Home ধারাবাহিক: দুর্গম পথের যাত্রি দুর্গম পথের যাত্রী

দুর্গম পথের যাত্রী

আসাদ বিন হাফিজ

Asad-Bin-Hafizগত সংখ্যার পর

দীর্ঘ এক হাজার গজ এলাকা নিয়ে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে গেলেন মুজাহিদরা। এক পাশে পাহাড়, অন্য পাশ উন্মুক্ত, ফাঁকা। উন্মুক্ত দিককে দৃঢ়ভাবে রক্ষা করার জন্য রাসূলে করীম (সা) পঞ্চাশ জন তীরন্দাজকে সতর্ক প্রহরায় বসিয়ে দিলেন। এদের কমান্ডার নিযুক্ত করলেন আবদুল্লাহ বিন জুবায়েরকে।
‘তোমার দায়িত্ব বুঝে নাও আবদুল্লাহ!’ রাসূলুল্লাহ (সা) তাকে নির্দেশ দিলেন, ‘তোমরা পেছনের দিকটায় সতর্ক দৃষ্টি রাখবে। শত্রুরা পেছন দিক দিয়ে ঢুকে পড়লে আমরা মহা বিপদে পড়ে যাবো। শত্রুদের অশ্বারোহী বাহিনী রয়েছে, আমাদের নেই। শত্রুর অশ্বারোহী বাহিনী এগিয়ে এলে তীরন্দাজদের লাগিয়ে দেবে তাদের মোকাবেলায়। সব সময় সতর্ক দৃষ্টি রাখবে। পদাতিক বাহিনী নিয়ে তেমন কোনো ভয় নেই।’
প্রায় সকল নির্ভরযোগ্য ঐতিহাসিক, বিশেষ করে ইবনে হিশাম ও ওয়াকেদি লিখেছেন, রাসূল (সা) আবদুল্লাহ বিন জুবায়েরকে সুস্পষ্ট ভাষায় বলেছিলেন, ‘শুধু আমাদের  পেছন দিকটার হেফাজতের জিম্মা তোমার। এ দিকে জাগ্রত দৃষ্টি রাখবে। তোমার সামান্যতম ত্র“টি আমাদের শোচনীয় পরাজয় ডেকে আনতে পারে। স্মরণ রেখো আবদুল্লাহ, জয়-পরাজয় কোনো অবস্থাতে তোমরা তোমাদের অবস্থান ছাড়বে না। যদি দেখো শত্রুর আক্রমণে আমরা কাবু হয়ে পড়েছি তবু তোমরা আমাদের সাহায্যের জন্য ছুটে আসবে না। কোনো অবস্থায়ই তোমরা অবস্থান থেকে এক পা-ও নড়বে না। পাহাড়ের উঁচু চূড়া যেন কখনও শত্রুর করায়ত্ত না হয়। এই উঁচু জায়গা তোমাদের। এখান থাকে নিচের সমস্ত এলাকা তোমার নিয়ন্ত্রণে থাকবে, যে পর্যন্ত তীরন্দাজদের তীরের নিশানা পৌঁছে যায়।’
খালিদ মুসলমানদের সামরিক ব্যূহ লক্ষ করে আবু সুফিয়ানকে বললো, ‘মুসলমানরা খোলা ময়দানে লড়াই করবে না।’
অগণিত সৈন্যের বিশালতার গর্ব ছিল আবু সুফিয়ানের। তিনি চাচ্ছিলেন খোলা ময়দানে বা বিভিন্ন সেক্টরে বিভক্ত হয়ে লড়াই করতে, যাতে পদাতিক ও অশ্বারোহী বাহিনী দিয়ে মুসলিম বাহিনীকে দলিত মথিত করা যায়
খালিদকে তার বাবা যুদ্ধের নানারকম কৌশল ও নৈপুণ্য শিক্ষা দিয়েছিলেন। ছোটবেলা থেকেই শত্রুর ওপর অতর্কিত আক্রমণ, পাশ থেকে কিংবা পেছন থেকে আক্রমণ, শত্রুকে আবর্তন করে আঘাত করা ইত্যাদি সব কিছুই শিখিয়েছিলেন। কী করে নিজের অবস্থানের ওপর নিয়ন্ত্রণ রাখতে হয়, কী করে স্বল্পসংখ্যক সৈন্য দিয়ে বিপুল বাহিনীর মোকাবেলা করতে হয় এমন সব বিষয়ে প্রশিক্ষণ পেয়েছিলেন খালিদ বিন ওয়ালিদ। একজন সামরিক বিশেষজ্ঞ ও পরীক্ষিত সালারের দৃষ্টি নিয়ে তিনি মুজাহিদ বাহিনীর অবস্থান ও ব্যবস্থাপনা পর্যালোচনা করলেন। তিনি অনুভব করলেন, যুদ্ধের নৈপুণ্যে এবারও মুসলমানরা শ্রেষ্ঠত্ব দেখাতে পারে।
