Home ক্যারিয়ার গাইড লাইন মোরা বড় হতে চাই এ টু জেট -আহসান হাবীব ইমরোজ

মোরা বড় হতে চাই এ টু জেট -আহসান হাবীব ইমরোজ

আস্সালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ। কি বন্ধুরা, ভালো আছতো? অনেকদিন হলো লেখালেখি বন্ধ হাতটা মরচে ধরে গেছে। ভাবছি কী লিখি। ওমা! তোমরা দেখি একদম ফুলস্টপ, কোন রা নেই এক্কেবারে। খুব রাগ করেছো বুঝি। আচ্ছা ঠিক আছে  ডিসকোভারি চ্যানেলের  ভাষ্যমতে পৃথিবীতে এখন পর্যন্ত জীবিত ভাষার সংখ্যা প্রায় ৬,৯০০। তোমাদের এই সকল ভাষাতেই অভিনন্দন জানাচ্ছি। এবার রাগ ভাঙলো? আচ্ছা না হয় বোনাস হিসেবে পুরো কাহিনীই  বলছি। শুন তাহলে –
আমাদের দেশের মতো  প্রতিনিয়ত দেশপ্রেমের এত হাড্ডাহাড্ডি প্রতিযোগিতা বিশ্বের আর কোথাও হয় কিনা জানা যায়নি। কিন্তু আসলে আমাদের কী অবস্থা; ইংরেজি শব্দ হয়তো ২০০০ জানি কিন্তু বাংলা বর্ণ ৫০টি কি ঠিকভাবে সাজিয়ে বলতে পারবো? কী পরীক্ষা করেই দেখ না।  বিদেশী পচা, বাসি নাটক গ্রোগ্রাসে গিলি আবার ওদের ‘পাখি পোশাক’ এর জন্য জীবন দেই। হায়! এদেশে জীবন কত সস্তা! একটি কাক মারা গেলেও তো হাজার কাকে কাঁদে। ঈসায়ী ক্যালেন্ডারের কত তারিখ আমাদের মুখস্থ কিন্তু বাংলা ক্যালেন্ডারের শুধুমাত্র পয়লা বৈশাখ, নয় কি? আর সেদিন  পান্তা ইলিশ খেয়ে নেচে কুদে বলি-এসো হে বৈশাখ এসো এসো। আর হিজরি সালের বলতে পারবো ৪-৫ দিন; যেমন, সিরাতুন্নবী সা. দুই ঈদ ইত্যাদি। আর হ্যাঁ, রমজান আর ঈদ আসলেই কেবল চাঁদের দিকে তাকাই বাকি বারো মাস যেন, বলি- পূর্ণিমার চাঁদ; তোমায় দিলেম এবার ছুটি।
কিন্তু পৃথিবীতে একটি দেশ আছে যারা সারা বছর, চাঁদ, চাঁদ করে বেড়ায়। বলো তো কোন দেশ? হ্যাঁ, ঠিকই ধরেছো সেটি হলো মধ্য আফ্রিকার একটি দেশ যার নামই হলো চাদ। আরে চাঁদ নয় কিন্তু চাদ। ঠিক এর পশ্চিম-দক্ষিণেই হলো ফুটবলের দেশ ক্যামেরুন। সেই ক্যামেরুনেরই একটি মজার গল্প বলবো তোমাদের; মজার গল্প হলেও কিন্তু ১০০% সত্যি। এখানে বিকায়া (Bikya; also known as Furu) নামক একটি ভাষা আছে। ১৯৮৬ সাল পর্যন্তও যে ভাষায় চারজন মানুষ কথা বলতো, বর্তমানে সেই ভাষায় কথা বলার মতো আর একজন মানুষ মাত্র জীবিত আছেন যার বয়স প্রায় সত্তর। সুতরাং বুঝ তাহলে এ ভাষার ভবিষ্যৎ। অপর দিকে আমেরিকার ৪৯তম স্টেট আলাস্কার আরেকটি ভাষার কথা বলবো। আজ থেকে প্রায় দেড়শত বছর আগে ১৭৬৭ সালে যুক্তরাষ্ট্র রাশিয়ার কাছ থেকে আলাস্কা  ৭.২ মিলিয়ন ডলারে কিনে নেয় অর্থাৎ প্রতি একরের দাম পড়ে মাত্র ২ সেন্ট মানে বাংলাদেশী টাকায় দেড় টাকা। এখানে মারিয়া (Marie Smith Jones) নামক একজন ব্যক্তি ছিলেন,
