Home প্রচ্ছদ রচনা শিশুমনে কার্টুনের প্রভাব

শিশুমনে কার্টুনের প্রভাব

আহসান হাবীব খান

যদি কেনো শিশুকে প্রশ্ন করা হয় যে সে প্রতিদিন কোন কাজটি করতে সবচেয়ে ভালবাসে। নিঃসন্দেহে উত্তর আসবে আঁকিবুঁকি, রঙের খেলা কিংবা এই ধরনের অন্যকিছু। না হোক সেটা কোন নির্দিষ্ট আকৃতির বা নির্দিষ্ট নামের।
আসলেও তাই, শিশুরা সাধারণত যে কোনো ধরনের অঙ্কন বা রঙের খেলার প্রতি সহজে আকৃষ্ট হয়। তাই রঙ এবং আঁকাআঁকির প্রতি তাদের গভীর ভালবাসাকে পুঁজি করেই বিশ্বে শুরু হয় কার্টুন ছবির বাণিজ্য। প্রথম প্রথম এই কার্টুন ছবি শুধুমাত্র শিশুদের নির্মল আনন্দ দেয়া বা সময় কাটানোর মাধ্যম হিসেবে নির্মাণ করা হতো। পশ্চিমারা বিশ্বের কর্মজীবী বাবা মায়েরা যখন শারীরিক ক্লান্তি দূর করার জন্য খানিক বিশ্রাম নেয়ার প্রয়োজন বোধ করতেন  তখন তাদের দুরন্ত সন্তানটিকে (যদি না ঘুমিয়ে যায়) একটি কাজে লাগিয়ে দিয়ে তারা বিছানায় বা অন্য কোথাও গা এলিয়ে দিতেন। আর সেই কাজটি ছিল বসে বসে কার্টুন দেখা। এটা ছিল ১৮শ শতকের সংস্কৃতি। তখনো কাটুর্ন ছবি টেলিভিশনে প্রদর্শন শুরু হয়নি।  হবে কী করে? টেলিভিশন তো আবিষ্কারই হয়েছে ১৯২৬ সালে।
মূলত  Bed time stories (বিছানায় সময় কাটানোর গল্প)  বা  Rest time stories (অবসরে সময় কাটানোর গল্প)  এর নামে শিশুদের হাতে তুলে দেয়া হতো বড় বড় ছবির বই। সেই ছবিগুলো ছিল কার্টুন ছবি। একটি বইয়ের ছবিগুলো ধারাবাহিকভাবে দেখে গেলেই শিশুরা ঘটনার পরম্পরা সম্পর্কে অনুমান করতে পারতো। এ ধরনের কার্টুন সিরিজের বই এখনো বাজারে আছে। যেমন টিন টিন চাচা চৌধুরী, Lady with the lamp ইত্যাদি। যাই হোক সে-কালে শিশুদের সময় কাটানোর পাশাপাশি তাদের মনে চিন্তার বিকাশ ঘটানো তাদেরকে হাসির খোরাক দেয়া এবং কিছু কিছু বিষয়ে তাদেরে প্রশিক্ষিত করাও উদ্দেশ্য ছিল।