আবু সুফিয়ান তার সৈন্যদেরকে মুসলমানদের মুখোমুখি নিয়ে গেল। অশ্বারোহীদেরকে পাঠাল মুসলমানদের পাশ থেকে আক্রমণের জন্য। এক পাশ দিয়ে খালিদ, অন্য পাশ দিয়ে আকরামা এগিয়ে গেল। দু’জনের সাথেই একশ করে অশ্বারোহী। অশ্বারোহী বাহিনীর মূল কমান্ডার উমর বিন আস। আবু সুফিয়ান সরাসরি এগোলো পদাতিক বাহিনীর সামনে একশ তীরন্দাজ নিয়ে। কুরাইশদের পতাকা তুলে দিল তালহা বিন আবু তালহার হাতে। যুদ্ধের ময়দানেও এ পতাকার মূল্য ছিল প্রাণের চেয়ে অধিক। পতাকার পতন হলে সৈন্যদের মনোবল ভেঙে যেত এবং ময়দান ছেড়ে পালাতে শুরু করত সৈন্যরা।
যুদ্ধের সূচনায় কুরাইশদের ব্যূহ থেকে আবু আমের ফাসেক অগ্রসর হয়ে মুজাহিদদের কাছে গেল। তার পেছনে কতক দাস। আবু আমের ছিল মদিনার বাসিন্দা, আউস গোত্রের সরদার।
রাসূলে করীম (সা) যখন মক্কা থেকে হিজরত করে মদিনা চলে এসেছিলেন, তখন আবু আমের রাসূল (সা)কে সহ সকল মুসলমানকে মদিনা থেকে বিতাড়িত করবে বলে কসম খেয়েছিল। এক সুন্দরী ইহুদি ও ইহুদিদের ধন-সম্পদের লোভ তার ওপর জাদুর মতো প্রভাব বিস্তার করে রেখেছিল। ইসলামের প্রতি বিদ্বেষ ও শত্রুতায় ইহুদিরা ছিল সবসময় এক পায়ে খাড়া। যদিও প্রকাশ্যে তারা মুসলমানদের সঙ্গে বন্ধুত্ব ও আনুগত্যের চুক্তিতে আবদ্ধ ছিল। আর আমের ছিল তাদের হাতে কাঠের পুতুল। তারাই তাকে কুরাইশদের মিত্র হিসেবে তৈরি করে রেখেছিল।
মুজাহিদরা লড়াইয়ের জন্য মদিনা থেকে বেরিয়ে এলে আবু আমের গিয়ে দ্রুত কুরাইশদের দলে যোগ দিল। তার গোত্রের বহু লোক ইসলামের সুশীতল ছায়াতলে আশ্রয় নিয়েছিল। তারা রাসূলুল্লাহ (সা)-এর সাথে কুরাইশদের বিরুদ্ধে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়েছিল ময়দানে। আবু আমের সামনে অগ্রসর হয়ে উচ্চস্বরে বলতে লাগল, ‘আউস গোত্রের নির্লজ্জ বীরেরা! তোমরা আমাকে নিশ্চয়ই চিনতে পেরেছ? আমার কথাগুলো মনোযোগ দিয়ে শুনে নাও। আর…’
সে তার উত্তেজিত ও উসকানিমূলক কথা শেষ করার আগেই মুজাহিদদের মধ্য থেকে আউস গোত্রের এক লোক গর্জে উঠে বলল, ফাসেক! তোমার জবান সংযত করো, আমরা তোমার নামের ওপর থুতুও ফেলি না সাহস থেকে তো…’
খালিদের মনে পড়ল সে সময়ের কথা। আবু আমের কথা থামিয়ে তার দিকে একটি পাথর ছুড়ে মারল। মুজাহিদদের সারি থেকে আবু আমের ও তার দাসদের ওপর শুরু হলো পাথর বর্ষণ।
ঐতিহাসিকগণ লিখেছেন, পাথর বর্ষণকারী লোকেরা সবাই ছিল আউস গোত্রের । আবু আমের ও তার সঙ্গী দাসরা পাথরের আঘাত খেয়ে পেছনে পালালো।
ইহুদিরা মদিনায় বসে যুদ্ধে খবরাখবর নিচ্ছিল। যে ইহুদি রমণীর রূপের জাদুতে আবু আমের বন্দী ছিল সে সুখবর শোনার জন্য ছিল অধীর আগ্রহী। সে জানতে পারল, তার রূপের মোহে মোহগ্রস্ত যুবক মুসলমানদের পাথরের ঘা খেয়ে জর্জরিত হয়েছে।
আবু আমের ফাসেকের এই ঘটনা ঘটার আগেই কুরাইশ মহিলারা সৈন্যদের মাঝে দাঁড়িয়ে বদর যুদ্ধে নিহতদের কথা স্মরণ করে উদ্দীপনাময় গীত গাওয়া শুরু করে দিল। সে গান শোনামাত্র যে কারো রক্ত গরম হয়ে উঠতো।
