Home সায়েন্স ফিকশন এন্টি ইয়ার

এন্টি ইয়ার

মাহমুদ শরীফ

fictionবিশ্ব মিডিয়া জগতে তোড়জোড় লেগে গেছে। আল জাজিরা, বিবিসি, সিএনএন, রয়টার্সসহ বিখ্যাত মিডিয়াগুলো প্রায় সাত দিন ধরে পর পর দুইবার নোবেল পুরস্কার বিজয়ী বাংলাদেশী বিজ্ঞানী ড. নাহিদ আমানকে নিয়ে সংবাদ পরিবেশন করে চলেছে। প্রতিটি মিডিয়া এবং সামাজিক যোগাযোগের জনপ্রিয় ওয়েব সাইট ফেসবুকে ভিন্ন ভিন্ন দর্শনে চুলচেরা বিশ্লেষণ রেখেছে অব্যাহত। তবে সবাই নোবেলজয়ী বিজ্ঞানী ড. নাহিদ আমানকে অপহরণ করা কিছুতেই মেনে নিতে পারছে না। প্রতিবাদ, ঘৃণা আর নিন্দার ভাষা কত রকম হতে পারে তার কসরত চলছে মিডিয়ার বাইরেও। প্রায় প্রতিটি দেশের রাষ্ট্রপ্রধান নিন্দা জানিয়ে অপহরণকারী সন্ত্রাসী এই গ্রুপের বিরুদ্ধে সর্বাত্মক অ্যাকশন নেয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।
আর বিশ্ব নেতৃবৃন্দ এমন প্রতিবাদ, ঘৃণা আর নিন্দা জ্ঞাপন করে অ্যাকশনের ঘোষণা দেবেই বা না কেন! বিজ্ঞানী ড. নাহিদ আমান বর্তমান বিশ্বের সবচেয়ে বড় বিজ্ঞানী যে! বিশ্বমানবতার কল্যাণে তার অবদান বর্তমানে সর্ব শীর্ষে। প্রথমবার তিনি একটি বিশেষ গ্যাস আবিষ্কার করে বিখ্যাতদের তালিকায় নিজের নাম লেখান। ‘এন্টি ইয়ার’ নামে এই গ্যাসের সাহায্যে টর্নেডো, ঘূর্ণিঝড়, সাইক্লোনসহ সমস্ত বড় বড় প্রাকৃতিক দুর্যোগ প্রতিরোধ করে চলেছে বিশ্ববাসী। এন্টি ইয়ার গ্যাস প্রয়োগ করার পরও টর্নেডো, ঘূর্ণিঝড়, সাইক্লোন কিংবা কোন সামুদ্রিক প্রাকৃতিক আঘাত প্রতিরোধ হয়নি এমন প্রমাণ বা অভিযোগ গত সাত বছরে কেউ বা কোন দেশ দিতে পারেনি। যে কোন ধরনের টর্নেডো, ঘূর্ণিঝড়, সাইক্লোন কিংবা এই জাতীয় দুর্যোগের আভাস পাওয়া গেলে একটি বিশেষ সিলিন্ডারের এন্টি ইয়ার গ্যাস ড্রোন বিমানের সাহায্যে টর্নেডো, ঘূর্ণিঝড়, সাইক্লোনের উৎপত্তিস্থলের এলাকার মধ্যে প্রয়োগ করতে হয়, আর এতেই আগুনে পানি দেয়ার মত নিভে যায় ঐ দুর্যোগের সব শক্তি। আবার টর্নেডো, ঘূর্ণিঝড়, সাইক্লোনের তাণ্ডব শুরু হলেও একইভাবে এন্টি ইয়ার গ্যাস প্রয়োগ করতে পারলেই সব ঠাণ্ডা। এই গ্যাস আবিষ্কারের জন্যই বাংলাদেশের পদার্থবিজ্ঞানী ড. নাহিদ আমান আজ বিশ্বের বিখ্যাতদের মধ্যে অন্যতম একজন। বিশ্বের প্রায় প্রতিটি দেশ এই এন্টি ইয়ার গ্যাস বাংলাদেশ থেকে সরকারিভাবে সংগ্রহ করে জমা করেছে। কেউ কেউ প্রয়োগ করে দেশের মানুষ ও সম্পদ রক্ষার উপায় আবিষ্কারের জন্য বিজ্ঞানী ড. নাহিদ আমানকে দিয়েছে সম্মান ও সংবর্ধনা।