সময়ের প্রেক্ষিতে এক সময় এখানে বাণিজ্য ঢুকল। তখন সেটা শুধু সুকুমার বৃত্তি বা শিল্প না থেকে হয়ে উঠলো  Cartoon industry (কার্টুন শিল্প)। ইংরেজি cartoon শব্দটি এসেছে ইতালিয়ান শব্দ cartonie  থেকে যার মানে karthon  বা শক্তিশালী ভাষা। সত্যিইতো, কার্টুন ছবি ও চরিত্র শক্তিশালী ভাষাই বটে।
Cartoon এর আভিধানিক সংজ্ঞায় বলা হয়েছে A short hand drawn film for the cinema, television or computer screen featuring some kind of story or plot. ততদিনে টেলিভিশন আবিষ্কৃত হয়েছে। সেই টেলিভিশনের বিভিন্ন অনুষ্ঠানের reference  হিসেবে কার্টুন ছবির ব্যবহারে শুরু হয় তখন থেকেই মঞ্চ নাটকে chorus কিংবা কাব্যনাটকে prelude এর মত বিভিন্ন short film এর শুরুতে কার্টুন ছবির মাধ্যমে film-এর synopsis দেয়ার প্রথা চালু হয়। আর পাশাপাশি শুরু হয় টেলিভিশনের মাধ্যম কার্টুন ছবি প্রচারের চিন্তাভাবনা। টেলিভিশন আবিষ্কারের মাত্র দ্ইু বছরের মাথায় ১৯২৮ সালে ফরাসি পরিচালক Emilie cohl নির্মিত এনিমেটেড কার্টুন ছবি Fantasmagorie quot সর্বপ্রথম টেলিভিশনে প্রদর্শিত হয়। এটা ছিল মূলত ১৯০৮ সালে নির্মিত একটি শব্দহীন কার্টুন ছবি, যা আমরা অনেকে বোবা বা নির্বাক চলচ্চিত্র নামে চিনি। এটি প্রদর্শনের পর শিশুদের বিনোদন কিছুটা সহজলভ্য হলেও তাদের মন পুরোপুরি ভরেনি। কারণ অঙ্কিত কিছু ছবির নির্বাক আনাগোনা একজনকে কতক্ষণই বা আর ধরে রাখতে পারে। এই শূন্যতা পূরণে এগিয়ে এলেন Walt Disney. তিনিই প্রথম অঙ্কিত কার্টুন ছবির সঙ্গে সংলাপ ও শব্দ সংযোজন করে একে নতুন প্রাণ দেন। শুধু তাই নয়, কার্টুন ছবির সাদা-কালো যুগের অবসান ঘটিয়ে তাতে রঙের পরশ দেন তিনি। অসম্ভব জনপ্রিয়তায় পৌঁছে যায় তার কার্টুনগুলো। তার মাধ্যমে টম এন্ড জেরির নাম কে না জানে, তখন থেকেই কার্টুন ছবি নির্মাণ ও প্রচারের হিরিক পড়ে যায় সারা বিশ্বে, যা আজও চলছে অব্যাহত গতিতে।

এখন দেখা যাক এই কার্টুন ছবি আমাদের শিশুদের মনে কী প্রভাব ফেলছে। প্রথমইে যে প্রসঙ্গটি উত্থাপন করা দরকার সেটি হচ্ছে এই কার্টুন ছবিসহ যেকোনো চরিত্র নির্মাণের মূল সূতিকাগার হচ্ছে পশ্চিমা বিশ্ব। আর তারা তাদের কার্টুন ছবি তাদের সংস্কৃতির আবহেই নির্মাণ করবে এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু সেটাতো আমাদের সংস্কৃতির সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়। যেমন পশ্চিমা বিশ্বের স্কুলে ছেলে-মেয়েরা শ্রেণিকক্ষে শিক্ষক ঢুকলে দাঁড়ায় না, যার তার মতোই বসে থাকে। বেশি হলে শিক্ষকের good morning এর জবাবে তারাও একটা good morning   ছুড়ে দেয়। কিন্তু আমাদের সংস্কৃতিতে ছেলেমেয়েরা শিক্ষকদের দাঁড়িয়ে সম্মান জানায়, সালাম দেয়। আমাদের সমাজে ছেলেমেয়েরা শালীন পোশাক পরে। আর তাদের সমাজে হাফপ্যান্ট পরুক কিংবা তার চেয়েও সংক্ষিপ্ত কিছু পরুক ওটাই তাদের কাছে শালীন। এখানে দুটো সম্পূর্ণ ভিন্ন সংস্কৃতি। টেলিভিশন চ্যানেলে প্রচারিত  কার্টুন ছবির বেশির ভাগ চরিত্রের পোশাক অত্যন্ত কুরুচিপূর্ণ এবং আপত্তিকর যা কিছুতেই আমাদের সংস্কৃতির সঙ্গে যায় না। তারা একটা পূর্ণবয়স্ক নারী বা পুরুষ আঁকছে ঠিকই, এর বিভিন্ন অংশ-প্রত্যঙ্গ দেখাচ্ছে ঠিক কিন্তু তা অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত পোশাক পরিয়ে।
এখন এই স্বল্পবসনা কার্টুন চরিত্রগুলো দেখে দেখে আমাদের শিশুদের মনে কোন প্রভাব পড়ছে কি না তা অবশ্য  ভেবে দেখার বিষয়। Thunder cats বা Defender of the Earth এর মত কার্টুন ছবির চরিত্রগুলোকে এমন সংক্ষিপ্ত পোশাক পরানো হয়  যা দেখে রুচিশীল যেকোনা ব্যক্তিই বিব্রতকর অবস্থায় পড়বে। এখন এর থেকে পরিত্রাণ পেতে  হলে আমাদেরকে এসব ছবি এড়িয়ে চলা ছাড়া আর উপায় কী?