(The death in 2008 of Chief Marie Smith Jones signalled her language’s death)
যিনি ইয়াক (Eyak language) ভাষায় কথা বলতেন। ২০০৮ সালে তিনি ৯০ বছর বয়সে মারা যান আর তখনই সে ভাষার মৃত্যু হয়। কারণ সে ভাষায় পৃথিবীতে আর কেউ কথা বলতে পারে না। আমেরিকার বিশিষ্ট ভাষাবিজ্ঞানী স্টানেড (US linguist stunned) বলেছেন ২১০০ সালের ভেতর পৃথিবীর ৯০% ভাষার মৃত্যু হবে। আমরা যেভাবে ‘বাট-সো-লাইক’ আর হিন্দি সংস্কৃতিতে আকণ্ঠ ডুবে যাচ্ছি তাতে বলা মুশকিল সে লড়াইয়ে আমরা বাঁচবো না মরবো। আর এক্ষেত্রে তোমাদের মতো কিশোর দামালরাই আমাদের ভরসা।
তবু রাগ কমলো না? আচ্ছা আরেকটি বিষয় বলি। আচমকা, আচকা কিংবা আচানক যে বিশেষণই ব্যবহার করো না কেন প্রথম দর্শনে তুমি যে তাজ্জব হবে, এটি নিশ্চিত আঁচ করা যায়। হ্যাঁ, ঢাকার উত্তরা এলাকায় এমন একটি সেক্টর আছে যার ম্যাপটি দেখতে ঠিক পিস্তলের মতোই। জানি না এর বাসিন্দাদের মেজাজ কেমন? তবে এর ঠিক ট্রিগারের কাছে যে প্রতিবেশী সেক্টর সেখানটায় বেড়াতে এসে ‘টঙ’  এর আম কাঠের মাচায় বসে এক কড়কড়ে রোদের সকালে চা খাচ্ছিলাম। টঙের চা খু-উ-ব মজাদার; কেন জান? মূল সাবজেক্ট হওয়ায় ওরা চায়ের ওপর প্রায় পিএইচডি করা; আর হাইফাই রেস্তোরাঁগুলোতে চা হলো সুদূর চীন থেকে আগত এক চিমটি বিবিধ বিষয় মাত্র। পৃথিবীতে প্রায় ১৫০০ প্রকার চা পাওয়া যায়। প্রায় ৫ হাজার বছর আগে চীনের দ্বিতীয় স¤্রাট ‘সেন নাঙ’ চা আবিষ্কার করেন। শুধু আবিষ্কারেই নয়; চা উৎপাদনে বিশ্বে এক নাম্বার পরাশক্তি হলো চীন, বার্ষিক প্রায় সাড়ে ১৬ লক্ষ টন অর্থাৎ সমগ্র পৃথিবীর প্রায় ৩৫%।  অপর দিকে মিসর, আফগানিস্তান ও ইরানের জাতীয় পানীয় হচ্ছে চা। তবে  বিশ্বে চা পানের দিক দিয়ে চ্যাম্পিয়ন  হলো টার্কিশরা। বার্ষিক জনপ্রতি প্রায় সাড়ে ৭ কেজি, এরপর মরক্কো সাড়ে ৪ কেজি, আইরিশরা সোয় ৩ নিয়ে তৃতীয়, ব্রিটিশরা পৌনে ৩ নিয়ে পঞ্চম। আর চায়ের দেশ চীন  পৌনে ১ নিয়ে ৩৩ নাম্বার। বাংলাদেশের নাম্বার জান কত? মাত্র ৩৬০ গ্রাম নিয়ে ৬৫ নাম্বার। যাকগে চীনের সেই চা নিয়ে চেঁচামেচি বন্ধ করি। বরং চায়ের কাপে চুমুক দিয়ে ফিরে আসি মূল কথায়; হঠাৎ পাশে বসা ভদ্রলোক চেঁচিয়ে উঠলেনÑ এই নাছির তুই কই যাস? সেই সকাল থেকে তোর জন্য বসে আছি। তুই না বলেই চলে যাচ্ছিস…।  