Home ফিচার ঐতিহ্যের ডাকটিকেট

ঐতিহ্যের ডাকটিকেট

শাহরিয়ার মাসুম

Dak-Tikitযদি প্রশ্ন করা হয় যে, তোমার প্রিয় শখ কী? চট করে জবাব আসবে ‘ফেসবুক ব্যবহার করে নিত্যনতুন স্ট্যাটাস লেখা।’ বিশেষ করে শহরের ছেলেমেয়েদের থেকে শতকরা নব্বইভাগ জবাবই এরকম হবে। কারণ তথ্যপ্রযুক্তির উৎকর্ষতার কল্যাণে ইন্টারনেট এখন হাতের নাগালে। আর তরুণ প্রজন্ম ইন্টারনেট বিশেষ করে ফেসবুকের প্রতি এতটাই ঝুঁকে পড়েছে যে, কোন কোন মনোবিজ্ঞানী তো ফেসবুক ব্যবহারকে মানসিক ব্যাধি হিসেবেই আখ্যায়িত করেছেন। অথচ শখবিষয়ক এ প্রশ্নটি ২০০৪ সালের আগে করা হলে অন্যরকম উত্তর আসত। অধিকাংশের শখই হতো ডাকটিকেট সংগ্রহ করা। বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় শখগুলোর মধ্যে ডাকটিকেট সংগ্রহ করা অন্যতম। কিন্তু মোবাইল ফোন ও ইন্টারনেটের ব্যবহার উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বৃদ্ধি পাওয়ায় ডাকটিকেট সংগ্রহের সে শখে ভাটা পড়েছে। ব্যক্তিগত চিঠিপ্রত্র আদান-প্রদান এখন প্রায় শূন্যের কাছাকাছি। অন্যান্য ডকুমেন্ট বা বইপত্র পাঠানোর ক্ষেত্রে মানুষ বেছে নিচ্ছে
বেসরকারি কুরিয়ার সার্ভিস। ফলে কমেছে ডাকটিকেটের ব্যবহারও। এ কারণে সংগ্রহকারীদের জন্য ডাকটিকেট সংগ্রহ করাও কঠিন। সে যাই হোক, ডাকটিকেট আমাদের ঐতিহ্য। সারা বিশ্বের ঐতিহ্য। এ ঐতিহ্যকে স্মরণ করতেই এ লেখা। তোমাদের মধ্যে ডাকটিকেট দেখেনি এমন একজনকেও খুঁজে পাওয়া যাবে না। তবু ডাকটিকেটের ছোটখাটো একটি পরিচয় তুলে ধরি। ডাকটিকেট হচ্ছে এক ধরনের আয়তকার কাগজ যা ডাকমাশুল হিসেবে খামের গায়ে সেঁটে দেয়া হয়। একে ডাক বিভাগের প্রি-পেইড সার্ভিসও বলা চলে। কারণ নির্দিষ্ট দামের ডাকটিকেট লাগিয়ে কোন ডকুমেন্ট প্রেরণ করা হলে গ্রহীতাকে কোন মাশুল দিতে হয় না। আর গ্রহীতা গ্রহণ না করলে বা ডকুমেন্টটি ফেরত এলেও সরকারের কোন লোকসান হয় না।
ডাকটিকেটের ইতিহাস
একজন ইংরেজ স্কুল শিক্ষকের মাথায় সর্বপ্রথম ডাকটিকেটের ধারণাটি আসে। এ স্কুল শিক্ষকের নাম রোল্যান্ড হিল।