পদার্থবিজ্ঞানী ড. নাহিদ আমান তার এই আবিষ্কৃত গ্যাসের প্রকল্পের বিষয়টি ৯ বছর পূর্বে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করার সময় এটাকে দেশের অন্যতম আয়ের উৎস হবে বলে দাবি করেছিলেন। বাস্তবে হয়েছেও তাই। গত পাঁচ বছর ধরে বাংলাদেশ রফতানি খাত থেকে সবচেয়ে বেশি অর্থ আয় করেছে এন্টি ইয়ার গ্যাস বিক্রি করে। আর এই গ্যাস রফতানি অব্যাহত থাকবে বৈকি! কেননা, উৎপাদনের তারিখ থেকে প্রতি সিলিন্ডার এন্টি ইয়ার গ্যাস সাড়ে তিন বছর পর্যন্ত কার্যকর থাকবে। তারপর সিলিন্ডারসহ মেয়াদ শেষ হয়ে যাবে। এতে অন্য সব দেশ পুনরায় এন্টি ইয়ার আমদানি করতে আসবে, আর বাংলাদেশও রফতানি করে আন- লিমিটেড অর্থ উপার্জন করার মাধ্যমে বিশ্বের বুকে একদিন ধনী আর সমৃদ্ধশালী দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে। উন্নত বিশ্বের অনেক দেশ এন্টি ইয়ার  নিয়ে গবেষণা করে চলেছে। কিšুÍ উৎপাদন পদ্ধতি আজও উদঘাটন করতে সক্ষম হয়নি। তবে ইরান ও রাশিয়া যৌথভাবে গবেষণা করে এন্টি ইয়ার বিমানের জ্বালানি হিসেবে ব্যবহারের সফলতার কথা বলছে, যদিও এটা বাংলাদেশ কিংবা বিজ্ঞানী ড. নাহিদ আমানের কাছে  নির্ভরযোগ্য তথ্য নয়।

দুই.
২২১৪ সালের ১৫ জুলাই। রাত দেড়টা। বঙ্গোপসাগরের ১২ শ’ মিটার গভীর তলদেশে প্রতিষ্ঠিত এন্টি ইয়ার  গবেষণা সেন্টার ও ফ্যাক্টরির রিসার্চ রুমে বসে নতুন একটি গবেষণায় মগ্ন বিজ্ঞানী ড. নাহিদ আমান।  হঠাৎ রোবট ‘কিন’ বিপদসঙ্কেত দিতে শুরু করলো, একই সাথে রুমের দরজায় খট খট শব্দ। অনেকটা আশ্চর্য ভয়ার্ত আর চিন্তিত হয়ে রিমোট চেপে দরজা খুলে দিলেন তিনি। চোখ তুলে চশমার ওপর দিয়ে তাকালেন। কিছু বুঝে ওঠার আগেই ইংরেজি-আরবি মিশ্রিত ভাষায় বিশ্রি ভাবে বকাঝকা করতে করতে অত্যাধুনিক অস্ত্রে সজ্জিত তিনজন মুখোশধারী সন্ত্রাসী এগিয়ে এলো। মাথায় অস্ত্র ঠেকিয়ে সামনে যেতে বাধ্য করলো তাকে। বাইরের করিডোরে আরো সাত সদস্য পজিশন নিয়ে দাঁড়ানো। দশ সদস্যের সন্ত্রাসী গ্রুপটি বাংলাদেশের হীরের টুকরো বিজ্ঞানী ড. নাহিদ আমানকে সাবমেরিন ডুবোজাহাজে তুলে নিয়ে আবারও সমুদ্রের তলদেশে উধাও। কিন্তু সাগরের উপরে পানিতে ভাসমান জাহাজে বাংলাদেশ নৌবাহিনী ও কোস্টগার্ডের পাহারাদাররা অপহরণের বিষয়টি কিছুই বুঝতে পারলো না।
পরদিন সকালে রোবট ‘কিনের’ সিসি ক্যামেরা পর্যবেক্ষণ করে ড. নাহিদ আমানের দুই সহযোগী  বিজ্ঞানী  ড. আলমাস রাফী ও ড. শাফিক সামী জানিয়েছেন, বিজ্ঞানী ড. নাহিদ আমানকে সাবমেরিন ডুবোজাহাজে অপহরণের কথা। তখন থেকেই বিশ্ব মিডিয়ার প্রধান খবরের স্থানে বসে আছেন ড. নাহিদ আমান অপহরণের সংবাদটি।