মহিলাদের পেছনে সরে যাওয়ার নির্দেশ দিল আবু সুফিয়ান। তখন আবু সুফিয়ানের স্ত্রী হিন্দা ঘোড়ায় সওয়ার হয়ে গাইছিল নিদারুণ ব্যথাভরা প্রাণস্পর্শী গান। তাতে উদ্দীপনার সাথে ছিল নির্লজ্জতার ছড়াছড়ি। ছিল নর-নারীর যৌন সম্ভোগের কথা। গানের মধ্যে যে আবদুদ দারের উল্লেখ আছে তা বানু উমাইয়ারই একটি শাখা। বনু আবদুদ দার কুরাইশদের অনেক উচ্চ বংশের নাম। ইতিহাস লেখকগণ তার পূর্ণ গীতটি লিখতে পারেননি। যেটুকু লিখেছেন তা এরকম :
‘হে আবদুদ দারের সন্তানগণ
হে আমাদের গৃহের অনুগামী
আমরা তোমাদের রাতের রানী
আমরা বালিশের মাঝে সঞ্চারণ করি
এই সঞ্চারণে আনন্দ ও মজার সৃষ্টি হয়
যদি তোমরা শত্রুর ওপর বিজয় লাভ কর
তোমাদেরকে আমরা তুলে নেবো আমাদের ভরা বুকে
আর যদি পলায়ন কর তবে তোমাদের কাছেও আসব না।’
এ গানের পরপরই শুরু হয়েছে আবু আমের ফাসেকের ওপর মুজাহিদদের পাথর বর্ষণ। এর জবাবে কুরাইশ বাহিনী মুজাহিদদের ওপর তীর বর্ষণ শুরু করলো। মুজাহিদরাও তার পাল্টা জবাব দিল তীর বর্ষণ করে। খালিদ বাম দিকে থেকে মুজাহিদদের আক্রমণ করার জন্য তার অশ্বারোহী বাহিনী নিয়ে দ্রুত অগ্রসর হলো। তার জানা ছিল না, পাহাড়ের ওপর তীরন্দাজরা ওঁৎ পেতে আছে তাদের অপেক্ষায়। তার অশ্বারোহী বাহিনী বিনা বাধায় ছুটে আসছিল। সঙ্কীর্ণ পথে নেমে আরোহীরা বাধ্য হলো কাতারবন্দী হয়ে আগে-পিছে আসতে।
খালিদ জেনে শুনেই ময়দানের এই পথ ধরে আরোহীদের পরিচালনা করেছিল। বাবার দেয়া প্রশিক্ষণ অনুসারে তার আত্মবিশ্বাস ও ভরসা ছিল, সে অচিরেই মুসলমানদের এমন পজিশনে নিয়ে আসবে, যখন তারা পিছু হটতে বাধ্য হবে। পিছু হটতে গিয়ে যদি তারা পরস্পর বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় তবে কুরাইশদের অশ্বারোহী বাহিনীর পায়ের তলার পিষ্ট হয়ে শেষ হয়ে যাবে তারা।
কিন্তু তখনো ওরা মূল মুসলিম বাহিনীর কাছে পৌঁছেনি, পাহাড়ের ওপর থেকে তীর বর্ষণ শুরু হল ছুটন্ত অশ্বারোহীদের ওপর। সঙ্কীর্ণ পথ ধরে সামনে অগ্রসর হওয়ার আর কোনো উপায়ই রইল না তাদের, তারা পিছু হটতে বাধ্য হলো। এরই মধ্যে বেশ কিছু আরোহী তীরবিদ্ধ হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়ল। তীরবিদ্ধ ঘোড়াগুলো ময়দানে কিয়ামত সৃষ্টি করে দিল। পেছনের আরোহীরা দ্রুত পেছনে সরে আত্মরক্ষা করল।
কুরাইশ রমণীরা তখনো দফ বাজানোর তালে তালে গান গেয়েই চলছে :
‘হে আবদুদ দারের সন্তানগণ! হে আমাদের গৃহের অনুগামী
আমরা তোমাদের রাতের রানী …’
ঐতিহাসিক ওয়াকেদি লিখেছেন, সে সময়ের প্রথা অনুযায়ী প্রথমে অনুষ্ঠিত হতো দ্বন্দ্ব যুদ্ধ। একদল থেকে একজন বীর ময়দানে নেমে এসে আহ্বান জানাতো প্রতিপক্ষের বীরকে। এভাবে পর পর নেমে আসতো আরো কয়েকজন। তারপর শুরু হয়ে যেতো সামগ্রিক লড়াই। কুরাইশদের পতাকবাহী তালহা বিন আবু তালহা অগ্রসর হয়ে মুজাহিদদের আহ্বান জানাল, ‘কে আছিস বাপের বেটা, কার মরার শখ হয়েছে, সামনে আয়!’