খোদ পশ্চিমা বিশ্বেই যে কার্টুন ছবির কোন বিরূপ প্রতিক্রিয়া পড়েনি ব্যাপারটা এমন নয়। একজন আমেরিকান বুদ্ধিজীবী Dr. Robert Saturmine এ প্রসঙ্গে আক্ষেপ করে বলেছেন, ‘‘We are hurting our children in the name of having fun.  অর্থাৎ ‘আনন্দ দেয়ার নাম করে আমরা আসলে আমাদের শিশুদেরকে আঘাত করছি।’ সন্দেহ নেই এই ‘আঘাত’ বলতে তিনি শিশুদের মনোজগতের আঘাতের কথা বলেছেন। কিছু দিনের মধ্যেই দেখা গেলো এই আঘাত শুধু মনোজগতেই না শারীরিক আঘাতের দিকেও ধাবিত হলো। ১৯২৯ থেকে ১৯৩১ সালের মধ্যে বেশ কয়েকটি জনপ্রিয় কার্টুন ছবি রিলিজ হয়। এর মধ্যে  Steamboat willie joe camel, space Ghost, Harvey birdman, Winsor প্রভৃতি প্রধান। এই ছবিগুলো অসম্ভব রকম জনপ্রিয়তা অর্জনের পাশাপাশি অসম্ভব রকম শিশু দুর্ঘটনাও উপহার দেয়। আমেরিকার সমাজবিজ্ঞানীরা এর নাম দেন ton-injuries অর্থাৎ কার্টুন  ছবি সংশ্লিষ্ট দুর্ঘটনা।
তখনকার একটি মার্কিন পত্রিকায় একদিনের শিরোনাম ছিল Steamboat Willie : Skyrocketed toon injuries Winsor কাটুর্ন ছবির চরিত্র  Winsor McKay এর অনুকরণে দ্রুতগামী ঘোড়ার পিঠ থেকে লাফিয়ে পড়ে অনেক কিশোরের হাত-পা ভাঙে।  Dab Lewis  দেখে অনেকের ধারণা হয় যে ডিনামাইটি ফাটিয়েই সব সমস্যার সমাধান করে ফেলা যায়। Mackie mouse  দেখে অবুঝ  Dickie Johnson ইঁদুরের অনুসরণে নৌকা বাইতে গিয়ে লেকের পানিতে ডুবে যায়। তখন তার বাবা  Gaylord Johnson  ছবিটির নির্মাতা Walt Disney বিরুদ্ধে মামলা ঠুকে দেন। আর তখনই প্রথম এই টুন-দুর্ঘটনা আদালত পর্যন্ত গড়ায়। যাই  হোক অবুঝ ডিকি জনসন লেকের পানি থেকে উদ্ধার পেলেও ton injury থেকে উদ্ধার পায়নি বিশ্বের শিশুরা। ক্রমেই এই ধরনের দুর্ঘটনা বেড়ে যেতে থাকলো। এক পর্যায়ে  Walt Disney বিরুদ্ধে মামলা আমলে নেয়া, তাঁর বিরুদ্ধে চার্জও গঠন করা হয়। কিন্তু মজার যে বিষয়টি ঘটে তাহলো বিজ্ঞ আদালতে যখন শিশু জনসনকে নৌকা চালানোর ব্যাপারে জিজ্ঞেস করেন, তখন সে উত্তর দেয়  ও ‘thought if a tiny common mouse could drive a boat surely I cauld do too.  অর্থাৎ আমি ভাবলাম ছোট একটি ইঁদুর যদি নৌকা চালাতে পারে তাহলে আমিও পারব। ছোট্ট জনসনের এই উত্তরের মাধ্যমে আমাদের নিকট পরিষ্কার হয়ে ওঠে কার্টুন ছবি শিশুদের মনে কিভাবে কতটুকু প্রভাব ফেলতে পারে।
Ton injury কিন্তু চলতেই থাকে অব্যাহতভাবে। ১৯৩৮ সালে  Snow white and seven dwarfs মুক্তি পাওয়ার পর বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে শত শত শিশু হাসপাতালগুলোতে ভর্তি হতে থাকে। তাদের সবাই বিষাক্ত আপেল খেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ে। কারণটি খুবই স্পষ্ট,  এই কার্টুন ছবিতে দুষ্টু রানী আপেলের সঙ্গে বিষ মিশিয়ে রাজকন্যাকে খাইয়ে তাকে দীর্ঘদিন ঘুমপাড়িয়ে রাখতো। শিশুরাও তা দেখে দুষ্টু রানীর দুষ্টুমির অনুসরণে কিংবা ছবির নায়িকা Snow White এর দীর্ঘ ঘুমের স্বাদ নিতে আপেলের সঙ্গে বিষাক্ত পদার্থ বা মাদকজাতীয় কিছু একটা মিশিয়ে খেয়েছে। এটাকে তারা April Fool- মত করে তামাশার উপকরণই বানিয়ে ফেলেছিল। পরবর্তীতে ছবি থেকে সে দৃশ্য এবং তার সংশ্লিষ্ট ঘটনাগুলোও কেটে ফেলা হয়। পুরো ঘটনাটাই আমেরিকার Journal of Modern Psychology-তে ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হয় ১৯৩৮ সালেই।