প্রথমে এন্টি ইয়ার এবং পরে বজ্রপাতের বৈদ্যুতিক শক্তি  ধরে সেটা  জমা করে বিদ্যুতের সঙ্কট দূর করার পরিকল্পনার জন্য পর পর দুইবার নোবেল পুরস্কার বিজয়ী বাংলাদেশী বিজ্ঞানী ড. নাহিদ আমান। তাকে অপহরণের নবম দিন আজ। এ পর্যন্ত সকল মহাসাগর ও উপসাগরে বহু যৌথ অভিযান চালিয়েও বিজ্ঞানী ড. নাহিদ আমানকে অপহরণের ডুবোজাহাজ কিংবা দশ সদস্যের সন্ত্রাসী গ্রুপটিকে কেউই ধরতে পারেনি। এরই মাঝে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের গোয়েন্দা বাহিনী তৎপরতা শুরু  করেছে। কেউ কেউ বঙ্গোপসাগরের তলদেশে প্রতিষ্ঠিত এন্টি ইয়ার গবেষণা সেন্টার ও ফ্যাক্টরির রিসার্চ সেন্টার পরিদর্শনের জন্য বাংলাদেশ সরকার বরাবর আবেদনও পাঠিয়েছে। সর্বপ্রথম যৌথ আবেদনকারী হিসেবে ইরানি ও রাশিয়ান দুই গোয়েন্দা সদস্যকে শর্তসাপেক্ষে অনুমতি দিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। এর পর আমেরিকা, ব্রিটেন, চীন ও মালয়েশিয়ার গোয়েন্দারা আসবে। ওদিকে অথৈই সাগরে ডুবোজাহাজ কিংবা দশ সদস্যের সন্ত্রাসী গ্রুপটিকে ধরতে অভিযান চলছে আরো জোরালোভাবে। বাংলাদেশ সরকার বিশ্বের কাছে বিজ্ঞানী ড. নাহিদ আমানকে উদ্ধারের জন্য আহ্বান করে চলেছে প্রতিনিয়ত। কাজ শুরু করেছে ইন্টারপোলও।

তিন.
বিজ্ঞানী ড. নাহিদ আমান অপহরণের ২৫তম দিনে উদ্ধারের বিষয়ে আশার আলো প্রদর্শন করলো ইরান। সরকারি বার্তা সংস্থা ইরনার বরাত দিয়ে খবর বেরিয়েছে, ‘ইহুদি রাষ্ট্র ইসরাইল এই অপহরণের সাথে জড়িত।’ শক্তিধর অনেক দেশ খবরটি ভিন্ন ভিন্ন ভাবে গ্রহণ করলেও খোদ আমেরিকা তার স্বভাবসুলভ ভঙ্গিতে ইসরাইলের পক্ষ নিয়ে ইরানের প্রতি তীব্র প্রতিবাদ জানালো। ইরানও দমবার পাত্র নয়, তারা রাশিয়ার সাথে যৌথভাবে কাজ করে যে তথ্য প্রমাণ সংগ্রহ করেছে- সেগুলো প্রশ্ন আকারে বিশ্বের কাছে ছুড়ে দিলোÑ
এক. বিজ্ঞানী ড. নাহিদ আমান অপহরণের বিষয়ে ইসরাইল কেন আজ পর্যন্ত কোন প্রতিবাদ কিংবা নিন্দা জানায়নি?
দুই. বাংলাদেশের সাথে কোন প্রকার কূটনৈতিক চুক্তি বা বৈদেশিক সম্পর্ক ইসরাইলের না থাকায় তারা আজও এন্টি ইয়ার সংগ্রহ করতে পারেনি, এ জন্য কি প্রতিশোধ হিসেবে তারা অপহরণ করতে পারে না?
তিন. বঙ্গোপসাগরের তলদেশে প্রতিষ্ঠিত এন্টি ইয়ার  গবেষণা সেন্টার ও ফ্যাক্টরির রিসার্চ সেন্টারের রোবট কিন আর ভাসমান সিসি ক্যামেরায় ধারণকৃত ফুটেজে সন্ত্রাসীদের হাতে যে অস্ত্র দেখা গেছে, সেই শব্দহীন এফএলআই-০৯৯ অস্ত্রের আবিষ্কারক হচ্ছে ইসরাইল। তারা শব্দহীন এফএলআই-০৯৯ অস্ত্র কোন দেশের কাছে আজও বিক্রি করেনি, সুতরাং এফএলআই-০৯৯ কি প্রমাণ করে না কারা এর সাথে জড়িত?