হজরত আলী (রা) বাতাসের বেগে ময়দানে লাফিয়ে পড়ে বললেন, ‘আমি আসছি তোর সাথে লড়ার জন্য।’
তালহা বিন তালহা তার তলোয়ার দুলিয়ে হুঙ্কার দিয়ে সামনে বাড়ল, কিন্তু তার আঘাত বাতাস চিরে শব্দ করে উঠলো। সে নিজেকে সামলে নেয়ার আগেই হজরত আলীর  তরবারির আঘাত এমন গভীর জখম করলো যে প্রথমে তার পতাকা পড়ে গেল, শেষে সে নিজেও পড়ে গেল। কুরাইশের এক ব্যক্তি দৌড়ে এসে পতাকা নিয়ে পিছিয়ে গেল। হজরত আলী (রা) তাকে ফেলে দিতে পারতেন কিন্তু ব্যক্তিগত লড়াইয়ে এমন নিয়ম ছিল না। এ সময় তালহার বংশের আরেকজন এগিয়ে এলো।
‘আমি এর বদলা নেবো।’ বলল সে, ‘আলী, এবার আমার তলোয়ারের ধার দেখ!’
আলী নীরবে তার সঙ্গে মোকাবেলা করতে এগিয়ে এলেন। দু’জন একে অন্যের চোখের দিকে তাকিয়ে একটা চক্কর দিল। হঠাৎ উভয়ের তলোয়ারের ঠোকাঠুকির আওয়াজ উঠল এবং দেখা গেল তার ঢাল ভেঙে মাটিতে পড়ে আছে আর হজরত আলীর তলোয়ার থেকে রক্তের ফোঁটা ঝরে পড়ছে। প্রতিদ্বন্দ্বী তখন মাটিতে পড়ে ছটফট করেছিল।
এভাবে একের পর এক কুরাইশের অসংখ্য ব্যক্তি হুঙ্কার দিয়ে সামনে এলো, আর মুজাহিদদের তলোয়ার তাদের পাঠিয়ে দিল মৃত্যুর কোলে। কুরাইশ বীরদের এ শোচনীয় পরিণতি দেখে ক্ষেপে উঠল সেনাপ্রধান আবু সুফিয়ান। যুদ্ধের নিয়ম মতে সেনাপতির দ্বন্দ্বযুদ্ধে নামার কথা নয়, কারণ সেনাপতির মৃত্যু ঘটলে সেনাদলে বিভীষিকা নেমে আসে।
কিন্তু এতসব ভাবার সুযোগ নিলো না সে। ঘোড়া ছুটিয়ে হঙ্কার ছেড়ে এগিয়ে গেল সামনে। হিন্দা তাকে ময়দানে ছুটে যেতে দেখে উটের ওপর আরোহণ করে উচ্চ স্বরে গাইতে লাগলো : ‘যদি তোমরা শত্রুর ওপর বিজয় লাভ কর তোমাদেরকে আমরা তুলে নেবো আমাদের ভরা বুকে।
আর যদি পলায়ন কর তবে তোমাদের কাছেও আসব না।’
আবু সুফিয়ান ঘোড়ার ওপর আসীন ছিল, তার সঙ্গে মোকাবেলায় যে মুসলমান এগিয়ে এলো সে ছিল পদাতিক বাহিনীর। ইতিহাস তাকে হানজালা বিন আবু আমের নামে উল্লেখ করেছে। আবু সুফিয়ানের হাতে দীর্ঘ ফলাযুক্ত বল্লম ছিল, কেউ আশা করেনি, তলোয়ারধারী পদাতিক অশ্বারোহীর দীর্ঘ বল্লমের আঘাত থেকে বেঁচে যাবে। আবু সুফিয়ানের ঘোড়া তীব্র বেগে হানজালার দিকে ছুটে এলো। কাছে এসে আবু সুফিয়ান বর্শা তুলে তাক করে ছুড়ে মারলো হানজালার দিকে। কিন্তু চোখের পলকে একদিকে সরে গেল হানজালা।
এভাবে তিনবার আবু সুফিয়ানের আঘাত থেকে নিজেকে রক্ষা করল হানজালা। তৃতীয়বারও আঘাত ফসকে গেল। আবু সুফিয়ান আবার আঘাত হানার জন্য ঘোড়া নিয়ন্ত্রণে এনে ঘুরাতে গেল, হানজালা সেই সুযোগে ঘোড়ার পায়ে এমন জোরে আঘাত করল যে আহত হয়ে ঘোড়াটি পড়ে গেল। আবু সুফিয়ান ঘোড়ার পিঠ থেকে ছিটকে পড়ে গেল এক পাশে। হানজালা ছুটে গেল তাকে আক্রমণ করতে। আবু সুফিয়ান ছিটকে পড়েই উঠে দাঁড়িয়েছিল। হানজালাকে ছুটে আসতে দেখে শুয়ে থাকা ঘোড়ার চারদিকে ছোটাছুটি করতে করতে বাঁচাও বাঁচাও বলে চিৎকার করতে থাকে। কুরাইশের এক পদাতিক দৌড়ে এলো ময়দানে। মুসলমানেরা ভাবল, ও আবু সুফিয়ানকে নিয়ে যেতে আসছে। কিন্তু সে যুদ্ধের নিয়ম ভঙ্গ করে পেছন থেকে হানজালাকে আঘাত করে শহীদ করে দিল। আবু সুফিয়ান দ্রুত তার দলে গিয়ে শামিল হয়ে গেল।