তিনি উল্লেখ করেন, মেইল রেট বৃদ্ধি পাওয়াতে ডাক রাজস্ব মার খাচ্ছে। কারণ তখনকার দিনে মেইল পাঠানো হতো বিনামূল্যে। গ্রহীতাকে মূল্য পরিশোধ করে মেইল ছাড়াতে হতো। কিন্তু কোন কারণে যদি গ্রহীতা মেইলটি প্রত্যাখ্যান করতেন তাহলে ডাকবিভাগের কোন আয় হতো না। সরকারের তহবিলে কিছুই আসতো না। ১৮৭৩ সালে রোল্যান্ড হিল পোস্ট অফিস রিফর্ম বা পোস্ট অফিস সংস্কার নামক একটি পুস্তিকা প্রকাশ করেন। এ পুস্তিকায় তিনি তার প্রি-পেইড স্ট্যাম্প বা ডাকটিকেটের প্রস্তাব পেশ করেন। পরে হিল তার এ প্রস্তাব সরকারের রাজস্ব বিভাগে সবিস্তারে উপস্থাপন করেন। ১ মে ১৮৪০ সালে বিশ্বের প্রথম ডাকটিকেট বিক্রি করা হয়। সেটি ছিল পেনি ব্লাক। পেনি ব্লাকই বিশ্বের প্রথম ডাকটিকেট। এর কিছুদিন পরে প্রকাশিত হয় দুই পেনস মূল্যের নীলরঙা ডাকটিকেট। ৬, মে ১৮৪০ সাল থেকে এ ডাকটিকেটের কার্যকারিতা শুরু হয়। দু’টি ডাকটিকেটেই রানী ভিক্টোরিয়ার ছবি ছিল। তবে এ ডাকটিকেট দু’টি বর্তমান কালের ডাকটিকেটের মতো ছিল না। অর্থাৎ এ ডাকটিকেটে দেশের নাম লেখা ছিল না। পারকিনস, বেকন ও পেচ নামক তিনটি প্রতিষ্ঠান থেকে এ ডাকটিকেটগুলো ছাপানো হয়। এরা ব্যাংক নোটও ছাপাতো। ডাকটিকেটের আবিষ্কারক হিসেবে এ স্কুল শিক্ষক রোল্যান্ড হিল পরে ব্রিটেন সরকার কর্র্তৃক নাইট উপাধিতে ভূষিত হন। ১৮৪৩ সালে ব্রাজিল দ্বিতীয় দেশ হিসেবে ডাকটিকেট চালু করে। একই বছর সুইজারল্যান্ডের দু’টি প্রশাসনিক উপরিভাগ জুড়িখ ও জেনেভা তাদের নিজস্ব ডাকটিকেটের প্রচলন করে।
বিশ্বের প্রথম ডাকটিকেট পেনিব্লাক ব্যবহার করে আধা আউন্সেরও কম খরচে ব্রিটেনের যে কোন স্থানে চিঠি পাঠানো যেত। কিন্তু সুইজারল্যান্ডই সর্বপ্রথম দূরত্ব অনুযায়ী খরচ হিসাব শুরু করে। ১৮৪৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রের কিছু পোস্টমাস্টার তাদের নিজস্ব ডাকটিকেট চালু করেন। প্রথম অফিসিয়াল ডাকটিকেট আসে ১৮৪৭ সালে, পাঁচ ও ১০ সেন্ট মূল্যের বেনজামিন ফ্রাংকলিন ও জর্জ ওয়াশিংটনের ছবিসহ। ডাকটিকেট চালুর ফলে ব্রিটেনে চিঠি আদান প্রদানের সংখ্যা ৮২ মিলিয়ন থেকে বেড়ে ১৭০ মিলিয়নে দাঁড়ায়।
উপমহাদেশে প্রথম ডাকটিকেট চালু হয় ১৮৫৪ সালের ১ অক্টোবর। তখন সাধারণ মানুষ ভারতের যে কোন স্থানে এক পয়সা মূল্যের পোস্ট কার্ড এবং আধা আনা মূল্যের খামে চিঠি পাঠাতে পারত।