২০০০ সালে বিশ্বের শিশু অপরাধ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র থেকে পরিচালিত একটি গবেষণা রিপোর্টে দেখানো হয় যে শিশুরা স্কুলে যাওয়া থেকে শুরু করে স্কুলের  পর্ব শেষ করার আগ পর্যন্ত গড়ে প্রত্যেককে ১৩ হাজার ঘণ্টা বিদ্যায়তনে কাটায়। অপর পক্ষে ১৮ হাজার ঘণ্টা টেলিভিশন দেখে কাটায়। সন্দেহ নেই এই টেলিভিশন দেখা মূলত কার্টুন ছবিকেন্দ্রিক। ঐ রিেেপার্টে আমেরিকার সার্জন জেনারেল David Satcher মন্তব্য করেন, ‘শিশুদের উগ্র আচরণ করার কারণ তারা বেশি বেশি কার্টুন ছবি দেখে।’ মারামারি আর উদ্ভট দৃশ্য ও ঘটনায় পরিপূর্ণ কার্টুন ছবি এবং এ ধরনের অন্যান্য অনুষ্ঠান দেখে শিশুদের মনে যে প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয় তা নিয়ে আরেকটি গবেষণা হয় ১৯৮০ সালে। যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স জার্মানি ইটালিসহ আরও অনেক দেশ  National institute of mental health-এর অধীনে এই গবেষণা পরিচালিত হয় যা ১৯৮২ সালে বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত হয়  Psychological Research findings of kids behavior শিরোনামে। সেখানে উগ্র কার্টুন ছবি বা এ ধরনের অনুষ্ঠান দেখে শিশুদের মনোবৈকল্যের চারটি অবস্থার কথা তুলে ধরা হয়েছে। (১) শিশুরা অন্যের দুঃখকষ্টের প্রতি অনুভূতিহীন হয়ে পড়ে (২) শিশুরা মারামারি ও বীভৎসতার সঙ্গে অভ্যস্ত হয়ে ওঠে যা তাদের মন থেকে  স্বাভাবিক মানবোচিত ভয় ও আতঙ্ককে দূরীভূত করে দেয়। (৩) শিশুদের মন থেকে ভায়োলেন্সের প্রতি ভয় দূর হওয়ায় পাশাপাশি তাদেরকে তাদের চার পাশের পরিবেশের ভয় পেয়ে বসে। ফলে পরিবার পরিজনের প্রতি সে আতঙ্কিত থাকে এবং স্বাভাবিক জীবন চলার পথে স্বাভাবিক বাধা বিঘœ অতিক্রমে সে ক্রমইে অক্ষম হয়ে পড়ে। এবং (৪) ক্রমেই শিশু উগ্র, আক্রমণাত্মক এবং ক্ষতিকর পন্থায় আচরণ করতে শুরু করে। কারণ সে ধরে নেয় উগ্রতার আক্রমণাত্মক ভাবভঙ্গি ছাড়া কোন কিছু অর্জন সম্ভব নয়।
সত্যিই গবেষণার এ বিষয়গুলো আমাদের মধ্যে কি একটুও আলোড়ন তুলে না? শিশুরা শিক্ষা লাভ করবে আনন্দের সঙ্গে খেলার মধ্যে দিয়ে। মনোবিজ্ঞানীগণ খেলার মধ্যে দিয়ে শিশুদের শিক্ষার এই সময়টিকে playing period  বা playing for learning কাল বলে অভিহিত করেছেন। এখানে বলা যায় learning এর সমার্থক শব্দ হিসেবে playing  এ ব্যবহার করা হয়েছে।  অন্তত শিশুদের ক্ষেত্রে তাই। playing এর কালে প্রতিটি শিশুর দু’টি playing faculty থাকে। একটি imaginative play  অপরটি  imitative play.  