সবশেষে কুরাইশদের পক্ষ থেকে ময়দানে এলো আব্দুর রহমান বিন আবু বকর।
ঐতিহাসিক ওয়াকেদি এ ঘটনার বর্ণনা দিয়েছেন এভাবে : আব্দুর রহমান বিন আবু বকর যখন হুঙ্কার দিয়ে সামনে এলো তখন তার পিতা হজরত আবু বকর (রা) তলোয়ার উন্মুক্ত করে নিজের যুবক সন্তানকে মোকাবেলা করার জন্য ময়দানে নামলেন।
সামনে এসো মুসলমান পিতার কাফের সন্তান! হজরত আবু বকর (রা) অকম্পিত স্বরে বললেন। রাসূলে করীম (সা) দেখলেন, বাপ-বেটা নেমে পড়ছে দ্বন্দ্বযুদ্ধে। তিনি দৌড়ে এসে হজরত আবু (রা)কে থামালেন। বললেন, ‘তলোয়ার খাপে পুরে নাও আবু বকর।’
তারপর তাকে তিনি সরিয়ে নিয়ে গেলেন।
খালিদ যেন এখনও তার কানে যুদ্ধের শোরগোল শুনতে পাচ্ছে। চোখের সামনে দেখতে পাচ্ছে সেই সব ভয়াবহ দৃশ্য। দ্বন্দ্বযুদ্ধ শেষ হতেই কুরাইশরা সম্মিলিতভাবে মুসলমানদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়লো। রাসূলে করীম (সা) পেছনে ওহুদ পাহাড়ের এক কোণে দাঁড়িয়ে যুদ্ধ পরিচালনা করছিলেন। মুজাহিদদের সামনে  পেছন থেকে আক্রান্ত হওয়ার কোনো ভয় ছিল না। ছিল সামনাসামনি ভীষণ রক্তক্ষয়ী লড়াইয়ের সম্ভাবনা। কিন্তু মুসলমানদের সৈন্যসংখ্যা ছিল অনেক কম। এত কম সৈন্য নিয়ে মুখোমুখি লড়াই যে খুবই ঝুঁকিপূর্ণ রাসূল (সা) তা ভালোমতই বুঝতে পারছিলেন। এ জন্য তিনি তীরন্দাজদের কাজে লাগালেন। প্রচণ্ড লড়াই চলছে। এক পক্ষ লড়ছে বিপুল সৈন্যসংখ্যা ও অস্ত্রের বলে, অন্য পক্ষ লড়ছে ঈমানের জোরে। কেউ হার মানতে রাজি নয়।
খালিদ দূর থেকে তাকিয়ে ছিল রাসূল (সা) -এর দিকে। তিনি ময়দানের ঠিক মাঝখানে অবস্থান না নিয়ে এক পাশে সরে এসেছিলেন। এদিক দিয়েই খালিদের আক্রমণ করার কথা। খালিদ তার বিপর্যস্ত অশ্বারোহীদের একত্রিত করে আদেশ দিল, ‘যে পথ দিয়ে আমরা এগিয়ে যাচ্ছিলাম, আবারো সে পথেই এগুতে হবে। মুসলমানরা সংখ্যায় অল্প হতে পারে কিন্তু  পেছন থেকে অতর্কিত হামলা করা ছাড়া তাদের পরাজিত করা অসম্ভব। যত ক্ষতিই হোক তীরবেগে অশ্ব ছুটিয়ে সঙ্কীর্ণ রাস্তা অতিক্রম করে যেতে হবে আমাদের।’
খালিদ তার বাহিনী নিয়ে সঙ্কীর্ণ রাস্তা দিয়ে তীর বেগে ছুটে চলল। কিন্তু আব্দুল্লাহ বিন জোবায়েরের পঞ্চাশ জন তীরন্দাজ শত্রুর অশ্বারোহী বাহিনীকে আবারো পিছু হটতে বাধ্য করল। তারা বেশ কিছু আহত ঘোড়া ও অশ্বারোহীকে ফেলেই চলে যেতে বাধ্য হলো।
প্রচণ্ড যুদ্ধ চলছিল। শুধু এক ব্যক্তিই যুদ্ধের ময়দানে এমন ছিল যে যুদ্ধ করছিল না। সে ময়দানে বর্শা উঁচিয়ে এমনভাবে ঘুরে বেড়াচ্ছিল যেন কাউকে খুঁজছে। তার নাম ওয়াহশি বিন হারব। খুঁজছিল সে হামজা (রা)কে। কারণ হামজাকে হত্যা করতে পারলে তার জন্য রয়েছে দু’টি পুরস্কার। প্রথম তার মনিব তাকে গোলামি থেকে মুক্ত করে দেবে, আর আবু সুফিয়ানের স্ত্রী হিন্দার মূল্যবান গয়নাপত্র যা সে পরিধান করে আছে।