বলেই, ছুড়ে দিলেন কালো মতো একটি জিনিস; বাহ্ মেজাজ একখান! এটি প্রায় ৩০ ফুট দূরে নাসিরের গায়ে না লেগে লাগলো গিয়ে সে যে রিকশায় কেবলই বসেছে সেই রিকশাওয়ালার গায়ে। সে বেচারা কোন মাইন্ড করলো বলে মনে হলো না; বরং নিজের গায়ে আঘাত লাগা সেই বস্তুটি অত্যন্ত যতেœর সাথে কুড়িয়ে এনে নিজের লুঙ্গিতে ঝেড়েমুছে রাগে গজগজ ঢিল ছোড়া সেই লোকটির হাতে তুলে দিল। কেমন অদ্ভুত মানুষ এই গরিবেরা তাই না? এখনও আফসোস লাগে; কেন ওর জবজবে ঘামে ভেজা ক্ষীণ শরীরটাকে জড়িয়ে ধরে ওর নীতির দীক্ষা নিলাম না। এ যেন সেই রাসূল সা.-এর কাঁটা বিছানো বুড়ির উল্টো সেবা করার মোহনীয় ঘটনারই বনসাই রূপ। রাগীটা যা ছুড়েছিল এবার দেখা গেল এটি একটি স্যামসং গ্যালাক্সি  মোবাইল সেট।
এটি একটি সাউথ কোরিয়ান কোম্পানি। পিতার মৃত্যুর পর সেই ১৯৩৮ সালে সাউথ কোরিয়ায়  লি (Lee Byung-chul) মাত্র ২৮ বছর বয়সে তাদের চালের মিলের হাল ধরেন। প্রতিষ্ঠনটির নাম দেন ‘স্যামসাং’। অর্থাৎ তিন তারাকা (“tristar” or “three stars”. The word “three” represents something “big, numerous and powerful )। মাত্র ১৪ জন কর্মচারী নিয়ে শুরু সে কোম্পানি বর্তমানে যেটি দেশের প্রথম, এশিয়ার জায়ান্ট এবং ‘ফরচুন গ্লোবল-৫০০’ ম্যাগাজিনের দৃষ্টিতে পৃথিবীর ১৩তম বৃহত্তম কোম্পানি। বর্তমানে বিশ্বের ৭৯ দেশে এর কর্মচারী সংখ্যা ২,৭০,০০০। এটি বিশ্বের সর্ববৃহৎ স্মার্ট ফোনের উৎপাদক। তাদের গত বছর শুধু লাভের পরিমাণ ২৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার; তার মানে আমাদের টাকায় ২,১৬,০০০,০০,০০,০০০ মাত্র। অর্থাৎ আমাদের প্রায় এক বছরের বাজেটের সমান।
আরে ধাৎ, এগুলো বলে আমাদের দেশে কি কোনো লাভ আছে? শুধু তোমাদেরকেই বলি। যেন নিজেরা কিছু শিক্ষা নিতে পার। যাক আগের কথায় ফিরে আসি। এক সময় বাংলা প্রবাদ ছিল ‘রাগে চুল ছেঁড়া’। দেশকে কি এত পিছিয়ে রাখা যায়? তাই এখন এর ডিজিটাল সংস্কার হয়েছে ‘রাগে মোবাইল ছোড়া’। অবশ্য এ ক্ষেত্রে যতবেশি দামি মোবাইল ছোড়া যাবে তার রাগের পদবি নিশ্চয়ই তত বেশি ধরা হবে।  