১৯৪৭ সালে পূর্ব বাংলার জনসাধারণ পাকিস্তানের চালু করা ডাকটিকেট ব্যবহার শুরু করে। ১৪ আগস্ট ১৯৪৮ সালে পাকিস্তান সরকার ২০টি ডাকটিকেট চালু করে। এর মধ্যে একটিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সলিমুল্লাহ মুসলিম হল চিত্রিত ছিল। পাকিস্তানের ২৪ বছরে (১৯৪৭-১৯৭১) সর্বমোট ১৯৬টি ডাকটিকেট চালু করা হয়। কিন্তু দুঃখের বিষয় এর মধ্যে মাত্র ৫১টিতে পূর্ব পাকিস্তানের সাথে সম্পর্কিত বিষয় অন্তর্ভুক্ত ছিল। পাকিস্তানের ডাকটিকেটে মাত্র একজন বাঙালিকে সম্মানিত করা হয়েছিল। এ বাঙালি আমাদের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম। স্বাধীন বাংলাদেশে ডাকটিকেট চালু করা হয় মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে। মুজিবনগর সরকার এ ডাকটিকেট প্রকাশ করে। ব্রিটিশ পার্লামেন্ট সদস্য এবং সে দেশের পোস্ট মাস্টার জন স্টোন হাউস ডাকটিকেট প্রকাশে সহায়তা করেন। তিনি বাংলাদেশেরই এক কৃতী সন্তান নকশাবিদ বিমান মল্লিককে যুদ্ধকালীন বাংলাদেশের গণসংস্কৃতি সমিতির সভাপতি ড. ইনামূল হকের সাথে পরিচয় করিয়ে দেন। ড. হক মুজিবনগর সরকারের সাথে ডাকটিকেট প্রচলনসহ বিভিন্ন ব্যাপারে যোগাযোগ রক্ষা করতেন। বিমান মল্লিক আটটি ডাকটিকেটের ডিজাইন করে ড. ইনামূল হকের মাধ্যমে মুজিব নগর সরকারের কাছে পাঠান। মি. স্টোন হাউস একটি ব্রিটিশ সংস্থাকে তাদের খরচে ডাকটিকেটগুলো মুদ্রণ, বিতরণ, বিক্রয় এবং বিক্রয়লব্ধ অর্থ মুজিবনগর সরকারকে প্রদানের দায়িত্ব প্রদান করেন। ঝকঝকে ছাপার আটটি ডাকটিকেটের এ সেট ইংল্যান্ডে ১.০৯ পাউন্ড স্টার্লিং মূল্যে বিক্রয় করা হয়। উদ্বোধনী দিনে ২৩০০০ মার্কিন ডলারেরও বেশি মূল্যের বাংলাদেশী ডাকটিকেট বিক্রি হয়। উদ্বোধনী দিন উপলক্ষে মুদ্রিত ফার্স্ট ডে কভারের রঙ করা হয়েছিল গাঢ় সবুজ এবং এর নকশায় মোড়কের নিচে মুদ্রিত ছিল ‘বাংলাদেশের প্রথম ডাকটিকেট’।
সকল প্রকার আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে ২৯ জুলাই ১৯৭১ সালে বাংলাদেশে সর্বপ্রথম ডাকটিকেট চালু করা হয়। চালু করা এ আটটি ডাকটিকেটের বিষয় ছিল বাংলাদেশের ম্যাপ (১০ পয়সা), ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃশংস হত্যাকাণ্ড (২০ পয়সা), সাড়ে সাত কোটি মানুষ (৫০ পয়সা), মুক্তির পতাকা (১ রুপি), শেকলভাঙ্গা (২ রুপি), ১৯৭০’র নির্বাচনের ফলাফল (৩ রুপি), শেখ মুজিবুরের ছবি (৫ রুপি) এবং বাংলাদেশকে সমর্থন (১০ রুপি)।