ঘুরতে ঘুরতে এক সময় হামজা (রা) কে সে দেখতে পেলো তিনি তখন সাবা বিন আবদুল উজ্জাকে আক্রমণের জন্য অগ্রসর হচ্ছিলেন। আরবে আগের যুগে মেয়েরা খাৎনা করত। ঐতিহাসিক ইবনে হিশামের মতে, ইসলাম-পূর্ব যুগে আরবে মেয়েদের খাৎনা করার প্রথা ছিল। হামজা যে সাবাকে যুদ্ধে আহ্বান করছিলেন তার মা খাৎনা করতো।
‘ওরে খাৎনাকারীর বেটা!’ হামজা (রা) তাকে যুদ্ধে আহ্বান জানিয়ে বললেন, ‘এদিকে আয় আমাকে শেষবারের মত দেখে নে। ’
সাবা বিন উজ্জা হামজার দিকে অগ্রসর হচ্ছিল, রাগে তার মুখ লাল। সে তলোয়ারের যুদ্ধে ছিল অসম্ভব পটু। হামজাও কম পটু ছিলেন না। দু’জনেই সামনাসামনি এসে একে অপরকে আঘাত হানতে লাগলো। দু’জনের ঢাল সে আঘাত প্রতিরোধ করে চললো।
ওয়াহশি বিন হারব চুপি চুপি হামজার দিকে এগিয়ে গেল। উঁচু নিচু জমিন ও ঝোপ-ঝাড়ের আড়াল নিয়ে অতি সন্তর্পণে সে হামজার নিকটবর্তী হলো। হামজার দৃষ্টি তখন শত্রুর চোখের দিকে নিবন্ধ। একমাত্র প্রতিদ্বন্দ্বী ‘সাবা’ ছাড়া অন্য দিকে তাকানোর কোনো সুযোগ ছিল না তার।
ওয়াহশি বর্শা নিক্ষেপে খুব পটু ছিল। সে উঠে দাঁড়ালো এবং মজবুত হাতে বর্শা ধরে তাক করল হামজাকে। হামজা ততক্ষণে সাবাকে আঘাতের পর আঘাত হেনে কাবু করে এনেছেন। হামজা এবার সাবার পেট লক্ষ্য করে তরবারির আঘাত হানলেন। এ আঘাত ঠেকাতে ব্যর্থ হল সাবা। হামজা তার তরবারি পেট থেকে এমনভানে টেনে বের করলেন যে পেট আরও ফেড়ে গেল। সাবা হামজার পায়ের তলায় লুটিয়ে পড়লো।
হামজা সাবার পেট থেকে তরবারি বের করে উঠে দাঁড়াবার আগেই ওয়াহশি তার ওপর পূর্ণ শক্তিতে বর্শা নিক্ষেপ করলো। বর্শা হামজার পেটে এমনভাবে বিদ্ধ হলো যে, সাথে সাথে তার নাড়িভুঁড়ি বেরিয়ে গেল। হামজা চট করে চোখ তুলে দেখলেন ওয়াহশিকে। বর্শাবিদ্ধ অবস্থায়ই তিনি ওয়াহশির দিকে ছুটে গেলেন। কিন্তু আঘাত করার আগেই পড়ে গেলেন তিনি। ওয়াহশি তাঁর শরীর নিথর হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করল। যখন হজরত হামজার দেহের স্পন্দন থেমে গেল তখন ওয়াহশি তাঁর কাছে গেল। ওখানে সে আর সময় ক্ষেপণ করলো না, শরীর থেকে বর্শাটি টেনে বের করে দ্রুত অন্য দিকে চলে গেল। সে তখন হিন্দা এবং তার প্রভু জোবায়ের বিন মুনতায়ামকে খুঁজতে লাগলো।
খালিদ যতই সে যুদ্ধের কথা মনে করছে, ততই তার মনে চেপে বসছে ভীষণ এক বোঝার ভার। তার অশ্ব ছুটে চলেছে। এগিয়ে যাচ্ছে নিম্নভূমি অতিক্রম করে। এ জন্য ওহুদ পাহাড়ের উপত্যকা তার চোখের আড়ালে চলে গিয়েছিল। তার মনে পড়ল, আপন সম্প্রদায়ের নারীদের কথা, যারা কুরাইশ ও তাদের ঐক্যবদ্ধ শক্তির মধ্যে প্ররণা সৃষ্টি করে চলছিল।
খালিদের মনে পড়লো, যুদ্ধের অবস্থা দেখার জন্য সে একটি উঁচু জায়গায় গিয়ে উঠেছিল। সেখান থেকে সে দেখতে পাচ্ছিল মুসলিম মহিলাদের। মুসলমানগণ তাদের আহতদের পেছনে নিয়ে যাচ্ছে, তাদেরকে সেবা শুশ্রƒষা করছে মহিলাগণ। তারা তাদের আহত স্থানে মলম লাগিয়ে পট্টি বেঁধে দিচ্ছে; তাদের পানি পান করাচ্ছে। এ যুদ্ধে চৌদ্দজন মুসলিম মহিলা ময়দানে ছিলেন, তাঁদের মধ্যে ছিলেন হজরত ফাতেমা (রা)ও।