বর্তমান সময়ে সবচেয়ে দামি মোবাইল স্মার্টফোনের নাম Diamond Rose iPhone 4 32GB’। দাম বাংলাদেশী টাকায় ৬০ কোটি টাকা মাত্র। সুতরাং এর মালিকের না জানি কত মেজাজ!। অবশ্য তোমাদের নিজেদের ভালোর জন্য বলছি; বিখ্যাত সেই উক্তি ‘রাগলেন তো হেরে গেলেন’। রাগ নিয়ে বিশ্বে অনেক গবেষণা হয়েছে; দেখা গেছে রাগলে শরীরের মাসলগুলো খুব টাইট হয়ে যায়। হার্টবিট ৮০ থেকে বেড়ে ১৮০ পর্যন্ত চলে যেতে পারে। ব্লাডপ্রেসার ১২০/৮০ থেকে বেড়ে ২২০/১৩০ বা তার চেয়েও বেড়ে যেতে পারে। রাগলে মুখাবয়বের প্রায় ৭টি আর হাসলে মাত্র ৩টি মাসল গ্রুপকে ব্যস্ত হতে হয়। সুতরাং রাগটা অনেক কষ্টকর আর হাসিটা সহজসাধ্য বিষয়। তবে মনে রাখতে হবে হাসাহাসি নিয়ে বর্তমানে এই অশান্ত পৃথিবীতে অনেক কিছু হচ্ছে। ১৯৯৫ সালে সর্বপ্রথম ভারতের মুম্বাইয়ে  মদন ক্যাটারিয়া ৫ জন উৎসাহী নিয়ে তার লাফিং ক্লাবের কাজ শুরু করেন। বর্তমানে বিশ্বের ৬৫ দেশে এ রকম ক্লাবের সংখ্যা প্রায় ৮০,০০০। খোঁজ নিলে ঢাকাতেও পাওয়া যাবে। বিশেষজ্ঞরা গবেষণা করে দেখেছেন প্রায় ১৮ প্রকার হাসি আছে; যেমন, কুটিল হাসি, জটিল হাসি, ক্রুর হাসি, মূঢ় হাসি, কুড়ো হাসি ইত্যাদি। তবে সত্যিকার, সহজাত এবং সহৃদয়তার হাসিটাই আসল।
রাগ দমন করার নানান পদ্ধতিই আছে, ডেল কার্নেগি, লুৎফর রহমান, শিবখেরার বই চেখে দেখতে পারো। তবে আমার চারশো দিন বয়সী কন্যরতেœর কাছ থেকে রাগ দমনের যে বিদ্যা শিখেছি তা সত্যিই অভাবনীয়। ও চারতলার বারান্দার গ্রিল বেয়ে তড়তড় করে উঠে যায়। মাঝে মাঝে গ্রিলের ফাঁক গলিয়ে এক পা দিয়ে দেয় বাইরে।
অজানা আশঙ্কায় ওর মা ছেলেকে পাঠিয়ে ১১০ টাকায় ৬০ ফুট  সাদা নাইলন কড এনে নিপুণ কায়দায় বারান্দার গ্রিলকে নিজের মতো ঘিরে দিয়েছেন। এ যেন তকদিরের ক্ষেত্রে রশি দিয়ে উট বাঁধা, আসলে সবইতো আল্লাহ ভরসা। কিন্তু এই খুদে দস্যিকে আটকানো গেলেও ওর মেজাজ কে আটকায়। হাত থেকে, মোবাইল, খেলনা এমনকি খোঁচা লাগার ভয়ে শলার ঝাড়–টা নিয়ে নিলে সে দেখায় এক মজার দৃশ্য।
প্রথমে দুই হাত ওপরে তুলে ধেই ধেই করে লাফাবে। তারপর বসে সে যে কী হাত তালি! না দেখলে বোঝানো যাবে না। এতে কিন্তু দ্রুতই তার রাগ নেমে আসে হিমাঙ্কের কাছাকাছি। তোমরাও দরকার মতো ঔষধটি কাজে লাগাতে পারো, এক্কেবারে বিনে পয়সায়। সবশেষে রাসূল সা:-এর একটি বাণী বলছি;
‘তোমাদের মাঝে সেই ব্যক্তিই সবচেয়ে শক্তিশালী যে কুস্তিতে সবাইকে হারিয়ে দেয় সে নয় বরং যে তার রাগকে দমন করতে পারে।’
এবার তোমরাই ঠিক করো চ্যাম্পিয়ন হবে, নাকি গোমড়া মুখে বসে থাকবে। আজকে তাহলে আসিÑ আল্লাহ হাফিজ।

SHARE

1 COMMENT

Leave a Reply