চার. এক সপ্তাহ আগে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনজামিন মামুয়াল তার দেশ এন্টি ইয়ার আবিষ্কার করতে সক্ষম বলে দাবি করেছে। এতদিন পর তারা এন্টি ইয়ার তৈরির ক্ষেত্রে কিভাবে সফলতায় পৌঁছল সেটার ব্যাখ্যা দেয়া হয়নি। হয়তো তারা বিজ্ঞানী ড. নাহিদ আমানকে জিম্মি করে এন্টি ইয়ার তৈরি করিয়ে নিচ্ছে, যা তাদের সফলতা বলে চালাবে। তাই এ থেকেও কি আর অপ্রমাণিত  থাকে কারা অপহরণের মূল হোতা?
পাঁচ. বিজ্ঞানী ড. নাহিদ আমানকে অপহরণের সংবাদ সর্বপ্রথম প্রচার করা হয় ইসরাইলের গণমাধ্যমে। বিশ্বের নামি ও সর্বাধিক প্রচারিত জনপ্রিয় মিডিয়া, এমনকি বাংলাদেশ সরকারও যখন ভোর সাড়ে পাঁচটা পর্যন্ত রাত দেড়টায় অপহরণের বিষয়টি জানতে পারলো না, সে ক্ষেত্রে ইসরাইলের কয়েকটি টিভি চ্যানেল মধ্য রাতের বিশেষ বুলেটিনে কী করে প্রচারিত হলো অপহরণের সংবাদটি? সংবাদের সোর্সের নামটিও কেন বলা হলো না? তা ছাড়া বুলেটিনটির শেষের দিকে বাংলাদেশের রাজনীতিতে বর্তমান পরিস্থিতি বর্ণনার ইঙ্গিত করে সরকারবিরোধী সন্ত্রাসীরা  ড. নাহিদ আমানকে অপহরণ বা গুম করতে পারে বলেও মন্তব্য করা হয়েছে, এই মন্তব্যর মাধ্যমে নিজের দোষ অন্যের ঘাড়ে চাপানোর অপচেষ্টাই কি আবার প্রমাণ করে নাÑ কোন দেশ বা কারা এই অপকর্মের নাটের গুরু ?
ছয়. আর আরবি-ইংরেজি মিশ্রিত ভাষায় বেশি কথাতো ইসরাইলি জনগণই বলে থাকে। সুতরাং ওরাই যে নটবর সেটা কি আর না বলা চলে?
এদিকে চীন, কোরিয়া, জাপান, মালয়েশিয়া, সৌদি আরবসহ শক্তিধর অনেক দেশই ইরানের  অত্র ছয় যুক্তির স্বপক্ষে জোরালো সমর্থন জ্ঞাপন করেছে।

চার.
বিজ্ঞানী ড. নাহিদ আমান অপহরণকে কেন্দ্র করে শক্তিধর দেশগুলো এবার বাকযুদ্ধে লিপ্ত হয়ে গেল। ইরান-রাশিয়াকে তুলোধোনা করতে লাগলো অনেকেই। যেন যুদ্ধের দামামা বাজতে যাচ্ছে। বিশ্ব মিডিয়ার কয়েকটি জনপ্রিয় টিভি চ্যানেল ও সংবাদ সংস্থা এবার হঠাৎ করেই ড. নাহিদ আমান থেকে মুখ ফিরিয়ে নিলো। তারা শক্তিধর দেশের রাষ্ট্রপ্রধানদের একে অন্যের দোষত্রুটি আর হুমকি-ধমকির খবরগুলো ফলাও করে প্রচারে অবতীর্ণ হলো। এভাবে চললো প্রায় দেড় সপ্তাহ। বিশ্ব মোড়ল আমেরিকা নারাজ হবে এই আশঙ্কায় কয়েকটি দেশ ছাড়া সবগুলো রাষ্ট্র যেন ইসরাইলের বিষয়ে মুখে কুলুপ এঁটে সাজলো ভেজা বেড়াল। আমেরিকার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন পর্যায়ের মন্ত্রী আর কর্মকর্তারা ছুটে চললো কূটনৈতিক কাজে বিভিন্ন দেশে। জাতিসংঘ, ওআইসি, সার্কসহ সব সংস্থা সকলকে শান্ত রাখতে তৎপর। কিন্তু কে শোনে কার কথা? ইসরাইলের বিরুদ্ধে কথা বলার জন্য রাশিয়া, ইরান, চীন, জাপান, সৌদি আরব, মালয়েশিয়াসহ আরো কয়েকটি দেশে পশ্চিমা জোট যেন হামলা করে তবেই স্বস্তি পাবে। নানাবিধ অবরোধ আরোপেরও পাঁয়তারা শুরু করেছে আমেরিকা-ব্রিটিশ নেতৃত্বাধীন পশ্চিমা মিত্র জোট।