১৯৭৩ সালে ১ পয়সা, ২ পয়সা, ৩ পয়সা, ৫ পয়সা, ১০ পয়সা, ২৫ পয়সা, ৫০ পয়সা, ৬০ পয়সা, ৭৫ পয়সা, ৯০ পয়সা, ১ টাকা, ২ টাকা, ৫ টাকা, এবং ১০ টাকা মূল্যমানের ১৪টি ডাকটিকেট চালু করা হয়। স্বাধীনতা অর্জনের পর বাংলাদেশে এটিই ছিল প্রথম চালুকরা নিয়মিত ডাকটিকেটের সেট যা সারাদেশে প্রচলিত হয়েছিল। ১৯৮৯ সালে নিরাপত্তা প্রেস চালুর আগে ডাকবিভাগ ডাকটিকেটসমূহ ভারত, ইংল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া, স্পেন, অস্ট্রিয়া ও সোভিয়েত ইউনিয়ন (রাশিয়া) প্রভৃতি দেশ থেকে ছাপিয়ে নিয়ে আসত। বর্তমানে গাজীপুরে অবস্থিত সিকিউরিটি প্রিন্টিং প্রেস থেকে ডাকটিকেট ছাপানো হয়।
ডাকটিকেটের নকশা
বিভিন্ন আকারের ডাকটিকেটের নকশা করা হয়। যেমন : আয়তকার; বৃত্তাকার, ত্রিকোনাকার এবং পঞ্চকোনাকার, সিয়েরা লিওন ও টংগা ফলের আকৃতির ডাকটিকেট চালু করেছে। ভুটানের ডাকটিকেটে রয়েছে সে দেশের জাতীয় সঙ্গীত, যা বাজিয়ে শোনা যায়। কিছু ডাকটিকেট তৈরি করা হয় চিত্র শোভিত ধাতবপাত দ্বারা মাঝে মাঝে স্বর্ণও ব্যবহার করা হয়। সুইজারল্যান্ড লেস এবং কাঠ ব্যবহার করে ডাকটিকেট তৈরি করেছে। যুক্তরাষ্ট্র তৈরি করেছে প্লাস্টিক দিয়ে। সিনথেটিক কেমিক্যাল ব্যবহার করে ডাকটিকেট তৈরি করেছে জার্মানি। কাগজের ডাকটিকেটের ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয় বিভিন্ন ধরনের প্রিন্টিং কৌশল। যেমন: লিথোগ্রাফি, লাইন ইনগ্রাভিং, ইটাগলিও এবং ওয়েব অফসেট প্রিন্টিং ইত্যাদি।
বিভিন্ন ধরনের ডাকটিকেট
ব্যবহারের ওপর নির্ভর করে ডাকটিকেট বিভিন্ন রকমের হয়ে থাকে। এখানে কয়েক ধরনের ডাকটিকেটের নাম দেয়া হলো।
এয়ার মেইল ডাকটিকেট : বিমান ডাক সার্ভিসের ক্ষেত্রে এ ডাকটিকেট ব্যবহার করা হয়। এক্ষেত্রে ডাকটিকেটের গায়ে ‘এয়ার মেইল’ লেখা থাকে।
স্মারক ডাকটিকেট : কোন একটি ঘটনাকে স্মরণ করে এ ধরনের ডাকটিকেট প্রকাশ করা হয়।
লোকাল ডাকটিকেট : একটি নির্দিষ্ট এলাকার মধ্যে মেইল সার্ভিসের জন্য লোকাল ডাকটিকেট ব্যবহার করা হয়।
মিলিটারি ডাকটিকেট: একট দেশের সেনাবাহিনীর জন্য নির্দিষ্ট ডাকটিকেট।
অফিসিয়াল মেইল ডাকটিকেট: সরকার বা সরকারি এজেন্সি কর্তৃক ব্যবহৃত হয়।
বিশ্ববিখ্যাত ডাকটিকেট
