Home কুরআন ও হাদিসের আলো আল্লাহই আকাশ থেকে পরিমাণ মতো পানি বর্ষণ করেন

আল্লাহই আকাশ থেকে পরিমাণ মতো পানি বর্ষণ করেন

“আমি আকাশ থেকে পানি বর্ষণ করে থাকি পরিমাণ মতো, অতঃপর জমিনে সংরক্ষণ করি এবং তা অপসারণও করতে সক্ষম।” (সূরা আল মুমিনুন : আয়াত ১৮)
বন্ধুরা,
ভালো আছো নিশ্চয়ই। মহান আল্লাহর কাছে প্রত্যাশাও তাই। অনেক দিন পর তোমাদের জন্য আবার কুরআনের আলো ও হাদিসের আলো পাতায় লিখছি। বর্ষায় বৃষ্টির পানিতে, বা কাদাজলে ভিজে কাপড় নষ্ট করে মা-বাবার বকুনি খাচ্ছ নিয়মিত। তাই না? চল আজ আমরা এ পানির রহস্য জেনে নিই।
বন্ধুরা,
সৃষ্টির সূচনাতেই আল্লাহ একই সঙ্গে এমন পরিমিত পরিমাণ পানি পৃথিবীতে নাজিল করেছেন যা তার জ্ঞান অনুযায়ী কিয়ামত পর্যন্ত এ গ্রহটির প্রয়োজনের জন্য যথেষ্ট। এ পানি পৃথিবীর নি¤œভূমিতে রক্ষিত হয়েছে। এর সাহায্যে সাগর- মহাসাগরের জন্ম এবং ভূগর্ভেও পানি সৃষ্টি হয়েছে। এখন এ পানিই ঘুরে ফিরে উষ্ণতা, শৈত্যপ্রবাহ ও বাতাসের মাধ্যমে বর্ষিত হতে থাকে। মেঘমালা, বরফাচ্ছাদিত পাহাড়, সাগর, নদী-নালা, ঝরনা ও পুকুরের এ পানিই পৃথিবীর বিভিন্ন অংশে ছড়িয়ে দেয়া হয়। অসংখ্য জিনিসের সৃষ্টি ও উৎপাদনে পানিরই বিশেষ ভূমিকা দেখা যায়। তারপর এ পানি বায়ুর সাথে মিশে গিয়ে আবার তার মূল ভাণ্ডারের দিকে ফিরে যায়। শুরু থেকে আজ পর্যন্ত পানির এ ভাণ্ডার একবিন্দুও কমেনি এবং একবিন্দু বাড়ানোরও দরকার হয়নি।
এর চেয়ে বড় আশ্চর্যের বিষয় হলো তোমরা সবাই জানো হাইড্রোজেন ও অক্সিজেন এ দু’টি গ্যাসের সংমিশ্রণে পানির উৎপত্তি হয়েছে। একবারে এত বিপুল পানি তৈরি হয়ে গেছে যে, এর সাহায্যে সমুদ্র ভরে গেছে এবং এখন এর ভাণ্ডারে একবিন্দুও বাড়ছে না। কে তিনি, যিনি একই সময় এত বিপুল হাইড্রোজেন ও অক্সিজেন মিলিয়ে এত পরিমাণ পানির ভাণ্ডার সৃষ্টি করে দিয়েছেন? আবার এখন এ গ্যাস দুটোকে নির্দিষ্ট অনুপাতে মিশতে দেন না যার ফলে পানি উৎপন্ন হয় না অথচ এ দুটো গ্যাস এখনো দুনিয়ার বুকে বিদ্যমান আছে? আর পানি যখন বাষ্প হয়ে বাতাসে উড়ে যায় তখন কে অক্সিজেন ও হাইড্রোজেনকে আলাদা হয়ে যাওয়া থেকে রক্ষা করেন? অবিশ্বাসী বন্ধুদের কাছে এর জবাব আছে কি? পানির স্তরকে যদি মহান আল্লাহ আরো গভীরে শুষে নেন তা হলে কে তোমাদের জন্য বহমান ঝরনাধারা এনে দেবে বলো?
কাজেই প্রিয় বন্ধুরা,
এসো সেই পানির ব্যবহারে আরো সচেতন হই এবং এই পানির মহান ¯্রষ্টা আল্লাহর প্রতি আরো বেশি অনুগত হই। মহান আল্লাহ আমাদের তাওফিক দিন, আমিন।
মিজানুর রহমান

SHARE

Leave a Reply