বাংলাদেশ সরকার এখন পড়েছে মহাবিপদে। ‘ছেড়ে দে মা কেঁদে বাঁচি’ কিংবা ‘ভিক্ষা চাই না কুত্তা ঠেকাও‘ অবস্থা। বিজ্ঞানী ড. নাহিদ আমানের জন্মভূমি বাংলাদেশের কুষ্টিয়া জেলার কুমারখালীতে শোকের মাতম আর বন্ধ হচ্ছে না। তার মতো নোবেলজয়ী মুসলিম স্টারকে অপহরণ করা হবে, আর এই অপহরণকে কেন্দ্র করে বিশ্বের বুকে যুদ্ধাবস্থার সৃষ্টি হবে এটা কি কল্পনাও করা যায়! দেড় মাসের ব্যবধানে  বিজ্ঞানী ড. নাহিদ আমানকে নিয়ে তেমন আর তোলপাড় নেই বললেই চলে। বিশ্বজুড়ে নতুন রণসজ্জার খবর এখন সর্বত্র। পারমাণবিক বোমাসমৃদ্ধ দেশগুলো রণসজ্জার নেতৃত্বে রয়েছে। কেউ কেউ নতুন নতুন ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষাও চালিয়ে হুমকি দিচ্ছে। কিন্তু কারোর মাথায় এখন বিজ্ঞানী ড. নাহিদ আমান উদ্ধারের কথা যেন আর নেই। কী আশ্চর্য! যার জন্য এত রণসজ্জার পরিস্থিতি সৃষ্টি হলো তাকে উদ্ধারের বিষয়ে বেমালুম ভুলে চলেছে সবাই। একেই বলে বুঝি ‘আপন কোলে ঝোল মাখানো’। সমগ্র বিশ্ব যেন চলেছে এক অজানা ধ্বংসের গন্তব্যে। আবার বিশ্বযুদ্ধের পরিস্থিতি প্রায়।
ড. নাহিদ আমান অপহরণের তিন মাস পূর্ণ হতে চলেছে। যুদ্ধ রোধ আর বিশ্বজুড়ে অশান্তি ও অস্বস্তি নিরসনের জন্য জাতিসংঘ মহাসচিব বান কি মুন বিশেষ জরুরি অধিবেশন আহ্বান করলেন। নির্দিষ্ট দিনক্ষণে অধিবেশন শুরুর ব্যাপারে কড়াভাবে জানানো হয়েছে।
আগামী পরশু সকালে এই বিশেষ অধিবেশনে যোগ দেয়ার জন্য অনেক দেশপ্রধানই ইতোমধ্যে জাতিসংঘ সদর দফতরে হাজির। বাংলাদেশের রাষ্ট্রপ্রধান বর্তমানে নিউ ইয়র্কের পথে বিমানে। কিন্তু এরই মাঝে হঠাৎ করে এক সুখবরে বিশ্ব মিডিয়া তোলপাড়। ইরানি প্রেসিডেন্ট আহমাদ মাহমুদী রেজায়ী ও রাশিয়ার প্রধানমন্ত্রী সিনাদ্রা ফুতিভ তেহরানে একটি যৌথ সাংবাদিক সম্মেলনে জানিয়েছেন, গত রাতে অপহরণ হওয়া বাংলাদেশী নোবেলবিজয়ী বিজ্ঞানী ড. নাহিদ আমানকে উদ্ধার করা হয়েছে। তবে বিজ্ঞানী বর্তমানে অসুস্থ। তাকে ইসরাইলের একটি সুরক্ষিত ব্যাংকার থেকে ইরান ও রাশিয়ার একটি বিশেষ প্রশিক্ষিত যৌথ আলট্রামডার্ন কমান্ডো বাহিনী ‘হাঙ্গর’  সফলতার সাথে কোন রক্তপাতহীনভাবে উদ্ধার করে এনেছে। মাটির নিচ দিয়ে ‘আবাবিল‘ দুই সপ্তাহ ধরে এগিয়ে গেলেও ইসরাইলের কোন রাডার ধরতে পারেনি। এমনকি উদ্ধারের চার ঘণ্টা পর সকালবেলা যখন তারা বিষয়টি বুঝতে পেরেছিল; তখন আর কিছুই করার ছিল না তাদের। কেননা, ততক্ষণে ‘হাঙ্গর’ নামের কমান্ডো বাহিনী ‘আবাবিলে’ চেপে সুড়ঙ্গ ভরাট করতে করতে রিটার্ন এসেছিল ইরান ভূমির সাড়ে চার হাজার  মিটার গভীরের নিজস্ব কক্ষপথে।

পাঁচ.