যুদ্ধের অবস্থা এখন একটি ফয়সালার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। অল্পসংখ্যক মুজাহিদ অধিক সংখ্যক কাফেরদের ওপর বিজয় লাভ করতে যাচ্ছে। কুরাইশদের পতাকাবাহী পড়ে গেল। অন্যজন এসে উঠিয়ে নিলো ভূপাতিত পতাকা। সেও যখম হয়ে পড়ে গেল। এমনিভাবে একের পর পতাকাধারীর পরিবর্তন ঘটতে থাকল। শেষবারের মত একজন গোলাম পতাকা উঠিয়ে ধরলো, সেও মারা গেল। মুসলমানরা আর কাউকে পতাকা তুলে ধরার সুযোগ দিল না। কুরাইশদের সকল উদ্দীপনা একেবারে থেমে গেল।
খালিদ কুরাইশদের পিছু হটা দেখলো, আর দেখল মুসলমানদের পিছু ধাওয়া করার দৃশ্যও।
কুরাইশরা তাদের ক্যাম্পেও থাকতে পারলো না, তাদের মালসামান সব ফেলে যে যেদিকে পারল পালালো। যুদ্ধ শেষ। মুসলমানগণ বিজয উল্লাস করতে করতে প্রতিপক্ষের ক্যাম্পে চড়াও হলো। তাদের মালসামান লুট করতে লাগল পরম উৎসাহে। কুরাইশরা দিশেহারা হয়ে ছুটে পালাচ্ছিল। মালসামান তো দূরের কথা, আপন মহিলাদের কথাও মনে রইল না তাদের। মহিলারা নিজেরাই পায়ে হেঁটে পলায়ন করছিল। মুসলমানরা তাদের দিকে চোখ তুলে তাকাল না পর্যন্ত।
কুরাইশদের অশ্বারোহী বাহিনীর যে দল দু’টি আকরামা ও খালিদের নেতৃত্বে মুসলমানদের পেছন থেকে আক্রমণ করার চেষ্টা করছিল তারা ছিল মূল বাহিনী থেকে বিচ্ছিন্ন ও অন্তরালে। আবারও তারা আক্রমণ করার সুযোগ খুঁজছিল। কিন্তু যুদ্ধের গতি বিশেষভাবে উল্টে যাওয়ায় তারা থমকে গেল।
আকরামা ও খালিদ পুনরায তাদের অশ্বারোহীদের আগের অবস্থানে এনে একত্রিত করলো। যুদ্ধের সামগ্রিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে আকরামা যখন নিরাশ, খালিদ তখন ভাবছিল অন্য কথা। সে ভাবছিল, এখনো এই পরাজয়কে বিজয়ে রূপ দেয়া সম্ভব যদি মুসলমানদের পেছন থেকে অতর্কিতে হামলা চালানো যায়। কিন্তু এ হামলা চালাতে হলে যে পথ দিয়ে সেখানে যেতে হবে সেই সংকীর্ণ পথে তখনও মুসলিম তীরন্দাজরা পাহারা দিচ্ছিল। হামলা করার সুযোগ না পেয়ে খালিদ তার বাহিনী নিয়ে সেখানেই দাঁড়িয়ে রইল।
পাহাড়ের ওপর থেকে মুসলিম তীরন্দাজরা যখন দেখলো কুরাইশরা পালিয়ে গেছে আর তাদের সাথীরা গনিমতের মাল লুটছে, তখন তাদের কিছু লোক গনিমতের মালের লোভে নিজেদের স্থান ত্যাগ করতে থাকে। কমান্ডার আবদুল্লাহ বিন জোবায়ের তাদেরকে বললেন, ‘দেখো, তোমরা রাসূল (সা)-এর আদেশ লঙ্ঘন করো না। হুজুর (সা)-এর হুকুম হচ্ছে, তিনি নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত আমরা যেন নিজ স্থান থেকে এক পা-ও না নড়ি।’
‘কিন্তু এখন তো যুদ্ধ শেষ হয়ে গেছে!’ বলে তীরন্দাজরা আনন্দ উল্লাস করে পাহাড়ের ওপর থেকে নিচে নেমে গেল। তারা তখন চিৎকার করছিল, ‘গনিমতের মাল গনিমতের মাল আমাদের বিজয় হয়েছে!’