বিশ্বের সবচেয়ে বিখ্যাত ডাকটিকেট : বিশ্বের সবচেয়ে বিখ্যাত ডাকটিকেট হচ্ছে ১ সেন্ট মূল্যের ব্রিটিশ গায়না। ১৮৫৬ সালে এটি ব্রিটিশ গায়নায় চালু করা হয়। বর্তমানে এ ডাকটিকেটের একটি মাত্র নমুনা অবশিষ্ট রয়েছে। এটি ছিদ্রবিহীন ডাকটিকেট। টকটকে লাল রঙের কাগজে কালো কালিতে ছাপানো, এতে পাল তোলা জাহাজের ছবি রয়েছে। বিশ্ববিখ্যাত এ ডাকটিকেটের নমুনাটি ১৯৮০ সালে নিউইয়র্কে এক নিলামে ৯৩৫,০০০ মার্কিন ডলারে বিক্রি করা হয়।
উল্টানো পেনি এ ইনভার্টেড পেনি:
এটিও একটি বিখ্যাত এবং বিরল ডাকটিকেট। ১৯১৮ সালে যুক্তরাষ্ট্র এটি এয়ার মেইল ডাকটিকেট হিসেবে চালু করে। ডাকটিকেটে কার্টিস জে এন-৪ বাইপ্লেন চিত্রিত ছিল। এ প্লেনকে সাধারণভাবে জেনি বলা হয়। মজার বিষয় হচ্ছে প্লেনের ছবিটি ভুলক্রমে উল্টা ছাপানো হয়েছিল। ১০০টি ডাকটিকেট পরে পাওয়া গিয়েছিল। ১৯৮৯ সালে এর চারটি ব্লক এক মিলিয়ন মার্কিন ডলারে বিক্রি করা হয়।
ডাকটিকেট সংগ্রহ
বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় শখগুলোর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে ডাকটিকেট সংগ্রহ। ডাকটিকেট সংগ্রহ কারো কারো নেশায় পরিণত হয়। সংগ্রহের এ নেশা দেখা যায় ডাকটিকেট প্রচলনের শুরু থেকেই। ১৮৪১ সালে দ্য টাইমস অব লন্ডনে একটি খবর স্থান পায় যে, একজন অল্পবয়স্ক মহিলা ১৬০০০ বাতিল ডাকটিকেট দিয়ে তার সাজকক্ষকে মুড়িয়ে ফেলেছেন। ডাকটিকেট সংগ্রহ করা একটি ভালো গুণও বটে। কারণ এক একটি ডাকটিকেট এক একটি ঘটনাকে স্মরণ করিয়ে দেয়। ডাকটিকেট ইতিহাসেরও সাক্ষী হয়ে থাকে। ডাকটিকেট সংগ্রহ ও এ-সংক্রান্ত বিদ্যাকে বলা হয় ফিলাটেলি। ফিলাটেলি গ্রিক শব্দ, যার অর্থ ‘করমুক্ত কোন কিছুর ভালোবাসা।’
ডাকটিকেট সংগ্রহ করে অনেকে বেশ আনন্দ উপভোগ করে। তবে বড় ধরনের সংগ্রহের ক্ষেত্রে সামান্য ফিলাটেলিক জ্ঞান থাকা জরুরি। ডাকটিকেট আমাদের ঐতিহ্য। কিন্তু মোবাইল ফোনের আগ্রাসনে চিঠিপত্র আদান-প্রদানের পরিমাণ কমেছে আশঙ্কাজনক হারে। ফলে ডাকটিকেটের ব্যবহারও। ব্যবহার কমতে কমতে এক সময় ডাকটিকেট হয়ত কোন সংগ্রহকারীর অ্যালবামে, নয়ত জাদুঘরের কাচঘেরা বাক্সে আবদ্ধ থাকবে। কিন্তু আমাদের ঐতিহ্যকে আমাদেরই বাঁচিয়ে রাখতে হবে। চিঠিপত্র, ডকুমেন্ট আদান প্রদানের জন্য ডাক বিভাগকে ব্যবহার করতে হবে। ব্যবহার করতে হবে ডাকটিকেট এবং বাতিল বা ব্যবহৃত ডাকটিকেট যতœ করে সংরক্ষণ করতে হবে। কারণ এক একটি সংগ্রহ হতে পারে ইতিহাসের জন্য অমূল্য সম্পদ। আর সংগ্রহকারীদর জন্য সরকারের উচিত পুরস্কার ঘোষণা করা।

SHARE

Leave a Reply