সাংবাদিক সম্মেলনে আরো বিস্তারিত বর্ণনা দিয়ে জানানো হলো, ইরান দেড় বছর পূর্বে তৈরি করা তার নিজস্ব যুদ্ধযান ‘আবাবিল’ এই প্রথম কাজে লাগায়।  প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে মাটি ও পানির তিন হাজার ফুট গভীর দিয়ে পরিচালনা করা হয়  ‘আবাবিল’কে। ইসরাইলের ‘তেল আবিব’ শহরের ‘জ্যাকেট’ নামক ব্যাংকারের নিচে ‘আবাবিল’ পৌঁছে  গতকাল বিকেলে। রাত আড়াইটায় ‘জ্যাকেট’ ব্যাংকারের  তলা ভেদ করে সেখান থেকে ড. নাহিদ আমানকে উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে ১৭ সদস্যের ‘হাঙ্গর’ টিম। এ সময় পাহারারত তিনজন অপহরণকারী সেনা সদস্যকেও তারা তুলে এনেছে প্রমাণস্বরূপ। সংবাদ সম্মেলনে উদ্ধার অভিযানের পূর্ণাঙ্গ ভিডিও চিত্র প্রদর্শন করা হলো। এই ভিডিও ফুটেজ দেখে বিশ্ববাসীর চোখ ছানাবড়া! ড. নাহিদ আমানকে উন্নত চিকিৎসা দেয়ার ভিডিও চিত্রও দেখানো হলো। এ ছাড়াও অপহরণের সাথে সম্পৃক্ত পাহারায় নিয়োজিত আটক তিন ইসরাইলি সেনা সদস্য বেনজামিন, মাক্রলিন ও সাইফামিনকেও হাজির করা হয়েছে। সাংবাদিকরা তিন ইসরাইলি সেনার কাছে প্রশ্ন করলে তারা অপহরণের পুরো ঘটনার বিশদ বর্ণনা দেয়। আর এই অপহরণের মূল পরিকল্পনাকারী ইসরাইলের প্রেসিডেন্ট ও তাদের গোয়েন্দা সংস্থার প্রধান এ কথাও তিন সেনা অকপটে স্বীকার করলো।
এ দিকে সারা বাংলাদেশে আনন্দের বন্যা। আল্লাহর প্রতি শোকরগোজার সর্বত্র। আমেরিকা-ব্রিটেনসহ তাদের মিত্রদের মুখে চুনকালি পড়লো। ইসরাইলের পক্ষ থেকে তেমন কোনো সাড়া শব্দ নেই। তারা উল্টো করে ইরান ও রাশিয়াকে তাদের দেশে মাটির নিচ দিয়ে অনুপ্রবেশ করার অভিযোগ জাতিসংঘে তুলবে বলে জানিয়েছে। আমেরিকা-ব্রিটেন মিত্র জোট ইসরাইলের কথায় সমর্থন জানালো, হ্যাঁ হ্যাঁ ঠিকই ইরান রাশিয়াকে ধরতে হবে, ওরা কেন ইসরাইলে ভূতলে অভিযান চালালো! এটা বেশি বাড়াবাড়ি …
পিছিয়ে গেল জাতিসংঘের বিশেষ অধিবেশন। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর বিমান নিউ ইয়র্কের পথ থেকে ফিরে ইরানের দিকে চললো। এন্টি পশ্চিমা জোটে সফলতার আনন্দ চললো সপ্তাহব্যাপী। বাংলাদেশে আনন্দের বন্যার শেষ নেই। হীরের টুকরো ড. নাহিদ আমান আবার ফিরে আসবেন দেশে। এবার ঠিকই নতুন কোন একটি কিছু আবিষ্কার করে আবার অবাকভাবে তাক লাগাবেন বিশ্বকে। হয়তো আর নোবেল পাবেন না, তবে বিশ্বের অন্যসব নামীদামি পুরস্কার ঠিকই ছিনিয়ে এনে দেশের সুনাম আর উন্নতির সিঁড়ি হবেনই।