আবদুল্লাহ বিন জুবায়ের তখনও নিজের জায়গায় অটল। সঙ্গে মাত্র নয়জন তীরন্দাজ! খালিদ যখন এই দৃশ্য দেখলো, তখন তার মনে হলো সে যেন স্বপ্ন দেখছে। কারণ সে তো এটাই চাচ্ছিল! সে তীরন্দাজদের চলে যাওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করলো। যখন তারা কুরাইশদের ক্যাম্পে গিয়ে পৌঁছলো, তখন সে ঐ পাহাড়ি এলাকায় আক্রমণ করে বসলো।
আবদুল্লাহ বিন জুবায়ের ও তার সঙ্গীরা তীর বর্ষণ শুরু করল। খালিদ প্রতিশোধের নেশায় তার অশ্বারোহীদের নিয়ে পাহাড়ের ওপর উঠতে শুরু করল। মোজাহিদরা নিরুপায় ভঙ্গিতে তীব্র বর্ষণ তীব্রতর করল।
আকরামা খালিদকে পাহাড়ের ওপর দিয়ে মুজাহিদদের ওপর আক্রমণ করতে দেখলো। তখন সেও তার অশ্বারোহীদের নিয়ে সেদিকে ছুটে গেল এবং ছড়িয়ে পড়ে বিভিন্ন দিক থেকে পাহাড়ে উঠতে শুরু করলো। তাদের কাছেও তীর-ধনুক ছিল। তারা ওপর দিকে তীর চালাতে চালাতে এগিয়ে গেলো। নয়জন মুজাহিদের পক্ষে দেড় শতাধিক অশ্বারোহীর এ আকস্মিক অগ্রযাত্রা প্রতিহত করা সম্ভব ছিল না, অশ্বরোহীরা ওপরে উঠে গেল। তীরন্দাজরা তীর ফেলে তলোয়ার নিয়ে দাঁড়িয়ে গেল তাদের সামনে। শুরু হলো হাতাহাতি লড়াই। মুজাহিদদের প্রায় সকলেই আহত হয়ে লুটয়ে পড়ল। খালিদ আহতের পাহাড়ের পাদদেশে এনে গড়িয়ে নিচে ফেলে দিল। আবদুল্লাহ বিন জোবায়েরও শহীদ হয়ে গেলেন।
খালিদ ও আকরামার মিলিত ফৌজ দ্রুত সেখান থেকে নিচে নেমে এল। যেখান থেকে মুসলমানরা যুদ্ধের সূচনা করেছিল সেখানে এসেই খালিদ গনিমতের মাল সংগ্রহে ব্যস্ত মুসলমানদের ওপর ঝাটিকা আক্রমণের নির্দেশ দিল। সঙ্গে সঙ্গে দলছুট বিচ্ছিন্ন মুসলমানদের ওপর টুটে পড়ল অশ্বারোহীরা। কিন্তু রাসূলে করীম (সা) তাঁর সঙ্গে যে সামান্য পরিমাণ মুজাহিদ ছিল তাদের নিয়ে এগিয়ে এলেন এই তুফানের বিরুদ্ধে।
কুরাইশদের সঙ্গী মহিলারা পালিয়ে গিয়েছিল। কিন্তু উমরাহ নামে এক মহিলা তাদের সাথে পালাতে না পেরে লুকিয়ে ছিল এক কাঁটা ঝোপের আড়ালে। সে যখন দেখলো কুরাইশ অশ্বারোহীরা আবার মুসলমানদের ওপর আক্রমণ করে বসেছে, তখন সে ছুটে বেরিয়ে এলো ঝোপ থেকে এবং কুরাইশদের পতাকা মাটি থেকে তুলে নিয়ে উপরে উঁচিয়ে ধরলো।
আবু সুফিয়ান পালাতে পালাতেই পিছু ফিরে তাকাল এবং দেখলো ময়দানে তাদের পতাকা উড়ছে। সে থমকে দাঁড়াল এবং পলায়নরত পদাতিক বাহিনীকে চিৎকার করে থামতে বলল।
(চলবে)

SHARE

1 COMMENT

  1. অনেকদিন পর মনে হল ভাল গল্প পড়লাম। আরো নতুন নতুন গল্প চাই।

Leave a Reply