Home কুরআন ও হাদিসের আলো মন্দ কাজের প্রতিরোধ

মন্দ কাজের প্রতিরোধ

হজরত আবু সাঈদ খুদরী (রা:) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলকে (সা:) বলতে শুনেছি- তিনি এরশাদ করেন, তোমাদের কেউ যদি কোনো খারাপ কাজ সংঘটিত হতে দেখে তাহলে সে যেন হাত দ্বারা বাধা দেয়, যদি হাত দ্বারা বাধা দিতে না পারে, তাহলে মুখ দ্বারা নিষেধ করবে আর তাও যদি না পারে  তাহলে অন্তর দ্বারা ঘৃণা করবে। আর এটি হলো ঈমানের দুর্বলতম স্তর। (মুসলিম শরিফ)

আল্লাহ মানুষ ও জিনকে জ্ঞান দান করার পর ইচ্ছার স্বাধীনতাও দিয়েছেন। একমাত্র এই দুই জাতিই ভালো-মন্দ নিজের ইচ্ছামত করার সুযোগ পেয়েছে। আল্লাহ মানবজাতিকে জ্ঞান-বুদ্ধির পাশাপাশি ইচ্ছার স্বাধীনতা দিয়েছেন। সেই সাথে ভালো-মন্দ কাজের পরিচয় ও কুরআন হাদিসে বিস্তারিতভাবে বর্ণনা করেছেন। এখন মানুষ কুরআন-হাদিসের বর্ণনা ও তার বুদ্ধি-বিবেক কাজে লাগিয়ে ভালো কাজগুলোকে ধারণ করবে আর মন্দ কাজগুলো বর্জন করবে এটিই আল্লাহর একান্ত চাওয়া। মানুষ মন্দ কাজে না জড়ানোর জন্য আল্লাহ কতই না আদর সোহাগ দিয়ে বলেছেন। যারা  আদর ভালোবাসার এ ভাষা বুঝে না বা মানে না তাদের ধমকের সুরে বলেছেন। শাস্তির ভয় দেখিয়েছেন। আর যারা সৎ জীবন-যাপন শুরু করেছে তাদেরকেও দায়িত্ব দিয়েছেন। অসৎকাজ কেহ করলে বা জড়ালে তাকে বিরত রাখার জন্য। অত্র হাদিসে রাসূল (সা:) নির্দেশ দিয়েছেনÑ যদি কেউ দেখে তাদের পাশে কোনো অপছন্দনীয় নীতি-নৈতিকতা বর্জিত, আল্লাহর নিষিদ্ধ কোনো কাজে কেউ লিপ্ত হয়ে পড়েছে তাহলে তার উচিত হবে সে যেন সরাসরি হস্তক্ষেপ করে তাকে উক্ত কাজ থেকে বিরত রাখে। এটি ঈমানের সর্বোচ্চ স্তর। এর জন্য শক্তি প্রয়োজন। কর্তৃত্ব প্রয়োজন। প্রয়োজন ব্যক্তি,  পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের ওপর কর্তৃত্ব ও ক্ষমতা। না হলে যাকে বাধা দিতে যাবে সে এর তোয়াক্কা  নাও করতে পারে। ব্যক্তি তার কর্তৃত্ব ও ক্ষমতা  যেটুকু আছে সেটুকু দিয়ে কেউ অন্যায় করলে তার প্রতিরোধ করবে। হাত দ্বারা তাকে অন্যায় কাজ করা থেকে বিরত রাখবে। যদি কারো হাত দ্বারা বা শক্তি খরচ করে অন্যায় কাজে বাধা দানের ক্ষমতা না থাকে তাহলে মৌখিকভাবে নিষেধ করবে । অন্যায়কারীকে তার অন্যায়, অসৎ, অসামাজিক, অনৈতিক কাজ থেকে বিরত থাকতে বলবে।
যে সমাজ মানুষকে অন্যায় পাপাচার, খোদার অপছন্দনীয় কাজ থেকে বিরত রাখতে পারে না সে সমাজের অধঃপতন অনিবার্য। পারিবারিক বন্ধন নষ্ট হবে। সামাজিক শৃঙ্খলা চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে যাবে। স্বামী-স্ত্রী, ছেলেমেয়ে, ভাইবোন, পড়া প্রতিবেশী পরস্পরের মাঝে কেবল অশান্তিই তৈরি হবে। তাই এর থেকে নিরাপদ থাকার জন্য মৌখিক নিষেধ খুবই জরুরি। আর যাদের মুখে নিষেধ করার ক্ষমতাও নেই তার অন্ততপক্ষে অন্যায় কাজের ব্যাপারে অন্তর থেকে ঘৃণা পোষণ করবে।
আল্লাহ আমাদেরকে প্রতিটি অন্যায় অপরাধ ও পাপাচারের শক্ত প্রতিরোধকারী হওয়ার তৌফিক দিন। আমিন।
লেখক : মিজানুর রহমান

SHARE

Leave a Reply