বাংলাদেশে আনন্দের বন্যা শেষ হয়নি। হঠাৎ এক দুঃসংবাদে আনন্দের মাঝে অমাবস্যার কালো অন্ধকার নেমে এলো। ইরানি ডাক্তাররা জানিয়েছেন, ড. নাহিদ আমান আর স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারবেন না। তিনি পাগল হয়ে গেছেন। তার ব্রেনে বিশেষ ধরনের এক অজানা পদার্থ পাওয়া গেছে। ইসরাইলিরা তার নিকট থেকে এন্টি ইয়ার তৈরির ফরমুলা জানতে চেয়েছিল, কিন্তু তিনি সেটি না দেয়ায় কোন বিশেষ পদার্থ  তার শরীরে প্রয়োগ করেছিল মুসলমানদের চিরশত্রু গোষ্ঠী। হয়তো সে জন্যই ড. নাহিদ আমান এখন পাগল হয়ে গেছেন।
এই খবর শুনে আরো একটি দুঃসংবাদ দিলেন  ড. নাহিদ আমানের দুই সহযোগী  বিজ্ঞানী ড. আলমাস রাফী ও ড. শাফিক সামী। তারা জানিয়েছেন, স্যার এন্টি ইয়ার তৈরির ফরমুলাটি আমাদের কাউকে বলেননি। তিনি নিজে এটা তৈরি করতেন। আমরা শুধু ল্যাবের বাইরের আনুষঙ্গিক কাজগুলো করতাম। স্যারের কথা ছিল- তোমরা আগে চেষ্টা করো, ব্যর্থ হলে পরে অবশ্যই জানাবো …
দুই সহযোগী  বিজ্ঞানী  ড. আলমাস রাফী ও ড. শাফিক সামী আরো জানালেন, কষ্ট হলেও সত্য যে- আমাদের পক্ষে আর এন্টি ইয়ার তৈরি করা সম্ভব নয়। দেশ ও বিশ্বকে প্রাকৃতিক আঘাত টর্নেডো, ঘূর্ণিঝড়, সাইক্লোনের মতো তাণ্ডব থেকে রক্ষার উপায় এন্টি ইয়ার সরবরাহ করতে পারবো না আমরা। দেশের  বৈদেশিক আর্থিক আয় আর হবে না এন্টি ইয়ারের খাত থেকে। ধনী দেশের তালিকায় নাম লেখানো এখন সুদূর পরাহত…।
এই দুঃসংবাদে ইসরাইলের প্রতি ঘৃণার থুথু নতুন করে নিক্ষেপ করলো বিশ্বের শান্তিপ্রিয় দেশ আর জনগণ। অথচ সন্ত্রাসী ইসরাইল আর তাদের মিত্ররা সেটা দেখেও না দেখার, শুনেও না শোনার ভান ধরলো, যেন কিছুই ঘটেনি। সৌদি আরব প্রাকৃতিক দুর্যোগ ছিল, আছে, থাকবে, বলে ব্যাখ্যা করে শুধু একটি মন্তব্যই ব্যক্ত করলো, ‘আল্লাহর সাথে পাল্লা দেয়া যায় না’! আর ইরান ঘৃণার বহিঃপ্রকাশ ঘটালো- ‘চোরের মার বড় গলা’ বলে। তবে মাটির নিচ দিয়ে যেতে সক্ষম ইরানি যুদ্ধযান ‘আবাবিল’ তৈরির খবরটি এতদিন বিশ্ববাসীর কাছে অজানা থাকলেও সেটা বিজ্ঞানী ড. নাহিদ আমান উদ্ধারের কাজে ব্যবহার হওয়ায় শেষ পর্যন্ত সবাই সে খবরটাও জেনে গেল।

SHARE

Leave a Reply