প্রথমটির মাধ্যমে শিশুরা নিজের কল্পনাশক্তির বিকাশ ঘটিয়ে নিজে নিজেই কিছু একটা করতে চায়। এতে তাদের চিন্তা করার ক্ষমতা ও সৃষ্টিশীলতা বৃদ্ধি পায়। এর ফলে বড় হয়ে তারা self motivated  হয় এবং কাজে স্ব-উদ্যোগী হয়। আর দ্বিতীয়টির মাধ্যমে শিশু অনুকরণ করতে শেখে। বিপদের ব্যাপার হলো শিশুরা imaginative-এর চেয়ে imitative বেশি হয়। যার ফলে তাদের সামনে যা উপস্থাপন করা হয় তারা তাই imitate বা নকল করে। এখন আমাদের কে ভাবতে হবে আমরা আমাদের শিশুদেরকে imitate করার জন্য তাদের সামনে কী উপস্থাপন করবো। আমরা  তাদেরকে ‘ডোরিমন’এর মতো ঘটা করে মিথ্য বলায় পারঙ্গম করে তুলবো নাকি ‘ছোটা ভিম’ এর মত লাড্ডু খাইয়ে অবাস্তব শক্তি প্রদর্শন করতে শেখাবো। আমরা কি পারি না শিশুদের এই imitative faculty-কে ব্যবহার করে মিথ্যাবাদী রাখালের গল্পকে কার্টুন ছবিতে রূপ দিয়ে তাদেরকে মিথ্যার প্রতি বীতশ্রদ্ধ করে তুলতে? আমরা কি পারি না শিশুদেরকে ‘ছোটা ভিম’ এর মত শুধু লাড্ডু না খাইয়ে একই পদ্ধতিতে শাকসবজি কিংবা ফল-মূল খাওয়ার প্রতি আগ্রহী করে তুলতে? আমরা কি পারি না ‘টম এন্ড জেরি’র সম্পর্কটাকে বন্ধুত্বের সম্পর্কে রূপান্তরিত করতে?
অবশ্যই পারি। তবে তার আগে প্রয়োজন সঠিক পরিকল্পনা, প্রয়োজনীয় অর্থের সংস্থাপন. সংশ্লিষ্ট প্রযুক্তিজ্ঞানে উৎকর্ষ অর্জন এবং সর্বোপরি আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সম্ভাব্য mental disaster  বা মনোবিপর্যয়ের হাত থেকে রক্ষার অদম্য ইচ্ছা।  এ বিষয়ে কিছু কিছু কাজ মুসলিম বিশ্বের কোথাও কোথাও শুরু হয়েছে। তবে তা চাহিদার তুলনায় নিতান্তই অপ্রতুল।
এক্ষেত্রে তুরস্কের Okur Productions, মালয়েশিয়ার বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল tv3 (টিভি তেগা), যুক্তরাষ্ট্রের ICNA, মিসরের Mountain of Light    প্রভৃতি নাম বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। এ সমস্ত প্রতিষ্ঠান ইসলামের বিভিন্ন শিক্ষণীয় ও ঐতিহাসিক ঘটনাসমূহকে শিশুদের উপযোগী করে কার্টুন ও এনিমেশন ফিল্ম আকারে নির্মাণ করেছে। এর পাশাপাশি মানুষের পারিবারিক ও সামাজিক জীবনের শাশ্বত কিছু বিষয় এবং স্ব-স্ব দেশীয় সংস্কৃতির গুরুত্বপূর্ণ কিছু অংশকে শালীনভাবে উপস্থাপন করছে। এর মাধ্যমে শিশুরা একদিকে যেমন জানতে পারছে নিজেদের দেশীয় ও লোকজ সংস্কৃতিকে তেমনি জানতে পারছে মুসলিম উম্মাহর সংস্কৃতিকে। বাংলাদেশেরও দু-একটি প্রতিষ্ঠান এ বিষয়ে কিছুটা এগিয়ে এসেছে। তারা তুরস্ক বা মালয়েশিয়ার সমস্ত এনিমেশন ও কার্টুন ছবিকে বাংলায় ডাবিং করে বাজারে ছেড়েছে। এক্ষেত্রে স্পন্দন অডিও ভিজ্যুয়াল সেন্টারের নাম উল্লেখযোগ্য। তবে যতদিন পর্যন্ত না আমরা শিশুদের কার্টুন বিনোদনের জোগান আমাদের মত করে দিতে পারবো, ততদিন পর্যন্ত তাদের ওপর tom aggression  আর ton injury শঙ্কা থেকেই যাবে।

SHARE

1 COMMENT

Leave a Reply