এ চাপ দিল হিমেল। ংঁঢ়বৎ পড়সঢ়ঁঃবৎ এর স্ক্রিনে ভেসে উঠল মস্তিষ্কের ত্রিমাত্রিক ছবি। এবার কয়েকটা বাক্য লিখে মস্তিষ্কে কমান্ড দিতেই মণিকা ঐ বাক্যগুলো বলতে লাগল। এভাবে একের পর এক হিমেল যে কমান্ড দিচ্ছে, মণিকা ঠিক তাই করে যাচ্ছে। প্রথমেই বেশিক্ষণ চালানো ঠিক হবে না ভেবে কমান্ড ব্রেক করল হিমেল। মণিকা আবার স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসল।
কিন্তু বিপত্তি ঘটল প্রোগ্রাম ব্রেক করতে গিয়ে। অতি আনন্দে ব্রেক অপশনে দুইবার ক্লিক হয়ে গেছে। তাতে প্রোগ্রামের সাথে সম্পূর্ণ সিস্টেমটাই ব্রেক হয়ে গেছে। এমনকি পাওয়ার সাপ্লাই ও ব্রেক হয়ে গেছে। রিজার্ভ পাওয়ার লোড বহন করতে না পেরে প্রসেসরে আগুন ধরে গেছে। মুহূর্তেই দাউ দাউ করে জ্বলে উঠল আগুন। ওরা গুহা থেকে দৌড়ে বেরিয়ে হাঁপ ছাড়ল। পেছনে তাকিয়ে দেখল আগুনের লেলিহান শিখা ধেয়ে চলেছে আকাশের দিকে। চারদিক ধোঁয়ায় ছেয়ে গেছে। ওরা আবার ঘুরে বনের বাইরের দিকে দৌড় দিল।
একসাথে অনেক গাড়ির শব্দ শুনে থমকে দাঁড়াল ওরা। পুলিশ, দমকলসহ অনেক গাড়ি ছুটে আসছে বনের দিকে। এসে সবাই লেগে গেল আগুন নেভানোর কাজে। এতক্ষণে অনেক মানুষের ভিড় জমে গেছে। হঠাৎ ভিড় ঠেলে দৌড়ে আসল হিমেলের বাবা-মা। ওদের তিনজনকে জড়িয়ে ধরে ডুকরে কেঁদে উঠল হিমেলের মা। আত্মীয়-স্বজনরাও এতক্ষণে চলে এসেছে । তারা তিনদিন সারা এলাকা খুঁজে ফিরছে ওদের ৩ জনকে।
সমস্ত ঘটনা শোনার পর, আপাতত ওদেরকে প্রশাসনের হেফাজতে রাখল স্থানীয় সরকার কর্তৃপক্ষ। দেশ-বিদেশের নানা গবেষণা টিম আসলো। তারা এখানকার সম্পূর্ণ প্রযুক্তি উদ্ধার করতে না পারলেও গবেষণা করার মত কিছু চাঞ্চল্যকর তত্ত্ব উদঘাটন করল। এর কৃতিত্ব সম্পূর্ণ হিমেলকেই দিলো তারা। তবে সহকারী হিসেবে রাতুল ও মণিকাকেও সাথে রাখল হিমেল।
এ ঘটনার এক সপ্তাহ পর হিমেল, রাতুল ও মণিকাকে রাষ্ট্রপতি বিপুল আর্থিক পুরস্কার ও বিশেষ সম্মাননা পদকে ভূষিত করলেন। আর হিমেলকে স্কলারশিপ দিয়ে আমেরিকার নামকরা একটা প্রতিষ্ঠানে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হলো। সাথে বিশ্বের শ্রেষ্ঠ বিশ্ববিদ্যালয় গওঞ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান ঘঅঝঅ তে গবেষণার জন্য হিমেলকে পারমিশন দিল কর্তৃপক্ষ।

SHARE

Leave a Reply